বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে ও এর সেবাগ্রহণ পক্রিয়া

670

বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে ও এর সেবাগ্রহণ পক্রিয়া
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মূলত ই কমার্সসের সূচনা হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট এর মাধ্যমে। এতে পন্য ক্রয় বিক্রয় এসেছে আরো অনকে পরে। প্রখম দিকে বি টু বি বা বিজনেস ফার্মের সাথে বিজনেস ফার্মের লেনদেন ও ব্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবহারিক ই কমার্স শুরু হয়। এখানে বিভিন্ন বিলিং বিশেষ করে বিমান টিকেট ক্রয়ের কথা উল্লেখ করা যায়। সেক্ষেত্রে আজ অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে দাতা এবং গ্রহীতার ব্যাংকদ্বয় লেনদেনের অংশ হওয়ার পরও আরো দুটি মাধ্যম এ পক্রিয়ায় জড়িত এক কার্ড ও পেমেন্ট গেটওয়ে।
তখন এতসব আয়োজন না থাকলেও একভাবে এই এই লেনদেন সম্প্ন্ন হয়েছে। এর কারণ এটা শুধু ২টি পক্ষের লেনদেন ছিলো আর ছিলো সেবা ভিত্তিক। কোনো ক্ষেত্রে েএটা শুধু পন্য বা সেবা পছন্দ করার জন্য ব্যবহার করা হতো।

অনলাইন পেমেন্ট

সাধারণ লেনদেনের সাথে এর পার্থক্য হচ্চে এই লেনদেন করার জন্য দাতা বা গ্রহীতাকে স্বশরীরে সাক্ষাত করতে হয়না। অনলাইন বা ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে লোকেরা যেসব লেনদেন করে থাকে। তাকে অনলাইন পেমেন্ট বলে এ ধরনের ব্যবস্থায় ব্যাংকের সম্পৃক্ততা বা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। এত অর্থের একটা ভার্চুয়াল লেনদেন সংগঠিত হয়।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে -ওপিজি
আমাদের দেশে ওপিজি র ইতিহাস খুব বেশী পুরনো নয়। এবং ব্যবহারের দিক থেকেও খুব বেশী বিস্তৃত নয়। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এমন একটি মাধ্যম যাতে আপনি অনলাইনে ডিজিটাল ফরম্যাটে লেদদেন করতে পারেন। মাচেণ্ট হিসেবে আপনি গ্রাহকের কাছ থেকে পন্য বা সেবার মূল্য গ্র্রহণ করতে পারেন। আর গ্রাহক তার ক্রেডিট , ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং এর সাহায্যে আপনাকে যেকোন স্থান থেকে মূল্য পরিষোধ করতে পারে। উন্নত বিশ্বে সকল প্রকার কেনাবেচা আজকাল আনলাইনে এবং কার্ডের মাধ্যমে হচ্ছে। ক্রেতারা যেমনি অণলাইনে পে করতে অভ্যস্ত তেমনি মার্ন্টরাও অনলাইনে অর্থ গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। এটা নিরাপদ ও স্বচ্চন্দ কারণ ২টি পক্ষের মাঝখানে ব্যাংক পুরো পক্রিয়াটা সম্পন্ন করছে।

পেমেন্ট ও ডেলিভারী
উন্নত বিশ্বে ই কমার্স ট্রানজেকশান পুরোপুর অনলাইন পেমেন্ট নির্ভর। আমাদের দেশে ই-কমার্স জনপ্রিয় হওয়ার সাথে ওপিজি বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের অবদান রয়েছে । ইলেকক্ট্রনিক পেমেন্টের ব্যাকএন্ডের সলিউশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পেমেন্ট গেটওয়েগুলো (ওপিজি) চালুর পরে বর্তমানে এর ব্যবহার বেড়ে চলেছে। বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ মানুষ ডেবিট কার্ড, ২৫ লাখ মানুষ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন।

এছাড়া ২৭০ (২৭মিলিয়ন) মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং করে থাকেন। আনুমানিক ৫ লাখ লোক ক্যাশ অন ঢেলিভারীতে সেবা নেন। এই সংখ্যা প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ১৩ লাখ লোক কোন না কোন সময় এক বা একাধিকবার কন্ডিশন ডেলিভারী সেবা নিয়েছে। অন্তত ৫ কোটি লোক কুরিয়ার সার্ভিস সেবা নেয়। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক কন্ডিশন অথবা ক্যাশ অন ডেলিভারীর আওতায় রয়েছে এবং ৭৫-৮০ভাগ লোক কুরিয়ার সার্ভসের এরিয়াভুক্ত।

ওপিজি, বাংলাদেশ স্টাইল
বিদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে বাংলাদেশি কোন কার্ড কাজ করেনা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেস্টি্কশান রয়েছে। বাংলাদেশের এবং দেশের বাইরের কার্ড এদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে কাজ করতে হলে লোকাল অনলাইন পেমেন্টগেটওয়ে সার্ভিস নিতে হবে। তখন পে করা অর্থ মাচেণ্ট হিসেবে আপনার ব্যাংকের বিজনেস অ্যাকাউন্ট জমা হবে। সাধারণত দেশী অনলাইন পেমেন্টগেটওয়েতে দেশি বিদেশি সব ভিসা মাস্টার কার্ড কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়ম রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে বাংলাদেশী গেটওয়ে ব্যবহার করে পে করতে চাইলে তাকে তার জাতীয়তা প্রমানের কাগজপত্র পেশ করতে হয়। আর এই লেনদেনের মাত্রা ও অংক একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে হবে।

ওপিজি চার্জ
দেশের সব গেটওয়ে অন্যান্য বিশ্বের মতো ট্রানজেকশন এর সাথে একটা চার্জ নিয়ে থাকে। এর শতকরা হার ৩-৭% পর্যৃন্ত হয়। তবে বাংলাদেশী গেটওয়েগুলো সাধারণত কম চার্জ করে থাকে। এর পরিমাণ ২.৮% থেকে ৪ শথাংশ পর্ণ্ত। এছাড়া দেশীয় গেটওয়ে গুলো শুরুতে একটা রেজিস্ট্রেশান ফি নিয়ে থাকে। এর পরিমাণ ২-২০ হাজার পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি এখন ৫ হাজারে নেমে এসেছে। কখনো কখনো বিশেষ অফারের আওতায় এই ফি না নিয়েও ওপিজিগুলো রেজিস্ট্রেশান এর সুযোগ দেয়। কোনো হাউজ মাসিক ও বাতসরিক চার্জও নিয়ে থাকে।

বেনিফিশিয়ারী

এই ব্যবস্থার প্রথম বেনিফিশিয়ারী হলো মাচেন্ট বা ই কমার্স ব্যবসায়ীগন কারণ তারা নিজেদের ঠিকানায় বসে খুব সহজে তাদের পন্যের মূল্য কাস্টমারের কাছ থেকে আদায় করতে পারছেন।

দ্বীতিয়ত: গ্রাহক বা কাস্টমার যারা অনলাইনে পন্য ক্রয় করে বাসায় বসে অনলাইনেই এর মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
তৃতীয়ত: পেমেন্ট ড়েটওয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। যারা এই সেবার বিনিময়ে একটা নির্দিস্ট চার্জ থেকে কিছু অংশ পেয়ে থাকেন।

চতুর্থত: রিলেটেড ব্যাংক, যেহেতু ব্যাংকের সম্পৃক্ততা ছাড়া ওপিজি লেনদেন সম্ভব নয়। এবং চার্জ এর সিংহভাগ ব্যাংত পেয়ে থাকে। এজন্য এর অন্যতম প্রধান িবেনিফিশিয়ারী হচ্চে ব্যাংকগুলো।

পঞ্চমত:
দেশের সরকার প্রতিটি লেনদনে থেকে সরকার একটা ট্যাক্স পেয়ে থাকে। এছাড়া পুরো সেক্টরে নতুন কর্মসংস্থান হওয়ার ফলে। সেসব কর্মী এবং পুরো অর্থব্যবস্থা এতে উপকৃত হয়ে থাকে।

মার্চেন্ট এর আইডেন্টিফিকেশান

আপনি যখন অনলাইন পেমেন্টগেট ওয়েব রেজিস্টার করবেন তখন আপানাকে মার্চেন্ট আইডি দেয়া হবে। আপনি চাইলে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর বিপরীতে এাকাধিক মার্চেন্ট আইডি নিতে পারনে। এবং শুধু যে ইকমার্স ব্যবসায়ীরা পেমেন্ট গেটওয়ে নেবে তা নয়। অফলাইনে যারা ব্যবসা করেন যাদের একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে তারাও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নিতে পারেন একই পক্রিয়া অনুসরণ করে।
আপনি একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যাক্তা হিসেবে বিদ্যমান আ্ইনের আওতায় অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নেয়ার জন্য সর্ব প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রেড বা ব্যবসা থাকতে হবে, থাকতে হবে তার একটি বৈধ লাইসেন্স। আপনার থাকতে পারে লিমিটেড কো মম্পানি হিসেবে জয়েন্ট স্টক যেকোন একটি নিবনবন্ধণ, এটা ইউনিয়ন পরিষদ, সিটিকরোরেশন বা পৌরসভা যেকোন কতৃপক্ষের দ্বারা ইস্যুকৃত হতে পারে। দরকার হবে জাতীয় পরিচয় পত্র, টিআইন সনদ এবং এ কটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যা আপনার ফার্মের নামেই হবে।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা পেতে
এই সেবাটি এক্টিভেট করতে আপনার প্রয়োজন হবে কিছু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।
মাচেণ্টদের অণলাইন শপ বা ই কামর্স সাইটের সিস্টেম এর সাথে অনলাইন পেমেন্টগেটওয়ে ইন্টেগ্রেট করার জন্য আপনি যে কোম্পানী থেকে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নিবেন তারা আপনাকে সাহায্য করবে। অথবা তাদের সাথে আপনি আপনার ওয়েব ডেভেলপারকে সম্পৃক্ত করেও সার্ভিস একটিভ করতে পারেন। যে ব্যাঙ্কের সাথে ইন্ট্রিগেট করার দরকার হবে তাদের নিজেদের এপিআই/ইন্ট্রিগ্রেশন প্রসেস থাকবে। তবে প্রথমেই ঐ ব্যাঙ্কের একটা একাউন্ট লাগবে। ওপিজি হাউসগুলো সাপ্তাহে ১/২/৩ বার পেমেন্ট করে থাকে। তবে টাকা সরাসরি আপনার বিজনেস একউন্টে জমা হবে। পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী আপনাকে লেনদেনের সামারি বা তথ্যসমূহ প্রদান করবে বা দেখার সুযোগ করে দেবে।

বাংলাদেশের কয়েকটি ওপিজিি

ইজিপেওয়ে: বাংলাদেশের চারটি ওপিজি এর অন্যতম ইজিপেওয়ে শুরু থেকেই ই কমার্স উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কাস্টমারদের অনলাইনে পেমেন্ট দিয়ে কেনাকাটায় আগ্রহী করার চেস্টা করে আসছে। বিশেষ করে ই কমার্স মাসে অন্য ‍ওপিজিগুলোর মতো তারাও ই ক্যাব মেম্বারদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কথা ভেবে ইজিপেওয়ে তাদের সার্ভিস অফার করে থাকে।

এসএসএল: শুরুধর দিকের কোম্পানী হিসেবে এসএসএল বহু মার্চেন্টকে সেবা দিয়ে আসছে। বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশলে তারা তাদের মাচেন্টদের আকৃষ্ট করে থাকেন। ই ক্যাব মেম্বারদের প্রতিও রয়েছে তাদের সুনজর। যদিও সব ওপিজিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে চলতে হয় তথাপি অন্য ওপিজিগুলোর মতো এসএসএলও সার্ভিস ও সুবিধার ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের কথা বিবেচনায় রাখে। বাংলাদেশে ওপিজি জনপ্রিয় করতে এসএসল কাজ করছে।

ওয়ালেটমিক্স: অল্পদিনের মধ্যে ওপিজি সেক্টরে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে ওয়ালেটমিক্স। ই  ক্যাব সদস্যদের জন্য সর্বপ্রথম নিবন্ধন ফি ছাড়া ওপিজি সেবার ঘোষণা দেয় ওয়ালেটমিক্স। মাচেন্টদের সুবিধা অসুবিধাগুলো খুব ভালোভাবে দেখেই এখানে অপারেশন পরিচালিত হয়। ই কমার্সকে আরো জনপ্রিয় করতে ওয়ালেটমিক্স বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে খাকে। কাস্টমারের প্রতি কেয়ার করেই তাদের পথচলা।

মনে রাখা ভালো
যদি পন্য বিক্রি করে থাকেন তাহলে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়ার সময় অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপ ব্যবহার করবেন। চালানও ব্যবহার করতে পারেন। ডেলিভারী স্রিপে কাস্টমারের ফোন নাম্বার স্পষ্টভাবে লিখবেন এবং ফোনের মাধ্যমে কাস্টমারকে ভেরিফাই করবেন। ডেলিভারী কোথায় দেয়া হবে তা যতটা সম্ভব ডিটেইল ও স্পষ্টভাবে লিখুন। স্লিপে কাস্টমার এর স্বাক্ষর নিতে একদম ভুলবেন না। এবং অনলাইনে অর্ডার দেয়ার সময় কাস্টমার যে ঠিকানা দিয়েছে সেই ঠিকানায় পন্য ডেলিভারী দিবেন। ঠিকানাটা যতটা সম্ভব ডিটেইল লিখুন। ডেলিভারী পাঠানোর আগে একবার গ্রাহকের সাথে আলাপ করে নিন। ক্যুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে ডেলিভারি দিলে ক্যুরিয়ার এরস্লিপ যত্নসহ সংরক্ষণ করবেন। এবং কমপক্ষে তা এক বছর হাতের কাছে রাখবেন। ১২০দিন তো অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ এই সমেয়র গ্রাহকের অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। এছাড়া এসএমএস কনফার্মেশন করেও আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট পন্য রিসিভ করার পর রিসিভ নাম্বার লিখে একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে রিসিভড এনড থ্যাংকস লিখে পাঠাতে পারে। যদি আপনার নিজস্ব ডেলিভারী টিম হয় তাহলে কাজট হয়তো সহজ।
হয়তো একদিন দেশের পেমেন্ট প্রসেস আরো সহজ ও উন্নত হবে। কিন্ত যতদিন না হচ্ছে আমাদের এই ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে নিরাপদ পেমেন্ট পক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।

কৃতজ্ঞতায়

http://apikothon.com
http://www.techtunes.com.bd/internet/tune-id/340699
www.banglatribune.com
www.apikothon.com
www.blog.comjagat.com
স্বপ্নবাজ: জুলাই ২০১৫ সংখ্যা: www.swapnobaj.com
http://blog.e-cab.net

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *