ই কমার্স ইন বাংলাদেশ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

বাংলাদেশে বেশীরভাগ কাজই জনগনের একটা অংশ নিজেদের প্রয়োজনে শুরু করে পরে সেটা যদি সফল হয় অন্যরাও করে থাকে। যখন এর ব্যাপকতা বাড়ে তখন সরকার এটা জানতে পারে। প্রথমে বাকা চোখে দেখে। নানা বিধান আরেরাপ করে একসময় কিছু সাপোর্ট দেয়। এটা সব সময়ের জন্য সত্যি। আমলাতান্ত্রিক সজটিলতাই এর জন্য দায়ী। কিন্তু আমার মাথায় একটা জিনিস আসেনা সরকার মেধাবী লোকদেরকেই প্রশাসনে নিয়োগ দিয়ে থাকে তবুও এমন হয় কেন? অনেকে মনে করেন তারা পরীক্ষা দিয়ে যখন সরকারী চাকুরীর জন্য টিকে যান তখন ভাবেন তারাও সব জানেন। কিন্তু তবুও অনেকে আছেন যারা প্রযুক্তির হাতে হাত রেখে চলতে চান। আর এজন্যই কিছু কাজ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ই-কমার্সের সূচনা নব্বইয়ের দশকের একেবারে শেষের দিকে যখন জনসাধারণ ইন্টারনেট এর সাথে পরিচিত হয়। প্রথম দিকে মূলত সাইবার ক্যাফের মাধ্যমেইি ইন্টারনেটে ব্যবহার করতে শেখে মানুষ এবং অিফিসিয়াল যোগাযোগের জন্য এর ব্যবহার শুরু হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যখন ব্যবসা করা হয় তখন সেটা ইলেকট্রনিক্স কমার্স বা ই-কমার্স নামে পরিচিত হয়। সেই সময় যখন কার্ডে পেমেন্ট এর কথা কেউ ভাবেনি। মোবাইল ফোনইবা কয়জন ব্যভহার করতো। টিটি করে টাকা পাঠানো ব্যবসায়ীদের একমাত্র ভরসা। সেই সময়ের টগবগে স্বপ্নবাজ তরুন মুন্সি গিয়াস উদ্দীন মন্সিজি ডটকম নামে বাংলাদেশের প্রথম ই কমার্স সাইট তৈরী করেন।

 

11229302_10205187477517777_3211197560407022635_n

(ছবিতে ই ক্যাবের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলছেন বাংলাদেশের প্রথম ই কমার্স উদ্যোক্তা মুন্সি গিয়াস উদ্দীন)

আমাদের দেশের শ্রম সেক্টরই প্রথম দিকের ই কমার্স এর বিকাশে ভুমিকা রেখেছিলো। প্রথমত প্রচুর শ্রমিক বিদেশ যায় বলে তারা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট কমফামের্শন করে থাকে। আর ট্রাভেল এজেন্টরা সাধারণত অনলঅইনে বুকিং দিতে শুরু করেছিলো। বহু আগে থেকেই এই বি টু বি পদ্ধতি চালু হলো যদিও পেমেন্ট অনলাইনে হতো না। আর একটা হলো গার্মমেন্টস সেক্টরের কারণে দেশে মূলত বি-টু-বি এর মাধ্যমে ই কমার্স এর প্রচলন সবচেয়ে বেশিছিলো।বি টু বি হলো সেই ইকমার্স যে ই কমার্স একজন ব্যবসায়ীর সাথে আরেকজন ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক লেনদেন ও পন্য আদান প্রদান হয়। তৈরি পোশাক শিল্পের বিদেশী ক্রেতাগণ সাধারণত ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে এবং প্রাথমিকভাবে কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে স্যাম্পল দেখে থাকে।পরে কিছু লেনদেনও শুরু হয়েছিলো।

২০১১  সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট সেলবাজার ডট কম যার বতর্মান নাম এখনি ডট কম এবং আজকের ডিল ডট কম। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট রকমারি ডট ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ইকমার্স জগতে তৈরী হয় নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক,ব্যাসিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইকমার্স কে জনপ্রিয় করতে শুরু করে নানান কর্মসুচি,মেলা সেমিনার ইত্যাদি। কম্পিউটার জগত নামে ম্যাগাজিন ইকমার্স মেলা করে ঢাকা সহ বাংলাদেশের অনেক অংশে।যাত্রা শুরু করে আরেকটি জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট প্রিয়শপ ডট কম। ২৯১৪ সাল ই কমার্র জন্য ইতিহাসের বছর । এই বছরের শেষের দিকে জন্ম নেয় ই কমার্স এসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ । একই বছর এসোসিয়েশান চালূ করে ই কমার্স সেবা কেন্দ্র। এবং একই বছর আরেকটি গেীরবের সাবক্খর রাখতে পারে তারা ই কমার্স বিষয় একটি ব্লগ চালু করেনতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ই কমার্স সম্পর্ জানার সুযোগ

২০১৪ তে ইকমার্স বেশ জনপ্রিয়,কুরিয়ার সার্ভিস,পেমেন্ট গেটওয়ে সহ ইকমার্সের জন্য দরকারী অনেক ইনফ্রাস্টাকচার ছাড়াই ইকমার্স এগিয়ে যেতে ।ই ক্যাব এই বছর বিভিন্ন শহরে আড্ডা মাধ্যমে ব্যবসায়িক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে এগিয়ে আসে। এ বছরেই আসে যুক্ত হয় মোট চারটি পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানী। ২০১৩ সালে এখানে ক্যাশ অনডেলিভারী সার্স চলিু করে সোনার কুরিয়ার সার্স নামে একটি কুরিয়ার সাভির্স কোম্পানী। আর ২০১৪ সালে ই কুরিয়ার নামে আরোকটি কোম্পানী এবং অরামেকস্ আসায় উদ্যোক্তারা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন। পেমেন্ট গেটওয়ে কোমব্পানীর মধ্যে রয়েছে ওয়ালেটম্যাক্স, এসএসএল, ইজিপেটওয়ে।

তবে ফেইসবুকে বিজনেস শুরু হওয়ার পর পরই এদেশে ই কমার্স বিকশিত হতে থাকে আর এ পিছে সবচে বেশী অবদান রেখেচে মোবাইল ব্যাকিং ব্রান্ড বিকাশ। বর্মানে বিকাশ বিশ্বের সবচে বড় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রকিতষ্ঠান।

এদেশে ই কমার্স বিকাশের পেছনে আরেকটি ভূমিকা ছিলো সেটা হলো তথ্যপ্রযিুক্তি বিষয়ক ম্যাগজিনগুলোর। মাসিক কম্পিউটার জগত ই ক্যাবের সাথে থেকে নানা উদ্যোগের জোগান দিয়েছে আর নিয়মিত ই কমার্ বিষয়ক লেখা ছেপে সচেতনতা তৈরীর কাজটিও করেছে। এছাড়া কম্পিউটার ভুবন ও কম্পিউটার বিচিত্র বিভিন্ন ফিচার ও কভার স্টোরি প্রকাশ করেছে।ৈএ ব্যাপারে বেশ পিছিয়ে রয়েছে দৈনিক পত্রিকাগুলো।বেশকিছু প্রতিবেদন বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রকাশ পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম।

সরকারীভাবে এ সময়ের মধ্যে বেশীকিছু ঘোষণা আসছিলো যাতে বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা উভয়ে আশ্বস্থ হয়। ২০১৫ সালে ব্যাপকহারে অনলঅেইনে কেনাকটা শুরুৃ হয়ে । এর মাত্রা বছরের শেষে দিকে দ্বিগুন না হলেও কাছাকিাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে ই কমার্স এর প্রসার ঘটেছে। ২ হাজার ফেইসবুক সাইট, ৩শ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দৈনিক ২ কোটি টাকা লেনদেন হয় বলে ধারণা করা হয়। কারো কারো মতে এটা ২০ কোটিও হতে পারে।আমরা এখন ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হচ্ছি তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিল পরিশোধ, হোটেল বুকিং, বিমানের টিকেট বুকিং, অনলাইন ব্যাংকিং, নতুন-পুরাতন দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়, রিয়াল এস্টেট ব্যবসা, গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি। সম্প্রিতি এক বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর ড. আতিউর বলেন ই কমার্স লেনদেনকে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘দ্বিমাত্রিক সত্যায়ন’ বা ‘টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।এর ফলে ই-কমার্স আরও নিরাপদ হবে এবং ব্যাংকগুলোও ঝুঁকিমুক্তভাবে ই-কমার্সের জন্য ক্রেডিট কার্ড ওপেন রাখতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন ছাপে দৈনিক যুগান্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়।প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর দেশে ব্যবসায় এসেছে প্রচণ্ড রকমের গতি।জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইউএনসিটিএডি) এক গবেষণায় ই-কমার্স প্রসারের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে কম্বোডিয়া ওবাংলাদেশের ই-কমার্সের অগ্রগতি।

বাংলাদেশে মোবাইলে টাকা লেনদেনের সেবা হিসেবে বিশ্বের সবচে বড়ো মোবাইল সাভিস প্রকল্প বিকাশের ই-কমার্স ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে বলা হয়েছে, খাতটির উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো খাত, ট্রেড সুবিধা, আইনগত ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ই-পেমেন্ট সিস্টেম, দক্ষতা কর্মী তৈরিতে সরকারগুলোকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ই-কমার্সের ব্যবহার, আইন, কর, সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার ই-ব্যবসার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দেশ দুটির মতো এখনই উন্নয়নশীল দেশগুলোর ই-কমার্সে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। আগামী ৩ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে ই-ব্যবসা ৪০ শতাংশ বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

মাত্র এক বছরে ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ভারতেরঅনলাইন ব্যবসার বাজার ১,৬০০ কোটি ডলারছুঁয়ে ফেলেছে৷ অনলাইনে কেনাকাটা ক্রমাগতবাড়তে থাকায় আগামী দশ বছরের মধ্যে এইপরিমাণ ৫,৬০০ কোটি ডলার হবে বলে জানিয়েছেবণিকসভাটি৷ দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, আমেদাবাদ এবং কলকাতার ৩,৫০০ জন ব্যবসায়ী এবং সংগঠিত খুচরো ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই সমীক্ষাচালায় অ্যাসোচ্যাম৷ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে পারে।

এর এক প্রতিবেদনে গত রমযান (২০১৪)সমযয়ে মার্ট অবজার্ করে লা হয় অনলাইনে কেনাকাটার ৬০ শতাংশই ঘটে থাকে ঢাকা মহানগরীর মধ্যে। আর বাকি ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকায়। তিনি বলেন, ১৫ রোজার পর থেকেই অনলাইনে কেনাকাটা সাধারণ সময়ের চেয়ে ৪৫-৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে করে একটা চিত্র ফুটে উঠে যে আমাদের দেশে ই কমার্স শহর কেন্দ্রীক হয়ে রয়েছে অথচ একে গ্রামমূখী করতে না পারলে এর প্রকৃত সুফল ঘেরে তোলা সম্ভব নয়। গত ১০ মে ই ক্যাব নি্েুজের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় কিভাবে ই কমার্স এর মাধ্যমে চীনের কর্মমূখী জনগোষ্টিকে গ্রামমুখি করে গ্রামের স্বাভাবিক জীবন যাপন ফিরিয়ে েএনেছে। আজ আমাদের দেশে মিল পফ্যাক্টরী, হাউজিং, ব্যবসা, শিক্ষা , হাসপাতাল সবই ঢাকা কেন্দ্রীক ফলে ক্রমশই জ্যাম হয়ে যাচ্ছে নগরীর সব কিছু। তাই আমাদের দেশে আজ খুব বেশী প্রয়োজন ই কমার্স শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দেশের গ্রাম গঞ্জ সর্বত্র সুষম জীবনধারা প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাওয়া।

এত আরো বলা হয় দেশে গত কয়েক বছরে সব মিলিয়ে দুই হাজারের মতো অনলাইনে বেচাকেনার প্লাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টির মতো অনলাইন হাট সক্রিয়। আর এসব প্লাটফমের্র ৭৩ শতাংশ বিক্রি হয়ে থাকে ফেসবুক পেজ থেকে। সন্ধ্যা থেকে বেচাকেনা বাড়তে থাকে। সাধারণত ২০-৩৫ বছরের নারী-পুরুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে থাকেন। অনলাইনে কেনাকাটার ৭০ শতাংশই সম্পন্ন হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমে। এর বাইরে ১০ শতাংশ ক্রেডিট কার্ড ও ২০ শতাংশ হয়ে থাকে বিকাশের মাধ্যমে। নিয়মিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে গুগল, ইউটিউব ও ফেসবুকের পরেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনার ওয়েবপোর্টালে প্রবেশ করেন বাংলাদেশিরা। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুগল ভিজিটের শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশে ফে।সিবুকের ইউজার সবচে বেশী। এ কারণ আন্দাজ করা হয় যে ব্যাপক পরিমান মানুষ গ্রাম গঞ্জ থেকে মোবাইলের মাধ্যমে ফেইসবুক ব্যবহার করে থাকে।

মোবাইল ব্যাংকিং আমাদের ই কমার্কে একসাথে ৫ বছর এগিয়ে দিয়েছে। ঘরে বসেই মানুষ এখন বিভিন্ন সেবার যেমন: গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদির বিল পরিশোধ করতে পারে। এগুলো সম্ভব হয়েছে মোবাইল ব্যংকিং এর কারনে। এছাড়া সম্প্রতি মোবাইল ব্যংকিং এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সব শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে।

কার্ড এর মাধ্যমে পেমেন্ট সিসটেম ই কমার্স ব্যবসার আরেক অপরিহার্যঅংগ। বিভিন্ন শপিংমলে এখন ইলেকট্রনিকালি বিল পরিশোধের ব্যবস্থা আছে। সুপারমার্কেটগুলোতে কার্ড পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতারা অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে বাজার করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনেই কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায় সহজে।

গত ০৬ এপ্রিল, ২০১৫ , বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায় বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ই-কমার্স লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি গত ২০১৪ সালে তথ্যপ্রযক্তি সির্ম্পকিত বিভিন্ন ব্যবসায়ের উপর এক সমীক্ষা চালায় এতে ই কমার্স খাতে ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। এতে জানা যায় ১০টি কোম্পানীর মধ্যে ৭টিই ছোট প্রতিষ্ঠা্ন তাদের মধ্যে ৪টি কোম্পানী মনে করছে তারা আগামী ৩ বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধির আশা করছে। এ পরস্থিতিতে অনেকে ধারণা করছেন ই কমার্স সেক্টরটা দাড়াতে আরো ৩ বছর সময় লাগবে।২টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে ২০১৬ সালের মধ্যে তাদের রাজস্ব ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তারমানে প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটা আগামী বছর থেকে শুরু হবে। কর্মসংস্থানের কথা বললে দেখা যায় এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৫০ জন জনশক্তি রয়েছে।এর ৭৫ ভাগ পুরুষ।

এদিকে আইসিটি আইনের ব্যবহার নিয়ে আইটি বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে যা বাংলাদেশী উদোক্তা এবং দেশী বাজারে বিদেশী বিনিয়োগ এর ক্ষেত্রে একটা বাঁধা হয়ে দাড়াবে। আন্তজাতিক কমপক্ষে তিনটি প্রতিবেদন গত বছরের বিশ্লেষনে একই কথা বলেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক ১৪৮টা দেশের মধ্যে ১১৯ তম। কারণ তথ্যপ্রযক্তিবিষয়ক পন্য ও সেবার উপর টেক্স ধার্ করার ক্ষেত্রে বিশ্বের ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে।এডিভির মতে আইসিটি বিষয়ক শিক্ষা ও উদ্ভাবনে এশিয়ার ২৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২৩ তম এটাও একটা হতাশার বিষয়। এসব নেতিবাচক বিষয় ব্রান্ডিং বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে এবং বহিবিশ্বে আইটি কাজের যে সবিধার কথা বাংলাদেশ ভাবছে তা নস্ট হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বাজারও।

এসব কারণেই আত্মকর্মউদ্যোগী তরুনদের ই কমার্স নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এবং সফলতার মাইল ফলক ছুয়ে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে হবে। নিজেদের কাজ ও মান দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্ ইতিবাচক ধারণা তৈরী করতে হবে।

 

 

তথ্যসূত্র:

১. উইকিপিডিয়া

২. ইকমার্স এসোসিয়েশন এর ফে।সিবুক পেইজ।

৩. ই ক্যাব ব্লগ- http://blog.e-cab.net/

৪. http://www.hotofferbd.net/

৫. মাসিক কম্পিউটা জগত- জানুয়ারী ২০১৫ সংখ্যা

৬. www.positive-bangladesh.com/content/2716#sthash.OpVul9AG.dpuf)

৭. http://www.dailystockbangladesh.com

৮. http://www.pchelplinebd.com

৯.http://tutorialbd.com/blog

১০. ই কমার্স ভিউ, মে ২০১৫

 

 

 

 

6,586 total views, 12 views today

Comments

comments