ই কমার্স বাস্তবতা ও বাংলাদেশ

458
1525076_497118593737857_2080254859_n

ই কমার্স বাস্তবতা ও বাংলাদেশ
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বাস্তবতা: এক
বাংলাদেশে ই কমার্সে বর্তমানে কয়েক লেভেলে উদ্যোক্তা রয়েছেন।
১। যারা ৫/৭ বছর আগে শুরু করেছেন। এদের দুই ধরনের লোক আছেন। যারা নানা সমস্যায় পড়ে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। আর হাতে গোনা কয়েকজন উঠে দাঁড়াচ্চেন মাত্র। খুব ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এরকম কেউ নেই। তবে কয়েকজন ভালোভাবে ব্যবসায় চালিয়ে নিচ্চেন এটা বলা যায়।

২। ২/৩ বছর ধরে কাজ করছেন। এদের মধ্যে তিন ধরনের লোক রয়েছেন।
ক. খুড়িয়ে খুড়িয়ে আস্তে আস্তে চালাচ্চেন।
খ. ছেড়ে দেবার পর্যায়ে চলে এসেছেন।
গ. লড়াকু মনোভাব নিয়ে টিকে রয়েছেন।

৩. নতুনদের মাঝে কয়েক ধরনের উদ্যোক্তা রয়েছেন
ক. তলে তলে অনেক প্রস্তুতি নিচ্চেন, ভালোভাবে শুরু করবেন এই ভরসায়, প্রতিদিন এরা হয়তো একটা নতুন সিদ্ধান্ত আর নয়তো একটা সিদ্ধান্ত পাল্টান না হয় নতুন কিছু মনে আসে ফলে আর শুরু করা হয়না।
খ. সাত পাঁচ না ভেবেই কেউ ফেইসবুকে, কেউ যেনতেন একটা ওয়েব সাইট খুঠে শুরু করে দিয়েছেন। শুরু করে বুঝলেন যে ওরে বাবা এটাতো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী চালানোর চেয়ে কঠিন।

বাসবতবতা: দুই
যেকোনো ব্যবসায় খুব ভালো না চললে এক সমস্যা সেসব কেউ করতে চায়না, আর চলেনা চলেনা বলে তার একটা বদনাম হয়ে যায়, তার মধ্যে থেকে সবার অজান্তে দুইচার জন সফল হয়ে যায়। আবার কোনো একটা ব্যবসায় ভালো চললে সেটাতে সবাই এসে ভিড় করে, কেউ খরচ কমায় লাভ বেশী পাওয়ার জন্য, কেউ আবার কম দামে বিক্রি করে কাস্টমার ধরার চেস্টা করে। কোনো একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটা খুব ভালো পদ্ধতি যে, খরচ কমিয়ে লাভ করা কিংবা কম দামে সার্ভিস দিয়ে গ্রাহক বাড়ানো। কিন্তু এটা সব সময় প্রযোজ্য হয়না। চাইলেও এটা সব সময় এপ্লাই করা যায়না প্রথমত সব সময় আপনি খরচ কমাতে পারে না কারণ সব জিনিসের দাম আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকেনা ফলে যখনি খরচ কমানো পলিসি আপনার হাতছাড়া হবে তখনি আপনি খেই হারিয়ে ফেলবেন কারণ আপনিতো খরচ অনুসারে পন্যের দাম দিয়েছেন। এজন্য এ পদ্ধতি প্রয়োগের সময় সচেতন থাকলে আপনি সমস্যা এড়াতে পারবেন।
আরেকটা পদ্ধতি হলো দাম কমিয়ে বেশী বিক্রি করা। যেকোনো ব্যবসা শুরুর দিকে এটা খুব ভালো পদ্ধতি। কিন্তু আপনার কোয়ালিটি বা অন্যকোনো ভুলে যদি গ্রাহক না বাড়ে কম দামে বিক্রি করে শেষে ফেসে যেতে পারেন। সূতরাং এ কৌশল গুলো ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন।

সমস্যাগুলো হলো:
১. প্রথমে সাইট বানাতে গিয়ে দেখা গেলো অনেক কিছু করা দরকার বিশেষ করে শপিং টা সহজ করার জন্য, কিন্তু যে ফিল্ডে কাজ শুরু করছে তাতে অনেক সীমাবদ্ধতা।
২.  সাইট হওয়ার পর পন্যের ছবি পোস্ট করতে গিয়ে নানা ঝামেলা, পন্য না কিনে ছবি কোথায় পাবো? অনলাইন থেকে ছবি তুলতে মানুষ বুঝে যাবে। যাক কিছু পন্য কিনে ছবি তোলা হল, ওরে বাবা মোবাইলে ছবি তুললে তো কালার ভালো আসে না। এডিট করলেতো ঠিক হয়না। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার অনেক টাকা চায়? এত পন্যের ছবি তুলতে গেলেতো ফকির হয়ে যাবো।
৩. ছবি পোস্ট করলে দেখা যায় রেজুলেশান কম বেশী হয়ে যায়, সাইজ এডজাস্ট করে না। আবার ছবি চুরি হয়ে যায়। কোনো কোনো কাস্টমার বলে ভাই ছবি দেখেতো ভালোমন্দ বোঝা যাচ্চেনা।
৪.  দাম নিয়ে টেনশান? কত লাভ করবো? কম হলে যদি লস হয়? বেশী হলে যদি না চলে?
৫.  কুরিয়ার কোম্পানী মাল নিলে টিকমতো ডেলিভারী দেয়না। ডেলিভারী দিলে পেমেন্ট পাইনা।
৬. কাস্টমার অর্ডার দিয়ে বাসায় থাকেনা? প্যাকেট খুলে বলে এটাতো দুই নাম্বার বা আমিতো এই কালার আর্ডার দিই নাই। বা আমারতো সাইজে হয়না। এখন তো টাকা নেই, খরচ করে ফেলেছি।

৭. মাস শেষে দেখা গেল যা দৌড়া দৌড়ি হয়েছে। ৫০টা অর্ডার গেছে ১০,০০০ টাকা লাভ হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার টাকাই এদিক সেদিক দৌড়ে খরচ হয়ে গেছে। ৫০ হাজার টাকার মাল কেনা হউছে। কিছু মাল চলতেছে। কিন্তু কিছু মালে টাকা আটকে আছে তাই যেগুলো চলছে সেগুলোর চালান করা যাচ্চে না।

৮. এখন বুঝলেন যে কিছু প্রমোট করা দরকার। যেহেতু অনলাইন বিজনেস সবাই ফেইসবুকে মার্কেটিং করে , তাই ফেইসবুকে এড দিতে হবে। দিলেন কিন্তু সাড়া নেই। অথবা ২০ ডলার মাত্র একটি পন্য বিক্রয় করলেন।

৯. এবার চিন্তা করলেন কিছু অফলাইন এড দিবেন। তাই ২০০০ লিফলেট বানিয়ে পত্রিকার হকারের হাতে ধরিয়ে দিলেন। বিলি করার জন্য বিলি হলো। ২৭ জন ফোন দিলো। কিন্তু কেউ অর্ডার করলোনা। হায়রে কপাল।

১০.  ভাবলেন না জাহাঙ্গীর আলম শোভন ভাইয়ের পরামর্শ মতো ক্রিয়েটিভ বা নতুন ধরনের প্রচারণা চালাতে হবে। তাই করলেন কি।‘‘ যারা আমাদের কেনা জামা গায়ে দিয়ে সেলফি তুলবে। তাদের মধ্য থেকে সপ্তাহে কয়েকজনকে দেয়া হবে ইউনিলভারের বিশেষ ক্লিনিং প্যাকেজ যাতে থাকবে একটি হ্যান্ডওয়াশ, একটি হউল সাবার, একটি ভিম, একটি হুইল পাউডার, একটি লাইফবয়, একটি হারপিক। ৫০০ টাকার গিফট হ্যাম্পার। এতে মোট অর্ডার পেলেন ৫টা । তাতে যা লাভ হলো তাতে পুরসকারের টাকাই ওঠেনা।

এগুলো কিন্তু আপনার বেলায়ও হতে পারে। এবং হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হলো এই সবগুলো বিষয়ে অনেকগুলো আর্টিকেল পোস্ট করা হয়েছে। আসুন উপরের সমস্যার আলোকে লেখাগুলো পড়ি।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *