ব্যাবসায়ে সফলতার পাচ স্বর্ণ সুত্র

বড় বড় কোম্পানি বা ব্রান্ডগুলোর বিষয়ই আলাদা। তাদের লোগো দেখার সাথে সাথেই যে কেউ চিনতে পারে, তাদের পন্য, প্যাকেজিং, উপস্থাপন সবকিছুই আলাদাভাবে পরিচিতি পায়, তাদের রয়েছে বিশাল ব্রান্ড ম্যানেজমেন্ট টীম, এইচ আর বিভাগ, রিসার্চ … আরো কত কি ।

কখনো কখনো ব্যাবসায়ের মালিক নিজেই তার ব্যাবসায়ের উপদেষ্টা হিসবে কাজ করেন (স্টিভ জবসের কথা চিন্তা করুন) কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয় না। ব্রান্ডগুলো টাকার বিনিময়ে জ্ঞ্বানী এবং পেশাজিবিদেরকে তার ব্যাবসায়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।

কিন্তু ক্ষুদ্র বা মাঝারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই বিশাল অংকের অর্থ খরচ করা শুধু আসাধ্যই না অবাস্তব ও বটে। কিন্তু তাই বলে তো আর বসে থাকা চলে না, তাই না? আপনার যদি নিজের পন্য বা ব্রান্ডের জন্য টাকা খরচ করে উপদেষ্টা নিয়োগ করার সামর্থ বা সুযোগ না থাকে তাহলে নিজেই নিজের কোম্পানীর উপদেষ্টা হয়ে যাওয়াটা মনে হয় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এখন আপনার মনে প্রথম যেই প্রশ্নটা উকি দিচ্ছে তা হল, “এও কি সম্ভব?”

আমি বলব অবশ্যই সম্ভব, হাসিন হায়দার ভাইয়ের কোম্পানী থিম-বাকেটের নাম হয়ত অনেকেই জানেন না, কিন্তু বাংলাদেশের প্রোগ্রামিং জগতে হাসিন হায়দার ভাইয়ের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। একই কথা প্রযোজ্য ব্রানোর রাজিব রয় ভাই সম্পর্কে। এটা শুধু একটা উদাহরন মাত্র, একটু খুজে দেখুন এমন অনেক উদাহরন আপনার চারপাশেই আছে।

ঠিক এর পর পরেই দ্বিতীয় যেই প্রশ্নটি ইতিমধ্যে আপনাকে জ্বালাচ্ছে সেটি হল, “কি ভাবে সম্ভব?”

ভাল কথা, এই বিষয়টি আসলেই অনেক ব্যাপক একটি বিষয় এবং এক কথা তার উত্তর দেয়া আসলেই কঠিন। তবে নিজেই নিজের কোম্পানী / ব্রান্ডের উপদেষ্টা হয়ে উঠার জন্য কিছু সাধারন কিন্তু কার্যকরি উপায় আজকে আলোচনা করবোঃ

০১) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিন। 

ক্ষুদ্র / মাঝারী ব্যাবসায়ের মালিকেরা অধিকাংশ সময়ে আড়ালে থাকেন। তারা অনেকেই সগর্বে  প্রচার করেন না যে আমি এই ব্যাবসায়ের মালিক। এবং বলা হয়ে থাকে অধিকাংশ ব্যাবসায়ের ব্যার্থতার অন্যতম কারনের মধ্যে এটি একটি। আপনার একটা ইকমার্স ব্যাবসায় আছে অথবা মুদির দোকান কিংবা ফুডকার্ট জানিয়ে দিন না সবাইকে যে, এটি আপনার ব্যাবসায় – আপনিই এই ব্যবসায়ের উদ্যোক্তা। মনে রাখবেন দিনশেষে মানুষই আসল, লোগো বা প্রতিষ্ঠান নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনার প্রতিষ্ঠানে সুনাম / দুর্নাম সবই কিন্তু আপনাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

তার চেয়ে বড় কথা মালিক যদি প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত না থাকে এবং নিজের ব্যাবসায় নিয়ে গর্বিত না হয় তাহলে তার কর্মকর্তা / কর্মচারীরা কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো খুব দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে। যা আসলে বাজে সেবা, মানহীন পন্য আর খুব অসন্তুষ্ট ক্রেতার জন্ম দেয়।

যদিও ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিকীকরন (অর্থাৎ মালিকের শারীরিক অনুপস্থিতিতেও ব্যাবসায় নিজের গতিতে চলবে ) সব ব্যাবসায়ীরই আরাধ্য, তবুও আপনি যখন আপনার ব্রাণ্ড ডেভেলপমেন্ট স্তরে কাজ করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে আপনার ক্রেতা / ভোক্তাদের কেও জানাতে হবে যে প্রতিটি পর্যায়ে আওনার নিয়ন্ত্রন আছে এবং যে কোন সুবিধা অসুবিধায় তারা আপনাকে পাশে পাবে।

ব্যাবসায় জগতে একটা কথা আছে,

মালিক যেখানে যায়,

গতি ও সেবা সেখানে ধায়।

চেষ্টা করবেন কথাটা সবসময় মনে রাখতে।

০২) আপনার থাকা আর না থাকার মাঝে সমন্বয় তৈরী করুন।

এবার একটু উলটা দিক থেকে বিশ্লেষন করি। ধরুন আপনার ব্যাবসায়কে আপনি একদম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং তা বেশ ভালোই চলছে। কিন্তু নিজেকে কি একবার প্রশ্ন করে দেখেছেন, আপনি যখন থাকেন না তখন কি হয়? ক্রেতারা কি ঠিক মত সেবা পায়? কর্মীরা কি ঠিক মত কাজ করে? কোন কারনে আপনি যদি বেশ কিছুদিন থাকতে না পারেন তাহলে আপনার ব্যাবসা কি ঠিকমত চলবে?

অনেক সময় এমন হয় যে, কোন দোকানের মালিক, যিনি সব-সময় দোকানে থাকেন তার অনুপস্থিতিতে ক্রেতারা ফিরে যান। কার্যত বেচাকেনাই লাটে ওঠে। এটা শুধু দোকানের বেলাতেই নয়, যে কোন ব্যাবসায়ের বেলাতেই সত্য।

দিনশেষে আসলে সব কিছুই “থাকা না থাকা” এর ভারসাম্যের উপর নির্ভরশীল।

সবচেয়ে বড় কথা হল ব্যাবসায়কে একটা নির্ধারিত ছকে নিয়ে আসা, যাতে করে প্রত্যকেই তার দায়িত্ব, প্রাপ্য ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে। তাদেরকে একটা নিয়মে অভ্যস্ত করে তোলা, যাতে করে আপনার ক্রেতা / ভোক্তারা নিশ্চিত হয় যে, আপনি থাকুন আর নাই থাকুন তার একই মান ও সেবা পাবে।

এবং মজার বিষয় হল, এই সব কিছুর পরেও ব্যবসায়ে আপনার শারীরিক উপস্থিতির কোন বিকল্প নেই। তাই যখনই সময় পান, কিছু না কিছু কাজে অংশ নিন। তা হোক বিষেশ ক্রেতা / ভোক্তাদের শুভেচ্ছা জানানো অথবা কর্মীদের কাজের দেখভাল করা।

০৩) উপদেষ্টা হোন, শুধুমাত্র বিক্রেতা নয়।

তুখোড় বিক্রেতা হলেই যে আপনি ব্যাবসায়ে সফলতা অর্জন করবেন বা আপনার কোম্পানীর ব্রান্ড-ভ্যালু বাড়বে বিষয়টা কিন্তু এমন নয়।

ব্যাবসায়ী হিসেবে আপনাকে হতে হবে তুখোড় বিক্রেতা, কড়া সমালোচক, সেরা কৌতুকাভিনেতা, নিজের ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ভক্ত ও একনিষ্ঠ সমর্থক এবং অবশ্যই বিজ্ঞ্ব পরামর্শক। কিন্তু নিজেকে কখনই শুধু-মাত্র একজন বিক্রয় কর্মী ভাববেন না। নিজেকে সবসময়েই আপনার ব্যাবসায়ের একজন পরামর্শক ভাবুন। আপনার প্রতিষ্ঠানে আপনি কি করতে চান, আপনার ব্যাবসায়িক দর্শন কি, কিভাবে আপনি আপনার ব্যাবসা পরিচালনা করতে চান, কেন আপনিই সেরা … ইত্যাদি বিষয়ে আপনার কর্মী আর ক্রেতা / ভোক্তা উভয়কেই ক্রমাগত জানাতে থাকুন।

০৪) “এই দামে এর চেয়ে ভালো পণ্য/সেবা সম্ভব নয়” এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

সত্যি কথা বলতে দিনশেষে আপনার পণ্য / সেবার মানই ঠিক করে দেয় আপনার ব্রান্ড নন্দিত হবে নাকি নিন্দিত হবে। আপনার কর্মীদের (নিজেকে সহ) এমন ভাবে প্রশিক্ষন দিন যাতে সেরা মান নিশ্চিত করার জন্য তারা নিজেদের সামর্থের শেষ বিন্দু টুকুও ঢেলে দেয়। আপনার ব্যাবসা তখনই ভাল করবে যখন আপনার ক্রেতা / ভোক্তারা আপনার স্থায়ী ক্রেতায় পরিনত হবে।  আর সেটা তখনই সম্ভব যখন আপনার পণ্য / সেবার মান তাদেরকে সন্তুষ্ট করবে। আর না হলে সবচেয়ে দক্ষ ব্যাবসায়ীও ব্যর্থ হতে বাধ্য।

৫। কোনটা আগেঃ টাকা না সেবা?

ডিম আগে না মুরগি আগে এই নিয়ে সেই আদি কাল থেকে বিতর্ক চলে আসলেও ব্যাবসায়ে কিন্তু সবময়েই সেবা আগে। সেই সেবার প্রতিদান হিসেবে টাকা বা লাভ পকেটে আসে। আসলে আপনি যদি সেবায় এবং ক্রেতা সন্তুষ্টিতে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকেন তাহলে যৌক্তিকভাবেই আপনার বিক্রি বাড়তে থাকবে এবং সেই অনুপাতে লাভও বাড়তে থাকবে। সাধারনভাবে আমরা দেখি যে ব্যাবসায় শুরু করার আগেই আমরা লাভ কত আসবে, কতদিনে আসবে সেই হিসাব নিকাশ শুরু করে দেই। আসলে মূল কাজটা কিন্তু পন্য / সেবার ক্ষেত্রে সেরা মানটি নিশ্চিত করা, লাভের হিসাব করা নয়।

About Me:

Hello, this is Tanveer Razwan a Digital Marketing Expert and Web Developer, Working for brands who are willing to grow bigger in the digital atmosphere. I’m now working at TanTheta as Head of Development.

Wanna to knock? You can find me on:

Facebook Twitter Linkedin Slideshare | Google Plus  | My Website

 

1,500 total views, 3 views today

Comments

comments