একটি ই-কমার্স ব্লগে কি কি থাকা উচিত

693

এই লেখাটা “একটি ই-কমার্স ব্লগে কি কি থাকা উচিত” এই বিষয় নিয়ে ।

যখন ই – ক্যাব ব্লগের নাম শুনেছি তখন থেকে ই – ক্যাব ব্লগ এর ভীষণ ভক্ত ।একসাথে বাংলাদেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঘা বাঘা জিনিয়াসদের লেখাগুলো এইভাবে একজাগায় পাবো কল্পনা করতে পারি নি । আর এই ধরনের ব্লগ এ কোনদিন লিখব তা স্বপ্নে ভাবিনি । একদিন রাজিব ভাই আমাকে বলে এই topics এর উপর লিখতে । প্রথমে আমি দ্বিধা অনুভব করি । কারন আমার অতো এই সেক্টরে সম্পর্কে কোন ধারণা নাই । রজিব ভাই ,আমাকে অভয় দিয়ে বলে যা জান তা দিয়ে লেখা শুরু কর । যারা জানে না তাদের কাজে আসলেও আসতে পারে । টপিকস নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিলাম । তখন থেকে এখন যতক্ষণ পর্যন্ত আমি লিখছি ততক্ষণ পর্যন্ত কেন জানি না একটা ঘোরের মধ্যে আছি । যাই হোক সাহিত্য বাদ দিয়ে মূল কাহিনি শুরু করি ।
যেহেতু ই কমার্সের জন্য ব্লগ ই কমার্সের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ । তাই লেখাটা ই কমার্স সাইট থেকে শুরু করি ।
প্রোডাক্ট এর দাম নির্ধারণঃ সাধারণত ব্যবসায় এ দুইটা কৌশল অনুসরণ করে।
১ । বেশি দাম দিয়ে কম প্রোডাক্ট সেলঃ বাজারে যদি প্রোডাক্ট উৎস পর্যাপ্ত না থাকলে এইটা প্রয়োগ করা যেতে পারে ।
২। কম দাম দিয়ে বেশি প্রোডাক্ট সেলঃ আপনার বাজারে যদি প্রোডাক্ট উৎস পর্যাপ্ত থাকলে এইটা প্রয়োগ করতে পারেন । এইটা করতে যেয়ে মোটেও প্রোডাক্ট এরমান মোটেও খারাপ করবেন না । তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে ।
১ নং পয়েন্ট নিয়ে একটা কথা বলতে চাই । বাজারে যখন একদম নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে এই কৌশল অনুসরণ করে তখন একচেটিয়া লাভ করে ফেলে । পরে যখন প্রতিযোগীর এর সাথে পাল্লা দিয়ে এক লাফে দাম অনেক কমিয়ে দেয় । এইটা করলে পরে আপনার ইমেজ খারাপ হয়ে যাবে ।

আর যদি আপনি মার্কেট এ আধিপত্য এর চেয়ে লাভ কে অগ্রাধিকার দেন তাহলে আমার কিছু বলবার  নাই ।

এখন , আপনি কোন কৌশল অনুসরণ করবেন সেইটার ভিত্তিতে ই কমার্সের সাইটের জন্য আপনার প্রোডাক্ট এর জন্য বাজার এবং আপনার প্রতিযোগীর এর সাথে তুলনা করে একটা মুল্য নির্ধারণ করে ফেলুন। এইটা অত্যন্ত দরকারি । কারন এইটা পরে বলছি ।
ছবি নির্বাচন : আপনি যে প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করবেন সেই প্রোডাক্ট এর ছবি তুলবেন , খেয়াল রাখবেন ছবির মান যাতে ভাল হয়।
আর একদিক দিয়ে তুলবেন না । বিভিন্ন দিক দিয়ে তুলবেন । যেমন ,আপনি মোবাইলের ছবি তুললে মোবাইলের সামনের অংশ ,পিছনের অংশ পাশের সব ছবি তুলবেন। শাড়ির হলে পাড় ,আচল , মাঝখানের অংশ ছবি তুলবেন।
ডিসপ্লে পুতুল : প্রত্যেক অংশের ছবি তোলার পরে ডিসপ্লে পুতুল দিয়ে পুরো ছবির তুললে ভাল হয় । আর ডিসপ্লে পুতুল দিয়ে ছবি তুলবার সময় কোন পুতুলের শরীরের এর কোন অংশ যাতে বাদ না যায় । যেমন কিছু ফ্যাশন কোম্পানি আছে তারা ছবি তুলার সময় মাথাটা বাদ দেয় নয়তো হাত নইতো পা। কার কাছে কেমন লাগে জানি না আমার কাছে এইটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ব্যাপার । আমার একটা প্রশ্ন তাদের কাছে যে মাথাসহ ছবি দিলে আপানার প্রোডাক্ট এর মান কমে যেত ?
আমি এইখানে শুধুমাত্র নমুনা হিসেবে নেট থেকে সার্চ করে একটা ছবি দিলাম আপনি চাইলে সেই কোম্পানি এর লিঙ্ক ও দিতে পারব ।

অগ্রহণযোগ্য

অগ্রহণযোগ্য

ভিডিও তৈরি : এইটা অত্যন্ত দরকারি একটা অংশ . কারন আপনার কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট সামনে থেকে দেখছে না । ভিডিও টা বানালে আপনার প্রোডাক্ট এর উপস্থাপন ভাল হবে ।

মডেল নির্বাচন : আপনার যদি বিনিয়োগ কম হয় তাহলে দামি এর মডেল নেয়ার দরকার নেই । অনেকে আছে মডেল হিসেবে
পোর্টফলিও এর মান বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত আছে । তাদেরকে আপনি নিতে পারেন নতুবা আপানার প্রোডাক্ট এর
মডেল আপনি নিজেও হতে পারেন । ই – ক্যাব এর সদস্যদের দের মধ্যে অনেকে আছেন যারা নিজেদের প্রোডাক্টের নিজেই মডেল । আপনি যদি সঙ্কোচ বা সমস্যা বোধ করেন তাহলে দরকার নেই ।
আর আপনি যদি কাপড় যেমন শাড়ির মার্কেটিং করেন র‍্যাম্পিং এর মত করে ভিডিও করলে সেইটা একটু অসাধারণ মাত্রা পাবে ।

প্রোডাক্ট উপস্থাপনা প্রস্তুত হওয়ার পর এখন আসা যাক সাইট নিয়ে ।

সাইটঃ ই কমার্স সাইটের জন্য কোন কোন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে তা এই ব্লগে এ সার্চ করলে পেয়ে যাবেন । আমি আর এই বিষয় নিয়ে লিখলাম না।

লোগো : কথাই আছে ছবি মানুষের মনের কথা বলে । আপনার কোম্পানি কোন ধরনের প্রোডাক্ট উৎপাদন বা মার্কেটিং করে বা কোন ধরনের ধারণা বা আদর্শকে কে পালন করে তা উপস্থাপন করবে লোগো । লোগো টা একটু অসাধারণ , একটু আলাদা হলে ভাল হয় । লোগো ব্যপারটা এত হাল্কা হলে বড় বড় ব্র্যান্ড রা তাদের সময়মত লোগো পরিবর্তন করত না।
আর এইটা তারা নিয়ে বড় বড় প্রতিযোগীতার আয়োজন ও করে
ছবিঃ আপানার প্রোডাক্ট এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফটো যোগ করুন ।

বর্ণনা : আপানার প্রোডাক্ট এর বর্ণনা দিন ।

মুল্য : আপনি যে মুল্য ফিক্সড করেছেন তা যোগ করে দিন ।
Add Cart বা কিনুন : তারপর আপনি Add Cart অপশন যোগ করুন ।

যোগাযোগ : কেউ যদি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চায় বা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চাই সেটার জন্য আপানর যোগাযোগের নাম্বার দিয়ে দিন ।

♥আমি আগেই বলেছিলাম মুল্য নির্ধারণ নিয়ে কথা বলব । মুল্য নির্ধারণ করা নিয়ে মোটেও বিব্রত বোধ করবেন না । আসলে এই ব্যাপেরটা নিয়ে আমাদের সবার অভিজ্ঞতা টা অনেক তিক্ত । ৭০০ টাকার জিনিস ২০০০ টাকা চায় । এইরকম মোটেই করবেন না।কারন এইটা সাইবার ওয়ার্ল্ড । অত্যন্ত শক্তিশালী একটা মাধ্যম । এইখানে একটু উলটা পাল্টা কাজ করলে পথে বসতে সময় লাগবে না। কারন প্রত্যেক কাস্টমার এর পর্যালোচনা (review)সমান গুরুত্বপূর্ণ ।

এখন আসি ব্লগ এর ব্যাপারটাতে ,

প্রথমে আসি আপনি কেন ব্লগ খুলবেন ? আচ্ছা ,আপনাকে আমি প্রশ্ন করি , আপনি যখন এমনে মার্কেটে কোন প্রোডাক্ট উপস্থাপন করেন তখন কি করেন ?  আপনি আপনার কথা দিয়ে সাধ্যমতো কাস্টমারকে প্রোডাক্টের গুনগত মানটা বুঝানোর চেষ্টা করেন । ঠিক তাই না। তাহলে ভার্চুয়াল জগতে কাজটা আপনি কিভাবে করেবন? আপ্নিত এইখানে কথা বলতে পারবেন না। হ্যাঁ , যা করতে হবে লেখালিখির  মাধ্যমে করতে হবে ।  আর সেটার জন্য ব্লগ ।
হোস্টড ব্লগ অথবা নন হোস্টড ব্লগ :
ফ্রি ব্লগ খুলবেন নাকি নিজের হোস্টড ব্লগ খুলবেন সেইটা নিয়ে অনেকে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগেন ।
আসলে এইটা আহামরি কোন ব্যাপের না । অন্তত আমার কাছে । আমার কাছে এইটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল বিষয়বস্তু বা content ।হ্যাঁ ,আপনি যদি সাইটকে নিজের মত পরিবর্তন বা পেশাদারিত্তের ছাপ দিতে চান তাহলে নিজের হোস্টড ব্লগ এর বিকল্প নেই ।

বিষয়বস্তু : এখন প্রশ্ন উঠেতেই পারে “ব্লগ এ কোন কোন বিষয়বস্তু রাখব ?আমি তো সাইট এ বর্ণনা তো দিয়েছি
এখন আমি আপনাকে প্রশ্ন করি , ধরুন আপনি কম্পিউটার কিনতে গেলেন তাহলে আপনি শুধু যেইটা দেখতে সুন্দর লাগবে সেইটা কিনে ফেলবেন ?বলুন তো কি করবেন তখন?
নিশ্চয় না । এইটার কনফিগারেশন তো বর্ণনা এ লেখাই ছিল কিনলেন না কেন ?
আসলে কোন জিনিস কেনার আগে তার ভাল মন্দ , বাজেট সবকিছু যাচাই করার দরকার হই। সেইগুলো নিয়ে রিভিউ মানের বিষয়বস্তু লিখে ফেলেন ।ইলেক্ট্রনিক্স প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ লেখাটা খুব একটা কঠিন না যতটানা অন্য প্রোডাক্ট এর গুলো লেখা । কারন আপনি নেটে এ সার্চ করলে একটা ধারণা নিতে পারবেন ।

কিন্তু জামাকাপড় বা শাড়ি নিয়ে লিখতে হলে একটু কস্ট করতে হবে । আপনি যে শাড়ি নিয়ে লিখতে চান সেটা কোন কাপড় দিয়ে তৈরি ,সেটা কোন নকশা আকর্ষণীয় বা কোন কোন সময় পড়লে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ অনুভব করতে পারে সেইগুলো নিয়ে । আর হ্যাঁ টিপস জাতীয় আর্টিকেল বাদ দিবেন না কিন্তু ।
ছবি : আপনি যত গুলো বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল বা কোণ থেকে ভাল ছবি তুলেছেন সেইগুলো যোগ করে দিন ।
ভিডিওঃ প্রোডাক্ট এর জন্য যে ভিডিও বানিয়েছেন টা যোগ করে দিন ।
ADD CART বা কিনুন : তারপর ,আসুন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে । এইখানে কথায় কথায় add cart লিখবেন না। কারন জিনিষটা “ব্যবসায়ী ” এর মত না হয়ে “সেলস্ মেনের” মত দেখায় । এর বদলে আপনি লিখে দিতে পারেন ” if you interested to buy this product , click here.” তারপর আপনি আপনার মূল লিঙ্ক দিয়ে দিবেন । অবশ্যই আপনি যদি চান আপানার প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিতে পারেন । সমস্যা নাই । আপনি ইচ্ছে করলে ব্লগে আপনি নিজেকে রাইটার হিসেবেও উপস্থাপন পারবেন ।

এই কথাটা আমি প্রায় শুনি যে , কোন দিক সামলাবো ব্যবসা নাকি ব্লগ ।
কারন এইটা অনেক ধৈর্য্যের ব্যাপার । কারন এইখানে রিসার্চ এর অনেক ব্যাপার আছে ।
আপনি কোন রাইটার কে মেনেজ করতে পারেন বা আপনার কোম্পানির সদস্য বা টিম  member বানিয়ে ফেলতে পারেন । সদস্য বানিয়ে ফেললে আপনার সুবিধাটা বেশি হবে। যখন আপনার প্রোডাক্ট আর বাজার সম্বন্ধে ভাল একটা ধারণা নিয়ে ফেলবে তখন সেও ভালো ধারণা সে দিতে পারবে বা আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডিং এ জন্য নিজের মনে করে কাজ করে যাবে ।
এই ব্যপারটাতে আপানাকে উদার এবং বন্ধুবৎসল হতে হবে।
আমি সবসময়ই নিজের কাজ নিজে করার জন্য বলবো । কারন যখন আপনি সময়ের জন্য যদি না পেরে কাওকে কোন দায়িত্ব দিবেন তখন তাকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন যে আপনি কি চান, তার কোন সমস্যা হলে সেটার সমাধান করে সাহায্য করতে পারবেন । তাহলে আপনাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভাল হবে।

আর সাইট বা ব্লগ এর একটাই চেলেঞ্জ । যে কিভাবে আপনি ভিসিটর ধরে রাখা যায় অর্থাৎ আপনি যে টপিকস নিয়ে লিখছেন তাতে ভিসিটর যেন সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যায় । কারন ভিসিটরই সাইটের একমাত্র প্রান । আরেকটা কথা আছে…

visitor = money

এইখানে কিছু কথা বলা হয় নি । কিভাবে প্রোডাক্ট প্রমোশন করবেন ,কিভাবে মার্কেটিং করবেন তা ভাল মত জেনে তারপর নামবেন । আর প্ল্যান করার চেয়ে আমি বলব ডায়াগ্রাম বানাতে ।  অর্থাৎ কোনটার পর কোনটা … শুধু মাত্র এইটা । কারন ব্যবসা আসলে পরিস্থিতির উপরে নির্ভর  করে । আজকে একরকম তো কালকে আরেক রকম । ডলারের দাম একটু এদিক সেদিক হলে বাজারে দারুন প্রভাব পড়ে ।তাই এইটা নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই । যেই ফিল্ডে নামবেন সেটা সম্পর্কে ভাল ধারণা যাতে থাকে ।

শুরু করে দিন । ভয় পাবার কিচ্ছু নেই । আগে নামুন রাস্তা এমনি তৈরি হয়ে যাবে । সমস্যা হলে তো ই ক্যাবের মেম্বাররা তো আপানার পাশে আছেই ।

উপরের যে লেখাগুলো দেখছেন সবগুলো আমার নিজের অভিমত। এইগুলো যে কাওকে অনুসরন করতে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এই লেখগুলোর মাধ্যমে কারও যদি কোন উপকারে আসে তাহলে আমার লেখাটা সার্থক হবে বলে মনে করি।
আজ এই পর্যন্তই । যদি লেখাতে কোন ভুল বা সমস্যা মনে করেন তাহলে কমেন্ট এ জানাবেন ।

 সবার প্রতি শুভ কামনা রইল ।

ফেইসবুক আইডি  : Business Ecommerce Content Association In Bangladesh (BECAB) 

ধন্যবাদ সবাইকে ।

লেখকের  লেখা আরও আর্টিকেল পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন ।

পার্থ প্রতীম মজুমদার : http://blog.e-cab.net/author/partho/

 

 

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *