ই-কমার্স সাইটের ডোমেইন নির্বাচনের জন্য কিছু টিপস

468
Hosting-y-dominio

ইদানিং অনেককেই দেখা যায় ই-কমার্স বিজনেস করতে চান কিন্তু আপনার কোম্পানির নাম বা ডোমেইন নাম কি নির্বাচন করবেন তা খুঁজে পান না বা মাথায় আসে না। আবার আপনার নির্বাচিত ডোমেইন নামটি কতটা সুন্দর দেখাবে বা শোনাবে বা অডিয়েন্সের কাছে তা কতটা গ্রহনযোগ্যতা পাবে সেটা বুঝে উঠতে পারেন না। তাই আপনাদের ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু কৌশল নিয়ে এখানে আলোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতিকালে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ই-কমার্স কোম্পানিই তাদের কোম্পানি নাম তাদের ওয়েবসাইটের ডোমেইনের নামেই ব্যাবহার করছে। এবং এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অবশ্য এর পিছনে কিছু যৌক্তিক কারনও রয়েছে। অনেকে সেটা বুঝে করছেন আবার কেউ না বুঝেও করছেন। তবে ডোমেইনের নামে কোম্পানি নাম দেওয়ার কারনে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে ক্রেতা, গ্রাহক বা অডিয়েন্সদেরকে আলাদা করে ওয়েবসাইটের ঠিকানা বলে দিতে হয় না। এবং ভিজিটর বা ক্রেতারও খুব সহজেই কোম্পানির নামটা মনে রাখতে পারেন বা মুখস্ত করে নিতে পারেন। কোম্পানি নাম বা ডোমেইন নির্বাচনের আগে আপনাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের উপর লক্ষ রাখা উচিত।

১। মার্কেটপ্লেসঃ আপনি আপনার ব্যাবসা কোন মার্কেটপ্লেসে পরিচালনা করবেন আপনার কোম্পানি বা ডোমেইন নামটা তার উপর ভিত্তি করে নির্বাচন করুন। অর্থাৎ আপনি কি শুধু দেশের মার্কেটে ব্যাবসা করবেন নাকি আন্তর্জাতিক মার্কেটে ব্যাবসা করবেন সেটা আগে ঠিক করে নিন। যদি আপনি শুধুমাত্র দেশের মার্কেটে ব্যাবসা করার পরিকল্পনা করতে চান, সেক্ষেত্রে এমন একটি নাম নির্বাচন করুন যা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। পাশাপাশি নামের মধ্যে কিছুটা ব্যাতিক্রমী অর্থ থাকতে পারে। অনেকে দেশের বাজারে ব্যাবসা করার ক্ষেত্রে কান্ট্রি লেভেল (.com.bd, .net.bd, .org.bd) ডোমেইন নিয়ে থাকেন। আবার অনেকে তাদের পছন্দের নামের সাথে (bd) লেয়াজু যুক্ত করেন। এভাবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে তার কোম্পানি নাম নির্ধারন করে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করা উচিৎ। আপনার কাংক্ষিত স্বতন্ত্র ডোমেইনটি হয়তো ফাঁকা নাও থাকতে পারে। যার কারনে আপনি কান্ট্রি লেভেল ডোমেইন বা ডোমেইনের সঙ্গে লেয়াজু ব্যাবহার করতে উদ্যত হয়েছেন। কিন্তু একবার ভাবুন যে আপনি আপনার ব্যাবসাকে আসলে কোন মার্কেটপ্লেসে পরিচালনা করবেন। আপনি যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা নিয়ে যেতে চান সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নাম বেছে নেওয়াটাই আপনার জন্য বেশি কার্যকরি হতে পারে। কারন আপনার ডোমেইন যদি শুধু দেশের মার্কেটপ্লেসের ইঙ্গিত বহন করে, সেক্ষেত্রে আপনার সাইটের কাংক্ষিত ভিজিটর, ক্রেতা এবং গ্রাহক খুঁজে পাওয়াটা কিছুটা দুঃস্কর হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যদি পা রাখার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে এমন একটি নাম খুঁজে বের করুন যা একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছেই পরিচিত।

২। শ্রুতি মাধুর্যঃ আপনি যে ডোমেইন নামটি বেছে নিয়েছেন, সেটা যেন শুনতে ভালো শোনায় এবং উচ্চারনে তা সহজ হয়। সেক্ষেত্রে আপনার ভিজিটরেরা খুব সহজেই তা রপ্ত করে নিতে পারবে এবং সঠিকভাবে উচ্চারন করতে পারবে। অবশ্যই নামের মধ্যে একটা ছন্দের সংমিশ্রণ ঘটান। সেক্ষেত্রে আপনার পছন্দের নামটি বিকৃত হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।

৩। অর্থবহ নামঃ আপনার বাচাই করা নামটি যেন অর্থবহ নাম হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনি যে নামটি আপনার কোম্পানির জন্য নির্বাচন করেছেন সেটি যেন আপনার টার্গেটেড কাস্টমারদের কাছে সমাদৃত হয়ে সেদিকে বিশেষ ভাবে নজর দিন। আপনি যে ধরনের পন্য নিয়ে বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন আপনার কোম্পানির নামটাও যেন সে ধরনের পন্য বা সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখে সেদিকেও খেয়াল রাখুন। ধরুন আপনি পোশাক বিক্রি করছেন কিন্তু কোম্পানির নাম দিলেন হাড়িপাতিল ডট কম, এরকম হলে ভোক্তা সমাজের মাঝে আপনার কোম্পানীর নাম নিয়ে দিধার সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারটা মাথায় রাখাটা খুব জরুরি।

৪। সংক্ষিপ্ত নামঃ আপনি যে নামটিকে আপনার ডোমেই নাম হিসেবে বাছাই করেছেন তা যেন সংক্ষিপ্ত হয় সে ব্যাপারে নজর দিন। কারন নাম যদি বেশি বড় হয়ে যায়, অনেক সময় একজন নতুন অডিয়েন্সের কাছে তা বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বা অনেক ভিজিটর আপনার ওয়েব এড্রেস লেখার ক্ষেত্রে বানান ভুলের শিকার হতে পারে। কাজেই চেস্টা করবেন ডোমেইন নামটা যেন সংক্ষিপ্ত আকারে হয়। পাঁচ থেকে দশ অক্ষরের মধ্যে হলে খুব ভালো হয়। ভবিষ্যতে আপনি যদি ব্রান্ডেড এসএমএস মার্কেটিং করতে যান তবে সেক্ষেত্রে এটি খুব কাজে আসবে। বলা বাহুল্য ব্রান্ডেড এসএমএস এর ক্ষেত্রে এগার অক্ষরের মধ্যে ব্রান্ড এর নাম মাস্কিং করতে হয়। অর্থাৎ মোবাইল নাম্বারের এগারটি সংখ্যাকে অক্ষরে পরিনত করার সুযোগ থাকে। কাজেই এ দিকে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া জরুরি।

সর্বশেষে একটা কথা না বললেই নয়, আপনার কোম্পানিটি আপনার একটি দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ। কাজেই নামটা এমন ভাবে নির্বাচন করুন যা একশো বছর পরও যুগের সঙ্গে হালনাগাদ একটি নামের স্বীকৃতি বহন করতে পারে।

সুতরাং নাম নির্বাচনের আগে একটু ভাবুন, সময় নিন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন এবং সুন্দর একটি নাম খুঁজে বের করুন যা আপনার ব্যাবসা বৃদ্ধির কাজে বিশেষ ভাবে আপনাকে সহায়তা করতে সক্ষম।

ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার ব্যাবসার সফলতা কামনা করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং ই-ক্যাবের সঙ্গেই থাকুন।

Comments

comments