২০২১ সালে ই-ক্যাবের কর্মপরিকল্পনা ১

২০২১ সালের কর্মপরিকল্পনা

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জর মোকাবিলা করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানের অগ্রযাত্রাকে সামনে নিয়ে চলেছি। তথ্য প্রযুক্তি আর তারুণ্য এই দু’য়ের সমন্বয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারীর মতো বৈশ্বিক দূর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সাফল্য আজ ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে। বিগত ঘটনাবহুল বছরে আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা যেভাবে সরকার ও জনগনের পাশে দাঁড়িয়ে নিত্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন সচল রাখার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আনয়ন করেছি তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারই ফলশ্রুতিতে সরকার ই-ক্যাবকে ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরষ্কার ২০২০’’ এ ভূষিত করেছে। আমাদের এই অর্জন মূলত সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিগত সময়ে আপনারা যে সেবা দিয়েছেন তা দেশের মানুষ আস্থার সাথে স্মরণ রাখবে। আপনাদের সাথে নিয়ে চলতি বছরও আমরা ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন কাজ করে যেতে চাই।

 

সে আলোকে নিন্মোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে কাজ করবে ক্যাব

১. গ্রামীণ ই-কমার্সের উন্নয়ন ও শহর এবং গ্রামের ই-বাণিজ্যিক সংযোগ বিস্তৃত করা

২. ক্রসবর্ডার ই-কমার্স বা রপ্তানীমুখী ই-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা

৩. সোস্যাল মিডিয়া নির্ভর অনলাইন ব্যবসাকে একীভূত করা

৪.  আইসিটি নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারী দপ্তরসমূহের সাথে একযোগে কাজ করা

৫. ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা

৬. ই-কমার্স সংক্রান্ত অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা চালু করা

৭. লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।

৮. অন্যান্য বিদ্যমান সমস্যার সমাধান ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতামুলক অংশগ্রহণ করা

৯. ই-কমার্স স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ অমীমাংসিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে সহযোগিতা করা।

১০. ই-কমার্স সেক্টরে কর্মী ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষনা কার্যক্রম গ্রহণ করা।

 

আগামী দিনগুলোতে যেসব ক্ষেত্রে কাজ করবে ই-ক্যাব

১. গ্রামীণ ই-কমার্সের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ এবং সরকার ও বেসরকারী খাতের সাথে কাজ করবে ই-ক্যাব

২. ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে ই-কমার্স ক্যাটাগরি যুক্ত করা এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা।

৩. বৈদেশিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য নূন্যতম ব্যয়সীমা নির্ধারণে ইতোমধ্যে কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে। বিষয়টি বিবেচনা করছে কতৃপক্ষ। বিষয়টি সূরাহা করা।

৪. ই-কমার্সে প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট প্রযোজ্য না হলেও ই-লার্নিং এর ক্ষেত্রে এখনো ভ্যাট রয়েছে। এ ব্যাপারে কাজ করবে ই-ক্যাব।

৫. আরো বেশী ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে ব্যাংক ঋণ ও বিনিয়োগ পেতে কাজ করবে ই-ক্যাব।

৬. ই-কমার্সের বাজার বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারী সুবিধা আদায়ে ই-ক্যাব সদাজাগ্রত থেকে কাজ করে যাবে।

৭. ক্রসবর্ডার ই-কমার্সের ক্ষেত্রে সুবিধা আদায় ও এ সংক্রান্ত আয়কে রফতানী আয় হিসেবে বিবেচনা করার জন্য নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে ই-ক্যাব।

৮. ই-ক্যাব সদস্যদের জন্য সুবিধা বাড়াতে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরীর কাজ অব্যাহত রাখবে ই-ক্যাব।

৯. ই-কমার্সে সুষম প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে ই-ক্যাব। এ ব্যাপারে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাথে সহযোগিতামূলক কাজ করে যাবে ই-ক্যাব।

১০. ই-ক্যাব সদস্যদের মধ্যে যারা ভোগ্যপণ্য বিশেষ করে খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করেন। তাদের বিএসটিআই অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরনের বিষয়টি নিয়েও কাজ শুরু করেছে ই-ক্যাব।

১১. ই-ক্যাবের অর্জনসমূহ বিশেষ করে বিগত সময়ে ই-কমার্স সেক্টর যেভাবে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় জনগনের দোরগোড়ায় নিরাপদ সেবা পৌঁছে দিয়েছে সে বিষয়টি দেশে বিদেশে প্রচারনার উদ্যোগের কথাও ভাবছে ই-ক্যাব।

১২. এছাড়া ই-ক্যাবের স্ট্যান্ডিং কমিটিসমূহ ও সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকরি পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীদিনগুলোতে পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এবং সদস্যদের কল্যাণে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে ই-ক্যাব বদ্ধ পরিকর।

 

 

1,142 total views, 3 views today

Comments

comments