মহান একুশ: ভাষা সংস্কৃতির বিকাশে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রবন্ধ ০২
আমাদের ভাষা আমাদের গৌরব
জাহাঙ্গীর আলম শোভনPaper-effect-natural-background-vector-design-04

(সম্ভবত বিদেশী শব্দবিহীন বাংলা লেখার প্রথম পদক্ষেপ এটি। বিদেশী শব্দ বলতে বর্তমানে আমরা যেসব শব্দকে বিদেশী শব্দ বলি। বিশেষ করে ইংরেজী। ইংরেজী শব্দবিহীন প্রথম বাংলা প্রবন্ধ। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নামে ইংরেজীর পরিবর্তে বাংলাভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা নতুন বাংলা শব্দ প্রচলন শুরু করার উদ্দেশ্যে  নয়। শুধু এই বার্তা দেয়ার জন্য যে বাংলাভাষাও সমৃদ্ধ ভাষা এ ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি চর্চা করা সম্ভব, সর্ব প্রথম দেখে নিন অনুশব্দগুলো। গত কয়েকশ বছর ধরে যেসব শব্দ সংস্কৃত, ফার্সী ও আরবি থেকে এসেছে। তা পহিার করা হয়নি। প্রথমত সেটা পরিহার করা আমার জন্য কঠিন। দ্বিতীয়ত সে শব্দগুলো এখন পরিবর্তিত হয়ে বাংলা শব্দ হয়ে  গেছে, তৃতীয়ত তা করলে লেখাটা এতটাই দূর্বোধ্য হতো যে তার পড়ে মুল বক্তব্য বোঝা যেতনা।)
আসুন দেখা যাক শব্দভান্ডার।

অনলাইন-খোলাধারা/ মুক্তধারা
ইন্টারনেট- আন্তজাল
কম্পিউটার – বৈদ্যুতিক গনকযন্ত্র
ক্যালকুলেটর- হিসাবযন্ত্র
ল্যাপটপ- ভাঁজগণকযন্ত্র
ট্যাব- পাটাগণকযন্ত্র
মোবাইল ফোন- মুঠোফোন
ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব- বিশ্ব বি¯তৃত তরঙ্গ
রেফ্রিজারেটর- ঠান্ডা আলমারি
ব্লগ-পঞ্জি
পোস্ট: দাখিলা/পেশ/ডাক
সার্চ ইঞ্জিণ- অন্বেষী যন্ত্র, অন্বেশৈলী
ভিডিও- ছলচ্চবি
অডিও-শব্দধারা
মাল্টিমিডিয়া:সমন্বিম মাধ্যম
ওয়েব সাইট- অবতরঙ্গ বা হাওয়াইমাকাম বা বাতায়নী
স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল: আকাশীয় দূরদর্শণ রেখী
কম্পিউটার প্রোগ্রাম: গণক আনুষ্ঠা
সফ্্টওয়ার: বায়বীয় হাজু
হার্ডওয়ার- শক্ত হাজু
লিংক- সংযোগ
সিংক-বিযোগ
পোস্টকাড- ডাকপত্র
স্মার্টফোন: বহুমূখী আলাপনী
টিউটোরিয়াল- শিখনী
ভিডিও টিউটোরিয়াল- চলচ্চবি শিখনী
ট্রান্সলেটর- অনুবাদী
স্ক্যান- বুলা
সিডি- কলের গুমনি
লেকচার শীট- বক্তপত্র
ইউনিকোড- সম্ববর্ণ
ডিজিটাল- আঙ্কিক
ই কমার্স- দ্যুতি ব্যবসায়
কোচিং সেন্টার = শিখন কেন্দ্র
সাজেশান: হাতের কপি
সাজেশন= পরাপ্রশ্ন/পরাপথ

ভাষার কথা
কখনো আমি নিজেও হতাশ হয়ে পড়ি যখন বাংলাদেশ নিজের দেশ সম্পর্কে কোন প্রয়োজনীয় তথ্য আন্তজালে না পাই। অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে এটা কাম্য নয়। কিন্তু যখন বাংলাভাষায় প্রয়োজনীয় বিষয়াদী না পাই। তখন কেমন লাগে বলুন? বৈদ্যুতিক গণকযন্ত্র আর মুঠোফোন আমাদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে একথা সত্য কিন্তু আমাদেরকে আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে নিয়ে গেছে। অন্যরা যেখানে এসব যন্ত্র মন্ত্র ব্যবহার করে নিজেদের কৃষ্টিকে অন্যের কাছে তুলে ধরছে। সেখানে আমরা তাতো করছিইনা বরং অন্যের সংস্কৃতির মাঝে নিজেদের বিলিন করে দিচ্ছি। অথচ এই বিলিন না করার জন্য বাঙালী দুবার রক্ত দিয়েছে। প্রথমবার তৎকালীণ পূর্বপাকিস্তানের বাঙালীরা ১৯৫২ সালে। আবার ১৯৬১ সালে আসামের বাঙালীরা, ভাষার দাবিতে ১১ জন বাঙালী পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ্আসামের কাচাড় জেলায়।

পেছন ফিরে দেখা:
ধারণা করা হয় বাঙালী জাতিসত্তা বিকশিত হয়েছে তিনহাজার বছরেরও আগে। এর আগে বাঙালী জাতি হিসেবে এ আমাদের পরিচিতি ছিলনা। এখানে আর্য, অনার্য, দ্রাবিড় অদ্রাবিড়, সনাতনী, অস্ট্রিক, মঙ্গোলিয়, হিন্দুকুশি, বং ইত্যাদি জাতির কথা জানা যায়। বাঙাল সম্পর্কে সবচে পুরনো তথ্য দেখা যায় ঐতরেয় আরন্যকে। এই সংস্কৃত গ্রন্থে বাঙলার উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া যায় রামায়ন ও মহাভারতেও।
তবে তৎকালে অভিন্ন বাংলা রাজ্যের অস্তিত্ব দীর্ঘদিন যাবত না থাকায় একিভূত বাঙালীর কথাও ভাবা যায়নি। যতদিন বিভিন্ন রাজ্য তথা সমতট হরিকেল তা¤্রলিপি ইত্যাদি রাজ্য একদা বাঙলায় পরিণত হলে বাঙালী জাতিসত্বার পরিচয় সুদৃঢ় হয়। এরিমধ্যে বাঙালী নৃতত্ত্বে  নানাজাতির মিশ্রণ ঘটে গেছে। বাঙালী জাতি মাথা উচু করে দাড়িয়েছে কারণ তাদের একটা সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র তৈরী হয়ে যায়। ততদিনে বাঙালীর নিজস্ব কৃষ্টির একটি ধারাও পোক্ত হয়ে উঠে। সুবে বাঙলায় রাজধানী স্থপিত হলে বাঙলা একটি প্রশাসনিক নাম পায়। কিন্তু তার আগেই বাঙালী তার ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার গৌরব তৈরী করে ফেলেছে। এর মধ্যে বাঙালীতে বিভিন্ন রক্ত মিশে গেছে কিন্তু বাঙালী জাতিতে, পরিচয়ে, মননে ও মূল্যবোধে বাঙালী রয়ে গেছে। বাঙালীর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে নানা উপমানে। প্রাচীণ সংস্কার, সনাতন ধর্ম বিশ্বাস, ব্রাহ্মন্য নীতি, সংস্কৃত বিধান, বৈদিক বিশ্বাস, তুর্কি ধারণা, পারসিক আচার, মুসলমানি রীতি, সুফিতত্ত্বের গুড়বাণী, বাউল ফকিরের আধ্যাত্মবাদ ও পাশ্চাত্য শিক্ষা এসবের মিশ্রণ ঘটেছে এক বৃন্তে। বাঙালী সংস্কৃতির জৌলুস তাতে কমেনি এতটুকু বরং নিজস্ব ধারায় বিকশিত হয়েছে শতাব্দ ধরে।

আমাদের লোকসাহিত্য
আর সেজন্যই আমাদের লোকসাহিত্য এতসমৃদ্ধ। আমাদের আছে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, জারি, সারি, মুশির্দি, বাউলি, ভান্ডারী, গম্বীরা, পটগান, পুথি, পালাগান, কবিগান, বারোমাসি, মেয়েলীগীতসহ শতরকম লোকগান। এমন বৈচিত্রময় গানের জগৎ পৃথিবীর কম জাতিরই রয়েছে। আমাদের রয়েছে শত শত লোকজ খেলা। আছে লোকনৃত্য, প্রবাদ প্রবচন, খেলার বোল, ছড়া, ধাঁধাঁ আরো কতো কি? এই লোকসাহিত্যের কারণেই আমরা আজো গর্ব করে বলি শত মিশ্রণ সত্বেও আমরা বাঙালী রয়ে গেছি। কারণ আমাদের যে সংস্কৃত স্বাতন্ত্র সেটা অন্যকারো নেই কেবল আমাদেরই আছে । আর এজন্যই আমরা এক স্বয়ম্বূ জাতির পরিচয় বহন করি।

ভাষার মিশ্রণ:
বাংলা ভাষায় প্রচুর বিদেশী শব্দ রয়েছে সেটা আমরা জানি। এজন্য অনেকেই কিছুটা হীনতায় ভোগেন বিষয়টা মোটেই হীনতা বা নিচতার নয়। যুগে যুগে ভাষা ভেঙ্গে ভাষা তৈরী হয়। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্যাহ বলেন মাগধি প্রাকৃতের একটা অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়। এবং তাত্বিক বিচারে ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা বংশের সদস্য। একসময় সংস্কৃত থেকে বাংলার উৎপত্থি মনে করা হলেও পরে তা ভুল প্রমানিত হয়েছে।অস্ট্রিক ভাষারও বেশকিছু শব্দ বাংলায় রয়েছে।  আবার বাংলার পেছনের ভাষা হলো বৈদিক।
প্রাচীন সাহিত্যের ইতিহাস কিন্তু নিতান্তই ধর্ম নির্ভর। ধর্মের পরে সাহিত্য এসেছে রাজশক্তির প্রশংসা গাওয়ার জন্য। তাই বাঙলায় সাহিত্য বা লেখ্যচর্চা ছিলনা। আর অন্যান্য অলেখ্য ভাষার মতো এ ভাষাও সময় ও স্থানভেদে ভিন্নরকম ছিলো, এবং ভাষার শৃঙখলা রক্ষা পায়নি আর অন্যভাষার শব্দ ঢুকে পড়েছে এতে। সংস্কৃত এবং পালি লিখিত হওয়ার কারণে তার শব্দভান্ডার  হারিয়ে যায়নি। তাই তার মতো হয়নি বাংলা হিন্দি বা অন্যা ভাষা। এখণ আমরা দেখছি যে যেসব ভাষার লেখ্য চর্চা ছিলনা সেসব ভাষায় অন্য শব্দ প্রবেশ করেছে। যেমন হিন্দি, বাংলা, অসমিয়া, গুজরাটি, উড়িয়া।  কিন্তু মজার ব্যাপার হলো গ্রহনের কারণেই এসব ভাষা প্রচলিত আছে আর পালি কিংবা সংস্কৃত কিন্তু সমাজে প্রচলিত নেই। সূতরাং শব্দগ্রহণ ভাষার দূর্বলতা নয়। কারণ এসব শব্দ গ্রহণের পূর্বে বাংলা ভাষায় অনূরুপ শব্দ ছিলো। নইলে লোকেরা ভাবপ্রকাশ করেছে কিভাবে। কিন্তু লেখ্যচর্চার অভাবে তা আজ আর পাওয়া যায়না। এসব গৃহিত শব্দ এখন বাংলাভাষার মতো হয়ে বাংলাভাষারই শব্দ হয়ে গেছে।

বাংলার গৌরব
বাংলাভাষার গৌরব প্রধাণত তিনটি। ১ মিশ্রণ সত্বেও এ ভাষা স্বতন্ত্র, কারণ সংস্কৃত, পারসি আর আরবি ভাষার শব্দ নিজের মতো করে গ্রহণ করে সেসব শব্দকে বাংলায় আত্মস্থ করে নিয়েছে। ফার্সী অছবব বাংলায় আসবাব, স্কংৃত হস্ত বাংলায় হাত, আরবি রামাদান বাংলায় রমযান। ২. বাংলার হাজার বছরের পুরনো সাহিত্যকর্ম আছে। তা কোনো ধর্মীয় পন্ডিত পূণ্যলাভের আশায় লিখেনি, কোনো রাজরতœ ইনাম বা পুরস্কারের লোভে রচনা করেনি, একেবারে প্রান্তিক লোকেরা তাদের জীবনালেখ্য লিপিবদ্ধ করেছে। তাহলে এক্ষেত্রে বাঙালী একক এবং অপ্রতিদ্ধন্ধি। ৩. বাঙালীর প্রতœতাত্বিক তথা প্রাচীন ইতিহাসও গৌরবের। আজ আমরা যাকে সুশীল সমাজ বলি  এই ধারণাটা প্রথম আনে বাঙালীরা, পাশ্চাত্য যখন তা ছিলো চিন্তারও অতীত। রাজা শশাঙ্কের মৃত্যর প্র প্রকৃতিপুঞ্জ নামে সুশীল সমাজ নতুন নৃপতি নির্বাচন করেছিল। উয়ারী বটেশ্বর খনন কাজের ফলে যেসব নির্দশন মেলে তাও নগর সভ্যতার প্রথপ্রদর্শক। আজকের প্রশ্স্থ নগর রাস্তা, ঘরে ঘরে যে ঠান্ডা আলমারি তা সেসময়ের বাঙলায় বিদ্যমান ছিলো। আরো গৌরব ্আমাদের আছে পৃথিবীর অনেক ভাষার নিজস্ব বর্নমালা নেই। আর আমাদের আছে। আর ভাষা একটি অভিন্ন এবং স্বাতন্ত্র সংস্কৃতিকে বহন করে। আমরা শুধুমাত্র ভাষা পরিচয়ে আমাদের জন্য আলাদা একটা রাষ্ট্র করে নিতে পেরেছি। এটাও বাঙালীর এক অনন্য সাফল্য। পৃথিবীতে বাঙালীই কেবল ভাষার জন্য রক্ত দিতে পেরেছে। এত গৌরব আছে বলেই আমাদের নিজেদের দীণ হীন ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

তবুও যাতনা
প্রাচীন যুগে বাঙলাভাষাকে মনে করা হতো বিশেষকোন অঞ্চলের ভাষা বা অলেখ্য অভদ্রলোকের ভাষা। তাই বাঙলাভাষী এবং বাঙালীকে বাাঁকাচোখে ছোট করে দেখা হতো। তারপর এলো সেনরাজাদের আমদানী করা ব্রাহ্মন্যবাদ যেহেতু এই অঞ্চলে মানুষরা মূলত কৃষিজীবি ছিলো, কেউ কেউ মৎসজীবি, কামার, কুমোর, নাপিত, তাঁতি। আর জাতিভেদ প্রথার মাধ্যমে সমাজে যখন শ্রেণীপ্রথা সূচিত হলো তখন আদপেই এখানকার খুব কম লোকই ব্রাহ্মণ হতে পেরেছে। তাদেরকে পেশাগত কারণেই ছোট করা দেখা শুরু হলো। যদিও প্রাচীণ বাঙলায় তা ছিলনা বরং কৃষককে এমনই সম্মান দেয়া হতো যে কৃষক শব্দটা মানুষ শব্দের সমার্থক ছিলো। আমরা আজকাল যেমন বলি বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হও তখন বলতো বড় হয়ে ভালো কৃষকের মতো কৃষক হও বা মানুষ হও। কিন্তু সামাজিক শ্রেণীপ্রথা সে মূল্যবোধকে নষ্ট করে কৃষক প্রজাকে নিচু শ্রেণীর পরিচয় ধরিয়ে দিলো।
এর পরে ব্রাহ্মন্যবাদ যখন গেড়ে বসলো তখন তারা সংস্কৃত চর্চাকে পবিত্র কাজ মনে করে বাঙলাকে অবজ্ঞা করা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করলো। তার দীর্ঘ পরে এলো বিদেশী  আরব্যধর্মচেতনা তখনও তাই হলো যেহেতু ইসলামে সব ধর্মকর্ম আরবি ভাষায় তাই বাংলাকে আর তারা গোনায় ধরলোনা। এর পর এলো পরদেশী ফার্সী শাসকেরা। তখন ফার্সী সভ্যতার ভরা যৌবণ। শিল্প সাহিত্য ও কাব্যচর্চায় ফার্সীর খ্যতি বিশ্বজোড়া আর রাজার ভাষাই যেহেতু রাজকার্যের ভাষা হয়। সর্বত্র ফাসীর জয়জয়কার আর বাংলার অবহেলা। অবশ্য দেশীয় রাজাদের বিভিন্ন শিলালিপিতে বাংলা ভাষা ভালোভাবেই তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিলো। এবার এলো বেনিয়ার জাত ইংরেজ। তারপর বাংলা কেন সারাবিশ্বইতো ইংরেজীর বাগান হয়ে গেলো। পাকিস্তানীরা এসে নিয়মিত রক্ত ঝরালো বাংলাকে অমর্য করার জন্য। আর এখন ইংরেজী শিক্ষিত প্রজন্ম ইংরেজীর মতো করে বাংলা বলে বাঙলাকে ধর্ষণ করছে  প্রতিনিয়ত। ভুল বানানে বাংলা লিখে এক শ্রেনীর বক শিক্ষিতরা বাংলাকে ক্ষতবিক্ষত করছে। ভুরি ভুরি ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করে বাঙলার কলিজাটা চিবিয়ে খাচ্ছে কেউ। আর শিক্ষিত অশিক্ষিত একটা শ্রেনী নানারকম আঞ্চলিক ভাষা মিশিয়ে এক অদ্ভুত ভাষায় কথা বলে, বাংলা ভাষার গায়ে নখর কাটছে যেন। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই অদ্ভুৎ ভাষায় কথা বলে। আর একটা কথা না বললেই নয় শব্দের ভুল প্রয়োগ আর বাক্যের অদ্ভুৎ ব্যবহারে গণমাধ্যমে বেড়েছে মাত্রাতিরিক্তি হারে।

কি করনীয়:
সর্বস্তরে বাংলা চালু হোক।
উচ্চ আদালতে ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলা চালু হোক।
শ্রেনী কক্ষে গ্রাম গঞ্জে সর্বত্র প্রমিত বাংলা চালু হোক, প্রয়োজনে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হোক।
মাধ্যমিক স্তরে শুদ্ধবাংলার জন্য নতুনভাবে পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হোক।
অভিন্ন বানানরীতি প্রচলন করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।
নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। কোন কোন মাধ্যম ভুল ভাষা ব্যবহার করা হয়। তাদের শ্রেণীকরণ করা হোক। আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের মতো তিরস্কার চালু করা হোক।
বিষয়ভিত্তিক আলাদা অভিধান প্রকাশ অব্যাপহত রাখা হোক। যেমন ব্যবসায় অভিধান, আইন অভিধান ইত্যাদি।
বিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি, প্রমিত বাংলা ও সঠিকবানান পাঠ্যসূচি ভুক্ত করা হোক।
ভারতীয় নেতিবাচক দূরদর্শণগুলো বন্ধ করা উচিৎ।

সমৃদ্ধকরুন বাংলা তথ্যভান্ডার
আমরা উইকিপিডিয়া, বাংলা পিডিয়াকে সমৃদ্ধ করতে পারি বাংলা লেখা ও তথ্য দিয়ে।
আমরা বাংলা পঞ্জিগুলোতে নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করতে পারি।
আমরা বাঙলা নতুন বিষয়ে নতুন পঞ্জি খুলতে পারি
আমরা বাংলা দাখিলা/পেশ/ডাক গুলোকে গুগল ও অন্যান্য অন্বেষী  যন্ত্রের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে দিতে পারি।
আমরা শুদ্ধ উচ্চারণ বিষয়ক শিক্ষা বক্তৃতা ইউটিউবে চলচ্চবি আকারে দাখিলা দিতে পারি।
আমরা সমন্বিম মাধ্যমে শিক্ষাকে নিয়ে আসতে পারি।
আমরা বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা অবতরঙ্গ বা হাওয়াইমাকাম বা বাতায়নী খুলতে পারি।
আমরা আমরা উইকিপিডিয়া, বাংলা পিডিয়াতে সম্পাদনা করে দিতে পারি।
আন্তজালে বিভিন্ন বাতায়নীতে থাকা লেখাগুলোর নিচে মন্তব্য করে বানান ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দিতে পারি।

5,796 total views, 2 views today

Comments

comments

Your email address will not be published.