a2i

করোনায় রাইড শেয়ারিং পালনীয় বিধি

কোভিড-১৯ সময়কালীন রাইড শেয়ারিং সার্ভিস এসওপি

১. রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে পালনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি

১.১। প্রতিদিন রাইড শেয়ারিং শুরুর আগে এবং প্রতিটি রাইড শেষে মোটরসাইকেলটি, বিশেষত মোটরসাইকেলের হাতল, সিট ও যাত্রীর হাত রাখার জায়গা এবং হেলমেট জীবাণুনাশক স্প্রে বা সাবান পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা।

১.২। প্রতিবার রাইড শুরুর আগে হ্যান্ড সানিটাইজার বা সাবান পানি দিয়ে চালক ও যাত্রীর হাত জীবাণুমুক্ত করা।

১.৩। রাইড চলাকালীন মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী কর্তৃক ফেস মাস্ক, ফেস শিল্ডসহ হেলমেট এবং যাত্রীর জন্য মাস্ক ও সম্ভবক্ষেত্রে শাওয়ার ক্যাপ ব্যবহার নিশ্চিত করা ।

১.৪। পার্কিংরত অবস্থায় ভীড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করা এবং রাইড চলাকলীন একে অপরের থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সর্তক থাকা।

১.৫। মোটরসাইকেলের চালক ও যাত্রীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগী হওয়া। বিশেষ করে একটু পর পর এলকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করা, হাঁচি বা কাঁশি দেওয়ার সময় ট্যিসু দিয়ে বা হাতের কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা।

১.৬। মোটরসাইকেল চালক বা যাত্রীর কেউ, করোনার বিভিন্ন প্রাথমিক উপসর্গ যেমন- জ্বর, বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে করোনা পরীক্ষাপূর্বক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করা থেকে অবশ্যই বিরত থেকে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা।

১.৭। ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যম, যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির ব্যবহার উৎসাহিত করা।

১.৮। উল্লিখিত নিরাপত্তা বিধি মানা বা প্রাসঙ্গিক কোন বিষয়ের কোন বত্যয় ঘটলে বা সন্তোষজনক না হলে চালক বা যাত্রী সরাসরি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে তার রিভিউ ও মতামত জানানো, রির্পোট করাসহ রাইডটি ক্যানসেল করার ক্ষমতা রাখা।

 

২. রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত মোটরযানের (প্রাইভেট কার, জিপ, ট্রাক্সিক্যাব ইত্যাদি) ক্ষেত্রে পালনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি

২.১। প্রতিদিন রাইড শেয়ারিং শুরুর আগে এবং প্রতিটি রাইড শেষে গাড়িটি, বিশেষত গাড়ীর দরজার হ্যান্ডেল, স্টিয়ারিং হুইল ও অন্যান্য অংশ জীবাণুনাশক স্প্রে বা সাবান পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা।

২.২। গাড়ির ভিতরের কাপড় যেমন সিটের কাপড় প্রতিদিন ধুয়ে পরিপাটি, ধুলাবালি পরিষ্কার  করে, বিশেষত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) থাকলে তা জীবাণুমুক্ত রাখা।

২.৩। মাঝে মাঝে ভেন্টিলেশনের স্বার্থে গাড়ির জানালা খুলে গাড়ির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল স্বাভাবিক করত গাড়ীর ভেতরের ও বাইরের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সচেষ্ট থাকা।

২.৪। প্রতিবার রাইড শুরুর আগে হ্যান্ড সানিটাইজার বা সাবান পানি দিয়ে চালক ও যাত্রীর হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং রাইড চলাকালীন চালক ও যাত্রী কর্তৃক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা ।

২.৫। পার্কিংরত অবস্থায় ভীড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করা এবং রাইড চলাকলীন একে অপরের থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ  সর্তক থাকা।

২.৬। যখন গাড়িতে কোন সন্দেহজনক উপসর্গ যেমন- জ্বর, বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত যাত্রী থাকবে তখন উপসর্গযুক্ত যাত্রী নেমে যাওয়ার পর জানালা খুলে বাতাসের ব্যবস্থা করাসহ উক্ত যাত্রী গাড়ির যেসব জাযগায় স্পর্শ করেছে সেসব জায়গা বিশেষ করে গাড়ীর দরজার হ্যান্ডেল, সিট জীবাণনুনাশক দিয়ে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করা।

২.৭। রাইড চালাকালীন গাড়ির ভেতরে কেই বমি করলে তা ফেলে দেওয়া যায় এমন শোষণক্ষমতা সম্পন্ন কাপড় (Disposable absorbent material) যাতে জীবানুনাশক (ক্লোরাইডযুক্ত জীবানুনাশক) দেওয়া বা জীবানুনাশক ট্যিসু দিয়ে ঢেকে ফেলা এবং তৎক্ষণাৎ উক্ত জায়গা জীবাণনুনাশক দিয়ে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করা।

২.৮। গাড়ির চালক ও যাত্রীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগী হওয়া। বিশেষ করে একটু পর পর এলকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করা, হাঁচি বা কাঁশি দেওয়ার সময় ট্যিসু দিয়ে বা হাতের কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা।

২.৯। গাড়ির চালক বা যাত্রীর কেউ, করোনার বিভিন্ন প্রাথমিক উপসর্গ যেমন- জ্বর, বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে করোনা পরীক্ষাপূর্বক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করা থেকে অবশ্যই বিরত থেকে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা।

২.১০। ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যম যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড  ইত্যাদির ব্যবহার উৎসাহিত করা।

২.১১। উপরিউল্লিখিত নিরাপত্তা বিধি মানা বা প্রাসঙ্গিক কোন বিষয়ের কোন বত্যয় ঘটলে বা সন্তোষজনক না হলে গাড়ির চালক বা যাত্রী কর্তৃক সরাসরি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে তার রিভিউ ও মতামত জানানো, রির্পোট করাসহ রাইডটি ক্যানসেল করার ক্ষমতা রাখা।

 

৩. স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি প্রতিপালনে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস অ্যাপ কোম্পানীর করনীয়

৩.১। রাইড শেয়ারিংয়ের মোটর সাইকেল ও গাড়ির জন্য পালনীয় উপরিউল্লিখিত তথা দফা ১ ও ২ বর্ণিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি এবং বেস্ট প্র্যাকটিস গাইডলাইনে বর্ণিত বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা রাইড শেয়ারিং কোম্পানীর অ্যাপে পপ-আপ মেসেজ, নোটিফিকেশন প্রদান বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মসহ অন্যান্য মাধ্যমে ভিডিও, ছবি বা টিউটোরিয়ালস ইত্যাদি নিয়মিত প্রকাশ, প্রদর্শন ও প্রচার করা ।

৩.২। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি এবং বেস্ট প্র্যাকটিস গাইডলাইন সমূহ রাইড শেয়ারিং অ্যাপে অর্ন্তভূক্ত করে দূর-শিক্ষণের মাধ্যমে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩.৩। অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে রাইডারদেরকে নিয়মিত সচেতন করা এবং তারা অ্যাপের বর্ণিত নির্ধারিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি সর্ম্পকিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াবলী যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পরই যেন রাইড শেয়ার করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বর্ণিত  স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিসমূহকে রাইডার ও যাত্রীদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।

৩.৪। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শ, মতামত, তথ্য বা অভিযোগ অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্তির পর তৎক্ষনাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট রাইড বাতিলসহ চালক বা যাত্রীর একাউন্ট স্থগিত রাখা।

৩.৫। রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া প্রদানে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যম যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি ব্যবহারে চালক ও যাত্রী উভয়কে উৎসাহিত করা ।

৩.৬। রাইড শেয়ারিং কোম্পানী কর্তৃক কোন চালক করোনা পজিটিভ এ মর্মে জ্ঞাত হলে উক্ত রাইডারের বিগত দিনের রাইড ইনফরমেশন (যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য) যথাযথ কর্তৃপক্ষের চাহিদা ও নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করা।

৩.৭। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে যুক্ত মোটরসাইকেল ও মোটরযান চালকদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফেস মাস্কস, হ্যান্ড গ্লোবস, জীবাণুনাশক ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরিকৃত বিভিন্ন নিরাপত্তা কিট সহজলভ্য করার জন্য জীবাণুনাশক পণ্য উৎপাদনকারী এবং ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী ইত্যাদির সহায়তায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা ।

 

উপরোক্ত বিধি সঠিক প্রতিপালনে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর নিকট নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতিষ্ঠানসমূহ এ ব্যাপারে প্রতিবেদন পেশ করবে এবং ই-ক্যাব তা সংরক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে সরকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সরবরাহ করবে। সরকারী কতৃপক্ষ এ্যাপের বাইরে থাকা ব্যক্তিগত পর্যায়ের বাণিজ্যিক রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তা অনুসরণ করলে বিধিসমূহ প্রতিপালন করা সহজ হবে এবং ব্যাপারে তদারকি করা যাবে।

 

ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পূর্বে ঘোষিত সরকারী বিভিন্ন নির্দেশনার আলোকে দেশের বিভিন্ন রাইড শেয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা ও তাদের প্রস্তাবনার সাথে সমন্বয় করে এই এসওপি তৈরী করেছে। উক্ত অনুমতি শুধুমাত্র সেইসব কোম্পানীর জন্য প্রযোজ্য যারা ই-ক্যাবের সদস্য এবং উক্ত এসওপি প্রতিপালন করবেন বলে লিখিত পত্র ই-ক্যাবের নিকট প্রেরণ করেছেন। নিন্মলিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ উক্ত এসওপি এর ব্যাপারে একমত পোষন করছে।

 

১।  হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সি.ই.ও), পাঠাও লিমিটেড

বাড়ি নং-সি.ডব্লিও.এন(এ-৩), লেভেল-৭, রোড ৪৯, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, গুলশান মডেল টাউন, ঢাকা-১২১২

২। আদনান খান, হেড অফ রাইড, সহজ লিমিটেড,

বাসাঃ ৫৫/এ, রোডঃ২১, ব্লকঃ বি, বনানি

৩। রাতুল ঘোষ, প্রধান, বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারত, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড 

প্লট ৩৬, ৩য় তালা, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর ১২, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০

৪।  কাজী ওমর ফেরদৌস, চিফ অপারেটিং অফিসার, ওভাই সলিউশনস লিমিটেড

জাহাঙ্গীর টাওয়ার, ১০, কাজী ঞ্জরুল ইসলাম এভেনিও, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

1,474 total views, 3 views today

Comments

comments