ই-কর্মাস : অনলাইন পেমেন্ট কেন বাড়ছে না ? অনুসন্ধান এবং করনীয়

1254

প্রথমেই একটি উদাহরন দেখি সিটি ব্যাংকের একজন সাধারন গ্রাহক হিসেবে নিচের মেইলটি পেলাম।

Gmail_-_Buy_Air_Tickets_using_Citytouch_-_Digital_Banking_-_2016-08-12_22.25.07

এই ইমেইলটিতে বলা হয়েছে সিটি টাচ ( সিটি ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং) ব্যবহার করে এয়ার টিকেট কেনার জন্য। এয়ার টিকেট কেনাও ই-কর্মাসের একটি অংশ কিন্তু আমি কথা বলছি সাধারণ পন্য ভিত্তিক ই-কর্মাস সাইট গুলো নিয়ে।

ই-কর্মাস এর মূল বিষয় ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে পন্য বা সেবা বিক্রয় করা। আমরা ই-কর্মাসে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার হিসেবে  ওয়েবসাইটের ব্যবহার ব্যাপক ভাবে করতে পারলেও, অন্যতম অংশ অনলাইনে পেমেন্ট করাকে খুব একটা কাজে লাগাতে পারছিনা । মানে কাস্টমার খুব একটা অনলাইনে পেমেন্ট করছে না।

আরো একটা কেস স্ট্যাডি :

আমি গত কয়েক মাসে একটি ই-কর্মাস সাইটের জন্য সরাসরি সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে পেমেন্ট গেটওয়ে টেষ্ট করার চেষ্টা করেছি যে মানুষ এর ধারনা কি এই ব্যাপারে।  আমরা চেষ্টা করেছি যারা ফিজিক্যালি শো-রুমে পন্য কিনতে আসেন এবং পজ মেশিনে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে চান তাদেরকে সামনাসামনি অনলাইনে পেমেন্ট করানোর জন্য কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। কারন হিসেবে আমরা যা পেয়েছি:-

১.কিছু কাস্টমার জানেই না

২. নিরাপত্তার কারনে পেমেন্ট করতে চায়না (যদি কোনভাবে তার একাউন্ট থেকে টাকা চলে যায়)

৩. কাস্টমার রাজী হলেও OTP আসতে অনেক লেট হয়

৪.মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচবাংলা সহ অনেক গুলো ব্যাংকের কার্ড বাই ডিফল্ট ই-কর্মাসে লেনদেনের জন্য একটিভ করা থাকে না

এবার একটু দেখি কেন এমন হচ্ছে :

১. ই-কর্মাস সাইটে অনলাইনে পেমেন্ট নিয়ে কোন ধরনে প্রচারনা নেই

২. কাস্টমার সচেতনার জন্য এখনো কোন ধরেন পদক্ষেপ দেখা যায়নি

যেমন প্রথমে আমরা যে মেইলটি দেখে শুরু করেছিলাম, সেরকম বাংলাদেশের কোন ই-কর্মাস সাইট থেকে কেনার জন্য এরকম কোন Email কোনদিন পাইনি। মাঝে মাঝে ব্যাংক থেকে SMS পাই কিন্তু ই-কর্মাস সাইট থেকে কেনার জন্য এরকম কোন SMS পাইনি।

কোন ব্যাংক কি তাদের গ্রাহদের বলেছে যে “ওমুক” পেমেন্ট গেটওয়ে যে সাইটে আছে সেখান থেকে আপনি নিরাপদে আপনার কার্ড ব্যবহার করে কিনতে পারেন।

এমনিকি বলেছে যে লেনদেন প্রক্রিয়াটি কোন ই-কর্মাস সাইট কিংবা কোন পেমেন্ট গেটওয়ে এর পেজে হয়না এটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এর ওয়েবপোর্টালে হয়।

দুঃখজনক ভাবে আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোন উদ্যোগ দেখিনি।

৩. মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচবাংলা সহ অনেকগুলো ব্যাংক এর বাই ডিফল্ট ই-কর্মাসে লেনদেনের জন্য একটিভ করা থাকে না। ফোন দিয়ে একটিভ করতে হয়।
৪. প্রযুক্তিগত সমস্যার কারনে OTP আসতে অনেক দেরি হয় । আবার ন্যাশনাল ব্যাংক এর ভিসা কার্ডে কোন OTP আসে না যেটি আবার গ্রাহকের জন্য নিরাপদ নয়

করনীয় :

যেখানে দিন দিন ই-কর্মাসে ক্রেতার পরিমান বাড়ছে সেখানে ব্যাংক গুলোকে সেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাংক বা পেমেন্ট গেটওয়েগুলো থেকে ক্রেতাকে অনলাইনে কেনাকাটা করায় উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যাচ্ছে না। এই ব্যবস্তার উন্নতি হতে হবে। ব্যাংক এবং পেমেন্ট গেটওয়েগুলো থেকে যতদিন পর্যন্ত না এই ধরনের সচেতনতা তৈরি করা হবে তত দিন পর্যন্ত কোনভাবেই ই-কর্মাসে অনলাইনে লেনদেন এর পরিমান বৃদ্ধি পাবে না।

১. ব্যাংক ও পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে গন বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে

২. পেমেন্টগেটওয়ে ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন নিরাপদ এই বার্তা দিয়ে প্রমোশন চালাতে হবে।

৩. লেনদেন ব্যাংক এর ওয়েবপোর্টালে হয় এই বিষয়ে গ্রাহকদেন সচেতন করার লক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে

৪. আর যেসকল ব্যাংক এর কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার যায় না বা পূর্ব অনুমতি নিতে হয় সেগুলোকে অনলাইনে লেনদেন এর জন্য চালু করে দিতে হবে।

৫.  ই-কর্মাস সাইটগুলো অনলাইনে পেমেন্টকে প্রমোট করে অফার সহ বিভিন্ন ধরনের প্রমোশন চালাতে হবে মোট কথা ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে হবে।

ব্যাংক, পেমেন্ট গেটওয়ে এবং  ই-কর্মাস সাইট  গুলো সময়োপযোগী এই ধরনের সিদ্ধান্ত না নিলে বাংলাদেশ ই-কর্মাস ক্যাশ অন ডেলিভারী (COD) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে এবং একটি স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হবে । ক্রমশই মোবাইল ব্যাকিং জনপ্রিয় হচ্ছে কিন্তু লেনদেন সীমাব্ধতা এবং প্রযুক্তি গত সমস্যার কারনে সেটিও পূর্ণ ভাবে ই-কর্মাসে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *