How to create viral content in bangla

আপনি যেই সেক্টরেই থাকুন না কেন, আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ভাইরাল মার্কেটিং ও কনটেন্টের গুরুত্ব বলে হয়তো শেষ করা যাবেনা। এমন কেউ কি রয়েছেন যিনি কোরিয়ান পপ তারকা সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ গানটি শুনেননি? অথবা তামিল সিনেমা থ্রীয়ের সেই বিখ্যাত গান ‘কোলা ভেরি ডি’? এই দুটি গানেরই বেশির ভাগ লিরিক্স হয়তো আমাদের প্রায় সবারই মাথার উপর দিয়ে গেছে। তারপরও কেন এই দুটি গান ভাইরাসের মতন সংক্রমণ করে রেখেছিলো আমাদের ফেসবুকের নিউজফীড?

Wharton University-র প্রোফেসর জোনাহ্‌ বার্গার অবশ্য মনে করেন এসব ভাইরাল কনটেন্টের হঠাৎ উত্থান কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এগুলোর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান। আর সেই বিজ্ঞান নিয়েই আজকে আমাদের আলোচনা।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক আপনার বা আমার কি লাভ রয়েছে ভাইরাল কনটেন্ট সম্পর্কে জেনে। লাভ অবশ্যই রয়েছে। যেমনটি একটু আগেই বলেছি, যেকোন ধরণের ব্যাবসার জন্যেই কোনও কনটেন্ট ভাইরাল করতে পারা মানে নিশ্চিত লাভ! আর যদি আপনার ব্যাবসায়ের মডেলটিই হয় ইন্টারনেটকে ঘিরে, তাহলে তো কথাই নেই! ধরুন আপনার একটি ইকমার্স শপ রয়েছে যেখানে আপনি ছেলেদের টিশার্ট বিক্রি করে থাকেন। একটি ভাইরাল ভিডিও আপনার ব্র্যান্ডকে সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে যেমন পরিচয় করিয়ে দিবে, তেমনি পুরনো ক্রেতার মস্তিষ্কেরও উপরিভাগে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামটিকে অক্ষত রাখতে সহায়তা করবে। যত বেশি সংক্রামক আপনার কনটেন্ট, তত বেশি ‘ওয়ার্ড অফ মাউথ’ মার্কেটিং। অর্থাৎ একটি ভাইরাল কনটেন্ট তৈরী করতে পারা মানেই লাভের পাল্লা ভারী। বুঝাতে পারলাম কি?

WOM (Word of Mouth) Marketing কি?

ওয়ার্ড অফ মাউথ বলতে যেকোন একটি বিষয়ে একজন ব্যাক্তি থেকে অন্য একজন ব্যাক্তির কাছে অবাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় তথ্য পৌঁছে যাওয়াকে বুঝায়। যেমন ধরুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নেয়া একটি উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ আলোচিত হয়েছিল। একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে উদ্যোগটিকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। আপনারা অনেকেই হয়তো ভিডিওটি দেখে থাকবেন। মসজিদের শহর ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও এখানে ওখানে মুত্রত্যাগ করার লোকের অভাব হয়নি! সাধারণভাবে বাংলাতে লেখা ছিল বলেই হয়তো অনেকে ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেয়নি। অথচ মসজিদ সংলগ্ন দেয়ালে এধরণের কাজ করা রীতিমত অন্যায়। ধর্ম মন্ত্রনালয় একটা অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছিল। বাংলার পরিবর্তে আরবী হরফে একই কথা লেখা হয়েছিল। ফলাফল ছিল আশাতীত। এই ভিডিওটির পক্ষে এবং বিপক্ষে সোশাল মিডিয়ায় প্রচুর আলোচনা হয়েছে। অথচ ধর্ম মন্ত্রনালয় যদি ব্যাপারটি সম্পর্কে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপণ দিতো তাহলে কি আমরা একই ফলাফল দেখতাম? বলা হয় যে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াতে মার্কেটিং, যেমন রেডিওতে এ্যাড দেয়া, বিলবোর্ড লাগানো বা টিভিসি প্রচার যতটা বেশি কার্যকর, তার থেকেও এই অবাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় পণ্যের খবর ক্রেতা থেকে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া আরো অনেক বেশি কার্যকর। তামিল সিনেমা থ্রীয়ের ব্যাপক সাফল্যের পেছনে কিন্তু কোলা ভেরি ডি গানটিই রয়েছে। শুধু অনলাইনেই নয়, বরং অফলাইনেও ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিংয়ের কার্যকরীতা অন্য যেকোন মাধ্যমের থেকে বেশি। যেমন ওমুক রেস্টুরেন্ট রমজানে ফ্রী ইফতার করাচ্ছে এই খবর জানা মাত্রই আপনি নিজেও হয়তো অন্তত একজনকে গল্পের ছলে জানাবেন অফারটির কথা। আপনার বন্ধুটি আপনার কথা যতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন, একই কথা বিজ্ঞাপণে দেখলে কি তাঁর চাইতে বেশি গুরুত্ব দিতেন? কখোনই না! বর্তমান যুগে অনলাইনে ডাব্লিউ ও এম-এর ব্যাবহার মাত্র ৭%। বাকি ৯৭% ব্যাবহারই লক্ষ করা যায় অফলাইনে। ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিংয়ের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হল আমরা প্রথাগত বিজ্ঞাপণের চাইতে সবসময় পরিচিত কেউ, যেমন বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনকে বেশি বিশ্বাস করে থাকি। তাছাড়া একজন ক্রেতা আরো দশজনকে কিনতে উৎসাহিত করতে পারেন।

থিওরি নিয়ে অনেক তো কথা হল! এবার আসি ভাইরালিটির প্রসঙ্গে!

কনটেন্টের ভাইরালিটি কি শুধুই ভাগ্যের খেলা, নাকি অন্য কিছু?

না! ভাইরালিটি কোন জুয়ার দান নয়। এর পেছনে অবশ্যই কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে। প্রোফেসর জোনাহ্‌ বার্গার এই ফ্যাক্টরগুলোকে একসাথে বলেন STEPPS, যা ছয়টি বৈশিষ্টের একটি লিস্ট। একটি কনটেন্ট এই ছয়টি বৈশিষ্টের যতগুলোর সাথে সন্ধি করবে, কনটেন্টটি ততটাই ভাইরাল হবে। আর যেমনটি আগেও বলা হয়েছে, ভাইরাল কনটেন্ট আপনার ব্র্যান্ড বা পণ্যকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করবে। লাভ কিন্তু দিন শেষে আপনারই। STEPPS এর শর্তগুলো এমনঃ

  • Social currency
  • Triggers
  • Emotion
  • Public
  • Practical Value
  • Stories

আমরা কি শেয়ার করি বা কি নিয়ে কথা বলি? শেষ কবে আপনি ফেসবুকে কিছু শেয়ার করেছিলেন মনে পড়ে কি? কেন করেছিলেন তাঁর জবাব কি আপনার কাছে আছে? যদি না থাকে, মিলিয়ে দেখুন।

১) সোশাল কারেন্সি – আমরা তাই শেয়ার করি, যা আমাদের একটি নির্দিষ্ট ইমেইজ দেয়

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত নিজের একেকটি পার্সোনা তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেমন কেউ কেউ আছেন যারা নিজেকে বিজ্ঞান মনস্ক ভাবতে ভালোবাসেন, কেউ আছেন যারা নিজেকে কিছুটা টাফ ভাবতে ভালোবাসেন, কেউবা ভালোবাসেন নিজেকে সংগীতের বিশাল মাপের ভক্ত বোঝাতে! এই নির্দিষ্ট ইমেইজ বা পার্সোনাকে ধারণ করতে যদি কোনো কনটেন্ট সাহায্য করে থাকে আমরা তখন তা শেয়ার করি। যেমন রাফিদ, আমার বন্ধু সবসময় লেটেস্ট মডেলের ফোন ব্যবহার করে। ওঁর এই নিয়ে যথেষ্ট গৌরবও রয়েছে। জনপ্রিয় মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড ওয়ান প্লাস টুর খবর যখন প্রথম বাজারে এলো ওঁই আমাদের মধ্যে প্রথম এই নিউজের লিঙ্কটা শেয়ার করেছিলো। সে এইসব খবর রাখে এবং তাঁর শেয়ার করা কনটেন্টগুলো একটু ঘেঁটে দেখলেই তা বুঝা যায়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে একটু ল্যাগার্ড প্রকৃতির এবং আমার বর্তমান ফোনটি প্রায় ছয় বছর আগেকার মডেল। আমার চাইতে রাফিদের এই নিউজটি শেয়ার করার প্রবনতা বেশি থাকবে সেই তো স্বাভাবিক। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মানুষ ঠিক তাই শেয়ার করে যা তার নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রূপে উপস্থাপন করতে সহায়তা করে। মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই দলগত ভাবে চলতে ভালোবাসে। প্রত্যেকেই চায় কোনো একটি দলে অন্তর্ভুক্ত থাকতে। তাই যখনই কিছু শেয়ার করলে তাকে নির্দিষ্ট একটি দলের ভেতরের লোক বলে মনে হবে, তখনই সে তা শেয়ার করবে। উইন্ডোজের টেন ভার্সনটি অফিসিয়ালি বাজারে আসার আগে মাইক্রোসফট কিছুদিন বেটা টেস্ট করেছিলো। অনেকেরই ফ্রেন্ডস লিস্টে তখন উইন্ডোজ টেন ব্যাবহার করার এবং তাঁর স্ক্রীনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার ধুম পড়েছিলো যেন! বলুন তো এর কারণ কি ছিলো? মানুষ এটা বোঝাতে ভালোবাসে যে তাঁর কাছে এমন এক্সক্লুসিভ কোনো তথ্য আছে যা অনেকের কাছেই নেই। অর্থাৎ আবারও সেই পার্সোনা বা ইমেইজ তৈরীর ব্যাপার চলে আসে। মনে রাখবেন, যে কনটেন্ট মানুষের এই ইমেইজ যত বেশি ভালো বা কাঙ্ক্ষিত করবে, সেই কনটেন্ট ততই বেশি শেয়ার করা হবে।

২) ট্রিগার – নির্দিষ্ট সময় বা পরিবেশে নির্দিষ্ট কনটেন্ট বেশি শেয়ার করার প্রবনতা দেখা যায়

চিন্তা করুন বাংলাদেশের সাথে অন্য কোনও দেশের ক্রিকেট খেলা চলাকালীন সময়ের কথা। নিউজফীড জুড়ে তখন প্রায়ই দেখা যায় ক্রিকেট, ক্রিকেটার এবং ম্যাচ সম্পর্কিত পোস্ট। বন্ধুদের আড্ডাতেও তখন এই কথাগুলোই ঘুড়ে-ফিরে আসে। আবার কোরবানী ঈদের সময় গরু বিষয়ক মজার কোনও গান অথবা ছবি শেয়ার করা হয় হাজার হাজার! কেন এমন হয় জানেন কি? আমরা সময় এবং পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে শেয়ার করি। ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট বেশি শেয়ার করে থাকেন, কর্মজীবিরা কর্মদিবসগুলোতে অফিস নিয়ে মজার পোস্টগুলো বেশি শেয়ার করেন। এভাবে নির্দিষ্ট সময়ে যদি আপনি সঠিক কনটেন্ট তৈরী করতে পারেন তাঁর ভাইরালিটি বেশি হবে।

৩) ইমোশন – আমরা তাই শেয়ার করি, যার ব্যাপারে আমরা কেয়ার করি

আবেগ-অনুভূতি অনেক রকম হতে পারে। যেমন কিছু অনুভূতি পজেটিভ হয় – সুখ, গর্ব, মজা, প্রেরণা ইত্যাদি। আবার কিছু অনুভূতি হয় নেগেটিভ – বিষণ্বতা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি। আমরা সেসব কনটেন্ট বেশি শেয়ার করি বা সেগুলো নিয়ে বেশি কথা বলি যার সাথে আমাদের কোন আবেগ জড়িত। আবেগ তীব্র এবং মৃদু দুই প্রকারের হতে পারে। দেখা গেছে যে আমাদের তীব্র আবেগগুলোকে নাড়া দিতে পারে এমন ভিডিও, ছবি, গান বা আর্টিকেল অপেক্ষাকৃত বেশি শেয়ার করা হয়। এগুলো সাধারণত ভাইরাল হয়ে যায়। যেমন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে পজেটিভ ছবি বা ভিডিওগুলো আমাদের গর্বিত করে, তাই আমরা তা শেয়ার করি। দেশের কিছু ঘটনা বা এসম্পর্কিত নিউজ আমাদের হতাশ করে, তাই আমরা তাও শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করি। আবার অভিনব কায়দায় ছিনতাই বা কিডন্যাপিংয়ের ঘটনা আমাদের ভীত করে তুলে বলেই আমরা সকলকে সাবধান করে তা শেয়ার করি। অতএব দেখা যাচ্ছে মানুষের শেয়ার করার সাথে কনটেন্টটি কি ধরণের আবেগকে তাড়িত করলো তার একটা সম্পর্ক রয়েছে।

৪) পাবলিক – আমরা তাই করি যা অন্যরাও করেছে বা করছে

সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই মানুষের আরেকটি বৈশিষ্ট হল অন্যকে ফলো করা। আমরা তাই করি, বা করতে সাহস পাই যা অন্যকে করতে দেখি। আমরা সবকিছুতেই সোশাল প্রুফ চাই। এই কারণেই দেখা যায় অনেকেই যখন একসাথে একটা কনটেন্ট শেয়ার করে, আরো অনেকেই তার দেখাদেখি সেটি শেয়ার করে। এই শর্তটিও কনটেন্টের ভাইরাল হবার ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ধারণ করে দেয়।

৫) প্র্যাক্টিকাল ভ্যালু – যেই কনটেন্টের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্ব রয়েছে, আমরা তাই শেয়ার করি

মাঝে মাঝে দেখা যায় কোনও কনটেন্ট কোনও প্রকার আবেগকে তাড়িত না করেও, এমনকি কোনও ট্রিগারের বালাই না করেও যথেষ্ট পরিমাণে শেয়ারড হচ্ছে। সেগুলোর প্রকৃতপক্ষে কোনও একটি ভ্যালু আছে, যা শেয়ারকারীরা উপলব্ধি করেছেন। যেমন ‘কিভাবে সহজে এবং দ্রুত ফোনকে ফুললি চার্জড করা যায়’ এই ধরণের ভিডিওগুলো বেশ ভাইরাল হয়ে যায়। একজন ইউজার যদি মনে করেন কনটেন্টের বিষয়বস্তুর দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্ব রয়েছে, তিনি তা শেয়ার করবেন। তাঁর বন্ধুদের মধ্যে যারা এর গুরুত্ব অনুধাবন করবেন তাঁরাও এটি শেয়ার করবেন। আর এভাবেই এধরণের ভিডিও ছড়িয়ে যাা ফ্রেন্ডসলিস্ট থেকে ফ্রেন্ডসলিস্টে!

৬) স্টোরি – আমরা গল্প শুনতে ও বলতে ভালোবাসি

শৈশবে আমরা গল্প শুনতে ভালোবাসি। বড় হয়েও আমরা গল্পের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি। হয়তো গল্পের ধরণটা কিছুটা বদলে যায়। আপনার কনটেন্ট যদি কোনো গল্প বলতে পারে, তাহলে তাঁর ভাইরাল হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব পোস্ট ভাইরাল হতে দেখি তাঁর অনেকগুলোতেই কোনও না কোনও গল্প উঠে আসে! তা হতে পারে কোনো সেলিব্রেটির উত্থানের গল্প, হতে পারে একটি কোম্পানির গল্প, হতে পারে কোনও দেশের বা সমাজের মানুষের গল্প, হতে পারে একজন উদ্যোক্তার গল্প। গল্পটি যদি ভালো লাগে, মানুষ তা শেয়ার করবেই! এভাবেই আপনার কনটেন্টের মাধ্যমে একটি স্টোরি বা গল্পকে তুলে ধরতে পারেন অডিয়েন্সের সামনে।

শেষ কথাঃ

আপনি যখন কোনও কনটেন্ট তৈরী করবেন, উপরে আলোচিত ফ্যাক্টর গুলোকে মাথায় রেখে তৈরী করবেন। তবে একটি কনটেন্ট সবগুলো পয়েন্টের সাথে মিলে যাবে না! দয়া করে মিলাতেও যাবেন না! এক্ষেত্রে উলটো ফল হতে পারে। তাই একটি বা দুটি ফ্যাক্টরকে মূখ্য ধরে আপনি কনটেন্টটি তৈরী করুন। তাহলেই দেখবেন আপনার ভিডিও, ছবি বা লেখাকে প্রোমোট করতে আপনার আর তেমন খাটনি করার প্রয়োজন হবে না। মানুষই ভাইরাসের মত কনটেন্টটি ছড়িয়ে দেবে। এই ধরণের কনটেন্ট তৈরী ও প্রকাশ করার পরে আপনার কাজটি হল তার দিকে নজড় রাখা, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি প্রায় সকল সোশাল মিডিয়াতেই ইনসাইট বা এ্যানালিটিকস রয়েছে যা দিয়ে আপনি একটি কনটেন্ট কতোটা ভালো পারফর্ম করছে বা না করলে কি সমস্যার কারণে করছে না ইত্যাদি জানতে পারেন। দিন শেষে, একটি কথা না বললেই নয়! তা হল ভালো কনটেন্ট তৈরী করুন। ক্যাপশান, পোস্ট করার সময়, প্রিভিউ ইমেজ ইত্যাদির উপরেও অনেকাংশে ভাইরালিটি নির্ভর করে। সেগুলো নিয়ে না হয় আরেকদিন আড্ডা হবে!

 

ভাইরাল মার্কেটিং বিষয়ক এই লেখাটি আমার ব্লগ www.taeefnajib.com এবং আমার LinkedIn থেকে পূর্বেও প্রকাশিত হয়েছে। আমার সম্বন্ধে বলতে গেলে বলতে হয়, আমি একজন স্বশিক্ষিত ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং ফ্রীল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার। যদিও মার্কেটিং নিয়েই লেখাপড়া করেছি। তবু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মার্কেটিং বলতে প্রথাগত মার্কেটিংকেই এখনো বুঝানো হয়। বাংলাদেশে ইকমার্সের ধারণা খুব বেশি পুরাতন না হলেও এর উত্থান অবশ্যই লক্ষনীয়। এর ভিত্তিকে ডিজিটাল মার্কেটিং দিয়ে কিভাবে আরো মজবুত করে তোলা যায়, সে চিন্তা থেকেই এই লেখাটি লেখা হয়েছে। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। আর আপনার কোনও প্রশ্ন, উপদেশ বা মতামত থাকলে আমাকে Facebook, LinkedIn, কিংবা নিচের কমেন্ট সেকশানের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

1,820 total views, 1 views today

Comments

comments