ই-কমার্স অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে

585

ই-কমার্স অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে

razib-e-cab-president-690x450

                 ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ,প্রেসিডেন্ট  , রাজিব আহমেদ

বর্তমানে পঞ্চাশ হাজারের মতো মানুষ সক্রিয়ভাবে ই-কমার্সের সাথে সম্পৃক্ত এবং আগামী দশ বছরে  এই সেক্টরে দশ লাখের মতন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

 ই-কমার্স শুধু পণ্য বিক্রি করার কোন মাধ্যম নয়। সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কিভাবে ই-কমার্স সেক্টরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে।, ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে ইব্রাহিম হোসাইন অভির সাথে এক সাক্ষাৎকারে এমনটি বলেছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ।  

ঢাকা ট্রিবিউন : উদীয়মান ই-কমার্স সেক্টর নিয়ে সরকারের কি ধরনের মনোভাব থাকা উচিত বলে মনে করেন?

রাজিব আহমেদ: ই-কমার্স সেক্টর বাংলাদেশের জন্য প্রচুর সুযোগ নিয়ে আসছে। কারণ, এই মাধ্যমে সাত দিন, চব্বিশ ঘণ্টা, ব্যবসা করা যায় । ই-কমার্স অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করে তুলছে।

দ্রুত বর্ধনশীল এই সেক্টরে  ২০১৬ সালে বার্ষিক আয় ছিল এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি লোক ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত।

এই সেক্টরে দারুণ সম্ভাবনা আছে। ইকমার্স সেক্টর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী  করতে পারে। সেজন্য সরকারকে এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থায় এই সেক্টর যাতে অবদান রাখতে পারে, সেজন্য সবার আগে একে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

সরকারের পাশাপাশি দ্যা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এবং ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোও এই সেক্টরকে লাভজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই তারা নিজেদের বিজনেস পলিসিতেও ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

ঢাকা ট্রিবিউন :  কারা কারা ই-কমার্সে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছে ?

রাজিব আহমেদ: শিক্ষিত তরুণ, পুরুষ, মহিলা, যারা ই-কমার্স ব্যবসা করতে চান মূলত তাদেরই ই-কমার্স সেক্টরের প্রতি আগ্রহ  বেশি। যেহেতু তরুণ-তরুণীদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহটা একটু বেশী তাই তাদের এই সেক্টরের প্রতি উৎসাহ বেশি। একে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে, কারণ, তাদের ব্যবসার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ এই যে আগে ই-কমার্স ভালভাবে শিখুন, তারপর ব্যবসা চালিয়ে নেবার জন্য ধৈর্য্য সহকারে কঠোর পরিশ্রম করুন।

 

ঢাকা ট্রিবিউন :  ই-কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কি ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে?

রাজিব আহমেদ: তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের জন্যে  ই-ক্যাব  কিভাবে ই-কমার্স কাজ করে, কি ধরনের লাভ আছে, এবং কি কি ঝুঁকি আছে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

কিন্তু আরও লোক যাতে প্রশিক্ষণ পায় তার জন্যে সরকারের সহযোগিতা দরকার। মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ছোট উদ্যোক্তাদের সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিত। কারণ ছোট ব্যবসাগুলো বড় মানের শিল্পের ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করে।

আমি সরকারের কাছে জোরালো অনুরোধ জানাচ্ছি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের  যে পরিকল্পনা তাতে ই-কমার্সকে যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাহলে তরুণ প্রজন্ম এবং ভোক্তাদেরকে  একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসা সম্ভব হবে ।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : ই-কমার্স এখনো শহরকেন্দ্রিক। কিভাবে তা গ্রামে বসবাসকারি মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়?

রাজিব আহমেদ: গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডেলিভারি।এখনো বেশিরভাগ উপজেলায় কুরিয়ার সেবা নেই।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য ই-ক্যাব সম্প্রতি ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি চুক্তি করেছে যাতে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করা হবে।

এই বছরের মার্চ মাস থেকে এর কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৮ সালে যেনো তা সমস্ত জেলা এবং উপজেলায় এই সেবা বিস্তৃত হয়।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : গ্রামে এই ধরনের সেবা পৌঁছানোর জন্য দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস কি পর্যাপ্ত?

রাজিব আহমেদ: আসলে তা না। ই-কমার্স ব্যবসার জন্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট দরকার। সেটা গ্রামে অনুপস্থিত। যদিও থাকে তার দাম অনেক বেশি। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সব জায়গায় থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেবার কথা বললেও গ্রামাঞ্চলে বলতে গেলে তা পাওয়া যায় না।

সরকারের উচিত ই-কমার্স ব্যবসার জন্যে মৌলিক উপাদানগুলোর বাস্তবায়নে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ গ্রহণ করা। ডিজিটাল বাংলাদেশে গ্রামের মানুষ যাতে কম দামে উচ্চগতির ইন্টারনেট  পেতে পারে সেটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : ইলেকট্রনিক লেনদেনের ব্যাপারে কিছু বলুন।

রাজিব আহমেদ: ইলেকট্রিক লেনদেন আমাদের দেশে এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নি। হ্যাকিং এবং কার্ডধারীদের সদিচ্ছার অভাব সহ নানা ঝামেলার কারণে কাস্টমাররা এখনো ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড ব্যবহারে স্বস্তি বোধ করেন না।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : কি কি ধরনের পণ্য অনলাইনে বিক্রি হয়ে থাকে ?

রাজিব আহমেদ: বর্তমানে ফ্যাশন এবং ইলেকট্রনিক পণ্য অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি আরো নানা ধরনের পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : কিভাবে আমরা আন্তর্জাতিক ই-কমার্স বাজারে পৌঁছাতে পারি?

রাজিব আহমেদ: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কিছু পণ্য যেমন আড়ংয়ের পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিসের সমস্যার কারণে আমরা বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে পারছি না।

অনলাইনে বিক্রয় বিষয়টি রপ্তানি হিসেবে গণ্য না হয়ে বরং রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য করা হয় সেটি আবার আরেক সমস্যা।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য সরকারকে অনলাইন লেনদেনসহ কিছু প্রক্রিয়াকে যুগপযোগী করতে হবে। যদি সরকার ই-কমার্স নীতিতে রপ্তানিকে অন্তর্ভুক্ত করে তাহলে ই-কমার্সের রপ্তানির ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

ঢাকা ট্রিবিউন : সরকারের এই ব্যাপারে কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন ?

রাজিব আহমেদ: ই-কমার্স সেক্টর উন্নয়নের জন্য স্কুলের পাঠ্যবইতে ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যাতে এই সেক্টর সম্পর্কে ছাত্ররা স্কুল থেকেই জানতে জানতে বড় হয়ে ওঠে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাঙ্ককে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্যে ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া আরো সহজ এবং শিথিল করতে হবে।

ই-কমার্স ব্যবসার জন্যে ট্রেড লাইসেন্সে ই-কমার্স নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি যুক্ত করতে হবে।  বর্তমানে  ই-কমার্সের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করা যায় না যার ফলে ই-কমার্স উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনা করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারটি এই রিপোর্ট থেকে অনুবাদ করা হয়েছে :

E-commerce will boost national economic growth

 

 

 

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . I am hunger for gaining knowledge perfectly of any kind of specific topics , love to be updated with tech, ecommerce . I am passionated in literature too .Glad to be connect : www.facebook.com/partho.joss

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *