ক্রস বর্ডার বানিজ্যে গতির সঞ্চার করবে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প

863

The discussion about this topics in  both English and Bangla was held on   Business ECommerce Internet of Things Platform (BETOP) and  Search English  group 

আলিবাবা one belt one road এর কার্যক্রমে  সুবিধার জন্য প্রথম আঞ্চলিক হেডকয়ার্টার xi’an প্রদেশে স্থাপন করতে চলেছে । চীনের Shaanxi প্রদেশের এই xian শহর থেকেই শুরু হবে চীনের উচ্চভিলাসী প্রজেক্ট অয়ান বেল্ট ওয়ান রোড । এর উদ্দ্যশ্য হচ্ছে চায়নার সাথে ভারত , ইউরোপ এবং দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে ক্রস বর্ডার বানিজ্যকে বেগবান করা । এই উদ্দ্যেগ বাস্তবায়িত হলে প্রাই ৬০-৬৫ টি দেশের দুই – তৃতীয়াংশ বানিজ্য তথা চাকুরি বা বিভিন্ন ভাবে লাভবান হবে এবং গ্লোবাল জিডিপিতে ৭৫% অবদান রাখবে । প্রায় ৯০০ টির মতন অবকাঠামোতে প্রায় ৬ ত্রিলিয়ন ডলার খরচ পড়বে । এই প্রকল্পে অংশ নেয়া দেশগুলোকে চায়না সরকার কয়েকটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কম সুদে প্রদান করবে । এখন প্রশ্ন এতো বিশাল প্রকল্পে ঝুঁকির দিকগুলো কি কি ?

এই প্রকল্পে রাস্তা চায়না থেকে শুরু হয়ে কাজাখাস্তান – রাশিয়া হয়ে ইউরোপে যেয়ে মিলবে । আরেকটি রুট সরাসরি পাকিস্তানে দিকে যাবে যা চায়না-পাকিস্তান করডোর নামে পরিচিত । আর তৃতীয় রুটটি চায়না – ভারত -বাংলাদেশ- মায়নামার এর দিকে প্রবাহিত হবে । এই হলো স্থলভাগের কথা । আর সমুদ্রপথে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা এবং তারপর পশ্চিম এশিয়ায় এবং ভূমধ্যসাগরে গ্রীস ও ভেনিস এর মধ্য দিয়ে এবং রটারডামে গিয় শেষ হবে ।

২০১৩ সালে বেইজিং এ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রাচীন সিল্ক রোডের অনুসরণে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প হাতে নেন । দুই হাজার বছর আগে এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চলে বাণিজ্যের জন্য চীন একটি রুট প্রতিষ্ঠা করেছিল। সে রুট দিয়ে বেশিরভাগই রেশম জাতীয় পণ্য পরিবাহিত হতো। এ কারণে সেই রোডের নাম দেওয়া হয়েছিল সিল্ক রোড। ওই রোডই ছিল ওই সময় বাণিজ্যের একমাত্র পথ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার এই সময়েই হয়। এই রুট তখন চীন থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ, ভারত, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এটি স্থল, সমুদ্র ও নদীপথে বিভক্ত ছিল।চীন নতুনভাবে যে সিল্ক রোড ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, তাতে প্রাধান্য পাবে রেল নেটওয়ার্ক, পাশাপাশি থাকবে সড়ক ও নৌপথ। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে রেলপথকে। এই পথে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি মানুষের যোগাযোগের জন্য কাজে লাগানো হবে। এতে বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। আর আরেকটি দিক হচ্ছে , চীন বানিজ্যের দিক থেকে বৈদেশিক কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে পাশ্চাত্যের প্রতিযোগিতা নেই , যেমন , ইথিওপিয়া ।

চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে এসে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে চুক্তি করে গেছেন। এর বেশিরভাগই হচ্ছে অবকাঠামো খাতে। এর মধ্যে রেল ও সড়কের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগ হবে। এ অবকাঠামো তৈরি হলে বাংলাদেশে রেলপথে চলবে বড় বড় দ্রুতগতির ট্রেন। এসব ট্রেন আমদানি করতে হবে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও জার্মানি থেকে।

বানিজ্যিক ভাবে এই প্রকল্প যত না আশার সঞ্চার করেছে , ঠিক ভৌগলিক ভাবে ততই বিরোধ নিয়ে শঙ্কা উঠেছে । চায়না – পাকিস্তান করিডর গিয়েছে কাশ্মীরের গাঁ ঘেঁষে । আর এই নিয়ে ভারত থেকে অনেকবার আপত্তি উঠেছে । আবার চীন মুদ্রবন্দরসহ যোগাযোগের প্রায়োজনীয় সব অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারে চীন সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিলেও এর সাথে সামরিক শর্ত যুক্ত থাকছে । ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার জনগণ হাম্বানটোটায় চীনের সামরিক আনাগোনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করছে।

আবার সমুদ্র পথে , মালাক্কা প্রণালি হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সমুদ্রপথ। যে কারণে প্রস্তাবিত প্রকল্পে এই করিডোরটি হচ্ছে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই পথের সামগ্রিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা, নৌ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া কৌশলগত গুরুত্বকে কেন্দ্র করেই চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ বিস্তৃতি পাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হচ্ছে, ভারত মহাসাগরের অন্তর্ভুক্ত বঙ্গোপসাগরভিত্তিক বিসিআইএম বা বাংলাদেশ-চীন-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার করিডোর। এই পথের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মতো দুটি পরস্পরবিরোধী সক্রিয় বলয়ভুক্ত দেশ এখানে সম্পৃক্ত। দেখা যাচ্ছে, এই দুই করিডোর নিয়ে ভারত ও চীনের বিরোধিতা দ্রুতই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এছাড়া , চীন হাই ইনকাম দেশ হওয়ায় , বিদ্যুৎ , শ্রম সহ বিভিন্ন জায়গায় খরচ বেড়ে চলছে । অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক স্থির হয়ে পড়ছে । কেউ কেউ বলছে , এটি বাস্তবায়ন হলে চীনের অর্থনীতিতে অনেক গতির সঞ্চার  হবে । আবার এও কেউ  কেউ বলছে এতো বিশাল অবকাঠামোর পিছনে চীন লোণ দিতে গিয়ে যদি কোন কারনে প্ল্যান ভেস্তে যায় , তাহলে  ব্যাঙ্কগুলো শেষপর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে ।

বিরোধ, সঙ্কা  থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো চুক্তিতে না পৌছানোর আগেই কাজ অল্পস্বল্প শুরু হয়ে গিয়েছে । চায়না – পাকিস্তান করিডর চুক্তি প্রায় ফাইনাল স্টেপে । চীনের একটি পণ্যবাহী ট্রেন প্রাচীন সিল্ক রোড দিয়ে কাজাখাস্তান ও তুর্কিমেনিস্তান হয়ে ট্রেনটি ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছছে ।

আলিবাবাও এই ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড নিয়ে অনেক আশাবাদী । এতে আমদানি – রপ্তানি বাড়বে , ক্ষুদ্র উদ্দ্যেক্তাদের জন্য গ্লোবাল মার্কেটে এক্সসে করাটা অনেক সোজা হবে ।

writer: Partho Pratim Mazumder 

Facebook Group:    Business ECommerce Internet of Things Platform (BETOP) , Search English

লেখকের আরও লেখা পড়তে ক্লিক করুন – পার্থ প্রতীম মজুমদার : 

http://blog.e-cab.net/author/partho/

 

source:

https://thewire.in/40388/one-belt-one-road-shaping-connectivities-and-politics-in-the-21st-century/

http://www.valuewalk.com/2016/06/alibaba-follows-one-road-one-belt/

http://eastwestbank.com/ReachFurther/News/Article/New-Opportunities-In-Chinas-One-Belt-One-Road-Initiative

নতুন-সিল্ক-রোড-নির্মাণের-পথে-চীন

সিল্ক-রোড-ফেরাবে-চীন

সিল্ক-রোড–ইতিহাস-ও-বাস্তবতা

চীনের সিল্করোড বাণিজ্য শুরু

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder