চায়না ইকমার্সে দাপট

545
পোস্টটি  Business Ecommerce Content Association In Bangladesh (BECAB)  গ্রুপে আলোচনা করা হয়েছে , আর ইংলিশে আলোচনা করা হয়েছে  সার্চ ইংলিশ গ্রুপে ।
 
চায়না ইকমার্সে দাপট
চায়নার বড় বড় কোম্পানিরা Alibaba, JD.com, Meituan এবং Tencent এর মতন কোম্পনিরা এখন অনলাইন ত্য অফলাইন trend এর দিকে ঝুঁকছে । অর্থাৎ কাঁচা সবজি ডেলিভারি দেবার জন্য ড্রোণ প্রযুক্তির মতন কিছু প্ল্যান তারা হাতে নিচ্ছে ।
২০১৬ সালে চায়না ক্রেতারা অনলাইনে ৯৩৫ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ কেনা কাটা করেন । যা এমেরিকা , লন্ডন মিলিয়ে একসাথে তুলনা করলে অনেক বেশি হবে । ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে চায়না অনলাইন খুচরা বিক্রয় ৩৩.৪% বেড়েছে , সবমিলিয়ে ৫১০$ ডলার ।
এখন একটাই প্রশ্ন কোন কারণে চায়না ইকমার্স পাশ্চত্য ইকমার্সের থেকেও এগিয়ে যাচ্ছে ।
এমাজন , etailling যখন ১৯৯০ সালে বাজারে প্রবেশ করে , তখন চায়না ফিজিক্যাল বেচাকেনা এর অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না । কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেম আয়ের সাথে সাথে এবং খরচেরও একটা মেলবন্ধন তৈরি করে । যার কারণে , চায়না ইকমার্স ওয়েস্টার্নের চেয়েও এগিয়ে যায় । চায়না মোবাইল ইকমার্সে শুরু থেকে এগিয়ে আছে । অনেক ক্রেতা ডেক্সটপ পিসি ছেড়ে স্মার্ট ফোনের দিকে ঝুকে পরে । এক জরিপে দেখা যায় ,
মোবাইল ফোনে অনলাইন কেনাকাটা ২০২০ সালে ৭৪% বাড়বে , তার তুলনায় এমেরিকার অবস্থান থাকবে ৪৬% ।
এই ইকমার্স বৃদ্ধি সহজে থামবে বলে মনে হয় না , আশা করা হচ্ছে চায়না ইন্ডাস্ট্রি পাঁচ বছরে বার্ষিকভাবে ২০% বৃদ্ধি পাবে । যা এমেরিকা , লন্ডনের দিক থেকে দ্বিগুন । এই গতি শুধু খরচের দিক থেকে হবে না , অনেক লক্ষ লক্ষ ক্রেতা , অনেক ছোট ছোট উদ্দ্যেক্তা তৈরি করবে , যারা এখনো অনলাইনে আসি আসি করছে ।
চলুন, এবার আরেকটু জুম আউট করি । প্রডাক্ট ক্যাটাগরির দিকে তাকাই । চায়না ক্রেতারা , অনলাইনে অরগানিক ফুড থেকে দুরু করে দামি গাড়ি পর্যন্ত কিনছে । পরবর্তী পাঁচ বছরে , অনলাইনে কেনাকাটার প্রডাক্ট ক্যাটাগরির রেইঞ্জে আরও ব্যাপ্তি ঘটবে । কিছু অনুমান অনুযায়ী, এমেরিকায় , বই , পোষাক সহ , কিছু কিছু ক্ষেত্রে , ৪০% ক্রেতা থাকবে , সেখানে চায়নাতে স্ন্যাকস্‌ অর্থনৈতিক সেবা সহ ১৫ ক্যাটাগরির প্রাধান্য দেখা যাবে ।
যেসব কারণে চাইনা মার্কেট অন্যান্য মার্কেট থেকে আলাদা করেছে
চায়না ক্রেতারা অর্থ ব্যয় করার জন্য আগ্রহী – এবং তারা কেনাকাটায় অনেক সময় ব্যয় করে।
চায়না শপিং  শুধু মাত্র ট্রানজেকশনের মধ্যে নেই , সেলিব্রিটি এবং ইন্টারনেট এর মাধ্যমে বিনোদন, আবিষ্কার এবং সামাজিক সাইটে অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে বড় একটা ব্যাপার । চায়না ক্রেতারা আলিবাবার tobao সাইটে গড়ে ত্রিশ মিনিট থাকে , যা এমাজনের সাইটের ভিজিটর যতক্ষণ থাকে তার চেয়ে তিনগুন । চায়না ক্রেতারা ব্র্যান্ড সচেতন , কিন্তু একটা নির্দিস্ট কোন ব্র্যান্ড ঘিরে না । যেমন , চীনা কিশোররা যেখানে ২০টা কসমেটিক্স এর কথা বলতে পারে , সেখানে এমেরিকান কিশোররা মাত্র ১৪ টা বলতে পারে । চীনা যুবকরা খরচ করতে পছন্দ করে , , তাদের ৪২% মনে করে আরও বেশি বেশি কেনা উচিৎ , সেখানে এমেরিকা , লন্ডনে এই হার ৩৬% ।
তীব্র ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতায় উদ্ভাবনী শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে
প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হোক বা নতুন খেলোয়াড় সবাই নতুন নতুন মডেল বাজারে আনছে , নতুন নতুন অফার নিয়ে কাজ করছে । কসমেটিক্স , ডেইরি , কনফেকশনারির মতন তীব্র প্রতিযোগিতামুলক বাজারে , তারা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আনতে চলেছে । অনলাইন চায়নিজ বিক্রেতারা তাদের নতুন প্রোডাক্ট আনতে ভয় পায় না , ফেইল করে , আবার আরেকটা আনে । একটা নির্দিষ্ট প্রডাক্ট শিডিউল এর মধ্যে নিজেদেরকে রাখে না । তাদের ক্রেতাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া এবং চ্যানেল তারা ব্যবহার করে । যার জন্য ডাটা এনেলাইটিক্স , ক্রেতাদের ইনসাইট আচরণ খুব দ্রুত বুঝতে পারে । যার ফলে তারা কাস্টমার ওরিয়েন্টেড প্রডাক্ট ডেভেলাপ করতে পারে ।
চায়না , নিউজ , গেইমস , ভিডিও এবং ইকমার্স সবগুলো একসাথে অনলাইন হাব , ক্লিক টু বাই প্রডাক্ট , কুইক লিংক পেমেন্ট অপশন এর মাধ্যমে জড়িত । চায়না ক্রেতারা অন্যন্য দেশের মতন ডাইরেক্ট ব্র্যান্ডের সাইট বা কোম্পানির সাইট ভিজিট করে না । তারা অনলাইন মার্কেটপ্লেস Taobao , ইন্টারটেইনমেন্ট এপ্স iQiyi এবং WeChat এর মাধ্যমে তারা পছন্দের প্রোডাক্ট খুঁজে বের করে । Taobao . wechat এই দুইটা ফেইসবুকের মতন সোসিয়াল , ইন্টারটেইনমেন্ট সাইট যেখানে সব ধরেনের এপ্স এড করা আছে । এক কোথায় বলতে গেলে all in one এপ্স । Taobao আগে শুধুমাত্র , একটি ইকমার্স সাইট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল এখন সোসিয়াল এবং ইন্টারটেইনমেন্ট ফিচার রয়েছে । WeChat আগে শুধু সোসিয়াল সাইট হিসেবে তৈরি হয়েছিল , এখন সেখানে পন্য কেনা এবং বেচা যায় । ব্যবহারকারিরা টাকা মানুষদের কাছে টাকা পাঠাতে পারে , ট্যাক্সি হায়ার করতে পারে , ডাক্তারদের এপয়েন্টমেন্ট নিতে পারে , খাবার অর্ডার করতে পারে , বিল পে করতে পারে , মুভি টিকিট কিনতে পারে । এমেরিকায় , লন্ডনে এই ধরণের কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন এপ্স এর দরকার হতো ।
 আলিবাবা বনাম এমাজন
দক্ষিন পশ্চিম ইকমার্সের পার্থক্যটা বুঝে নিতে মুল দুই ইকমার্স প্লেয়ারকে ধরে নেয়া যাক , আলিবাবা , এমাজন । আপাত দৃষ্টিতে দুইজনকে একই মনে হয় , দুইটাই মার্কেট প্লেস , দুইটারই শেয়ার মার্কেট আছে , দুইজনই নতুন নতুন উদ্দ্যেগ নিচ্ছে । দুই কোম্পানি কিন্তু সফল , কিন্তু তাদের বিজনেস মডেল কি এক ? চলুন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখে আসি —
এমাজন খাঁটি অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা , নিজেদের ইনভেন্টরি প্রোগ্রাম , পরিপূর্ণ ভাবে ক্রেতাদের দিকে ফোকাস করা । এই সাইটে বিশাল কালেকশন , চমৎকার সার্চ ইঞ্জিন, কম দাম, ব্যবহারকারীর পর্যালোচনা, পণ্য সুপারিশ, সহজ পেমেন্ট, দ্রুত ডেলিভারি, ইউজার রিভিউ , লো প্রাইস ,প্রডাক্ট রেকমেনডেশন , দ্রুত পেইমেন্ট , সহজ পেইমেন্ট , গ্রেট সার্ভিসের মাধ্যমে অনেক বিশ্বস্ত কিছু ক্রেতা আছে । বছরের পর বছর তারা অনেক নতুন নতুন , সার্ভিস , কিনডল ইবুক , ই-রিডার , ভিডিও স্ত্রিমিং , টিভি শো , মুভি , ফুড ডেলিভারি সহ অনেক লাইনে তাদের সার্ভিস বিস্তৃত করেছে ।
অন্যদিকে , আলিবাবা নিজের কোন ইনভেন্টরি নেই , কোন বেচার মতন পন্য নেই । এই কোম্পানি একটা ভারচুয়েল শপিং মলের মতন কাজ করে ,যেখানে পাইকারী বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতা ক্রেতাদের সাথে কানেক্ট হতে পারবে । এই মার্কেটপ্লেস মডেল অনুসারে , ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতাদের নিজেদের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে কানেকট হতে পারবে । আলিবাবা শুধু ছোট বিজনেস , ব্র্যান্ডসদের এর জন্য টুলস , সার্ভিস অফার করে , এবং বিক্রেতাদেরকে ক্রেতাদের সাথে গেইমস , নিউজ , ভিডিও , লাইভ স্ত্রিমিং শো , সেলেব্রেটি , ইভেন্টস , অনলাইন কমিউনিটির মাধ্যমে কানেক্ট করে দেয় । ক্রেতারা সেই সব সাইটে গিয়ে নতুন নতুন ত্রেন্ড , শপ দেখে । আলিবাবার নিজের টেকনোলজি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মার্কেটপ্লেস Taobao , Tmall , ডিজিটাল মার্কেট পেমেন্ট , লজিস্টিক সার্ভিস , সোসিয়াল মিডিয়া , ইন্টারটেইনমেন্ট সাইট , নিউজ পোর্টাল একিভুত করে নেয় ।
ইউনিলিভার চায়না অভিজ্ঞতা অনুসারে , আলিবাবার ব্যবসায়ী তৈরি করার মতন ক্ষমতা আছে । ইউনিলিভার তাদের শ্যাম্পু , সাবান প্রমোট করার জন্য লাইভ স্ত্রিম গেইম ব্যবহার করতো , বিভিন্ন পেইজে তাদের পন্যের এড দিত । ইউনিলিভার দেখে , সাইটে ক্রেতাদের সংখ্যা ২৬% বেড়ে গিয়েছে ।

ডাটা এনালাইসিস ♣

আমাজন , আলিবাবা দুই মার্কেটপ্লেসের জন্য ডাটা এনালাইসিস অনেক গুরুত্বপুর্ন , কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে , তারা কি একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ? না , তারা দুই মার্কেট প্লেস ডাটা এনালাইসিসের জন্য দুই রকম পদ্ধতি ব্যবহার করে ।

এমাজন , ক্রেতাদের কেনাকাটার উপর ভিত্তি করে তারা ডাটা এনালাইসিস করে । এই কোম্পানি তাদের ডাটাগুলো ব্যবসায়িদেরকে দেয় , যাতে তারা সঠিক প্রোডাক্ট নির্ধারণ করতে পারে , দাম ঠিক করতে পারে ।

কিন্ত আলিবাবা ব্যবসায়ীদের মার্কেটিং ROI , কনভার্সন রেইট বাড়ানোর জন্য , অনেক বড় ডাটা প্রদান করে । তাদের ইকোসিস্টেমের কারণে বিশাল ডাটা প্রদান করতে পারে । যেমন , একজন ক্রেতা তার কাজের পরে কোথায় ভিজিট করতে পারে সেই ডাটা পর্যন্ত তাদের কাছে থাকে , তাই সন্ধ্যায় বা সকালে কোন সময় ক্যাম্পেইন করলে ইফেক্টিভ হবে , সেটা সহজে বের করা যায় ।

এমাজন শুধু ক্রেতাদের সার্চ হিস্টোরি দেখে একটা অনুমান করতে পারে , কিন্তু আলিবাবা ব্র্যান্ড , প্রমোশন সাজেস্ট করতে পারে ।

চ্যালেঞ্জ:

আলিবাবা এবং এমাজন দুইটারই সামনের দিকে যাওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং । এখনো তারা অফলাইনের দিকে বিস্তার করে নি । সেইজন্য তারা অফলাইন , অনলাইন দুই দিক থেকে চিন্তা ভাবনা করছে যেমন ডেলিভারির ব্যাপারটা , প্রোডাক্ট , লজিস্টিক সাপোর্ট সহ অনেক কিছু ।

source:

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *