ই-কমার্সে কর্মসংস্থান: সমস্যা ও সম্ভাবনা

1105
ই-কমার্সে কর্মসংস্থান সমস্যা ও সম্ভাবনা

ই-কমার্সে কর্মসংস্থান: সমস্যা ও সম্ভাবনা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

কর্মসংস্থান কথাটা শুনলে আমরা কেবল চাকরীর কথাই ভাবি। শব্দটা এমনভাবে পরিচিত মনে হয়। কর্ম খালি আছে বা কর্ম খালি হবে। কর্মসংস্থান কথাটার  মানে ‘‘চাকরী’’ নাও হতে পারে। হতেপারে পেশা বা ব্যবসায়। এজন্য অনেক সময় আত্মকর্মসংস্থান এর কথা বলে থাকি। নিজেই নিজের কাজের সংস্থান করলে সেটাকে আমরা আত্মকর্মসংসংস্থান বলি। যেকোন ব্যবসায় প্রথমে এক বা একাধিক ব্যক্তি আস্মকর্মসংস্থান এর চেষ্টা করে পরে উদ্যোগ সফল হলে সেখানে আরো দশজনের কাজের সুযোগ তৈরী হয়।

বাংলাদেশে ই কমার্স এখনো আত্মকর্মসংস্থানের পর্যায়ে রয়েছে। বিশাল বেকার জনগোষ্ঠি আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ই কমার্সকে ঘিরে আশার আলো দেখছে। এখনো যারা আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে ই কমার্সকে নিয়েছেন তারাও বেশ চ্যালেঞ্চর মুখে আছেন। আর ই কমার্স সেক্টরের জন্য কর্মীর এখনো চাহিদা তৈরী হয়নি। আবার অন্যদিকে যা চাহিদা আছে সেটার জন্য যোগ্য কর্মী মিলছেনা। এমনটাই বলছেন ই কমার্স উদ্যোক্তারা। এর কারণ প্রথমত ই কমার্স একটি নবীণ বিজনেস সেক্টর এখানে বর্তমান পর্যায়ে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী প্রয়োজন যদি এই প্রতিযোগিতার বাজারে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকবিলা করে এগুতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত বা অশিক্ষিত উভয় শ্রেনীতেই ডেডিকেশন এর অভাব রয়েছে। সবাই মনে করে ৯টা ৫টা অফিস করবো আর মাস শেষে বস আমাকে কতগুলো টাকা দেবেন।

বাস্তবতা ভিন্ন। একটি উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম দরকার সেটা অনেকেই পাচ্ছেন না। কারণ ই কমার্সে কাস্টমাররা সবসময় সেবা আশা করে। বরং অফিস টাইমের পরেই বেশীরভাগে গ্রাহক ফোন কের থাকে।

আরেকটি কারণ হলো পেশাদারিত্বের অভাব। শিক্ষাজীবনের মতো কর্মজীবনেও আমরা সিদ্ধান্তগীনতায় ভুগি। নব্বইভাগ চাকরীপ্রার্থী চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন না যে তিনি কি ধরনের চাকরী করতে চান এবং সেটা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে করতে চান। যখন সামনে যেটা পান সেটাই করার চেষ্টা করেন।

ই-কমার্স আসলে আলাদা কোনো ব্যবসায় নয়।  গার্মেন্টস ও লেদার, হোটেল ও বেকারী আলাদা ব্যবসায় যেমন আলাদা ব্যবসায় ই-কমার্স তা নয়। সেজন্য ই-কমার্সের যেমন কোনো পরিধি নেই। তেমনি এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের পরিমাণ কতো হবে তার কোনো সংখ্যা বলা কঠিন। বেশ কয়েকটি কারণে ই কমার্সে কর্মসংস্থোনের সম্ভাবনা বেশ ভালো। তবে এই পক্রিয়াটা একটা পর্যায়ে যাওয়ার জন্য সময়ের ব্যাপার রয়েছে।

প্রথমত: দেশে প্রচুর ই কমার্স উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাজারখানেক ওয়েবসাইট ও পাঁচ হাজারের মতো ফেসবুক পেজ থেকে যদি ২০ শতাংশ উদ্যোগ সফল হয়। তাহলে এই সংখ্যা দাড়াবে এক হাজোরের বেশী। এখান থেকে গড়ে ১০জন হলে ধরে নিতে পারি যে দশহাজার লোহের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: বড়ো বড়ো কোম্পানীগুলো ই কমার্সের দিকে ঝঁকছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণ আরএফএল, গ্রামীণফোন, ওয়ালটন, আড়ং, বাটা, ফ্রেশ, পারটেক্স প্রভৃতি। ভবিষ্যতে বসুন্ধরা গ্রুপ, বেক্সিমকো, যমুনার মতো কোম্পানী চলে আসতে পারে। বৃহৎ গ্রপ অব কোম্পানী বিশটি কোম্পানী ই কমার্স শুরু করলে গতে একশ করে অন্তত দুই হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে। আরো প্রয়োজন হবে অন্তত তিনহাজার স্বাধীন সাপ্লায়ার। এক দুটি বিদেশী কোম্পানী এর মধ্যে দেশের বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। এগুলোতে আরো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে হাজার খানেক লোকের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এভাবে ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত হতে পারে।

কয়েকবছরের মধ্যে ছোট ও মাঝারী ই-কমার্স এর সংখ্যা দাড়াবে পাঁচ হাজারের মতো। গড়ে ৫ জন করে হলে অন্তত ২৫ হাজার লোকের প্রয়োজন হবে। এই ২৫ হাজার লোকের কাজের সুযোগ একেবারে তৈরী হবেনা। হবে পর্যায়ক্রমে। সে পর্যায়টা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে সেটা নির্ভর করবে। ই কমার্স সহায়ক অন্যন্য উপাদানের উপর। যেমন ই কমার্স নীতিমালা, পেমেন্ট সহজীকরণ, ব্যাংকলোন, ডেলিভারী সার্ভিস এভং সর্বোপরি ই-কমার্স উন্নয়ন এর উপর।

এ ব্যাপারে আরেকটা আশংকার কথাও বলি। বাংলাদেশে বেশকিছু সেক্টর দক্ষ ওয়ার্কফোর্সের অভাবে হোঁচট খেয়েছে। সেজন্য এখন থেকে ই কমার্স পেশাজিীবি ও কর্মী তৈরী না হলে এখানেও সমস্যা হতে পারে।

এজন্য যারা নতুনকরে চাকরীর বাজারে প্রবেশ করছেন। তারা ই কমার্সের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে অবশ্যই ই বিষয়ে লেখাপড়া করতে হবে। সুযোগ পেলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এবং কাজের মধ্যদিয়ে শিখতে হবে।

আমাদের দেশে অনেকসময় কর্মীরা বেতন কম বলে কাজের সিরিয়াস হন না। এতে করে সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী নিজের। কারণ ডেডিকেশান না থাকার কারণে কাজটা শেখা যায়না। আর পেশাদারিত্ব আসে না বলে কর্মক্ষেত্রে সুনাম তৈরী হয়না। ফলে সে সেক্টরে কাজের সুযোগ ও নিজের শক্ত অবস্থান কোনেটাই তৈরী হয়না। এবং বেশীরভাগ কর্মীর এ ধরনের মানষিকতা তৈরী হলে পুরো প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব পড়ে এবং সেটা ছড়িয়ে পড়ে পুরো সেক্টরে।

আগামী দিনে ইকমার্সের ব্যবসায়ের সম্ভাবনার সাথে জড়ির এইখানে কর্মসংসস্থানের সম্ভাবনা। ক্রমবর্ধমান এই ট্রেড সেক্টরে প্রতিদিনেই নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে ।

লেখক: Head Of Business, Walletmix Limited

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *