টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ই-কমার্সের সম্ভাবনা: দ্বিতীয় পর্ব

1071

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ই-কমার্সর সম্ভাবনা: দ্বিতীয় পর্ব

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

সমস্যা আর সম্ভাবনা এই দুটো আমাদের দেশের কমন ফিচার। কখনো সম্ভাবনা ঢাকা পড়ে যায় সমস্যার অন্তরালে কখনোবা সম্ভাবনার বারতা ঘোষিত হয় সমস্যার বেড়াজাল কাটিয়ে। ই কমার্সের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা সম্ভাবনার কথা  ‍শুনেও আসছি বলেও আসছি। আর সমস্যার কথাও গোপন করছিনা। এখন কখন সমস্যার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে পারবো এটাই দেখার বিষয়।

আমার পায়ে হেঁটে দেশ দেখা ভ্রমণ শেষ হয়েছে তাই সফর সম্পর্কিত লেখা দিয়ে ফিরে আসলাম ই ক্যাব ব্লগে। আমার ৪৬ দিনে পায়ে হেঁটে হাজার কিলোমিটার পথযাত্রায় পাড়ি দেয়া ১৮টি জেলা নিয়েই এই বিশেষ লেখা। আজ রয়েছে এর দ্বিতীয় পর্ব।

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের পথে ঢাকায়

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের পথে ঢাকায়

প্রথম পর্বে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল নিয়ে লিখেছিলাম। গাজীপুর ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ নিয়ে আলাদা করে লিখার প্রয়োজন মনে করছিনা। কারণ এই তিনটা জেলাই ঢাকার মতো। ঢাকার সমান বা কাছাকাছি মানের সুবিধা ও সমস্যা রয়েছে এই শহরগুলোতে। তাই আজকের লেখার বিষয় মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেণী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার।

 

এরকম কেটজ জুটবে, মুন্সগঞ্জ এলাকায়

এরকম কেটজ জুটবে, মুন্সগঞ্জ এলাকায়

মুন্সিগঞ্জ: ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ শহর। অনেক কিছুতেই ঢাকার কারণে ছাপা পড়ে যায় এখানকার থ্যাতি। তবে এখানকার আলুর সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। কৃষিপন্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য সব্জিসহ উৎপাদনের দিক থেকে মুন্সিগঞ্জের আধিপত্য রয়েছে। জেলাশহরটি মহাসড়কের পাশে না হওয়ার কারণে এর হাকডাক একটু কম। তবে ঢাকার নিকটে কৃষিপন্য উৎপদন ও সরকরাহের একটা সুযোগ ব্যবসায়রে সম্ভাবনার ইংগিত বহন করে। যেখানে ব্যবসায়ের সুযোগ আছে সেখানে ই কমর্সেরও সুযোগ আছে। তবে সমস্যা থাকে বৈকি।

আপনি চিঠি পাঠাতে চান খুব সহজে পারবেন মুন্সিগঞ্জে পাঠাতে। ডাক ও কুরিয়ার সবিই পাবেন। কিন্তু পরিবহন পার্সেল পাঠাবেন। না তা হবে না। কাছের জেলা বলে এখানে পরিবহন পার্সেল সুবিধা নেই।

 

পরিবহন পার্সেল হলো এস এ পরিবহনের মতো, যেমন কুরিয়ারে যেখানে আপনি প্রতিকেজী পার্সেল এর জন্য ২৫/৩০ টাকা খরচ করেন। সেখানে পরিবহন পার্সেলে অনায়াসে আপনি ৫০ কেজীর একটা প্যাক ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় পাঠাতে পারেন। তবে অবশ্য কাউন্টার পর্যন্ত প্যৗছে দিতে হবে। আবার লোকাল কাউন্টার থেকে গ্রাহককে গ্রহণ করতে হবে। এতে কন্ডিশন ডেলিভারীও চলে।

শুনতে আজব মনে হলেও হয়তো এই সার্ভিস ওর এখানে চাহিদা কম এখানকার লোকেরা লোকাল বাসে করে হরদম ২/৪ বস্তা যেকোনো মাল বয়ে নিয়ে যেতে পারে ঢাকা থেকে। এখান থেকে কেউ ইচ্ছে করলে দিনের সব্জি দিনেই ঢাকায় পৌছাতে পারে।

 

কুমিল্লা: মুন্সিগঞ্জের পরেই কুমিল্লার অবস্থান হলেও এখানে সুযোগ সুবিধার কমতি নেই। প্রথমত রাস্তায় জ্যাম না থাকলে এখান থেকেই দিনের পন্য দিনে ঢাকায় পৌছানো যায়। কৃমিল্লা বৃহত্তম জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম, কৃষিপন্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়। এছাড়া কুমিল্লায় রয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার। হস্তশিল্পে কুমিল্লার খ্যাতি বহুপ্রাচীন। এসব কারণে কুমিল্লাকে র‌য়্যাল ড্রিস্টিক্ট ও বলে হয়। কুমিল্লা দেশের অন্যতম ব্রান্ড জেলা কয়েকটি কারণে প্রথম কুমিল্লার খাদি ও কুমিল্লার রসমালাই এই দুটো পন্যের খ্যাতি দেশ থেকে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছে। এসব পন্যের চাহিদাও বেশ। বিশেষ করে কুমিল্লার রসমালাই সৌখিন রসানা বিলাসীদের পছন্দের খাবার। কুমিল্রা গেলে রসমালাই কিনে আনেন না এমন লোক খুব কম। কিন্তু আদি আসল স্বাদের রসমালাই খুঁজে বের করা একটা কঠিন কাজ। এখানে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তবে অনেকেই অনলাইনে কুমিল্লার রসমালাই বিক্রি শুরু করেছেন। সবার অভিযোগ মোটামোটি একই রকম কয়দিন অর্ডার পেলে কদিন আর পান না। পুরো ই কমার্সের সমস্যা মনে হয় এটা । এসব সমষ্যা কেটে উঠলে এসব পন্য একদিন নিয়মিত হয়ে যাবে অনলােইনে।

বেশকিছু প্রাচীন দিঘী রয়েছে ফেণীতে

বেশকিছু প্রাচীন দিঘী রয়েছে ফেণীতে

 

ফেনী: ফেনী ছোট একটি জেলা। বৃহত্তর নোয়াখালীর একটি অংশ। নোয়াখালীর অন্যান অঞ্চলের মতো নারিকেল সুপারী এখান ভালো উৎপাদিত হয়। যদিও নগরায়নের জোরয়ারে তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কৃষিপন্য, ধান, হস্তশিল্পেও এখানকার লোকেরা পিছিয়ে নিই। কিন্তু এখানকার শ্রমিকরা বিদেশে থাকার হার বেশী বলে গড়পড়তা উৎপাদন কম ফলে চাহিদা মিটিয়ে খুব বেশী পন্য অন্যত্র যায়না। বরং দেশের অন্যত্র থেকে এখানে পন্য আসে।

ফেনী বিসিকে এক ধরনের দৃষ্টি ননন্দন হাতে তৈরী কাগজ উৎপাদিত হয়। দামী কার্ড ‍ও অন্যান্য কাজে সারাদেশে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। দেশীয় নানারকম পিঠাতেও েএখানকার রমনীরা পরদর্শী। এখানকার ঘরে তৈরী আঁচারও স্বাদের বারতা বয়ে নিয়ে আসতে পারে।

ই কমার্সের এখানে সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে পন্য সম্ভাবনা বেশী না হলেও বাজার সম্ভাবনা ব্যাপক। প্রয়োজন শুধু এখানকার ক্রেতাদেরকে অনলাইনে অভ্যস্থ করা আর তাদের বিশ্বাস অর্জণ করা। এখানে রাস্তাঘাট উন্নত বেশীরভাগই পাকা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকা এখানে নেই বললেই চলে। এখানকার প্রচুর লোক প্রবাসে থাকে বলে মোবাইল ও সম্টাটফোন ভ্যবহারেও এরা এগিয়ে। প্রবাসী ক্রেতারা অনলাইনে পন্য অর্ডার করে অনলাইনে দাম পরিশোধ করবে। আর অনলাইন শপ অথরিটি পন্য দেশে প্রবসীর স্বজনের হাতে পৌছে দেবে। এই পক্রিয়াকে জনপ্রিয় করতে পারলে এই অঞ্চলে ই কমার্সের সম্ভাবনা বেশ ভালো।

ফেণীর বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে নানা পন্য আসে। ভারতীয় পন্য সংগ্রহের জন্য একটা পয়েন্ট যারা সেদেশের পন্য দিয়ে ব্যবসায় করতে চান।

বৃষ্টির ফাঁকে কনর্ফূলী নদী

বৃষ্টির ফাঁকে কনর্ফূলী নদী

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী। কি নেই এখানে।ন কৃষি শিল্প সব দিক থেকে চ্টট্গাম অগ্রসর। বিশেষ পন্য কর কথা বলতে গেলে বলতে হয় শুটকির কথা। এবং বিদেশ থেকে আমদানীকৃত বিভিন্নপন্যের কথা। বাংলাদেশের বৃহৎসমুদ্রবন্দর হওয়ার কারণে বিদেশ থেকে আনা পন্যের প্রাপ্তি বেশ ভালো এখানে। গ্রামের দিকটা কৃষি নির্ভর, প্রচুর প্রবসীও আছে। পাহাড়ী এলাকা বাদে পুরো চ্ট্গ্রামে যোগাযেগ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। আর পাহাড়ী এলাকারর চিত্রও দিন দিন বদলে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের সব্জির চাহিদার পাশাপাশি ফেণীতেও আসে এখানকার সব্জি ও নানা পাহাড়ী ফল।

দেশীয় বেশকয়েকটি ই কমার্স কোম্পানী এখান থেকে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকে। ঢাকা মতো এতটা যানজট এখনে এখানে শুরু হয়নি। ফলে জনগনেক বিশ্বাসে আনতে পারলে এখানে ই কমাসের সম্ভাবনা অনেক উজ্জল।

বান্দরবান মানেই কিন্তু শুধু বানরের বাগান নয়

বান্দরবান মানেই কিন্তু শুধু বানরের বাগান নয়

বান্দরবান: গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬ থেকে যে পদযাত্রা ২৯ মার্চ সেন্টমার্টিন দ্বীপে শেষ করলাম। তাতে আমি মূলত বেশীরভাগ ক্ষেত্রে হাইওয়ে ধরে পথ চলেছি। বান্দরবান জেলা আমার চলার পথে পড়েনি। তবে পাশে পড়েছে। কয়েককিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার ডানপাশে কক্সবাজার তো বামপাশে বাদন্দরবান। তাই বান্দরবান নিয়ে আলোচনা করছি।

পাহাড়ে জুম চাষে যেমন নানা ধরনের ফসল একসাথে লাগায়। তেমনি বান্দরবানটাও নানা ফলমূল সব্জিতেভরা। কাঠ আর লাড়কিতে আছেই। যোগাযোগ দূর্গম কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। এখানকার স্পেশাল পন্যগুলোও হতে পারে ই কমার্স পন্য কারণ চাইলে এগুলো পাওয়া যায়না দেশের সর্বত্র। উপজাতীদের তৈরী তাঁতে বুনা কাপড় সহ বেশকিছু স্পেশাল খাবারো আছে।

তবে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো তিনটি পার্বত্য জেলার জন্য ডেলিভারী সার্জ অন্য জেলার চেয়ে বেশী নিয়ে থাকেন।

 

কক্সবাজার: সৌন্দর্য এবং সম্পদ দুটোতেই কক্সবজার একেবারে রানী। কক্সবাজাররের হোটেল মোটেল অনলাইনে বুকিং হবেই। এটা প্রচলিত ই কমার্স ব্যবসায়ের প্রচলন না গহলেও সম্ভবত হতো। আর এখান সামুদ্রিক মাছ আর শটুকির  স্বাদ যদি একবার ভালো লাগে তো আপনি নিশ্চয় বার বার খেতে চাইবেন কিন্তু খেতে চাইবেন আর আসতে চাইবেন না। তখন নিশ্চই কক্সবাজার ই শপের মতো কারো ভরসা প্রয়োজন হেবে। আর এজন্য এতে এতো সম্ভাবনা।

এখানে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের আঁচার ও নানা পন্য পাওয়া যায়। পাওয়া যায় থাইল্যন্ডের জুমা জুতোও। এগুলো কিন্তু দেশের অন্যত্র পাওয়া যায়না। তাই এই বিষয়ে অনেকে অনলাইনে বেচাকেনা শুরু করে দিয়েছেন।

আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনার কথা বলি সামনে এগুনোর জন্য আর সমস্যার কথা বলি সতর্কভাবে কাজ করার জন্য। সবাইকে ধন্যবাদ।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *