ecab logo

ই-ক্যাবের ৫ম এজিএম উপলক্ষ্যে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন

(খসড়া)

এজিএম এর ঘোষিত তারিখ: ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০

স্থগিত এজিম এর পূনরায় ঘোষিত অনলাইন এজিএম এর তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

প্রিয় সদস্য ও সহযাত্রীবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা নিন।

আজ এমন এক সময় আমরা পার করছি। যখন আমরা একে অন্যের কাছে আসতে নিরাপদ বোধ করছিনা। একসাথে এক জায়গায় মুখোমুখি বসে কুশল বিনিময় করতে এবং একজন আরেক জনের ঠিকানায় গিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে শংকা বোধ করছি। করোনা তথা কোভিড নাইনটিন নামক এক ভয়াল থাবা আমাদের একে অপর থেকে দূরত্বে থাকতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমরা ঠিকই অনুভব করছি। আমরা দূরে নেই। আমরা একে অন্যের পাশে রয়েছি।

আপনারা জানেন বিগত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী-২০২০ ই-ক্যাবের ৫ম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের দিন ঠিক করা হয়েছিল এবং বিগত বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও আপনাদের নিকট ই-মেইলে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ঘোষিত তারিখে সভা অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে চলে গেছে কয়েকটি মাস। আমরা অপেক্ষা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবারো সাধারণসভা আয়োজন করব এবং মিলিত হবো পারস্পরিক দীর্ঘ বিরতির সাক্ষাতে। কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। জীবনের প্রয়োজনে আমরা অনেক কাজ করে চললেও ঝুঁকি রয়ে গেছে। তা সকলের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং চলমান সময়ের কথা বিবেচনা করে এজিএম অনলাইনে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ই-ক্যাবের পরিচালনা পরিষদ। ৪ সেপ্টেম্বর এর এজিএম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পর পূনরায় স্থগিত করা হয়েছিল একটি সরাসরি অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারো অনলাইনে এজিএম অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

এজিএম অনুষ্ঠিত না হলেও আমাদের কোনো কার্যক্রম থেমে নেই। কার্যকরি পরিষদ সভা থেকে শুরু করে সকল সভা ও সরকারী দপ্তরের সাথে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান, ওয়েবিনার এমনকি সংবাদ সম্মেলনগুলোও আমরা অনলাইনে সম্পন্ন করেছি। এরমধ্যে একটিমাত্র অনুষ্ঠান সরাসরি করা হলেও আপনারা অনেকে উপস্থিত হতে পারেননি।

 

প্রিয় সদস্য,

আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনারা এরই মধ্যে জেনেছেন ২০২০ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরষ্কার পেয়েছে ই-ক্যাব। করোনাকালীন সময়ে নিত্যপণ্য সেবাসহ বেশকিছু কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ সরকার ই-ক্যাবকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে সরকার। এই সম্মান আপনাদের সকলের কারণ আপনারা আমাদের সকল কাজে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সরকারী বিভিন্ন দপ্তর।

 

প্রিয় সহযাত্রী,

ই-ক্যাবের ধারাবাহিক কর্মতৎপরতার স্বাক্ষর হিসেবে গত ২০১৯ সালের ২৭ ফ্রেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় ইক্যাবের চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভা। ফ্রেব্রুয়ারী মাসে আরো ৪টি ইভেন্ট হয়। এরমধ্যে দু’টো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হলো ৫ ফ্রেব্রুয়ারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ই-ক্যাবের ট্রেনিং কার্যক্রম ‘‘ই-বাণিজ্য করব নিজের ব্যবসা গড়ব’’ এর শুভ সূচনা হয় এবং ১৮ ফ্রেব্রুয়ারী ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন এর মাধ্যমে বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

 

প্রতিবছরের মতো সদস্যদের মিলনমেলায় প্রাণের উচ্ছাসে মিলিত হতে ৯ মার্চ’১৯ তারিখে আয়োজন করা হয় বার্ষিক পিকনিকের। প্রায় ৫শ মানুষের উপস্থিতিতে বর্নাঢ্য পিকনিক শেষে সবাই আবার কাজে ফিরে আসি। ২৩ মার্চ জিপিওতে মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জাব্বারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় ‘‘ই-কমার্সের ডাক’’ মেলা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে স্থানীয় মানুষদের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহনের মাধ্যমে এই মেলা সম্পন্ন হয়। ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বরিশাল মেলা সমস্ত প্রস্তুতি থাকা সত্বেও স্থগিত করা হয়। ধারাবাহিকভাবে ২ মাসব্যাপী ৭টি ডাকমেলা অনুষ্ঠিত হয় দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে

২২ জুন’১৯ অনুষ্ঠিত হয় ই-ক্যাবের ‘‘ই-বাণিজ্য করব নিজের ব্যবসা গড়ব’’ প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান। ২৫ জুন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ই-কমার্সের উপর ভ্যাট ধার্য করার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ই-কমার্সকে ভ্যাটের আওতা বহির্ভুত করার জন্য এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবী জানায় ই-ক্যাব। এর আগে ই-ক্যাব পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা সাক্ষাৎ ৮ জুন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ২৩ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা জনাব সালমান এফ রহমানের সাথে এই বিষয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

 

৫ জুলাই, ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরাম আয়োজন করে ই-কমার্স সামিট। এতে তরুনদের ই-কমার্সের সাথে সংযোগ বাড়ানো ও তাদের জন্য ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৭ আগস্ট দুই সিটি কর্পোরেশন তিনটি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ স্কাউটের সাথে যৌথভাবে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং ডেঙ্গমুক্ত ঢাকা গড়তে ‘‘স্টপ ডেঙ্গু’’ এ্যাপ এর উদ্ভোধন করা হয়।

 

২০ সেপ্টেম্বর এরিয়া ৭১ এর সাথে যৌথভাবে আয়োজন করা হয় ক্রসবর্ডার মিটআপ এতে সহযোগিতা করে অ্যামাজন। ৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় জমজমাট আড্ডা। ১১ অক্টোবর আড্ডা হয় উত্তরায়। অক্টোবরে শেষের দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ই-বাণিজ্য প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট বিতরণ। এই বছর ই-ক্যাব মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাথে যৌথভাবে চালুকৃত একটি কার্ড কার্যক্রম অব্যাগত রাখে যাতে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে সার্ভিস চার্জ ছাড়া বিভিন্ন সেবাগ্রহণের সুযোগ।

 

নভেম্বরে ঢাকার সীমান্ত স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় ই-ক্যাবের স্মরনীয় ৫ বছর পূর্তি ও ১০০০ হাজার সদস্য উদযাপন অনুষ্ঠান। স্মরণকালের এই অনুষ্ঠানে ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতাদের দেয়া হয় সম্মাননা। তিনজন মন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এর শোভাবর্ধন করেন।

 

গত কয়েকদিন ধরে করোনা সংকটে জাতি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে শুরু থেকে সচেতন থেকে আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং জনগনের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ই-ক্যাব। বলতে পারেন যখন যেখানে যা করা দরকার তাই করার চেষ্টা করেছি।

 

ই-ক্যাব এটুআই, ক্যাবিনেট ডিভিশন, আইসিটি ডিভিশন ও একশপের সাথে যৌথভাবে একটি জরুরী স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। যাতে ই-কমার্স কোম্পানীসমূহের ওয়ার হাউজ, ডেলিভারী কর্মী ও সরবরাহকৃত মালামাল কিভাবে জীবানূমুক্ত রেখে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের ভয় দূর করতে একটি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা হেল্প লাইন চালু করা হয়। যার মাধ্যমে কয়েকজন ডাক্তার স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেসব কোম্পানী সেবা চালু রেখেছে তাদের জন্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়।

 

ই-ক্যাবের মেম্বার প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ঘরে বসে তাদের নবায়ন ফি দিতে পারে এবং ই-ক্যাব অফিসে না এসেই ই-ক্যাবের মেম্বার হওয়া যায়। সেজন্য ই-ক্যাবের রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করে মেম্বার হওয়া যায়। এ যাবত ৪শটি কোম্পানি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন করে ই-ক্যাবের সদস্য হয়েছে। শুরুতেই ই-ক্যাবের কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয় এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাম্ভাব্যক্ষেত্রে তাদের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

 

জরুরী নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের সরবরাহ সচল রাখতে গত ২৫ মার্চ ই-ক্যাব ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি গ্রহণ করে। ই-ক্যাব সদস্যদের মধ্যে যারা নিত্যপণ্য ও ঔষধ বিক্রয় ও বিতরণ করে তাদেরকে প্রত্যয়নপত্র ও ‘‘জরুরী পণ্য পরিবহন’’ লিখা স্টিকার প্রদান করে। এছাড়া যেসব স্থানে মালামাল পরিবহন এর ক্ষেত্রে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী এবং অন্যান্যরা সরাসরি সেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করেছেন। সদস্য প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার পরিবহন ও ডেলিভারী কর্মীরা কাজ করার সুযোগ পায়।

 

সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ার পর ই-ক্যাবের প্রায় ৯০ ভাগ প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিশাল ক্ষতির মধ্যে পড়ে যায় কোম্পানীগুলো। এর প্রেক্ষিতে ই-ক্যাব একটি জরিপ পরিচালনা করে। যাতে এ খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়। জরিপকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে মোট ক্ষয়ক্ষতির মধ্য থেকে শুধুমাত্র কর্মচারীর বেতন ও অফিস ভাড়ার একটা অংশ সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষয়ক্ষতি, ই-ক্যাবের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ডিজিটাল অর্থবাজারের সার্বিক অবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

 

এই দূর্যোগপূর্ণ সময়ে ই-ক্যাবের কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান যেন জরুরী নিত্যপণ্যের অহেতুক দাম বৃদ্ধি না করে তা তদারকের জন্য একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির বিবেচনায়, ইতোমধ্যে একটি কমপ্লেইন সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে।

সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ই-ক্যাব মানবসেবা নামে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ই-ক্যাব সদস্য ও অন্যদের অনুদান দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। হাজারো পরিবারকে জরুরী খাদ্য ও অর্থ সহযোগিতা করা হয়েছে।

 

রমযানে ইফতার, ডিনার ও সেহরীর খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট এবং অনলাইন ফুড ডেলিভারী কোম্পানীর সেবার উপর নির্ভর করতেন রেস্তোরাসমূহ বন্ধ থাকায় তাদের খাবার জন্য সমস্যা হয়ে পড়েছিল। ফুড ডেলিভারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা করে এবং নিরাপত্তার বিধিমালা সংযুক্ত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদনের মাধ্যমে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে খাদ্য সরবরাহের অনুমতি গ্রহণ করে ই-ক্যাব।

 

সাধারণ ছুটি বিলম্বিত হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাসায় ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন এসব নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল ফলে রমযান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মুখে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন অফিসের কর্মীরা বাসায় বসে কাজ করছিল বলে বাড়তি ল্যাপটপের প্রয়োজন দেখা দেয়। এসব বিবেচনায় ই-ক্যাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আবেদন এবং যোগাযোগের মাধ্যমে এসব পণ্য অনলাইনে বিক্রির অনুমতি গ্রহণ করে। পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন এবং আমাদের কাছে আসা কিছু লিখিত ও মৌখিক অনুরোধ ছিল যে, গৃহে থাকা জনসাধারণকে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে বইপড়া দরকার। তাই অনলাইন শপ থেকে বইকেনার সুযোগ দেয়া হোক। তার প্রেক্ষিতে ই-ক্যাব অনলাইনে বই বিক্রয় ও ডেলিভারীর অনুমতি গ্রহণ করে।

 

ই-ক্যাবের জরিপে দেখা যায় ৫২ শতাংশ ই-কমার্স উদ্যোক্তার পহেলা বৈশাখ ও ঈদের পোষাকের মজুদ পড়ে আছে। একদিকে তারা পাওনাদারের অর্থশোধ করতে পারছেন না। অন্যদিকে অনেক পোশাক নষ্ট হওয়ার আশংকা তৈরী হয়েছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঈদকে সামনে রেখে পোশাক বিক্রির সুযোগ করে দিতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুমতি নিতে সক্ষম হয় ই-ক্যাব।

 

ঢাকায় লকডাউন শুরু হলে নগরবাসীতে সেবা দেয়ার জন্য সক্ষমতার ভিত্তিতে ৭০টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। দুটি এলাকায় লক্ষাধিক মানুষকে ২৮ দিন ও ২১ দিন নিত্যপণ্য সেবা দেয় ২০টির মতো ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠান। এই সেবা ছিল ন্যায্যমূল্যে এবং সাশ্রয়ীমূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সেবা। ওয়ারীতে দরিদ্র পরিবারকে ত্রাণও দেয়া হয় ই-ক্যাব ও মানবসেবার পক্ষ থেকে। ই-ক্যাবের এই উদ্যোগ সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

 

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় পবিত্র উৎসব ঈদ-উল-আযহার উপলক্ষ্যে প্রতিবছর কোরবানির হাট আয়োজিত হলেও এবার গণজমায়েত এ করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা থাকায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে “ডিজিটাল হাট” এর মাধ্যমে শতাধিক ই-কমার্স সাড়ে ৮ হাজার এবং দেশজুড়ে অনলাইনে প্রায় ২৭ হাজার পশু বিক্রির পাশাপাশি প্রথমবারের মত সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্থানে কোরবানি এবং মাংস প্রসেসিং এর মাধ্যমে নিরাপদ প্যাকেজিং এ হোম ডেলিভারি করা হয়।  দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে এই উদ্যোগ। বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন এর সহযোগিতায় সাড়ে চারশ পশু ঈদের ২ দিনে জবাই করে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়। সরকারের ৪ জন মন্ত্রী ও মেয়র এই অনলাইন হাট থেকে কোরবানি গরু ক্রয় করে এই উদ্যোগকে একটি অনন্য উচ্চতা দিয়েছেন। বর্তমানে এই উদ্যোগের খবর দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

 

প্রাইম ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে ই ক্যাব  ইতোমধ্যে ৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দশটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যে সিটি ব্যাংক ও ব্রাকের প্রত্যাশা প্রকল্পকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। আরো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে ঋণ ও বিনিয়োগ সংস্থানের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

 

পেয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সেপ্টেম্বরে ই-ক্যাবের সহযোগিতা চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মাত্র ৩৬ টাকায় টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলে রাতারাতি বাজারে পেয়াজের দাম কমতে শুরু করে। বাজারের ৯০ টাকা দামের পেয়াজ ৭০ টাকায় চলে আসে। বর্তমানে ১৭টি অনলাইন গ্রোসারী শপ থেকে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে মাত্র ২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই পেয়াজ।

 

বেশকিছু সেমিনার ও ওয়েবিনার যৌথ ও এককভাবে আয়োজন করেছে ই-ক্যাব। এরমধ্যে রয়েছে রবির সাথে যৌথ সেমিনার, ভ্যাট বিষয়ক সেমিনার, পেঅনএয়ার ও অ্যামাজন এর সাথে যৌথ ওয়েবিনার ইত্যাদি। অনলাইনে প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপে করোনাকালীন সময়ে হাজার খানেক উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন। এ যাবত ই-ক্যাবের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ৫ হাজার প্রশিক্ষনার্থী।

 

গত নভেম্বরে ই-ক্যাবের ৬ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ইক্যাবের পক্ষ থেকে ইকমা এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। করোনাকালীন সময়ে ফ্রন্ট লাইনে থেকে সেবা প্রদান করায় ১২ জন অগ্রনী ব্যক্তিত্ব, ১০০টি সেবাদাত প্রতিষ্ঠান ও ৩৫ জন স্বেচ্চাসেবককে এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে যাত্রা শুরু করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশের কার্যক্রম ই-জিনিয়াস।

 

মার্চ মাস থেকেই ঘরে থাকা জনসাধারণের দোরগোড়ায় ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্টান প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ করেছে। সার্বিক অর্থনীতিতে ৬ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তৈরী হয়েছে ৬০ লাখ উপকারভোগী। বর্তমানে প্রতিদিন ১ লাখেরও বেশী ডেলিভারীর মাধ্যমে সেযব মানুষ ডিজিটাল কমার্সের উপর আস্থা রেখেছে। তাদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ই-ক্যাবের প্রস্তাবনা

এই পরিস্থিতিতে আমরা প্রতিমুহুর্তে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছি। পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন পক্ষের সাথে অনলাইনে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিভিন্ন সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু দেশের মানুষের লাইফ লাইন এই অনলাইন তথা ভার্চুয়াল বাজারকে সচল রেখে জনগনকে ঘরে রাখার এই মিশন শহর এলাকার বাইরে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে আমরা সরকার ও জনগনের সহযোগিতা কামনা করছি।

 

১. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল কর্মাস সেলকে কাযর্কর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। এই সেলের আওতায় দেশের সকল ই-কমার্সকে অন্তভূক্ত করে একটি চেইনের মধ্যে নিয়ে আসলে বর্তমান সেবা আরো সহজ, কার্যকর ও পরিশীলিত হবে।

 

২. এই সেলের অধীনে পুরো সাপ্লাইচেইনকে একরেখায় নিয়ে আসা সম্ভব। সেজন্য স্থানীয় গুদামঘর গুলো যেন অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করতে পারে তা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনে জেলা ‍ও উপজেলা পর্যায়ের পোস্ট অফিসসমূহকে অনলাইন পণ্যের সাময়িক গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ই-ক্যাবের একটি আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।

 

৩. ই-বাণিজ্য পোর্টালের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষন পূর্বক চাহিদার সাথে সমন্বয় করে তার বন্টন পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

 

৪. যারা এই জরুরী সময়ে জরুরী খাদ্য, নিত্যপণ্য ও ঔষধ উৎপাদন, পরিবহন, ক্রয় ও বিক্রয়ে জড়িত তাদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে একটি সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা জরুরী হয়ে পড়েছে।

 

 

আগামী দিনগুলোতে যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করার জন্য কাজ করবে ই-ক্যাব

১. দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রশ্নে ই-ক্যাবের অবস্থান পূনরায় আরো জোরালোভাবে ব্যক্ত করা।

২. ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে ই-কমার্স ক্যাটাগরি যুক্ত করা এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা।

৩. বৈদেশিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য নূন্যতম ব্যয়সীমা নির্ধারণে ইতোমধ্যে কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে। বিষয়টি বিবেচনা করছে কতৃপক্ষ।

৪. ই-কমার্সে প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট প্রযোজ্য না হলেও ই-লার্নিং এর ক্ষেত্রে এখনো ভ্যাট রয়েছে। এ ব্যাপারে কাজ করবে ই-ক্যাব।

৫. আরো বেশী ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে ব্যাংক ঋণ ও বিনিয়োগ পেতে কাজ করবে ই-ক্যাব।

৬. ই-কমার্সের বাজার বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারী সুবিধা আদায়ে ই-ক্যাব সদাজাগ্রত থেকে কাজ করে যাবে।

৭. ক্রসবর্ডার ই-কমার্সের ক্ষেত্রে সুবিধা আদায় ও এ সংক্রান্ত আয়কে রফতানী আয় হিসেবে বিবেচনা করার জন্য নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে ই-ক্যাব।

৮. ই-ক্যাব সদস্যদের জন্য সুবিধা বাড়াতে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরীর কাজ অব্যাহত রাখবে ই-ক্যাব।

 

 

সবশেষে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেসব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ই-ক্যাবের সদস্য উদ্যোক্তা ও তাদের কর্মীদের যারা জনগনের নিত্য প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের নিরাপদ রেখে সঠিক নিয়ম মেনে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দিয়ে জনসাধারণকে গৃহে অবস্থান করতে সাহায্য করছে। বিভিন্ন বাঁধা ও সংকট উপেক্ষা করে, লাভ লোকসানের কথা না ভেবে, ই-ক্যাবের আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষের পাশে থাকার জন্য ই-ক্যাব তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

 

সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, আইসিটি ডিভিশন, এটুআই, একশপ, ডাক বিভাগ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, তথ্য আপা, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের দপ্তরসমূহকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

সবশেষে ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতাবৃন্দ, প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ ই-সি কমিটির সকল সদস্য,  ই-ক্যাব সেক্রেটারিয়েটের সকল কর্মী ও ই-ক্যাবের সকল সদস্যকে আমি ই-ক্যাবের সকল অর্জন উৎসর্গ করতে চাই।

 

সবাই ভাল থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করুন। আমাদের পাশে থাকুন। দেশব্যাপী সেবা চলমান রাখতে আমাদের সাহায্য করুন। যারা সচ্চল প্রত্যেকে কমপক্ষে একটি পরিবারের দায়িত্ব নিন। আল্লাহ আমাদের মঙ্গল করুন। আল্লাহ হাফেজ।জয় বাংলা

 

মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল

জেনারেল সেক্রেটারী।

প্রেসিডেন্ট, ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

1,695 total views, 27 views today

Comments

comments