ভাট

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ই-ক্যাবের  বাজেট প্রস্তাবনার প্রধান বিষয়গুলো- ২

১. ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এর সীমা নির্ধারণ

প্রস্তাবনা: যে অনলাইন উদ্যোক্তা বার্ষিক ১ কোটি টাকার কম বিক্রি করে থাকেন। তাদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।

যৌক্তিকতা: যেহেতু সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে ন্যুনতম সীমা রয়েছে। সেহেতু ক্ষুদ্র ও মাঝারী অনলাইন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা থাকা যুক্তিযুক্ত।

২. নূন্যতম করের বিধান (Minimum Tax)

প্রস্তাবনা: অর্থ আইন, ২০১৬ (৪৪ )-এর মাধ্যমে ৪২C প্রতিস্থাপন করে নূন্যতম করের (Minimum Tax) নতুন বিধান সন্নিবেশিত করা হয়। এই সংশোধনের  প্রেক্ষিতে যেসকল করদাতা  কোম্পানি যাদের Gross Receipts ন্যুনতম সীমা রয়েছে তাদের জন্য শিল্প ধরণ বিশেষে নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে টেলিকম ও সিগারেট কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য Gross Receipts এর ০.৬% নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়।

যৌক্তিকতা: নুন্যতম ০.১% বাস্তবায়ন করলে কোম্পানীগুলোর বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। তখন ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আরো গতিশীলৈ হবে।

৩. e-learning এবং e-book সেবাকে মূল্য সংযোজন কর আইন ২০১২ এর সার্ভিস কোড S০৯৯.১০ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা (ITES) এবং আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর সিক্সথ সিডিউল পার্ট এ প্যারাগ্রাফ ৩৩ এর অন্তর্ভূক্তি করণ প্রসঙ্গে।

প্রস্তবনা: e-learning এবং e-book কে মূল্য সংযোজন কর আইন ২০১২ এর সার্ভিস কোড S০৯৯.১০ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা (Information Technology Enabled Services) এবং আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর সিক্সথ সিডিউল পার্ট এ প্যারাগ্রাফ ৩৩ তে অন্তর্ভূক্ত করা। e-learning এবং e-book সেবা দুইটি পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর সেবা হওয়ায় উল্লেখিত সেবা কোডে অন্তর্ভূক্ত করাটা যথেষ্ট যৌক্তিক। এতে করে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের  শিক্ষাব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে এবং এখাতের বিস্তার ঘটবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

যৌক্তিকতা:  আমাদের দেশ যখন নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, এরকম পরিস্থিতিতে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা এবং সকল ধরণের স্কিল ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং গতিশীল রেখে দক্ষ জনবল তৈরি করতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভালো মানের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ট্রেনার ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অবস্থান কেবলমাত্র রাজধানী ও শহরে কেন্দ্রিক অথচ ইন্টারনেট সেবা এবং তথ্য প্রযুক্তিগত সেবা একদম গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ইন্টারনেট এবং তথ্য প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার (e-learning এবং e-book) মাধ্যমে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং কর্মমূখী মানুষের ট্রেনিং প্রদান অব্যাহত রাখা দক্ষতা উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

৪. ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারী চার্জ এর ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি।

প্রস্তাবনা: যেসমস্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিজেরা নিজেদের পণ্য ডেলিভারী করে। অন্যকাউকে ডেলিভারী সেবা দেয়না। তাদের ক্ষেত্রে ডেলিভারী সেবা মূল্যের উপর ভ্যাট মওকুপ এর আবেদন করছি।

যৌক্তিকতা: কারণ অনলাইন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহ যখন নিজেরা নিজেদের পণ্য বিক্রি করে তারা এর উপর কোনোরুপ লাভ বা মুনাফা করেনা। এটা একটা সংযুক্ত সেবা হিসেবে তারা নুন্যতম চার্জ ধার্য করে থাকেন। তাই এইক্ষেত্রে ভ্যাট প্রয়োগ করা হলে পণ্যমূল্যে তার প্রভাব পড়ে।

৫. ই-কমার্স ভিত্তিক ডেলিভারী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারী চার্জ এর ন্যুনতম ভ্যাট।

প্রস্তাবনা: যেসমস্ত লজিস্টিক বা পন্য ডেলিভারীর সেবা অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারী করে। যা তারা একটি চার্জ এর বিনিময়ে ব্যবসায়িক সেবা হিসেবে প্রদান করে সেক্ষেত্রে ডেলিভারী চার্জের উপর ভ্যাট অনধিক ৫% করার প্রস্তাব করছি।

যৌক্তিকতা: সাধারণ কুরিয়ার কোম্পানী সাধারণত ডকুমেন্ট ও ব্যক্তিপর্যায়ে সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু ই-কমার্স ভিত্তিক কুরিয়ার বা লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারী করে থাকে। যার মূল্য বেশীরভাগ ৫০০-৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে ভ্যাটের পরিমাণ বেশী হলে তা পণ্যমূল্যের উপর প্রভাব ফেলে থাকে।

৬. ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অফিস ভাড়া ও ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের ভাড়ার উপর ভ্যাট অব্যাহতি।

প্রস্তাবনা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অফিস, গোডাউন, ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও সর্টিং হাউজ এর ভাড়ার উপর ভ্যাট রহিত করার প্রস্তাব করছি।

যৌক্তিকতা:  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, স্টোর হাউজ ও সর্টিং সেন্টার ও পরিবহন খরচ প্রয়োজন, এই খরচ পণ্যের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।

৭. ডিজিটাল পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্স অব্যাহতি

প্রস্তাবনা: ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে যেসকল ই-কমার্স লেনদেন হয় তার উপর সকল প্রকার কর ও ভ্যাট মওকুফ করার প্রস্তাব করছি।

যৌক্তিকতা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং ক্যাশলেস সোসাইটি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনবে।

৮. সরবরাহকারীর ভ্যাট চালান প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি ও মোট মূল্যের উপর ভ্যাট রেয়াত

প্রস্তাবনা: বর্তমানে ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ও অনলাইন শপ যখন তৃতীয় কোনো পক্ষের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর ভ্যাট চালান অনলাইন শপ প্রদর্শন করবেনা। তবে সরকারী এজেন্সি চাইলে তারা সরবরাহকারীর তালিকা ও সরবরাহ তথ্য প্রদান করতে পারে। অনলাইনশপ শুধুমাত্র তার অর্জিত কমিশন এর উপর ৫% ভ্যাট প্রদান করতে পারে।

যৌক্তিকতা: সরবরাহকারীর ভ্যাট চালান প্রদর্শনের তথ্য প্রদর্শনের শর্ত বাস্তব সম্মত নয়।

৯. ফুড ডেলিভারী সেবার উপর ভ্যাট ৫% করা

প্রস্তাব: বর্তমানে রেস্টুরেন্ট ও বাসার তৈরী খাবার ই-কমার্সের বিক্রির ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এখানে খাদ্যমূল্য ও ডেলিভারী চার্জ এর ক্ষেত্রে বর্তমান ১৫% ভ্যাট কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব করছি।

যৌক্তিকতা: এই ক্ষেত্রে যেহেতু ক্রেতা সাধারণকে ডেলিভারী চার্জ দিতে হয়। তাতে পণ্যমূল্যের ছাপ ক্রেতার উপর পড়ে।

১০. ফেসবুকে এড দেয়ার ক্ষেত্রে ডাবল ভ্যাটিং

প্রস্তাব: বর্তমানে ফেসবুকে এড দেয়ার ক্ষেত্রে যে ডাবল ভ্যাটিং মানে প্রথমে ১৫% পেরে আবার ১৫% মোট ৩০% ভ্যাট রয়েছে। তা প্রত্যাহার করে শুধু ১৫% ভ্যাট আদায় করা হোক।

যৌক্তিকতা: এভাবে ডাবল ভ্যাটিং এর কারণে বিজ্ঞাপন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এতে করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা ব্যবসাকে লাভজনক পর্যায়ে নেয়ার পথে এটি একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।

192 total views, 2 views today

Comments

comments