সোস্যাল ট্যুরিজম ও অনলাইনের ভূমিকা

69
কক্সবাজার

বাংলাদেশে সোস্যাল ট্যুরিজম

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বর্তমানে আমাদের দেশে স্থানীয় পর্যটন খুব জমজমাট হলেও বিদেশী পর্যটক তেমন একটা আসছেনা। আগে যা আসতো তার চেয়েও কমে গেছে এখন। বছরে চার লাগের মতো পর্যটক আসলেও এদের মধ্যে ৭০ ভাগ নাকি প্রবাসী। বাকি ৩০ ভাগ বিদেশী। তারমধ্যে কতজন পর্যটক আর কতজন ব্যবসায়িক কাজে আসে তা আলাদা করলে চিত্র হয়তো ভয়াবহ হবে।

আমরা পর্যটনে আগাচ্ছি। কিন্তু সেই অগ্রগতি কি পর্যায়ের তা বিশ্লেষন করে তারপর বলা উচিত আমরা কোথায় আছি। ভিয়েতনামে ২০০০ সালের দিকে আমাদের মতই পর্যটক আসতো এই বছরে ২ লাখের মতো গত বছর ভিয়েতনামে এক কোটির বেশী পর্যটক এসেছে আর আমাদের এসেছে চার লাখ। এবার আমার উন্নতিটা বুঝতে সহজ হবে আশা করি।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো বিদেশী পর্যটক আনার জন্য ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া যে পরিমাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে আমরা তার একশ ভাগের একভাগও করিনি। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। গত বছর ভিয়েতনাম তাদের দেশে আসা এক কোটিতম পর্যটককে চিহ্নিত করেছে এবং এককোটি একতম বা দ্বিতীয় কোটির প্রথম ট্যুরিস্টকেও চিহ্নিত করেছে তারপর তারা এই ২ পর্যটককে জাতীয়ভাবে সংবর্ধনাসহ আরো নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। এই ছোট একটি উদ্যোগ থেকে সহজে অনুমান করা যায় যে, আমাদের এখানে আসলে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা। দেশে মধ্যে প্রচারণা বিভিন্ন ইভেন্ট এসব বিস্তর হয়েছে। কিন্তু বিদেশী পর্যটক না আসলে দেশের অর্থনীতি মজবুততো হবে না।

যদি আমরা ব্যয়বহুল ক্যাবল কার বা আরো নানা বিশাল আয়োজন করতে না পারি। তাহলে ছোট ছোট কাজতো করতে পারি।

১. আমরা আমাদের পর্যটনকে প্রতিটি বিভাগে আলাদা করে দিতে পারি তাতে তারা প্রতিযোগিতামুলক ভাবে পর্যটনের উন্নতি করবে।

২. প্রতিটি জেলার একটি আইকন ঠিক করতে পারি। সেটা পশু, পাখি, খাদ্য, স্থাপনা, প্রকৃতি কিংবা কোনো ঐতিহাসিক স্থান হতে পারে। সে জেলার প্রবেশ পথে সে আইকণ দিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পারি।

৩. আমরা কমুউনিটি ট্যূরিজম ধারনাটা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারি যাতে করে স্থানীয় লোকেরা সম্পৃক্ত হয়ে পর্যটনের উন্নয়নে অবদান রাখে।

৪. আমরা সামাজিক পর্যটন ধারণাগুলোকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারি। এবং ওয়েলফেয়ার ট্যুরিজমকে প্রমোট করতে পারি।

৫. আমরা গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনকে সামনে রেখে নানা কাজ করতে পারি। প্যাকেজ তৈরী করতে পারি।

ইতোমধ্যে সামাজিক ওয়েলফেয়ার ট্যুরিজমের শুভ সুচনা হয়েছে। গত ১৮ ও ১৯ মে ভলানটিয়ার বাংলাদেশ এর একটি দল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে গিয়ে সেখানকার মানুষদের ব্লাড গ্রুপিং এর আয়োজন করেছে এবং দ্বীপে পরিচ্চন্নতা অভিযান চালিয়েছে। সামাজিক ট্যুরিজমকে কার্যকর করা মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারি যেমন করে রেসপন্সসিবল ট্যুরিজম ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের কেরালা রাজ্য তাদের ট্যুরিজমে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে।

 

অনলাইনের ভূমিকা:

বাংলাদেশে প্রচুর পরিমানে মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট এবং ফেসবুক ব্যবহার করে। এর দ্বারা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কমিউনিটি ট্যুরিজম সেবা চালু করে তার সাথে সারা বিশ্বের এবং বাংলাদেশের ভ্রমণপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করা যায়। ফেসবুক পেজ ওয়েব সাইট, ব্লগ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পক্রিয়াকে সহজ হরে দিয়েছে। সাথে রয়েছে ভাইবার, ইমু, হোয়াটস এ্যাপ এবং ইউটিউব।

আপনি আপনার সামাজিক পর্যটনের উদ্যোগ আপনার এলাকা থেকে নিতে পারেন। রাখতে পারেন ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ। আপনার এলাকার উপর সুন্দর একটি ভিডিও করে বাংলা ইংরেজীতে সেটা ছড়িয়ে দিতে পারেন ইন্টারনেটে। এমনি ছবি ও ব্লগ ট্যুুরিস্ট টেস্টিমুনিয়াল ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক পর্যটনকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারেন।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *