সম্ভানার আরেক দিগন্ত: ই কমার্সে লোকজ পন্য

661

সম্ভানার আরেক দিগন্ত: ই কমার্সে লোকজ পন্য

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

আমি নিজে দেশীয় সংস্কৃতি দেশীয় ঐতিহ্য দেশীয় পন্য পছন্দ করি বিধায় যারা এসব নিয়ে কাজ করেন তাদের প্রতি আমার দূর্বলতা রয়েছে। সে কারণে আজ ই ক্যাবের মধ্যে বা নতুন ই কমার্স  উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা দেশী পন্য নিয়ে ব্যবসা করেন। তাদের কয়েকজনকে নিয়ে  এই লেখা।

 

অদম্য লড়াকু মনোভাব নিয়ে ইফাত শারমিন তার কজে করে যাচ্ছেন। তিনি যেমনি নিবেদিত তেমনি পরিশ্রমী তার নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা এবং লেগে থাকার মানষিকতা তাকে ধীরে ধীরে আগুয়ান করছে। তিনি নিজে রুপগঞ্জের গ্রামে গ্রামে তাতীদের বাড়ী বাড়ী যান নিজহাতে দেখে শুনে বুঝে পন্য কিনেন। এটাই তার ইতিবাচক দিক। তিনি অনেক দেখে শুনে জামদানী শাড়ি সংগ্রহ করেন। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জামদানি ভিল’। তিনি আমাদের এখানকার তরুনদের পথপ্রদর্শক হতে পারেন কারণ তিনি পরীক্ষা করে দেখার জন্য বা সময় কাটাবার জন্য ব্যবসা করেন না। তিনি যা করেন তা ব্রত হিসেবেই করেন। তার ক্লায়েন্টদের কাছে তিনি সুনাম সুরক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন। তিনি ব্যবসায়িক ব্যাপারে সবচে বেশী সহযোগিতা পেয়েছেন ই ক্যাব থেকে। এজন্য ই ক্যাবের যেকোন প্রোগ্রামে তিনি ছুটে আসেন। JamdaniVille

11200622_826035360819049_1975572951248628794_n

তিনি বলেন, হঠাত একদিন নজরে এলো আমাদের জামদানি গুলো নিয়ে তেমন কোন সাইট নেই, যেখান থেকে প্রবাসীরা জামদানি কিনতে পারেন। তাই এই কাজটা আমি করবো বলে মাঠে নেমে গেলাম। ‘জামদানি ভিল’ এর ডোমেইন কিনে শুরু হয়ে গেলো রুপগঞ্জ, সোনারগাঁ এর জামদানি কারিগরদের বাড়ি বাড়ি ঘুরা, তাদের সাথে কথা বলা, তাদের হাতের নৈপুণ্য দেখা। আমি হয়ে গেলাম তাঁদেরই একজন।
কিন্তু ব্যবসাটা শুরু করার সাহস পাচ্ছিলাম না। ঠিক তখনই পরিচয় হয় ই-ক্যাব এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ ভাইয়ার সাথে। ভাইয়া আমাকে খুব উতসাহ দিচ্ছিলেন, এগিয়ে যাবার সাহস যোগাচ্ছিলেন। ই-ক্যাব এর গ্রুপের পোস্ট গুলো খুব মন দিয়ে পড়তাম। শুরু হয়ে গেল ব্যবসা ক্ষেত্রে একটু একটু করে আমার পথ চলা।

নারায়ন গঞ্জের আমু আহমেদ মানসুর তার স্ত্রী ইমু খাদিজা আখতারকে নিয়ে করছেন এই ব্যবসা। জামদানি, বাঙ্গালীর ঐতিহ্য,আমাদের গর্ব। কিন্তু দিন দিন এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। আর তাই তাঁতিরা এখন পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যদি ও জামদানি শাড়ির কদর শুধু মাত্র দেশ জুড়েই নয় সারা বিশ্ব জুড়ে রয়েছে যেখানেই বাঙ্গালী রয়েছেন। আর তাই নিজ উদ্যোগে জামদানি নিয়ে কিছু করার উদ্দেশ্যে “জামদানি মেলা”র যাত্রা শুরু । বিদেশী সংস্কৃতির প্রভাবে আমরা আমাদের এই জামদানি কে আজ প্রায় ভুলতে বসেছি কিন্তু আমাদের আশে পাশের দেশগুলোতে জামদানির কদর দিন দিন বাড়ছে। নতুন করে জামদানির যৌলুশ ফিরিয়ে আনাই উদ্দেশ্য।

11147247_705065939639788_2617471023612182901_n

“জামদানি মেলা”র উদ্দেশ্য দেশ ও দেশের বাইরের সব বাঙ্গালীর কাছে,তাঁতিদের নিজ হাতে বোনা জামদানির কদর বাড়িয়ে তোলা। এতে তাঁতিরা যেমন বেঁচে উঠবে তেমনি নতুন তাঁতিরাও আগ্রহ পাবেন এবং এই পেশায় নিয়োজিত হবেন। সেই সপ্ন নিয়ে আমাদের পথচলা।  তার নিজের রয়েছে নিজস্ব পোডাক্টস কালেকশন নেটওয়ার্ক। যেকোন পরিমাণ পন্য তিনি যেকোন সময় সরবরাহ তরতে পারবেন। এটা তার সবচে উল্লেখযোগ্য দিক। jamdanimela.bd, তিনিও নিজের ব্যবসা পন্য এবং মান সম্পর্কে বেশ সচেতন। লেগে থাকা যাকে বলে সেই মানষিকতা নিয়েই তিনি ব্যবসা করেন। ব্যবসা সম্পর্কে  জানতে নিয়মিত ই ক্যাবের সাথে যোগাযোগ রাখেন। তার চোখ থাকে ব্যবসা সম্পর্ কে লেখা ই ক্যাব ব্লগের লেখাগুলোর উপরও। মোটকথা একজন সচেতন ব্যবসায়ীর গুনাবলী রয়েছে তারমধ্যে। এবং কাস্টমারের ভালোমন্দ বিবেচনায় রাখেন সবসময়।

 

11118053_1584033698522947_2770186949261287745_n

র্যটন শহর কক্সবাজারে সারাবছরই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক ঘুরতে যান। ফেরার সময় সঙ্গে নিয়ে ফিরেন কক্সবাজারের শুটকি মাছ, বার্মিজ আচারসহ হরেক রকমের প্রসাধনী। যা কক্সবাজার ছাড়া পাওয়া দুষ্কর। দ্বিতীয় বার চাইলেও সেই পণ্য গুলো কক্সবাজার ছাড়া আর বাংলাদেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না। কক্সবাজার ইশপ সেই সব পণ্য গুলো বাংলাদেশের আনাচে-কানাকে পৌছে দিচ্ছে স্বপ্ন সময়ের মধ্যে। বিষ ও ক্যামিক্যাল মুক্ত সামুদ্রিক শুটকি, ফরমালিন মুক্ত সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও আচার, চকলেট, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, আদিবাসী ও রাখাইনদের তৈরী ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও শামুক-ঝিনুকের তৈরি বিভিন্ন শোপিস অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারী দেন লিটন দেবনাথ তার কক্সবাজার ই-শপ.কম (www.coxsbazareshop.com) এর মাধ্যমে । সম্প্রতি লিটন ভাই চা্করী খুজবো না চাকরী দেবো এর পক্ষ থেকে দেশ সেরা ২৩ জন উদ্য্যোক্তার মাঝে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলো।

11148321_854201807971997_3368581973748639408_n

 

দেশীয় পিঠা নিয়ে একটি চমৎকার উপস্থাপনা নিয়ে এসেছে ঐতিহ্য্যের স্বাদ। সূদূর চট্টগ্রাম থেকে সুমি আপা তার ফেইসবুক পেইজের মাধ্য্যমে নিজের হাতের বানানো পিঠা ও বাঙালী খাবার সরবরাহ করছেন। শুকনো পিঠাগুলো যে কেউ চাইলে কুরিয়ারে অর্ডার দিয়ে নিতে পারেন। তার বানানো পিঠায় ১০০ ভাগ ঘরোয়া স্বাদ রয়েছে। তিনি এমন কিছু পিঠা বানান যেগুলো কোন ক্ষেত্রে প্রচলন বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও তিনি কিছু ফাস্ট ফুডও ডেলিভারী করে থাকেন। কিন্তু তার মূল পরিচয় দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য তাকে আমরা স্যালুট করি। খুব স্বচ্চল পরিবারের গৃহিনী হয়েও তিনি নিজের আইডেন্টিটি, সৃজণশীলতা এবং দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির ধারক হিসেবে কাজ করছেন এজন্য আমি তাকে বেশী উৎসাহিত করি। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানী মাংশ তিনি খুব ভালো রাধতে পারেন। তিনি পিঠাশীল্পে সৃজণশীলতার একটা মাত্রা যোগ করেছেন। দেশে প্রচলিত প্রায় সব পিঠাই তিনি বানাতে পারেন। রান্না আচার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।oitijjershadh.ctg

তিনি বলেন, রান্না একটা শিলপ আর আমি এই শিলপটাকে খুব ভালবাসি।আর ভালবাসি আমাদের ঐতিহ্যকে।আমি মূলত আমার বাচ্চাদের ফাষটফুড আশক্তি দেখে,তারা মনে করে খাওয়া বলতে শুধু বুঝে পিৎজা,বার্গার,কে এফ,সি।আমি মনে করি এটা আমাদের ব্যর্থতা আমরা তাদের পরিচিত করাতে ব্যর্থ হয়েছি আমার সোনার বাংলার সোনা ঝরা ধান মাড়িয়ে নববানেনর উৎসব হতো, তৈরী হতো হরেক রকম পিঠা পুলি।যে সবাদ অতুলনীয়।তখন থেকে আমি নিজে পিঠা,পুলি বানানো শিখতে শুরু করি।এ ভাবে দেখি সবপেনর ঝুড়িটা পূর্ণ হতে শুরু করল আমার ভালবাসা আর চেষটায়।ঐত্যিহের সবাদ আপাতত কোন দোকান নয়। হোম মেইড প্রতিষঠান,আমি বাসায় খুব যতন করে product gulo তৈরী করি এবং বিভিনন জায়গায় sellকরি। অনেকে ফোনে অর্ডার করে।তবে সে দিনটার সবপন দেখি ভীষন রকম ঐত্যিহের সবাদকে শুধু বাংলাদেশের মানুষ না,পুরো পৃথিবীর মানুষ ঐত্যিহের সবাদের মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যকে চিনবে জানবে।

কুমিল্লার আরিফ নামে এক উদ্যোমী তরুন কুমিল্লার রসমালাই ও পেড়ার সাথে শীতের পিঠাও ডেলিভারী দিয়ে থাকেন।

 

11229310_1442068586108281_4092942138054026102_n

টাঙ্গাইল থেকে টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে কাজ করছেন গোপিনাথ দত্তসহ তাদের একটি টিম। আঙ্গিক মূলত এ মুহূর্তএ শাড়ি নিয়ে কাজ করছে। টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে অনলাইন ব্যবসার কয়েকজন উদ্যোক্তা বলতে পারেন। স্থায়ীভাবে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির অনলাইন মার্কটে টিকে থাকবে রিসোর্গুলো ব্যবহার করে এ চেতনা থেকেই তারা ব্যবসাটা শুরু করেছেন। । ব্যাপকভাবে পবালিক প্রমোশন করে তারা দেশের টা্ঙাগাইল শাড়ির বাজারটা ধরে একে জনগনের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চান।  তাদের একটা সুবিধা হলো যেহেতু তারা শুধু টা্ঙাগাইল শাড়ি নিয়ে কাজ করছেন সেজন্য   ধারণাগত দিক থেকেও এগিয়ে তো বটেই, দেশীয় শিল্পের বিকাশেও তাদের উদ্যোগ প্রশংশনীয় ।  তারা দেশীয় ঐতিহ্যের আলোকে স্থানীয় পন্য দেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন। তাদের মূল থিম হলো অনেক সময়ে শপিং সেন্টারগুলোতে টাঙ্গাইল শাড়ির প্রচুর দাম নিয়ে থাকে। কিন্তু তারা যুক্তিসঙ্গত দামে টাঙ্গাইল শাড়ি মানুষের কাছে পৌছে দিতে কাজ করতে চান। আরিফ নামে আরো কয়েকজন তরুন ইলিশবাজার নামে একটি শপ খুলছেন? দেশীয় মিস্টি নিয়ে ইয়াছিন ভাইয়ের একটি অনলাইন মিস্টি দোকান আসছে। আছে সুইট এক্সপ্রেস নামে ফেইসবুকে আরো একটা মিস্টিশপ।সুইট এক্সপ্রেস এর টা্রগেট খেজুরের তরল রস দেশের বিভিন্ন এলাকার মিস্টি মরবরাহ করা। https://www.facebook.com/angikbd?fref=ts

 

 

 

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *