ব্যবসায়িক সিজন: রমযান ও ঈদ
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

যারা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আর ভালো মোকামে দোকান নিয়েছেন রমযান আর ঈদ আসলে তারা কোমর বেঁধে নামেন অতীতের মত লাভের পাল্লা ভারী করতে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ফন্দি আটেন কিভাবে একটা বড়ো দাও মারা যাবে, অযাচিত দাম বাড়িয়ে। নতুন ব্যবসায়ীরা থাকেন উত্তেজনায়- না জানি এবার সিজনে কি একটা ভালো কিছু হয়ে যায়। আর যারা ঠিক সময় মতো যোগাড় যন্ত্র করতে পারেন না অথবা পঁুজির জন্য শপে মাল তুলতে পারেন না তারা আফসোসের আগুনে পুড়ে মরেন।
এই মুহুর্তে বাংলাদেশের পেক্ষাপটে যারা ছোট ছোট ই কমার্স উদ্যোক্তা রয়েছেন তারা আছেন বেশকয়েকটি টেনশনে বা দ্ধিধাদ্ধন্ধে।

1779875_523072384475811_941449024_n
টেনশন 01: এবার ঈদে কোন মাল বেচবো কোনটা বেশী চলবে?
টেনশন 02: বেশকিছু পন্য বেচলে ভালো হতো একেকটা কয়েকশ পিছ বেছলেতো বিশাল ব্যবসা, আবার একটা পন্য বেচলেওতো চলে যদি সেটা মার্কেট পায়, এখন কোনটা করবো?
টেনশন 03: পন্যকি স্টক করবো না কি আবার পরে ভালো মাল পাওয়া যাবেনা
টেনশন 04: কতো টাকার পন্য কিনবো? বেশী কিনলেতো আবার থেকে যাবে, পরে কি 1 বছর অপেক্ষা করবো নাকি?
টেনশন ৫: এখন পন্যের প্রমোশন করা দরকার, কোথায় কিভাবে করবো?
টেনশন 01: এবার ঈদে কোন মাল বেচবো কোনটা বেশী চলবে?

তাহলে আসুন দেখি কি করা যায় এই মাহেন্দ্রক্ষনে, প্রথমে রমযান
1. ফল, জি ভাই, আমও লিচু মানের এবং পরিমানের নিশ্চিয়তা দিয়ে সঠিক প্যাকিং করে ফল বেচতে পারেন। ইফতার ও শরবতে এবার রমযান জুড়ে ফলের একটা প্রাধান্য থাকবে। যদি প্রচারণা শুরু করুন যেন সবাই সারাদিন খালিপেটে থেকে সন্ধায় জ্বালাও পোড়াও খেতে উৎসাহী না হয়
২. ইফতারের জন্য দেশী বিদেশী জুস পাউডার আকারে পাওয়া যায় ট্যাং এর মতো এগুলো অনেক কিছুই অনেক জায়গায় পাওয়া যা্য়না, থাইল্যান্ডের ম্যাঙ্গো, ফ্রান্সের পাপাইয়া ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন হরেক স্বাদের শরবতের পাউডার রয়েছে। বেচতে পারেন ইউনিভার্সাল টেস্টিকোলা চিনি গুড় ছাড়াই সুন্দর শরবত (টেস্টিস্যালাইন আর টেস্টিকোলা আলাদা পন্য) এটাও সব জায়গায় মেলেনা।
3. রমযানে ইসলামী বই, জায়নামায, টুপি, তসবি, আতর, কোরআন, অজিফা, হিজাব বিক্রি হয়। এসেবের একটা প্যাকেজ বানালে কেমন হয় 1000 টাকার মধ্যে। লোকে একে অন্যকে গিফট করবে।
4. ইফতারের নতুন কোন আইটেম বা রেসিফি নিয়ে আসতে পারেন।
৫. রমযানে যেহেতু লোকেরা একটু ক্লান্ত থাকে সেজন্য বাইরে বেরুতে চাইবে কম তাই যেকোন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বিক্রির সম্ভাবনা থাকেই।
৬. প্রচন্ড গরমে কারেন্ট চলে গেলে তারাবি পড়া কস্টকর হবে। তাই বেচতে পারেন চার্জার ফ্যান। হ্যা বিজ্ঞাপন দেয়ার সময় তারাবির নামাযের সময় কারেন্ট চলে যেতে পারে এই গরমে তাই আপনার মা বাবার জন্য উপহার দিন চার্জার ফ্যান এ ধরনের কিছু একটা লিখতে পারেন।
7. ইসলামী কিছু প্রাযুক্তিক পন্য রয়েছে, যেমন ডিজিটাল কোরআন কোরআনের গায়ে কলম ধরলেই কলম নিজেই কোরআন পড়তে শুরু করে, রয়েছে ডিজিটাল তসবি, রয়েছে পকেট জায়নামায, রয়েছে কোরআন হাদীসের ডিজাটাল ভার্সণ সিডি ও সফটওয়ার, রয়েছে পিস মোবাইল ও ইসলামী ঘড়ি। দেখতে পারেন এগুলোর চাহিদা কেমন?
কি পন্য বেচা যায় এই সামনের ও ঈদে
১. ঈদের চীরাচরিত পোষাক আশাক জামা জুতো এসবতো চলবেই, তাই তাক লাগানো কোন ডিজাইন আপনি যদি কাস্টামরের ঘরে পৌছে দিতে পারেন মন্দ কি?
শাড়ীর ক্ষেত্রে নতুনত্ব এর কথা মাথায় রাখুন, পাঞ্জাবীর ক্ষেত্রে বনেদিয়ানা ও নতুন প্রজন্মের রুচির কথা ভাবুন, মেয়েদের জামার ক্ষেত্রে কি আর করা হিন্দি সিনেমা আর সিরিয়ালের সুন্দর পোষাকটি বেচে নিন। বাচ্চাদের জামায় ফিউশন করার চেস্টা করুন। জুতার ক্ষেত্রে বিদেশী ডিজাইন এর মতো বানাতে বা সংগ্রহ করতে চেষ্টা করুন।
২. সেমাই সুজির আস্ত একটা প্যাকেজ অফার করুন। অথবা আপনার শপে একটা তালিকা ধরিয়ে দেন যেখানে আইটেম ও ব্যান্ডের নামের পাশে দাম লেখা থাকবে আর কাস্টমার পরিমান লেখার সাথে সাথে টাকার ঘরে মোট দাম উঠে যাবে।তালিকা পূর্ণ হলে সর্বমোট দাম ঠিক করে পুরো প্যাকেট বাসায় পাঠিয়ে দিন। নতুন আেইডিয়া বাজার না বুঝে অনেকগুলো স্টক করবেন না।
৩. যারা জামদানী বা গতানুগতিক জিনিস বেচেন যেখানে নতুত্বের সুযোগ কম তারা বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ ঘোষনা করতে পারেন। যেমন তিনটি শাড়ির একটা প্যাকেজ, অথবা শাড়ি পাঞ্জাবির এক সেট ইত্যাদি।
4. যারা লোকজ পন্য বেচেন তারা একে নতুন ভাবে উপস্থান করতে পারেন। যেমন নতুন একটা পিঠা, নতুন ধরনের পায়েস এসব তুলে আনতে পারেন। বাজারজাত করতে পারেন, পায়েসমিক্স, কিংবা বিরিয়ানী মিক্স মসলাও।
5. যারা পাঞ্জাবী বেচবেন তারা মূলত তিনটি জিনিস খেয়াল রাখবেন আপনার পাঞ্জাবীর মান, দাম ও সৌন্দর্য। আর ঢাকা শহরে যদি এ ধরনের অপশন দিতে পারেন। যে আপনি 1টি পাঞ্জাবী নিতে চাইলে আমাদের ডেলিভারীম্যান কমপক্ষে 3টি আপনার জন্য নেবে, সেখান থেকে আপনি যেকোন একটি কিনুন। এখন আমাদের জানান যে কোন তিনটি আপনার জন্য আনবো। এই টাইপের সুযোগ থাকতে পারে।
6. বিভিন্ন গিফটসামগ্রীর কথা ভুলে যাবেন না।
৭. ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যূর করার কথাও ভাবুন।
টেনশন 02: বেশকিছু পন্য বেচলে ভালো হতো একেকটা কয়েকশ পিছ বেছলেতো বিশাল ব্যবসা, আবার একটা পন্য বেচলেওতো চলে যদি সেটা মার্কেট পায়, এখন কোনটা করবো?
এটা সিজনাল ব্যবসার মতো এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে।
1. যে পন্যগুলো অন্য সময় বিক্রি হওয়ার চান্স নেই। সেগুলো খুব বেশী স্টক করবেন না। আপনার যদি মনে হয়ে আগামী দেড় মাসে অর্থাত শবেবরাত থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত আপনি 150 পিস গ্রামীন চেকের পাঞ্জাবী বিক্রি করতে পারবেন। তো আপনি স্টক করবেন 30 পিস বা 5 ভাগের এক ভাগ, যদি দরকার হয় পরে নিশ্চ্য় পাবেন। সবচে ভালো হয় আপনি আন্দাজে 7 দিনের পন্য এনে রাখলে।
2. যে পন্যগুলো সবাই বেচে সেগুলোর ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।
৩. কিছু পোস্ট বা বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজারের হাবভাব বুঝে পন্য কিনুন।
৪. একই আইটেমের পন্য বেচবেন নাকি একাধিক আইটেমের পন্য বেচবেন সেটা ঠিক করুন নিচের কথাগুলো ভেবে-ক. আপনার বিনিয়োগ করার সামর্থ, খ. বাজারের চাহিদা, গ. পন্যের সহজলভ্যতা, ঘ. পন্যটি সম্পর্কে আপনার ধারণা, ঙ. প্রতিটি পন্য প্রমোশন করার জন্য আপনার আর্থিক ও প্রাযক্তিক যোগ্যতা।
5. আর যদি একটা পন্যই বেচেন তবে তার পিছে আটঘাট বেঁধেই নামুন।
6. একই পন্যের ভিতরে নানা ভেরিয়েশন এনে সেটা তুলে ধরে মার্কেটিং করতে পারেন।
7. একটা দিয়ে শুরু করে আস্তে আস্তে নতুন আইটেম এড করতে পারেন।

টেনশন 03: পন্যকি স্টক করবো না কি আবার পরে ভালো মাল পাওয়া যাবেনা
টেনশন 04: কতো টাকার পন্য কিনবো? বেশী কিনলেতো আবার থেকে যাবে, পরে কি 1 বছর অপেক্ষা করবো নাকি?

1. আপনার ধারনার চেয়ে কম স্টক করুন।
2. আপনি যতটাকার পন্য স্টক করবেন বলে স্থির করেছেন, প্রথমবারেই সব টাকার পন্য স্টক করবেন না। অন্তত 30 শতাংশ টাকা হাতে রাখুন। পরে কিছু ভালো আইটেম আসতে পারে।
3. আপনি যদি পুরনো ব্যবসায়ী হোন, আপনার সে মাপের আত্মবিশ্বাস থাকে যদি দেখেন একটি পন্য আজকে পর্যাপ্ত না কিনলে পরে আর পাওয়া যাবেনা। তখন সেটি আপনি পর্যাপত সংখ্যক কিনতে পারেন।
4. মনে রাখবেন সিজনে পন্য অনেকসময় বেশী দামে কিনতে হয়। আপসি হয়তো সব পন্য ঈদের আগে নাও বেচতে পারেন। তাই দাম বেশী নিচ্ছে কিনা যাচাই করে কিনুন।
5. যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে বুঝতে পারেন কোন পন্য থেকে যেতে পারে তখন তা পাইকারী হারে অন্যের কাছে বেচে দিন, বা অন্যদের শপে তুলে দিয়ে বেচার চেস্টা করুন।
6. 15 রমযানের পর নতুন পন্য কিনতে সতর্ক হোন। তখন থেকে নতুন বিনিয়োগ কমিয়ে টাকা ক্যাশ করা শুরু করুন। বাকীতে পন্য কিনলে তাদের জন্য টাকা তুলে রাখুন।
7. কোন মাল কাস্টমার পছন্দ কম করছে এরকম বুঝলে 20 রমযানের পরে দাম কমিয়ে ছেড়ে দিন।

বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা উন্নত প্রমোশন প্লান ইত্যাদি থাকলে এই রমযানেই আপনি আপনার শপটা জমিয়ে তুলতে পারেন। অনলাইনে। আপনাদের ৫টি টেনশনের মধ্য থেকে চারটির ব্যাপারে আইডিয়া শেয়ার করলাম? পঞ্চমটি মানে
টেনশন ৫: এখন পন্যের প্রমোশন করা দরকার, কোথায় কিভাবে করবো? এই ব্যাপারে আলাদা পোস্ট দিতে চাই। বড়ো লেখা লিখে আপনাদের বিরক্তির কারণ হতে চাই না।

1,404 total views, 8 views today

Comments

comments