মার্চেন্টরা তাদের শিপিং এজেন্টকে যেসব ঝামেলায় ফেলে থাকেন

319

মার্চেন্টরা তাদের শিপিং এজেন্টকে যেসব ঝামেলায় ফেলে থাকেন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

আগে একটি লেখায় শিপিং কোম্পানীর ব্যাপারে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে তা উল্লেখ করেছি। এর মধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অন্য বিষয় নিয়ে কয়েকটা লেখা পোস্ট করেছি আবার কিছুটা সময় স্বল্পতাও ছিলো। যাই হোক আবার ফিরে আসলাম সম্পূরক একটা বিষয় নিয়ে। ডেলিভারী কোম্পানী বা কুরিয়ার সার্ভিস এর বদনামের পর বেশকিছু ভালো ভালো কোম্পানী উঠে এসেছে। কিন্তু তাতে কি সমস্যার সমাধান হয়েছে। তা হয়নি। বরং কিছু কিছু মার্চেন্ট বিশেষ করে অপেশাদার, ব্যবসায় সম্পর্কে ধারণাবিহীন কিছু লোক এফ-কমার্স ও ই-কমার্সে এসে বুঝে এবং না বুঝে এমন কিছু ঝামেলা তৈরী করছে যাতে প্রতিনিয়ত কাস্টমার এবং পন্য ডেলিভারী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিরক্ত হচ্ছে। এতে তাদের ভালো সেবাদানের প্রক্রিয়াটাও অনেক ক্ষেত্রে বিঘ্নিত হচ্ছে। আসুন আজ সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হোক।

 

অপেশাদারিত্বের কারণে যেসব সমস্যা হচ্ছে

কিছু উদ্যোক্তা ব্যবসাটাকে খুবই হেলাফেলার চোখে দেখেন। একজন উদ্যোক্তার কাছে ব্যবসায় হলো ইবাদাত এর মতো। কোনো রকমে একটা পন্য সেল করা আর লাভের টাকা পকেটে ঢোকানোর নাম ব্যবসায় নয়। সেরকম ইচ্ছে হলে ব্যবসায় না হয়ে ‘‘কাবুলিওয়ালা’’ হওয়া অনেক ভালো। প্রথমত তারা যে ভুলটা করেন সেটা হলো কোনো একটা অর্ডার পেলে পুরো ঠিকানা না নিয়ে কিংবা ঠিকানায় কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা তা না দেখে পন্য ডেলিভারী করেন। এতে করে শুধু যে পন্য খোয়া যায় কিংবা চুরি ছিনতাই হয় তা নয় বরং কখনো কখনো ডেলিভারী বয় এর প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।

তারা কোনোরকম একটা ব্যাগে পন্য সাপ্লাই দেন। আর কোনো সমস্যা হলে সব দোষ ডেলিভারী সেবাদাতার উপর ছাপিয়ে দেন। অনেক উদ্যোক্তা মেমো, বিল বা ইনভয়েস রাখেন না। সঠিকভাবে লেজার বা রেজিস্টার মেনটেন করেন না কেউ কেউ। ফলে টাকা পয়সার হিসেবে নিয়ে দেখা দেয়া ঝামেলা ও মতানৈক্য। নতুনরা বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান না হলে এই সেক্টরের উন্নতি শ্লথ হয়ে যাবে।

 

ব্যবসা না বোঝার কারনে যেসব সমস্যা

আজকাল ব্যবসা সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়ে একটি ফেসবুক খুলে কিছু পন্য নিয়ে বা না নিয়ে অনেকে ব্যবসায় শুরু করেন। ফলে এরা প্রতি পদে পদে নিজেরা সমস্যায় পড়েন অন্যকেও সমস্যায় ফেলেন। এরা প্রথম যে ভুলটা করেন সেটা হলো যেভাবে হোক পন্যটি বিক্রি করার চেষ্টা করেন কোম্পানীর সুনাম তৈরী করে আস্তে আস্তে বাজার বাড়ানোর বিষয়টি তারা বোঝেননা অথবা বুঝতে চাননা। ফলে কথায় ও কাজে কিছুটা অমিল হয়ে যায়। আর কাস্টমার সমস্ত রাগ কখনো কখনো ডেলিভারীম্যানের উপর ঝাড়েন। আবার কখনো কখনো কাস্টমারের অন্যায় আবদার রাখেন তিনবার টাইম বদলাম চারবার ডেলিভারীর সময় বদলান। আর এর কারণে একটি শিপিং কোম্পানীর দিনের নির্ধারিত শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায়।

 

মানসিক ছোটত্বের কারণে সমস্যা

আমাদের সমাজে যার যা হওয়ার কথা নয় সে যখন তা হয়ে যায় তখন সে আর নিজেকে নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারেনা। তার কথা কাজের সঙ্গতি ও স্বাভাবিকত্ব থাকেনা। এটা শুধু মার্চেন্ট নয় সমাজের সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ছোট ও ক্ষুদ্র মার্চেন্টরা এ ধরনের সমস্যা তৈরী করেন বলে লজিস্টিক সার্ভিস প্রোভাইডাররা বলে থাকেন। এই সমস্যা গুলো হলো- যেমন হয়তো ৫০০ টাকার একটা পন্য ডেলিভারী হলো আর এই টাকার জন্য মার্চেন্টকে দৈনিক ৪ বার কল দিচ্ছেন। আবার হয়তো দেখা গেল ৩০০ টাকার পেমেন্ট দিতে দেরী হলো সেজন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গালমন্দ করতে থাকেন। এগুলো মানসিক হীনমন্যতা। কেউ যদি তার পাওনা না দেয় নিশ্চয় সে কোনো সমস্যায় থাকতে পারে। ১০ হাজার টাকার জন্য একজনকে লোক পাঠানো যায়। ৫০০ টাকার জন্য নিশ্চয় কাউকে পাঠিয়ে পেমেন্ট দেয়া যায়না। ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে দিলেও ২০ টাকা খরচ হয়। একটা সময় অবশ্যই অপেক্ষা করা উচিত এবং অন্যের সমস্যা বোঝা উচিত। বিশেষ করে বিটুবি সমস্যা পাবলিক করা কোনো ভালো মানুষের কাজ নয় যদি তার সমাধানের অন্যকোনো পথ থাকে।

উদ্যোক্তাকে উদার হতে হয় এবং বড়মনের হতে হয় তা না হলে ঝুকি সামলাতে পারবেনা সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। লস মেনে নিতে পারবেন। তাই তার উদার না হয়ে উপায় নেই। তাই বলে কি লোকসান বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিবেন? মোটেও তা নয়। তাকে সব ব্যাপারে খুঁতে খুঁতে হতে হবে। তার অল্পতে সন্তুষ্ট হওয়া চলবেনা। সে তার পাওয়া সে টাকা হোক কিংবা কাজ হোক ষোলোআনা আদায় করে নিবে সেটা কৌশলে এবং সম্পর্ক  উন্নয়নের মাধ্যমে। কোনো ভাবেই প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে নয়।

 

অগোছালো হওয়ার কারণে সমস্যা

অনেক সময় কিছু উদ্যোক্তা ওয়ানম্যান আর্মি কিংবা অন্য কোনো কারণে অগোছালো হয়ে থাকেন। তারাও কিছু ভুল করেন যা লজিস্টিক সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এটা তারা ইচ্চাকৃতভাবে করেন না। যেমন কিপারকে বসিয়ে রাখা। কাস্টমারের অনুরোধে ডেলিভারী পার্সনকে ফোন দিয়ে বার বার যেতে বলা ইত্যাদি। কখনো কখনো ফোনো যোগাযোগের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এধরনের সমস্যায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আবার মূল দায়টা কাস্টমারের। কাস্টমার পন্য অর্ডার করার পর ফোন দিয়ে বিভিন্ন অপশন বদলান। আজ নয় কাল দেন, একটা নয় তিনটা দেন, লাল নয় হলুদ দেন, মতিঝিল নয় আদাবরে দেন, মার কাছে নয় চাচার কাছে দেন। ইত্যাদি নানা আব্দার। ফলে সমস্যা হয়। তবে যেসব ই-কমার্স কোম্পানী টেকনিক্যাল সলিউশন ব্যবহার করেন তারা এসব সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্ত থাকেন।

 

ইচ্চাকৃত সমস্যা

একেবারে গায়ে পড়ে সমস্যা তৈরী করার মতো ব্যাপার। সেটা হলো সঠিক পন্য না দেয়া। পন্যের মান ভালো না থাকা। সাইজ বা রং ঠিক না হওয়া এসব ক্ষেত্রে কিছু কিছু কাস্টমার ডেলিভারী দিতে যাওয়া লোকটার সাথে ছোটপাট করতে থাকেন। অবশ্য কাস্টমারের বোঝা উচিত এখানে ওই বেচারার কোনো হাত নেই। আর যখন কাস্টমার ডেলিভারী কোম্পানীকে অনুরোধ করেন ‘‘ভাই-আপনি একটু বলবেন যে প্রোডাক্ট সময়মত দেয়া হয়েছে কিন্তু আপনাদের ভুলের কারণে দেরী হয়েছে’’ তখন কি বলবেন? কিছু কিছু মার্চেন্ট ছোটখাটো কারণে এত নিচে নেমে যায় চিন্তাই করা যায়না।

 

অবশ্যই সব ব্যবসায়ী এক নয়। পেশাদার এবং দক্ষ ব্যবসায়ীরাও আছেন। তা না হলে দেশের ব্যবসায়িক এবং প্রাইভেট সেক্টর কিভাবে উন্নতি লাভ করছে দিন দিন! আসলে এগুলো আমাদের সমাজের, আমাদের মানসিকতার সমস্যা। এগুলো নির্দিষ্ট সেক্টরের সমস্যা নয়। কিন্তু লেখার বিষয়বস্তুর কারণে এই লেখায় শুধু মার্চেন্টদের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মার্চেন্টরাও বাংলাদেশের মতো দেশে হাজারো সমস্যার মধ্যে কাজ করেন আমরাতো সেটার হয়তো অল্প কিছুই জানতে পারে।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.