মার্কেটিং এ যেভুলগুলো আমরা করে থাকি

1582

মার্কেটিং এ যে সূক্ষ্মভুলগুলো আমরা করে থাকি
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দেশের ই কমার্স সেক্টর প্রতিদিন বড় হচ্ছে। বাজার এবং ক্রেতা যতনা বাড়ছে উদ্যোক্তার সংখ্যা কিন্তু ঠিকই বাড়ছে। এর ফলে লাভের মুখ দেখছে হাতে গোনা কয়েকজন, তাও আবার আহামরি পর্যায়ের না। সারা পৃথিবীতেই উদ্যোক্তার একটা বিশাল অংশ ক্রমান্বয়ে ঝরে যায় তারা পরে চাকরীর সন্ধান করে। আবার অন্য জায়গা থেকে ঝরে এসে কেউবা উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হয়ে যায়। আমাদের এখানে অংকটা আরো বেশ জটিল আমরা বেশীরভাগ মানুষই ছাত্রজীবনে চাকরী করার স্বপ্ন নিয়ে বড়ো হই। পরে একসময় স্বপ্নটাকে মােইগ্রেট করি এবং ঘরে বসে পার্ট টাইম করা যায় এটা মনে করে ই কমার্স শুরু করি। তাও আবার ধরে নিই যে প্রথমদিন থেকেই লাভ শুরু হয়ে যাবে।
একদিকে একজন উদ্যোক্তার যে মেজাজ বা মানষিকতা সেটা আমাদের থাকে না, অন্যদিকে ব্যবসায়ের অনেক কিছুই বুঝি না ফলে আমরা ভুল আর ব্যর্থতার দায় নিয়ে একসময় নিজেকে গুটিয়ে ফেলি। আজকের আলোচনার বিষয় শুধুমাত্র প্রমোশনাল কাজকর্ম বা মার্কেটিং করার সময় আমরা এমন কি কি ভুল করি সেগুলো।

১. কাল্পনিক আত্মবিশ্বাস:
অন্য কোম্পানীর সেল দেখে আমরা ধরে নিই যে, আমিও যখন আমার কোম্পানীর প্রমোশন চালাবো তখনো ঠিক একইভাবে সেল আর সেল হতে থাকবে। আমরা একবারও ভেবে দেখিনা তাদের সেল এর কারণ কি শুধুই প্রমোশন নাকি তাদের ব্রান্ড ভ্যালুর সাথে প্রমোশন যুক্ত হওয়ার কারণে সেল হচ্ছে। নাকি তাদের পন্য কোয়ালিটিটাই আসল। মজার ব্যাপার হলো কখনো কখনো অন্যের প্রমোশন প্লান দেখে আমরাও অনুরুপ প্লান করে থাকি, সে কোম্পানী এ ধরনের প্রমোশনে কি ধরনের লাভবান হয়েছে তা তলিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করি না। এক্ষেত্রে অবশ্যই কাল্পনিক সুখ স্বপ্নের কোনো বেইল নাই। আমাদেরকে অবশ্যই ভোক্তার রুচি ও পছন্দ অনুসারে প্রমোশন প্লান সাজাতে হবে। আপনারা দেখে থাকবেন হুইল পাউডারের এড এ সবসময় মিডল ক্লাস ফ্যামিলি দেখানো হয় আর সার্ফ এক্সেল এর এড এ দেখানো হয়ে একটু উপরতলার মানুষদের।

 

২. নিজের রুচিটা চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা:

বেশীরভাগ ই কমার্স উদ্যোক্তা যেহেতু ওয়ানম্যান আর্মি তারা ছোটখাটো ডিজাইনের কাজ নিজেই করেন। অনেক সময় লোগোটাও নিজে ডিজাইন করেন। তখন তার কাছে কাজটার প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মে। তিনি মনে করেন এত কষ্ট করে জিনিসটা করলাম এটাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি তখন ভুলে যান যে, এই কনটেন্টএ কনজ্যুমার কতটা আকৃষ্ট হবে? আপনি নিজে করেন অনুবিধা নেই। তার আগে ঠিক একই ধরনের কাজের নমুণা গুগল বা আউটেউবে দেখে নিজেকে একটু আপডেট করে নিতে পারেন। এবং কাজটা করার পর্ পরিচিতি ২/১ জনকে দেখিয়ে তাদের মতামত নিতেও পারেন। তাতে অবশ্যই কাজটা মানের দিক থেকে একটু উন্নত হবে। আর আগে পরে অনেক রুচি ও চিন্তার সন্নিবেশ ঘটাতে পারলে সেটা অন্যের চোখে লাগার সম্ভাবনা তৈরী হয়।

৩. টার্গেট কাস্টমার ঠিক না করে মার্কেটিং কনটেন্ট তৈরী করা:
আমার পন্যটা কি? তার কনজ্যুমার কারা? তাদের রুচি কেমন? তারা কি কনটেন্ট প্রাধান্য দেয় নাকি দাম? তারা কি কোয়ালিটিই বড়ো মনে করে নাকি দামটাই বড়ো? বিজ্ঞাপন মানসম্পন্ন না হলে কি তাদের মনে কোনো বিরুপ ধারণা তৈরী হয়? তারা কি এড দেখে পন্য কিনে নাকি এড থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরে প্রয়োজন ও মত বিবেচনা করে পন্য কেনে? তারা কি এড ভালোভাবে দেখে নাকি দেখে না? তারা কি এড এর কনটেন্ট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায় নাকি দেখায় না। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ‘হাঁ’ হলে কত শতাংশ আর না ‘না’ হলে কত শতাংশ? আর আমি কি করেই বা জানবো কোন কনটেন্ট এর প্রতিক্রিয়া কেমন? ইত্যকার নানা ভাবনা ছাড়াই আমরা কনটেন্ট তৈরী করি বা এড বানাই। যে প্রশ্ন বা প্রতিক্রিয়াগুলো পরে দেখা দেবে সে সমস্যাগুলো অবশ্যই আগে সমাধান করে নেয়া প্রয়োজন।

৪. অনেকগুলো মেসেজ একসাথে দেয়ার চেষ্টা:
ছোট উদ্যোক্তাদের বাজেট কম থাকে। তাই তারা চিন্তা করেন কম টাকায় কিভাবে বেশী প্রচার করা যায়? এর সহজ পক্রিয়া হিসেবে তারা একই এডএ সেরা সব পন্যগুলোর বিজ্ঞাপন বা তথ্য দিয়ে থাকেন ফলে ভোক্তার নজর কোনোটার দিকেই ভালোভাবে পড়েনা বলে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এবং কাংখিত ফল লাভ থেকে বঞ্চিত হন বিজ্ঞাপন দাতা। এজন্য টার্গেট কাস্টমার অনুসারে যত কম পন্য বা সেবা বিশেষ করে একটি সেবার বা পন্যের এড এর জন্য একটি কনটেন্ট ব্যবহার করা উত্তম।

৫. কপি পেস্ট করার মানসিকতা:
এই মানষিকতায় আমরা রীতিমত জর্জরিত। বিশেষ করে বিভিন্ন থিম ভিত্তিক ছবিতো পেষ্ট করিই। অনেক সময় অন্যের বিজ্ঞাপন স্লোগান এমনকি লোগোটাও একটু এদিক সেদিক করে কপি করতে দেখা যায়। মনে রাখবেন কপি করার মাধ্যমে আপনার দূর্বলতা এবং আপনার ছোটত্বই প্রকাশ পাচ্চে। ভোক্তাদের কাছে এই ব্যাপারটা একটা মেসেজ দেয় আর সেটা হলো আপনার নিজস্বতা বলে কিছু নেই। নেহায়েত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড বা থিমেটিক ইমেজ ইন্টারনেট থেকে নেয়ার প্রয়োজন হলে সেটা একবার গুগল সার্চ এ দিয়ে দেখে নিতে পারেন। এবং অবশ্যই দেশীয় কোনো কোম্পানী ইতিপেূর্বে ব্যবহার করেছে কিনা তা দেখে নিন। চেষ্টা করুন আনকমন এবং আপনার পন্যের সাথে বা আপনার টার্গেট কাস্টমারের সাথে যায় এমন একটা কিছু বেছে নিতে।

৬. কনটেন্ট এর কোয়ালিটির উদাসীনতা:
বেশীরভাগ সময় আমরা দেখি যে আমি যা বলতে চাই তা বলা হয়েছে কিনা? কিভাবে বলা হয়েছে সেটা আমরা খুব কম সময়ে দেখি। ফলে কোয়ালিটিটা সুদূর পরাহত হয়ে যায়। আর অন্যদিকে ভোক্তা সাধারণ মনে করে যাদের প্রমোশনাল কনটেন্ট এর কোয়ালিটি এত খারাপ তারা আবার পন্য ভালো দিবে কোত্থেকে। ফলে একটা ব্যাড ইমপ্রেশন বা খারাপ অবয়ব তৈরী হয় আমাদের পন্য বা ব্যবসায়কে ঘিরে এতেকরে আমরা কাংখিত ফল লাভে ব্যর্থ হই। কোয়ালিটির ব্যাপারে আপোষহীন হতে হবে, খুব ভালো ইমেজ না হলে সেটাকে আমরা সাদাকালো বা ২ কালারে এনে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারি। ভিডিওর ক্ষেত্রে কনটেন্ট টাকে একটা আলাদা ফ্রেমিং দিতে পারি। লেখা এডিট করে ভুল ত্রুটিমুক্ত করতে পারি।
৭. পন্য বিক্রি করার জন্য অস্থিরতা:
বেশীরভাগ সময় আমরা আমাদের পন্যের ইতিবাচক একটা ব্রান্ডিং তৈরীর কথা আমরা ভুলে যাই, কিভাবে পন্যটা বিক্রি হবে শুধু সেটাই মাথায় রাখি। অবচেতন মনেও আমরা অনেক সময় এরকম করে থাকি। আর যখন ক্রেতা বিষয়টা বুঝতে পারে তখন ক্রেতা আস্তে আস্তে পিছু হটে হয়তো মনে করে পন্যের কোনো সমস্যা রয়েছে নয়তো মনে করে দেখি আরো কম দামে পাওয়া যায় কিনা? ফলে শেষ পর্যন্ত আমরা একটা ইতিবাচক মেসেজ দিতেও ব্যর্থ হই এবং আরো বেশী ব্যর্থ হই পন্য বিক্রি করতে।
৮. বড়ো কোম্পানীর আইডিয়া ফলো করার ক্ষেত্রে ভুল করা:
এটা একটা কমন বিষয় আমরা বড়ো বড়ো কোম্পানীগুলোর এড ও আইডিয়া অনুসরণ করি। এটা খুবযে খারাপ তা নয়। কিন্তু অনেক সময় আমরা তা সঠিকভাবে করতে পারি না। যেমন একটা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী কিভাবে প্রমোশন করে প্রতিষ্ঠিত হলো আমরা সেটা অনুসরণ করি না বরং তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কিভাবে প্রমোশন করছে তা অনুরণ করি আমরা মনে করি এতে আমাদের সেই কোম্পানীর সমমানের বা কাছাকাছি মানের ব্রান্ডিং হচ্ছে। ধরি একটা কোম্পানী নাম নাইসলুকবিডি ডট কম, (প্রতীকি নাম) তারা সিএনজির পিছনে স্টিকার লাগালো, তার নিচে লিখে দিলো নিটল টাটা গ্রুপের অনুরপ ‘‘ একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’’ ব্যস তারা বোঝাতে চাইলো তারা সামাজিক এড দেয় জনসচেতনতার জন্য। ভুলটা কোথায় দেখুন তারা যে স্লোগান দিলো এর সাথে তাদের মটো বা ব্যবসায়ের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়ত নাইসলুক তারা নিজেরা আসলে কি ধরনের ব্যবসায় বা পন্য বা সেবা দিয়ে থাকে জনসাধারণ এর মাঝে এখনো সেটাই প্রতিষ্ঠিত হয়নি তাহলে এই এড এর দ্বারা তাদের ব্রান্ডিং এর সম্ভাবনা খুবই সামান্য। এখানে অবশ্যই সোস্যাল এড এর পূর্বে সবচেয়ে বেশী জরুরী হলো তাদের নিজেদের কোম্পানী বা বিজনেস সম্পর্কে ধারণা তৈরী করা। যদি এটা অনলাইন শপ বা মার্কেটপ্লেস হয় তাহলে সেটা আগে বাজারে প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
৯. প্রমোশন প্লান এর উপর নজর না রাখা বা ভুল ত্রুটি বিশ্লেষণ না করা:
কখনো কখনো হয়কি একই ভুলগুলো আমরা বার বার করে চলেছি। মানে প্রথমবার যে ভুল করলাম দ্বিতীয়বারও একই ভুল এবং তৃতীয়বারও তাই। এটা হয় যখন আমরা বুঝতেই পারি না আমাদের ভুলগুলো কি? বা কি? কি? কারণ আমরা আগেকার প্রমোশন গুলোর উপর কোনো যাচাই বাছাই করিনি। সেগুলো কেন সফল হলো অথবা বিফল হলো কারণ খূঁজে দেখিনি। প্রথমদিকে নাকি শেষের দিকে রেসপন্স বেশী এলো সেটা খেয়াল করা, সপ্তাহের কোন দিন বা মাসের কোন সময় ভালো রিচ হলো তা নোটে রাখা। এসব বিষয়গুলো পরবর্তী সময় কাজে লাগবে।
১০. একই ফর্মূলা বার বার অনুসরণ করা:
খুব সাধারণ একটা ভুল আমরা সবাই করে থাকি তা হলো যখন কোনো এড এ ভালো সাড়াপাই সেটা বার বার দেয়া। এক্ষেত্রে যখনি দেখা যাবে সাড়া কমে আসছে তখন আর রিপিট করা উচিত নয়। পাশপাশি বিশ্লেষন করা উচিত কেন এর থেকে ভালো সাড়া আসছে? যদি বিষয়টা এমন হয়যে, ভালো সাড়া আসার কারণ কনটেন্ট এর নতুনত্ব তাহলে নিশ্চই এড আবার দেয়ার সময় নতুনত্ব নিয়ে আসা উচিত।
১১. বিকল্প মাধ্যম আগে ভেবে না রাখা বা পরীক্ষা না করা:
যেকোনো একটি উপায় বা মাধ্যমে সফল হলেও বিকল্প চিন্তা করে রাখা উচিত। কারণ অনন্তকাল ধরে সেটা একইরকম থাকবেনা। তাই ভবিষ্যতে কি আইডিয়া এপ্লাই করা যেতে পারে সেটা অল্প বাজেটে হলেও কিছু করে পরীক্ষামূলকভাবে ধারণা নিয়ে রাখা উচিত এবং ভবিষ্যতের জন্য তৈরী থাকা উচিত। এমনকি বিকল্প প্লাটফর্মও রেডি রাখা প্রয়োজন। যেমন কিছু দিন আমাদের দেশে ফেসবুক মার্কেটিং বন্ধ হয়ে গেলে ফেসবুক নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় পড়ে যান। এজন্য আগে থেকেই অন্যপথগুলো খোলা রাখা উচিত। সেক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে অন্যকোনো সোস্যাল মিডিয়া তাও গুরুত্বপূর্ণ আপনি সেখানে নিজে একাউন্ট খুলে এখন থেকেই অন্যদের ইনভাইট করে একটা কমিউনিটি তৈরী করে রাখতে পারেন। অবসর সময়ের এই ছোট কাজ আপনাকে পরে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারে।
১২. রিসার্চ না করে শুরু করা:

প্রতিটি কাজে প্রস্তুতিটা জরুরী। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেতো আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিসার্চ। বিশ্বের অনেক বড়ো কোম্পানী প্রমোশনের চেয়ে রিসার্চ এ বেশী অর্থ ব্যয় করে। বড়ো বড়ো মাথা গুলো নিয়ে কোম্পানী চালোনোর পরেও ওরা মনে করে ওরা কম জানে, আরো জানার জন্য মার্কেট রিসার্চ করা দরকার। এবং বাজার ও ভোক্তাদের মনস্তত্ব অনুসারে বিজনেস ডিজাইন করা হয়।
আর আমরা মনে করি, আমাদের যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে এখন আমরা শুরু করতে পারি। তারপর ব্যবসায় তারপর প্রমোশন। মানে আমরা ধরে নিয়েছি যে আমরা এড দেব, প্রমোট করবো, তাতে পাবলিকি েইন্টারেস্ট তৈরী হবে আর আমার প্রেডাক্টস সেল হতে থাকবে।
ব্যাপারটা পুরো উল্টো। যাদের প্রমোট করার মতো কোটি ডলার আছে, তারা বাজার যাচাই করে কনজুমার সেন্স বিচার করে তারপর ব্যবসায় নামছে আর যাদের সে ক্ষমতা নেই। সেই আমরা প্রমোশনের মাধ্যমে বাজার তৈরীর ঝুকি নিচ্ছি।
কনসালটেন্সি করতে গিয়ে দেখেছি এই প্রবণতা। আজ পর্যন্ত কাউকে দিয়ে রিসার্চ এ কোনো টাকা খরচ করাতে পারিনি। সবাই মনে করে ওটা একটা ফাউল কস্ট। এমনকি রিসার্চ এর ফরম ফরম্যাট তৈরী করেও আগ্রহী বানাতে পারিনি।

আশা করি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা বিষয়টি বুঝবেন।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.