মানবসম্পন্দ ব্যবস্থাপনা:  ই-কমার্স প্রেক্ষিত
দক্ষ কর্মী পাওয়ার সমস্যা ও সমাধান?
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আইটি খাতে আমাদের দেশে অভিযোগ পাওয়া যায় দুই দিক থেকে, প্রথমত: নিয়োগকর্তাদের অভিযোগ আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষ আইটি প্রফেশনাল তৈরী হচ্ছেনা, দুই একজন ব্যতিক্রম ছাড়া। কর্মীদের দিক থেকে অভিযোগ: এদেশে আইটি সেক্টরটাকে নিয়োগকর্তারা অবহেলার চোখে দেখেন, দু একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া। আসলে দুইটি অভিযোগই সত্যি কেননা যদি সত্যিকার অর্থে কাজের লোক তৈরী হয় তাহলে দেশে না হলে বিদেশে তাদের কাজের সংস্থান হয়ে যাবে। আর যদি দেশে কাজের মূল্যায়ন হয় তাহলে গত বিশ বছরে এখানকার আইটি শিক্ষা ও প্রফেশান দুটোই একটা জায়গায় এসে পৌছতো যাতে কোন গ্যাপ থাকতোনা। যেমন আমাদের এখানে গার্মেন্টস এবং টেকনিক্যাল সেক্টরে ভালো সেলারী হয় বিধায় চীন, ভারত, শ্রীলংকার প্রচুর লোকদের কর্মস্থান হয়েছে। ভারত পৃথিবীর যেসব দেশ থেকে রেমিটেন্স সংগ্রহ করে থাকে তার মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। আবার আমাদের দেশের ডাক্তাররা মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের জায়গা করে নিয়েছে।

এবার আসি ই কমার্সে। এখানেও এ ধরনের সংকট রয়েছে দুই দিক থেকে। কর্মীদের যেসব সমস্যা দেখা যায়, সেগুলো নিন্মরুপ-
১.    পেশাদারিত্বের অভাব: দেশের আর অনেক সেক্টরের মতো এখানেও পেশাদারী মনোভাবের অভাব রয়েছে। পেশা ও ব্যবসা হিসেবে ই কমার্স প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এর কারণ।
সমাধান: ব্যবসা ও পেশা হিসেবে ই কমার্স প্রতিষ্ঠিত হলে, সাপোর্ট শিল্পগুলো বিদ্যমান থেকে এ সংক্রান্ত শিক্ষা ওপ্রশিক্ষণ চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।

২.    ইংরেজীতে দূর্বলতা: বলা হয়ে থাকে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজীতে দূর্বলতার কারণে এদেশে বেসরকারী কূটনীতি যেমনি মার খায়, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়, পিছিয়ে পড়ে রেমিটেন্স সেকশন, পর্যটন এবং কলসেন্টার সহ বেশকিছু ব্যবসা।
সমাধান: গত ২০-১৫ বছর ধরে নানাকোচিং ও ট্রেনিং সেন্টার এদেশের ইংরেজীর দূর্বলতা দূর করতে পারেনি। এজন্য এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজী লেসন পরিবর্তণ করে বাস্তবমূখী লেসন পরিবর্তণ না করলে এর সমাধান হবেনা।

৩.    আইটি দক্ষতার অভাব: শিক্ষাব্যবস্থায় আইটি প্রফেশনাল তৈরী হচ্ছেনা শিক্ষা ব্যবস্থার দূর্বলতার কারণে, আইটি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের জ্ঞানের অভাবে, সরকারের সঠিক আইটি মূখী নীতির অভাবে এবং দেশের সার্বিক কর্মবাজারের কারণে।
সমাধান: যেহেতু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ট্রেনিং সেন্টারগুলো ব্যর্থ সেজন্য এখানেও শিক্ষার মূল¯্রােতে আইটিকে যথার্থভাবে উপস্থাপন করতে হবে। অন্তত এইখাতে বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দিতে হবে। কারণ প্রযুক্তি প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে, আর সেই বদলটা আমাদের দেশে হচ্ছেনা, হচ্ছে প্রথম বিশ্বের কোন দেশে। সেক্ষেত্রে ১০ বছর পরের প্রযুক্তি যদি আমরা আমাদের মূল সিলেবাসে রাখি তাহলে আমাদের শিক্ষা থেকে আজকের পৃথিবীর উপযুক্ত কর্মী তৈরী করা কঠিন হবে। সেজন্য এ জায়গাটা দ্রুত সারতে হবে।

৪.    আন্তরিক ও পরিশ্রমী কর্মীর অভাব: এ সমস্যাটা আমাদের মূলত কোন সেক্টরের সমস্যা। তবে সমস্যাটা অতোটা প্রকট নয়। প্রাইভেট সেক্টরে লক্ষ লক্ষ কর্মী  আন্তরিকতা ও পরিশ্রম দিয়ে এ সেক্টরকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।
সমাধান: এখানে সমস্যা খুবই কম। যা আছে তা মানষিকতার সমস্যা। তবে উপযুক্ত পরিবেশ, ন্যায্যপাওনা, জীবিকার নিরাপত্তা এসব বিষয় নিশ্চিত হলে এ সমস্যা কেটে যাবে।

৫.    দূর্নীতির বিকাশ ও বিশ্বস্থতার অভাব: এ সমস্যাটি মূলত ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক নয়। এটা আমাদের আর্থসামজিক অবস্থার চিত্র। দেশের এমনকোন সেক্টর নেই যেখাত এই অভিযোগ থেকে মূক্ত।
সমাধান: এর জন্য অনেক কাজই করার আছে। কর্মীর চাহিদা পূরণ, ধর্মীয় অনুভ’তি জাগ্রত করা, আইনের প্রয়োগ, নৈতিকশিক্ষা এবং সর্বোপরি প্লান মেকারদের সততা। কিন্তু এই মুহুর্তে যেটা সবচে বেশী প্রয়োজন সেটা হলো সিস্টেম উন্নয়ন। আপনি ধরে নেবেন আপনার ফার্মে যেকেউ একটা পদস্খলন জনিত কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। আপনার কাজটা হলো পুরো সিস্টেমটা এমনভাবে তৈরী করবেন। যাতে অনাকাংিখত কিছু করার কেউ কোন সুযোগই না পায়।

৬.    দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব: যেহেতু শিক্ষা পেশা কোনো দিকেই সেক্টরটি একটি অবস্থানে আসেনি, সূতরাং চাহিদামাফিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব হতেই পারে। তবে যেহেতু এখন অনেক কর্মসংস্থান এখাতে তৈরী হয়নি সেজন্য এটা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
সমাধান: দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একদিনে তৈরী হয়না ব্যবসা ও পেশা সেই চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ধীরে ধীরে এসমস্যা কেটে যাবে।

৭.    কর্মীবাছাই, কর্মী পরিচালনা ও কাজ আদায়ের সমস্যা: প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসমস্যা একেবারেই হরদাম চলছে। কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে হয়না, আর যথেষ্ঠ বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়না এবং কর্মীর সাথে পরিচালকদের দূরত্ব ইত্যাদি কারণে কর্মী পরিচালনার ক্ষেত্রে হামেশাই সমস্যার সম্মূখ্খিন হতে হয়। এক্ষেত্রে কেউ কেউ কর্মীদের মানষিকতা আবার কেউ কেউ কর্তাদের মানষিকতাকে দায়ী করে থাকেন। আসলে দুটোই সত্যি।
সমাধান:  কর্মী বাছায়ের ক্ষেত্রে আ্ধুনিক ও বেজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।কর্মী পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদের আচরণ এবং দুটোই ইতিবাচক ও সহানুভ’তিশীল হতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের মানষিকতায় যেসব সমস্যা রয়েছে হঠাৎ করে আন্দোলন এবং দলাধলি। এটা দূর করার জন্য মালিকপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করতে হবে। মানষিকতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করাও বাঞ্চনীয়।

প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা একটা জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় এজন্য প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী কর্মীকে প্রাধান্য দিতে হবে। অভিজ্ঞকর্মীদের অগ্রাধিকার থাকবে। এবং যিনি প্রতিষ্ঠানের মালিক তারও তার ব্যবসার মূল বিষয় এর সাথে সাথে এবিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা দরকার। এজন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ হলে ভালো, তা না হলে একটু পড়াশোনা করে নেয়া ভালো। যদি ততটা সমভব না হয়। তাহলে সফল প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ পলিসি জেনে নিতে হবে।
10599613_148215782015390_3542081891286887969_n

1,256 total views, 4 views today

Comments

comments

You are not authorized to see this part
Please, insert a valid App IDotherwise your plugin won't work.

Your email address will not be published.