ভারতের গ্রামে ই-কমার্সের সুফল পৌছে দিতে কাজ করছে ইনথ্রি

648

বিগত কয়েক বছরে ভারতে ই-কমার্স সেক্টরের ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু দেশটির গ্রামাঞ্চলে ই-কমার্স সেভাবে পৌছায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের গ্রাম গুলোতে ই-কমার্স বিকাশ লাভের অন্যতম প্রধান শর্তই হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে ই-কমার্সে অভ্যস্ত করান; পণ্য বেচা এবং কেনা উভয় ক্ষেত্রেই। দেশটির বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র গ্রামে ই-কমার্স নিয়ে কাজ করছে।ইনথ্রি এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান।

Ramachandaran-Ramanathan

আর রামানাথন

ইনথ্রি এর বুনবক্স  প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মার্চেন্টরা গ্রামের মানুষদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রী করতে পারে। বুনবক্স গ্রামের মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন পণ্যের অর্ডার সংগ্রহ করে মার্চেন্টদের কাছে সেসব পণ্যের অর্ডার দেয়। তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের সব জেলাতে বুনবক্স সেবা প্রদান করছে। সম্প্রতি কর্ণাটকেও বুনবক্স তার সেবা প্রদান শুরু করেছে। অদূর ভবিষ্যতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে প্রতিষ্ঠানটি সেবা দান করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বুনবক্স খুব সফল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও অনলাইনে পণ্য কিনতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মকর্তাদের গ্রামাঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং পণ্য ডেলিভারির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুব সফলভাবে গ্রামের মানুষদের চাহিদা পূরণ করছে।

আর রামানাথন ইনথ্রি এর প্রতিষ্ঠাতা। ইনথ্রি প্রতিষ্ঠা করার আগে তিনি বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠান যেমন-স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া , আইসিআইসিআই , টিভিএস গ্রুপ এবং আরপিজি গ্রুপে  তিনি কাজ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ভারতের বিখ্যাত কর্পোরেট পণ্ডিত সি কে প্রহ্লাদ এর সংস্পর্শেও আসেন। প্রহ্লাদই তাকে গ্রামে কিছু করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।

ইনথ্রি এর শুরুটা হয়েছিল অন্যভাবে। এটি গ্রামাঞ্চলে বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন-ফিলিপস , নোকিয়া , ইউরেকা ফোর্বস , টাইটান ইণ্ডাস্ট্রিজ , হেইঞ্জ ফাউণ্ডেশন  এর জন্যে  কনসাল্টিং এর কাজ করত। ইনথ্রি ফিলিপসের ধোঁয়াবিহীন চুলা বিতরণের লক্ষ্যে কাজ করে। ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার মতো প্রয়োজনীয় মূলধন তখনো প্রতিষ্ঠানটির ছিল না।

২০১১ সালের শেষ দিকে ইনথ্রি তামিলনাড়ুর বাছাইকৃত কিছু পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সৌর ল্যাম্প বিক্রী করা শুরু করে। সৌর ল্যাম্পটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আস্তে আস্তে সমগ্র তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে ইনথ্রি এ সৌরল্যাম্প বিক্রী করা শুরু করল। এরপরে ইনথ্রি বিভিন্ন স্থানীয় এনজিও, কৃষি সংস্থা, ও নানা ধরণের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৭লক্ষ বিভিন্ন ধরণের ভোক্তা পণ্য-যেমন সৌর ল্যাম্প, ওয়াটার পিউরিফায়ার গ্রামের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের কাছে বিক্রী করে। এসব পণ্য বিক্রী করার সময়ে তিনি গ্রামের মানুষের চাহিদা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত হন এবং তখন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

Inthree-team-picture

ইনথ্রি এর কর্মচারীবৃন্দ 

শুধুমাত্র গ্রামের ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে বুনবক্স। মার্চেন্টরা তাদের পণ্য ইনথ্রি এর গুদামঘরে পাঠিয়ে দেয় সেখান থেকে পণ্য প্যাকিং করে ক্রেতার কাছে পৌছে দেয়া হয়। ২০১৪ সালে ইনথ্রি ইন্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্কের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালু (জিএমভি) ৫০কোটি রুপি এবং গ্রস প্রফিট ২ কোটি রুপির বেশি। একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন মার্চেন্টদের যতগুলো পণ্য বিক্রী হয় তাকে জিএমভি হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

গ্রামাঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে ইনথ্রি নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এর মধ্যে আছে ক্রেতা সংগ্রহ, সিমীত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী এবং অপর্যাপ্ত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক। বর্তমানে ইনথ্রিতে ৪০ জন কর্মচারী কাজ করছে এবং আগামী এক বছরে আরও কর্মী বাড়িয়ে ১০০ কর্মী করা হবে।

মূল লেখা- জয় বর্ধন

অনুবাদ- এস এম মেহদী হাসান

সূত্র:

ইয়োর স্টোরি

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *