এতদিন পর্যন্ত বলা হচ্ছিল যে ভারতের ই-কমার্স স্টার্ট-আপ গুলো দেশে অনেক লোকের চাকরির সৃষ্টি করবে এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া শুরু করেছে। মাত্র একবছর আগে ই-ক্যাব নিউজ-এ “১ কোটি রূপির বেশি বেতন দিয়ে ৫০০ কর্মী নেবে ভারতীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান” শিরোনামে আমি একটি পোস্ট লিখেছিলাম। ভারতের মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে ভারতের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো ৫০০ কর্মী নেবে যাদের প্রত্যেকের বেতন হবে এক কোটি রুপির বেশি। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। মাত্র এক বছরের মধ্যে অবস্থা ঘুরে গিয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোর বিনিয়োগকারীরা আগের মতো আর টাকা ঢালছে না তাদের পিছনে তাই এখন তারা আগের মতো লোক নিচ্ছে না। উপরন্তু ক্ষেত্রে বিশেষে চাকরিতে নিয়োগের সময়ে যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার কথা বলছে সেগুলো কমিয়ে দিচ্ছে।

untitled-1.jpg

ভারতে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি হচ্ছে প্লেইসমেন্ট সিজন। এসময়ে ভারতের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আসে ছাত্রদের হায়ার করতে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বিশ্বের নামীদামী প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি এবং প্রতিবছর মাইক্রোসফট, গুগল সহ বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদের চাকরি দিয়ে নিয়ে যায়। গত বছরে ভারতের ই-কমার্স স্টার্ট-আপ ওলা ক্যাবস, স্ন্যাপডিল, ফ্লিপকার্ট এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত গুগল, মাইক্রোসফটের সাথে পাল্লা দিয়ে ভাল বেতনে আইআইটি ছাত্র- ছাত্রীদের চাকরি দিচ্ছিল। কিন্তু এ বছরে অনেক স্টার্ট-আপ প্লেসমেন্ট সেশনে উপস্থিত নেই।

হায়দ্রাবাদ এর আইআইটি এর প্লেসমেন্ট বিভাগের প্রধান টি ভি দেবিপ্রসাদ (TV Devi Prasad) বলেন যে অনেক ছাত্রই ই-কমার্স স্টার্ট-আপে কাজ করতে আগ্রহী। এ বছরে প্লেসমেন্টে চাকরির অফারের ৫০% ই-কমার্স স্টার্ট-আপ যা আগের তিন বছরে মধ্যে সবচেয়ে বেশি।  কিন্তু  সমস্যা হলো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্লেসমেন্ট সেশনে উপস্থিত থাকার কথা বললেও শেষ মুহুর্তে তারা আর আসে নি।

এরকম একটি প্রতিষ্ঠান হলো অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান সুইগিস্টেজিলা একটি বাজেট হোটেল অ্যাগ্রিগেটর প্রতিষ্ঠান। কোন কোন জায়গায় কম খরচে থাকা যায় তা সম্পর্কে তথ্য দেয় প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরে ৩৯ জন ছাত্র নেয় প্রতিষ্ঠানটি এবং কথা ছিল যে তাদেরকে জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে নেয়া কিন্তু সেটি বাড়িয়ে এখন এপ্রিল-মে করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উপরন্তু স্যালারি প্যাকেজেও কাটছাঁট করে কমিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্টেজিলার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়োগেন্দ্র বসুপাল (Yogendra Vasupal) বলেন, “যে ধরণের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে আমরা এসব ছাত্রদের নিয়েছিলাম সেরকম প্রবৃদ্ধি হয় নি। আমরা ভেবেছিলাম ৮-১০গুণ প্রবৃদ্ধি হবে কিন্তু হয়েছে চারগুণ। উপরন্তু আমরা আমাদের অপারেশনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির জন্যে অটোমেশন নিয়ে আসছি।”

IIT_Kharagpur_Old_Building_1951

সাধারণত চাকরিতে ঢোকার পরে একজন ছাত্রের অফারে কাটছাঁট করা হয় বা পরিবর্তন করা হয় কিন্তু এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে না জানিয়ে ফাইনাল অফার লেটারেই পরিবর্তন করে ফেলছে ই-কমার্স স্টার্ট-আপগুলো। এ কথা বললেন আইআইটি মাদ্রাজ প্রশিক্ষণ এবং প্লেসমেন্ট উপদেষ্টা ভি বাবু (V Babu)।

তিনি আরো বলেন, “কিছু স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান যারা আমাদের প্লেসমেন্ট সেশনে রেজিস্টার করেছিল কিন্তু উপস্থিত থাকে নি। বিগত ২-৩ বছরের ধরে সর্বভারতীয় আইআইটি প্লেসমেন্ট কমিটির চোখে এ ব্যাপারটি ধরা পড়েছে। অনেক স্টার্ট-আপ তাদের জব-ডেসক্রিপশন এবং কমপেনসেশন  তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করছে না।”

এ বছরের আইআইটি প্লেসমেন্ট সেশনে ই-কমার্স স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ১২৫ জন ছাত্র নিয়েছে। গত বছরে এ সংখ্যা ছিল ৫৬। তবে বেশ কয়েকটি প্রথম সারির স্টার্ট-আপ যেমন স্ন্যাপডিল, ওলা, গ্রফার্স এবং টাইনিআউল রেজিস্টার করেও শেষ পর্যন্ত প্লেসমেন্ট সেশনে উপস্থিত থাকে নি।

তবে গ্রফার্স আইআইটি ছাড়া অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন,“ এ বছরে ভারতে আমরা ৮০টির বেশি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে গিয়েছি। ডিজাইন, মার্কেটিং, অপারেশন্স, সেলস, টেকনোলজি সহ বিভিন্ন পদে প্রয়োজন অনুসারে আমরা লোক নিয়েছি। আমাদের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল বছরে ৬ লক্ষ রুপি এবং সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ রুপি।”

জম্বে এর মোহিদ গুদেচা (Mohit Gundecha)বলেন যে বিগত ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে স্টার্ট-আপ গুলোতে বিনিয়োগ কমে যাবার ফলে এর প্রভাব পড়েছে কর্মী নিয়োগে। ইঞ্জিনিয়ারিং, কনট্যাক্ট সেন্টার, অপারেশন পজিশনে কর্মী নিয়োগ কমেছে। এখন যেটা হচ্ছে ভালভাবে বাছাই করে একটু নীচের দিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। জম্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়োগের জন্যে সাইকোমেট্রিক অ্যানালাইসিস টেস্ট ডিজাইন করে থাকে।

বড় বড় স্টার্ট-আপ গুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম হলো পেটিএম। চীনের আলিবাবা গ্রুপ এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অমিত সিনহা (Amit Sinha) ইকনোমিক টাইমসকে বলেন যে তাঁদের প্রতিষ্ঠান ভারতের প্রথম সারির ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন গুলোর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট সেশন থেকে ছাত্র নিয়োগ করেছে এবং গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ছাত্র নিয়েছে।

সূত্রঃ

দ্যা ইকনোমিক টাইমস

588 total views, 2 views today

Comments

comments