ভাগ্য নিয়ে বাজিখেলা

233
19149351_906324966172099_2247191663620063349_n

Fortune Hunters

এমেরিকার নতুন উদীয়মান অর্থনীতিতে চীনারা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ঝাঁক বেঁধে দেশান্তরিত হচ্ছে । Zan Ng এই সুযোগ তৈরি করলেও , তিনি সতর্ক করে দেয় , ব্যাপারটা অতো সোজা নয় ।

গ্রীষ্মের বিকেলের কাঠফাটা রোদে সামান্য বাতাস যেনো একটু স্বস্তি বয়ে নিয়ে আসছে । নিউইয়র্ক সিটির চায়না টাউনটি ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে সরগরম থাকে প্রতিনিয়ত । বৃদ্ধ মহিলা মাছের বাজার বরফে রাখা pompano এবং snapper মাছ গুলো খুঁটিয়ে দেখছে । ছেলেমেয়েগুলো কুটুরকুটুর করে ভাজা tofu
খাচ্ছে । এক মহিলা হংকং এর প্যাস্ট্রি কাগজে মোড়াতে ব্যস্ত । স্বাভাবিক ইউনিফর্মের মতন , জিন্সের প্যান্ট , পলো শার্ট , cowboy boots পড়ে , Zan Ng ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন । রাস্তা দিয়ে যাবার সময় তাঁর চায়নার এক বাড়ির সামনে ফলের দোকানে নাশপাতির কেনার জন্য দাঁড়ালেন । তারপর তিনি তার ছয় তলা
বাড়ির দিকে চলতে শুরু করলেন । সামনের বাড়ির ইটের অংশটা ঘষামাজা করা হয়েছে , আর পাশের আগুন থেকে রক্ষা পাবার জন্য সিঁড়িটা নতুন রঙ করেছে । ভুমিকম্পের আঘাতে বাড়িটার এই দশা হয়েছে । আগে যখন এই রাস্তায় ড্রাগ এর দালালদের আনাগোনা থাকতো , তখন এই বাড়িতে ১৫-১৬ জন ঠেসাঠেসি করে থাকতো

“Good deal,” he says, “for $12 a month.”

সে একবার বিল্ডিংটিকে দেখে বাড়ি যাবার জন্য তাঁর চকচকে Mercedes-Benz গাড়ির দিকে আগালেন । ছয় রুমের বাড়িটি Connecticut এর Greenwich এ অবস্থিত । ডাক্তার , উকিলের এই শহরটি নিউইয়র্ক থেকে এক ঘণ্টা দুরুত্ব । সেখানে একটি বাড়ির দাম গড়ে ১ লক্ষ ডলার । ৪৪ বছর বয়স্ক স্বাস্থ্যবান
এই Zan এখন বড়লোক । তাঁর আছে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানি , যার মুল্য এই বছর ৳৪০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে । তিনি বেতন নেন $150,000 ডলার । ৳১ লক্ষ ডলারের শেয়ার এবং ৳৫ লক্ষ ডলার মুল্যের সম্পত্তির মালিক তিনি । ” খারাপ না ” তিনি বললেন । যে ব্যক্তি মাত্র $৬৮ এবং সাথে কিছু কাপড় নিয়ে এই তীরে
এসেছেন তাঁর জন্য মোটেই খারাপ না ।

New American Dreamers

এমেরিকানদের স্বপ্ন অনেকটা এই রকম ছিল । সামান্য বেতনে ছোট খাট কাজ করতে এই দেশে আসতো । তারপর ছোট খাট ব্যবসা না খুলা পর্যন্ত টাকা জমাতে থাকে । সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসার মধ্যে রেস্টুরেন্ট বা ড্রাইক্লিনার বেশি খুলবে । তারপর অলি গলির মধ্যে একটা বাড়ি কিনবে । তারপর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের
কলেজে পাঠাবে ডাক্তার হবার জন্য যাতে আপনার বুড়ো বয়সটা সোনায় সোহাগায় কাটে । কিন্তু গত এক দশক ধরে , এই স্বপ্ন এখন কম দেখে । এখনকার অধিবাসীরা এই নতুন শেয়ার কেনা বেচার অর্থনীতির দশকে স্বপ্নটা আরও বড় থাকে । হাই-টেক জবের সাথে শেয়ারের অপশন নিয়ে এমেরিকায় আসে । বিজনেস না খুলা পর্যন্ত ইনভেস্ট করতে থাকে । তারপর , কোন একটা সাইট খুলে হয়তো কোন ইকমার্স ব্যবসা শুরু করে বা কেউ সফটওয়্যার কনসালটেন্সি করে । শরের এক ভালো একটা জায়গা দেখে সুন্দর একটা বাড়ি কিনে । নিজের কোম্পানি ipo তে টাকা ঢেলে আরও কয়েকটা স্টার্ট আপ শুরু দাড়া করাবে । টেক নিয়ে কোন ডিগ্রী নেয় তো কি হয়েছে ? কোন একটা টেক জব নিয়ে , Nasdaq stocks থেকে বিনিয়োগ করে টাকা বাড়িয়ে নিবে । বাচ্চা বড় হবে , তারপর ধনী হবে , এতো সময় আর
কেউ অপেক্ষা করে না ।

আগে অধিবাসীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে রক্ষনশীল মনে করা হতো । কিন্ত কয়েক বছর ধরে , স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারিদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে , তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি । কিন্তু চীনাদের মতন অতো বেশি কেউ স্টক মার্কেটে সক্রিয় না । এমেরিকাতে এখন ৯ মিলিয়ন চায়না অধিবাসী আছে , প্রতি বছর ৬০ হাজারের বেশি অধিবাসি বৈধভাবে আর ১০ হাজারের বেশি অবৈধভাবে এই দেশে পাড়ি জমায় । তাদের মধ্যে বেশিরভাগ কম্পিউটার প্রযুক্তিতে বেশ দক্ষ , যেভাবে তারা নগদ ক্যাশ নিয়ে মার্কেটে ঢুকেছে , আগে এই রকম দেখা যায় নি ।

স্টক মার্কেটের সাথে স্বচ্ছল , ধনী ঘরের পেশাজীবিরাও জড়িয়ে যাচ্ছে । Charles Schwab এর Chinatown শাখার ম্যানেজার , Pierra Ho বলেন , তিনি রেস্টুরেন্টর কর্মচারীদেরকে শেয়ার কেনার জন্য তাদের প্রথম টাকার চেক নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেছেন । Zan এর বন্ধু Peter wong একটি কাপড় ফ্যাক্টরির মালিক । তিনি বলেন , তাঁর এক কর্মচারি yahoo থেকে $300,000 টাকা পাবার পর চলে যান । Chinatown এর ক্যাবচালক , Tam রেডিও
চালিয়ে Bloomberg business চ্যানেল শুনছিলেন । তাঁকে মার্কেট এর খবর জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন , Dow চারে উঠেছে , Nasdaq পাঁচে নেমেছে । ” তারপর সে , কিভাবে Compaq এর শেয়ার কিনে intel এর শেয়ার কেনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । তাঁর গাড়ির ভিতরে আয়নাতে , তাঁর পাসে বুদ্ধ এর ছবি দেখা
যাচ্ছে , প্লাস্টিকের সেই ছবির উপর চাইনিজ ভাষার কিছু অক্ষর আছে । এর অর্থ হচ্ছে , সৌভাগ্য ।

The Making Of A Mogul

এই একই ধরনের চাইনিজ ক্যারেক্টারগুলো Zan এর Manhattan অফিসে আছে । দেয়ালের রঙ লাল যার অর্থ সৌভাগ্য , ফার্মের ফোন নাম্বারও সৌভাগ্য এর ইঙ্গিত বহন করে । কিন্ত অফিসটা এমেরিকান কিচেনের মতন সাজানো । vintage Coke machines , cowboy বুট জুতার ছবির ফ্রেমে বাঁধা আছে
Harley-Davidson motorcycle এর ছবি ।

সৌভাগ্য মনে হয় , Zanকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো । তিনি যেনো নতুন এমেরিকানদের স্বপ্নের প্রতিমুর্তি হয়ে উঠেছেন । এটি যেনো তেনো ভাবে হয় নি । চায়নার ফুজিয়ান প্রদেশের জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম । চার বছর বয়সে তাঁকে ফেলে তাঁর বাবা মা চলে যায় । রাবার গাছ থেকে রাবার আনার জন্য তারা ইন্দোনেশিয়ায় যায়
,তারপর তাদের সাধ্যমতন ছেলেদের চলার জন্য , Zan এবং তাঁর ৬ এবং ১২ বছরের ভাইদের জন্য পাঠাতেন । কোন কারেন্ট , খাবার পানি ছিল না । ছেলেরা চুলায় আগুন জ্বালিয়ে মিষ্টি আলু , ভাত রান্না করতো , কাছের নদীতে যেয়ে গোসল করতো । এরপর , এক রুমের স্কুলে পড়তে যেতো ।

মাধ্যমিক স্কুলের পড়ে , তারা গ্রামে চুরি করে জাম গাছ থেকে জাম পারতো , আর কাঁকড়া ধরতো । আর , Zan বাজি ধরে ক্রিকেট খেলতো । (চায়নারা সব কিছু খায় , আবার সব কিছুতে বাজি ধরে ।- তিনি বললেন ) কিন্তু সে বড় ধরনের খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো । ১৩ বছর বয়সে , তিনি হংকং এ যান । তাঁর কাছে কোন কাগজ পত্র ছিল না , একটি কেবল সুযোগ ছিলো । সমদ্রু পাড়ি দিয়ে , তৎকালীন ব্রিটিশ কলোনি পাড়ি দিলো । একটি এক্সপোর্ট ফার্মে , পায়ে হেঁটে হেঁটে প্যাকেজ ডেলিভারি করতো । ১৮ বছর বয়সে তাঁর লক্ষ্যেকে ছুঁতে পারলো , ২০০০$ মুল্যের জাল ভিসা , সাথে ৮০০$এর এমেরিকার প্লেনের টিকিট । খবরের কাগজ আর
ম্যগাজিন থেকে জায়গাগুলো সম্পর্কে জেনেছিলো । ” এটি দারুন একটি সুযোগ । নিউয়র্ক টাকা কামানোর জন্য ভালো একটা জায়াগা । ” তিনি বললেন ।

১৯৭৫ সালে তিনি এখানে কোন ধরনের লাগেজ ছাড়ায় চলে আসেন । প্রথম রাতে সেরা শহরের রাস্তায় ঘুমালেন । তারপরের দিন তিনি থালাবাসন ধোঁয়ার কাজ পেলেন । সাথের একজন কর্মী তাঁকে শুবার জায়গা দিলেন । কয়েকমাস পর আরেক রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ নিলেন । এক অ্যাপার্টমেন্টে পাঁচ জন মিলে থাকতেন । এক এমেরিকানকে রাঁধুনিকে বিয়ে করে , এমেরিকার সিটিজেন পেয়ে গেলেন । সাথে তাঁর দুই সন্তান ।

ইংরেজি উন্নতির জন্য zan যে কোন বন্ধু সুলভ কোন কাস্টমার পেলে তাঁর সাথে কথা বলতেন । এক ফটোগ্রাফার তাঁকে স্টুডিও মোছার জন্য অফার দিয়েছিলেন । যখন ফ্লোর পরিষ্কার করতো , তখন তিনি ছবি তোলা দেখতেন । “আমার কাছে এটি অনেক সোজা মনে হতো ” তিনি বললেন । ” আমার কাছে মনে হয়েছে , আমি তা
করতে পারবো ” আমি সেকন্ডহ্যান্ড nikkon ১০০০$ দিয়ে কিনে ফেললাম । তারপর , ফ্রিল্যান্সিং কাজ খুঁজতে শুরু করলেন । প্রথম বছর , ১৯৮২ সালে , তিনি ৩০০০০$ ফটো তুলে আয় করলেন । সাপ্লাইয়ের খরচটা অনেক বেশি , রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো , কিন্তু তিনি ধৈর্যয় সহকারে লেগে থাকলেন । এজেন্সি , ম্যাগাজিনে তাঁর পোর্টফলিও পাঠাতে শুরু করলেন । অবশেষে তিনি American Express , Revlon firm এর মতন জায়গায় কাজ পেলেন , ৮০এর আগে তিনি ৩০০০০$ আয় করলেন ।

কঠোর পরিশ্রমের কারণে নিজে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েন । অন্যদিকে তাঁর সংসার ভেঙ্গে যায় । ১৯৯০ সালে তিনি চায়নিজ এমেরিকান Eva Chin কে বিয়ে করেন । একই সময়ে , তাঁর ক্লায়েন্টরা কিভাবে এশিয়ান এমেরিকানদের টার্গেট করবে সেই বিষয় নিয়ে কাছে জ্বালাতে থাকলো । “আমি নিজে নিজে ভাবলাম , আমি এটাও পারবো । ” তিনি বললেন । তাঁর এক বন্ধু যার এই বিজ্ঞাপন নিয়ে অভিজ্ঞতা আছে , তাঁকে নিয়ে এজেন্সি খুলে ফেললেন , নাম দিলেন , Admerasia । চার স্টাফদের মধ্যে একজন Jeff Lin । তাঁর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বললেন , “A chinese punk ” । উচ্চ বংশের তাওয়ান ঘরের জন্ম । ” একজন চাইনিজ
পাঙ্ককে আমি দেখেছি , লম্বা চুল , cowboy boots । তিনি প্লেনে করে হংকং থেকে চায়না এসেছিল । তারপর আবার প্লেনে করে এখানে এসেছে । সাথে কিছুই ছিল না । সে কেবল ছুটতো , ব্যর্থ হয়ে আবার অন্যজাগায় ছুটতো । ”

Zan এর জিদটা ভালোই কাজ করেছে । নিউয়র্কে , টরোন্টো , লস্‌ এঞ্জেলেস এর Admerasia তে এখন ৭৫ জন কাজ করে । zan আরও চারটি ফার্ম খুলেছে । 618 inc. একটি টেলিমার্কেটিং যেখানে ৩০০ দ্বিভাষী কর্মচারি কাজ করেন । সেখানে একটি অনুবাদের এজেন্সী আছে । Cyverasia সাইটটি Asian-language website । সম্প্রতি , AsiaCentral.com এশিয়ার কোম্পানিগুলো এমেরিকার মধ্যে মৈত্রী বন্ধন তৈরি করা । তাঁর নতুন এই প্রাইভেট
কোম্পানির একটি নতুন নাম দিয়েছে , “New A” — New অর্থ new economy, A অর্থ Asia ।

তাঁর সফলতা তাঁকে আরও ক্ষুধার্ত করে দিয়েছে । ” আমি ইন্টারনেট কোম্পানি , রেডিও স্টেশন , নিউজপেপার , ম্যাগাজিন কিনতে চাই । ” তিনি বলেন । “কারণ অধিবাসীদের নিয়ে এমেরিকায় খারাপ ইমেজ রয়েছে । আমি এটি বদলাতে চাই । আমরা কেবল শ্রম দেবার জন্য বা লন্ড্রি , রেস্টুরেন্টে কাজ করার জন্য জন্মায় নি ।
তারা ডট কম বানাতে পারে , আমরাও ডট কম বানাতে পারি । ” ইন্টারনেট ফার্মের সংখ্যা দিন দিন কমছে । সেই চিন্তা বাঁধা দেয় নি । ” আমি সেটা নিয়ে ভাবি না । আমি এখানে খালি হাতে এসেছি ।” যখন এই কথা বললেন , তাঁর মুখে হাসি ফুটে উঠলো , “আমার কি হারানোর আছে ?”

Beyond Bruce Lee

চায়নাটাউনে AsiaCentral এর অস্থায়ী অফিসে কিছু কর্মচারী এক টেবিলে গাদাগাদি করে আছে । দেয়ালে ফার্মের পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কিছু লেখা আছে । সাদা বোর্ডে চাইনিজ ভাষার অনেক অক্ষর লেখা আছে যার অর্থ টাকা । ২০০০ সালের আগস্ট মাসে , ওয়েবসাইট তৈরি হবার কথা ছিল । চারিপাশের বাতাসে শুধু
উত্তজনা ভর করছিল , এশিয়া থেকে আগত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স্ক কর্মচারীদের স্বপ্ন zan কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল । কিন্তু টাইমিং খারাপ হতে পারে না , dotkom stock এর দাম কমে যাচ্ছিলো । Zan এবং তাঁর পার্টনার যিনি চাইনিজ ইনকিউবেটর consortio এর মালিক তাঁর সাথে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন । তাঁর
স্টাফরা তখনো আসা নিয়ে লেগে আছেন , কোম্পানি হয়তো শেয়ার ছাড়বে ।

Nicholas chai , ৩৭ বছর বয়স্ক এই লোক হংকং থেকে এসেছে । অনেকটা টেক ওরিয়েন্টেড তরুন অধিবাসীদের মতই তাঁর স্বপ্ন । “আগে কোন চীনাকে এই নিউইয়র্কে দেখলে অন্যরা মনে করতো তারা রেস্টুরেন্টে কাজ করে । ত্রিশ বছর আগে , তারা ভাবতো আপনি হয়তো Bruce lee হবেন বা কুং ফু এক্সপার্ট । কিন্তু
এখন চায়না কাউকে দেখলে তারা মনে করে আইটি এক্সপার্ট । ” Chai এর জন্ম হং কং এর গরীব ঘরে । মা যখন তাঁকে ফেলে নিউইয়র্কে গার্মেন্টসে কাজ করতে গেলে শৈশব কালটা একা একা কাটে তাঁর । ২০ বছর বয়সে এখানে এসেছিল , ওয়েটারের কাজ করতো । তারপর নিউইয়র্কে ইউনিভার্সিটিতে ফুল স্কলারশিপ পেলেন । তারপর তিনি বিজনেসের জন্য আইডিয়া পেয়ে ফার্ম খুলে বসলেন । “অনেক এশিয়ান তাঁর মতন বিজনেস করতে চায় । ” তিনি বলেন । ” তিনি বলেন , “আরেকজনের জন্য কাজ করলে কোনদিন বড়লোক হওয়া যায় না । যে আপনাকে পারিশ্রমিক দিবে সেই তো ধনী হবে । ”

Asiacentral এর আগে , Chai চাইনিক-ভাষার এক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ করতেন । কিন্তু তাঁর ইন্টারনেটে কাজ করার স্বপ্ন ছিল । তারপর zan এর সাথে দেখা । ” ” দেখতে অনেকটা অদ্ভুত । কিন্তু তাঁর আত্মবিশ্বাস আছে । এই রকম নির্ভয় একজনকে ফলো করায় উচিৎ ” । multicultural media director হিসেবে জব করেছিলো , সেখানে ৫০ জন টেক এক্সপার্টকে হায়ার করা সহ অনেক কাজ ছিল । আগে chai বিজনেস ট্রিপ গুলোর খরচ একাই বহন করতো , কম্পিউটারও তিনি নিজে কিনেছেন । তিনি কিছু মনে করে নি , কারণ ,তিনি শেয়ার অপশন থেকে ভালো কিছু পাবার আশা ছিল ।

সঞ্চয়ী এই chai , বড় একটা এমাউন্ট শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছেন । Chase Manhattan , Citigroup এর মতন শেয়ার বেশি কিনতো । কিন্তু , নতুন অর্থনীতির জোয়ারে কিছুটা অস্থির হয়ে বিক্রি করে দিলেন । এই বছরের প্রথম দিকে তাঁর , $200,000 মুল্যের AOL , Yahoo এর ৮৫% শেয়ার ছিল । সেই কারনে তিনি বললেন , ” যদি আমি ইন্টারনেটে কাজ করতে চাই , আমাকে এটি করতেই হবে । ” কিন্তু গত বসন্ততে যখন Nasdaq এর মুল্য করে যায় , তাঁর অর্ধেক সম্পত্তি সেখানে হারিয়েছেন । তারপর , যেভাবেই হোক ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন । কিন্তু তিনি 40% টেক শেয়ার কিনেছেন , আর বাকি সব blue chip এর শেয়ার । এখনো তিনি স্বপ্ন দেখা ছাড়ে নি । ” আমার অনেক বড় স্বপ্ন আছে , আমি ৪৫ এ অবসর নিতে চাই । ” এই সেই মানুষ তাঁর আগে কিছুই ছিল না । অনেক দ্রুত তাঁর উন্নতি হয়েছে । ” কিছুটা দুঃখ নিয়ে বললেন , না , অতো দ্রুত নয় ” ।

Stock-Picking Beats Mahjong

“আহহা! । ” zan বলেন । ” এই সপ্তাহে মার্কেট অনেক খারাপ ”

তিনি Schwab.com এ ক্লিক করতে করতে এই কথা বলেন , সেখানে তাঁর একটা একাউন্ট আছে । zan , ১৯১৫ সাল থেকে অনলাইনে বিজনস করে । ৮০ সাল থেকে শেয়ারে ইনভেস্ট করে । GE এবং IBM এর মতন কোম্পান থেকে শুরু করেছিলেন । কিন্তু যখন টেক কোম্পানিগুলোর দাম চওড়া হওয়া শুরু করলো , তখন
Netscape, Apple এবং China.com কেনা শুরু করলেন । সপ্তাহে দুই দিন অন্তত বিজনেস করেন । এই বছর মার্কেট অনেক ভাল থাকে , তাঁর ব্যবসাও ভাল হয় ।

পরে , তাঁর স্ত্রী , Eva Chin শেয়ার মার্কেট নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন । বাকি ১০ জন চাইনিজ মহিলাদের মতন , তিনি Qian Jin নামে investing club আছে । একটি প্রবাদ আছে , চায়না ভাষায় তাঁর অর্থ হচ্ছে , ” একটি ভালো বন্ধু থেকে সহস্র মুদ্রা অর্জন করা অনেক সোজা । ” অর্থাৎ সম্পদের মুল্য কমিউনিটি থেকে অনেক কম । যদি, আপনি দুইটি একসাথে করেন , তাহলে কি ক্ষতি হবে ? ” চায়না টাকা কামাতে পছন্দ করে । ” Christine Li বলেন , তিনি ক্লাবের হিসাবরক্ষক । ” কিন্তু এই গ্রুপ বন্ধুত্বের জন্ত । আমি মনে করে , আমার মায়ের mahjong club এর নতুন ভার্সন । তারা mahjong খেলতও , আমরা stock খেলি ”

এখানে মহিলাদের অধিকাংশ চল্লিশের মধ্যে , শনিবার সকাল ঘরের একজন মেম্বার ৮.৩০ সময় তারা এখানে আসে । চা , pastries খেতে খেতে তারা তাদের $100,000 stock নিয়ে কথা বলেন । টেক এর শেয়ারগুলো একটু বেশি বেড়ে গেছেন । ১৯৯৭ সালে এটি চালু করার পর , মেম্বার সংখ্যা ৩০% বেড়ে গিয়েছে । যদিও , chin বলেন ,” আমরা অনেক খারাপ কিছু সময় পার করেছি । ” তাদের এই আক্রমণাত্মকের মধ্যে , Qian Jin অনেকটাই ব্যতিক্রম । Brokerরা
বলেন , চায়নিজ অধিবাসীরা অন্যদের চেয়ে কিছু ঝুঁকি আছে এমন শেয়ার নিয়ে বেশি ব্যবসা করে । তাদের অনেকেরই অনলাইনে একাউন্ট আহচে , যারা খুশী মনে বিনিয়োগ করে । Web portal Sina.com এর করা একজরিপে দেখা যায় , অর্ধেকের বেশি এমেরিকায় চায়না ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর নিজের শেয়ার আছে
, ৭০% বেশি বিনিয়োগকারী অনলাইনে বিজনেস করেন ।

borkarage গুলাও তাদেরকে বিভিন্নভাবে আকর্ষণ করে । যেমন , Schwab , Manhattan এর Chinatown এ বৌদ্ধমন্দিরের মতন নতুন শাখা খুলেছে । এর ভিতরে , কাস্টমাররা চাইনিজ ভাষায় broker দের সাথে কথা বলতে পারে , educational material গুলো পড়ে দেখতে পারে । বলতে গেলে পুরো এশিয়ান মডেলের মতন করে বানানো । Larry Yu , executive দের মধ্যে প্রধান । তিনি এক দশক আগে , Schwab’s Asia Pacific Services ,এমেরিকায় চায়না ক্রেতাদেরকে আকর্ষণের জন্য ডিভিশন তৈরি করেছিলেন । যখন ১৯৮৯ সালে হংকং এর চাকরি ছেড়ে এখানে আসেন , তখন বলেন , ” আমার কোন একটি ক্রেডিট কার্ডও পাই নি ” তিনি বলেন । আমার কাছে টাকা ছিল , কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রি আমার দিকে তাকিয়েও দেখে নি ।

সব কিছু এখন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে , Schwab দের কাছে এখন ১৭$ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি আছে । Yu তাঁর বিনিয়োগকৃত ২০০$ বিলিয়ন মুল্যের সম্পত্তির মালিক । ৯০,০০০৳ এর গড় মুল্যের Schwab এর চাইনিজ কাস্টমার অন্যান্য ক্লায়েন্টের চেয়ে অনেক ধনী । তারা বড়জোর দুই বার বিনিয়োগ করেন । তারা individual stocks এর চেয়ে mutual funds বেশি কিনে । “তাদের বেশি হলে Nasdaq এ একাউন্ট রাখে । ” T.D এর senior vice
president of international marketing Carrie Rattle বলেন । আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী brokarage Waterhouse বলেন , “চায়না বিনিয়োগকারিরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে । তারা দ্রুত টেক বিষয়ে খাপ খাইয়ে নেয় , টাকার দিকে অনেক মনযোগী । ” “আপনি যদি স্পেনদের দিকে তাকান , তাহলে তারা অনেক লাজুক । ”

এই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে চায়নিজরা বিনিয়োগ করে থাকেন ? Yu কিছু আয়ডিয়া নিয়ে কথা বলেন । “আপনি যদি ৮%-১০% বৃদ্ধিপ্রবণ দেশ থেকে আসেন ,তাহলে তায়ওয়ান , হংকং এর মতন কাজ করবে ” তিনি বলেণ । “এখন মানুষদের প্রত্যাশা বেশি । ” তিনি আরও বলেন , ওই সব Nasadaq এবং টেক কোম্পানি
মার্কেটের মতন মার্কেটের অস্থিতিশীলতার কারনে চায়নাদের বিনিয়োগ কিছুটা কমে গিয়েছে , আর স্বভাবতই , তারা শেয়ার বাজারের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ । “চায়নারা বিশ্বাস করে , এক পকেট আয় করার জন্য , আরেক পকেট খরচের জন্য । ” john wang বলেন । তিনি Asian-Amer-ican trade group পরিচালনা করেন । “মার্কেটাররা কম সময়ে বড়লোক হবার মতন বিজ্ঞাপন প্রচার করেন , অনেকটা জুয়া খেলার মতন । চায়নারা জুয়া খেলতে পছন্দ করে । ”

High Rollers

আগস্টের শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা বাজে । । zan আরামকেদারায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি ৩৯তম ফ্লোরে মাঝখানে থাকেন । The Havana Club এ cigar রুমে বসে পুরো শহর দেখা যায় । হাঁটা দুরত্বে humidor houses এর প্রতিটি cubbies এ সোনারনাফলকে হলিউড স্টার Michael Douglas এবং Joe Pesci এর নাম লেখা আছে । সিগারেটের ধোঁয়ায় কিছুটা ভারি কিন্তু এক ধরনের আত্মসন্তুস্টি মিশে আছে তাতে । চায়নিজ অধিবাসীরা আগে যারা যুবক ,বাচ্চা থাকা অবস্থায় এসেছিল , এমনকি কথাও বলতে পারতো না , তারা এখন manufacturers, restaurateurs এবং Internet executives । আজ রাতে তারা las vegas এর ট্রিপ নিয়ে কথা বলছে । সেখানে Mirage hotel , baccarat খেলতে ক্যাসিনো বুক করে রেখেছে । তারা প্রত্যেকেই বড় বড় জুয়াড়ি । zan এখন পর্যন্ত জিতে এসেছে আর vegas এ ছয় অঙ্ক পর্যন্ত জিতেছে । তিনি বছরে চারবার জুয়া খেলতে যায় । এই জুয়া খেলা তাঁকে সব কিছু ভুলিয়ে দেয়। সেই সব দিনে , তিনি ছয় সপ্তাহের বেতন এই জুয়া খেলার পিছনে লাগিয়ে দিতেন । ” দশ বার হেরে , আমি একবার জিতেছি ” অনেক আনন্দ নিয়ে এই কথা বললেন । কোন ব্যাপার না । খেলা তাঁকে ক্লান্ত থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছে ।

basement pai gow জুয়ার মতন খেলাটি এখনো দেখা যায় । কিন্তু অনেক অধিবাসী গ্যাম্বলিং মক্কা নামে পরিচিত Atlantic City এবং Vegas কে বেশি পছন্দ করে । ক্যাসিনো জুড়ে কেবল শুধু চায়নাদের আধিক্য বেশি । গরিব অধিবাসীদের জন্য ক্যাসিনো খেলাটা অন্যরকম অর্থ কাজ করে , তাদেরকে দাসত্বের কষ্টটা অনেকটা ভুলিয়ে রাখে । অবৈধ অধিবাসীদের অনেকেই এখানকার স্মাগলারকে ৫০ হাজার ডলার এর বিনিময়ে চায়না থেকে এখানে আসে । তাদের অনেকেই ধার শোধ করতে অনেক কষ্টও করতে হয় । যারা পারে না , তাদের জন্ত এই খেলা অনেক মারাত্মক হয় । এই ব্যাপার নিয়ে গত বছর পত্রিকায় ছাপায় হয়েছে । এই
চায়না যুবক মেরে তাঁকে বস্তায় বেঁধে বোস্টনে রেখে এসেছিল । বাজিদের কাছে তার হাজার হাজার ডলার বাকি ছিল ।

এই ধরনের খবর zan দের মতন সফলতার গল্পে এখন অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে , অনেকটা রুপকথার গল্পের মতন । এমেরিকাকে তিনি টাকা জন্মানোর চারণভুমি বানিয়ে ফেলছেন যদি আপনি stock এ আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন তো । ” ipo এবং স্টক মার্কেটকে ঘিরে গরিবদের স্বপ্ন অনেক বেড়েছে । ” Asian-American studies program এর ডিরেক্টর Peter Kwong এই কথা বলেন । কিন্তু এটি গ্যাম্বলিং এর মতই বিপদজনক ।

“I Very Lucky Guy”

ছুটির দিনে বিকেলে সূর্য তখন ডুবু ডুবু । zan তার Mercedes গাড়ি নিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছেন । তিন বাচ্চার মধ্যে একজন রাস্তার ধারে লেবুর শরবৎ বিক্রি করছেন । kwan চটপট করে লেবু শরবৎ বানাচ্ছিলো । zan ধমক দিয়ে বললো , ” প্রোডাক্ট দেবার আগে , তোমাকে টাকা চাইতে হবে । ”

Kwan অবাক হয়ে বললো , “কিন্তু আপনি তো আমার বাবা । ”

zan দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো , “এইটি অনেক কঠিন জিনিস । ” এই এমেরিকার জাঁকালো শহরে ,অধিবাসী জীবনটা কতো কষ্টের টা হয়তো বাচ্চাদেরকে বুঝানো যাবে না । তাঁর এখন চার থেকে সতেরো বছর বয়সের পাঁচজন সন্তান । সবাই এই এমেরিকায় জন্ম নিয়েছেন । যখন তিনি তাদেরকে শিক্ষার গুরত্ব নিয়ে কথা বলেন, তখন
তারা হাসে , তারা বলে , ” কিন্তু daddy , আপনি তো স্কুলে যান নি । ”

zan তাঁর সফলতা নিয়ে অনেক গর্বিত , কিত্নু এই কথা শুনে কিছুটা বিচলিত হয়ে যান । সন্তানদের জন্য না , মানুষের জন্য তিনি বাড়িতে ফিরে যান । তিন বছর আগে , তিনি চায়নার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন । দুই দিন সেখানে ছোট শহরকে দেখেছেন ,দেখেছেন কুয়াশায় ঘেরা পাহাড় পর্বত , ময়লা – কাদামাখা নদী । সেই এক
রুমের স্কুল এখনো আছে। গ্রামের অনেকের সাথে কথা বলেছেন , কিন্তু নিজের পরিচয় দেন নি । তিনি চান নি সবাই জানুক তিনি কে , কি হয়েছেন এখন । যদি তাঁর কথা শুনে সবাই তাঁর পথ বেছে নিয়ে হতাশার মধ্যে পড়ে যায় ! ” আমি অধিবাসীদেরকে বলতে চাই , এমেরিকাতে কাজ করা কি কঠিন ব্যাপার । ” তিনি আস্তে কথাটা
বললেন । আমি চাই না , তারা জীবন নিয়ে বাজি ধরুক । আমি চাই না তারা এইটি নিয়ে চিন্তাও করুক । ওয়াও , সে পেরেছে , আমিও পারবো । আমি অনেক ভাগ্যবান । কিন্তু আমাকে প্রতিটি ধাপ পার হতে হয়েছে । আমাকে কেউ কিছু দেয় নি । ”

zan সন্তানদের দেখলো , তারা মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।কি পরিমাণ ঝুঁকি নিয়ে তার সৌভাগ্যকে পেয়েছেন , সেটি তারা কল্পনাও করতে পারবেন না । তাঁর হারানোর কিছুই নেই ,তাই ঝুঁকি নিয়েছিলো । “সফলতা অনেকটা লটারির মতন । সোজা ব্যাপার না , কোনদিনই না ” তিনি বললেন । “একসময় তারা বুঝবে । ”

soucre: http://edition.cnn.com/ASIANOW/asiaweek/magazine/2000/1208/is.gettingrich.html

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *