বিজনেসকে ব্রান্ডিং করতে গিয়ে ৫টা ভুল এবং সমাধান

3913

নিজেকে ব্র্যান্ড করবেন নাকি কোম্পানি কে

এটা নিয়ে প্রায় ই দেখা যায় মানুষ দ্বিধার মধ্যে থাকে, কোনটাকে গুরুত্ব দিবে? নিজেকে নাকি কোম্পানিকে? অনেকেই বলে আপনার বিজনেস আপনাকে পরিচয় করায়। অবশ্যই কিন্তু এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে যে আপনি যেন আপনার বিজনেস এর মাধ্যমে পরিচিতি পান অবশ্যই ব্যাক্তিগত “আপনি” হিসেবে না। একটা উদাহারন দিলে ব্যাপারটা আরো ভালো করে বুঝবেন আশা করি।
ধরেন আপনি একজন মহিলা উদ্যোগটা এবং স্বাভাবিক ভাবে ই আপনার প্রিয় রঙ পিঙ্ক, কিন্তু আপনার বিজনেস হলো পারিবারিক ফটোগ্রাফির উপর। তার মানে সেখানে শুধু মহিলা থাকবে না যে আপনি আপনার পছন্দের রঙ দিবেন আপনার ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিতে। তার মানে বুঝতে পারছেন যে এখানে আপনি কি চান তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার বিজনেস কি চায়, সেটা আপনার পছন্দ না ও হতে পারে।

কিভাবে এটা ঠিক করবেন

– প্রথমেই দেখুন আপনার বিজনেস এর দর্শক কারা, পুরুষ মহিলা নাকি উভয় ই, তাদের বয়স কেমন, এবং তারা কোন ব্যাপার এ বেশি উৎসাহী
– কিভাবে আপনি আপনার বিজনেস কে প্রকাশ করতে চান, প্রফেশনাল, ফ্রেন্ডলি এবং ফেমিনিন ভাবে প্রকাশ করতে চান?
– এখন চিন্তা করেন এগুলার সাথে কোন ধরন এর রঙ এবং ডিজাইন যায়, আপনি যে দর্শক ঠিক করলেন তারা কোন ধরন এর রঙ বেশি পছন্দ করে
– আপনার প্রতিযোগীরা কি ধরন এর স্টাইল ব্যবহার করছে, ব্যাপারটা এমন না যে আপনি সেখান থেকে কপি করবেন যখন আপনি চাইছেন উইনিক কিছু করতে তারপর ও জেনে রাখেন।

 

এক রকম ডিজাইন এ না থাকা

ব্রান্ডিং এ আর একটা বড় ভুল হচ্ছে ডিজাইন এ এক রকম না থাকা। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আপনি যখন আপনার যে কোন ডিজাইন ব্যবহার করবেন সেটা যেন সব জায়গায় এক রকম থাকে, এক এক সময় এক এক রকম ডিজাইন আপনার কাস্টমারকে দ্বিধায় ফেলে দেয় আর আপনার দর্শক হয়তো আপনাকে মনে ও রাখবে না।

একটা বড় ব্র্যান্ড এর কথা চিন্তা করেন, কোঁকা কোলা। তারা যদি তাদের লোগোতে এক এক জায়গায় এক এক রকম ফন্ট কালার ব্যবহার করতো অথবা লাল এর মধ্যেই বিভিন্ন শেড ব্যবহার করতো সেটা শুধু অপেশাদার ই হত না তাদের দর্শক ও এটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যেতো। মানুষ যখন কোথায় ঘুরতে যায় তখন কিন্তু তারা খুঁজে কোঁকা কোলা লেখা গাড়ি কোথায় আছে, এমন কি এখন সম্পূর্ণ নামের ও প্রয়োজন ও হয় না কোঁকা কোলার একটা অক্ষর দেখে ও মানুষ বুঝবে এটা কোঁকা কোলা।

কিভাবে এটা ঠিক করবেন

– সব জায়গায় এক রকম প্রোফাইল ফটো, কাভার ফটো ব্যবহার করবেন যেন মানুষ আপনাকে সহজেই চিনতে পারে। প্রোফাইল ফটো, কাভার ফটো আলাদা করে ডিজাইন করে নিলে ভালো হয় কারন অনেকেই গুগ্লে থেকে একটা ছবি নিয়ে কাভার ফটোতে দেয় যেটা অন্য কেউ ও দিতে পারে, সেখানে কিন্তু আবার আপনার দর্শক বিভ্রান্ত হয়ে যাবে।
-একটা কালার স্কিম ঠিক করেন এবং সব সময় সেটাই ব্যবহার করেন। প্রথমেই লেখা হয়েছে কিভাবে কালার এর ব্যাপারটা ঠিক করবেন। আর একটা ব্যাপার সেটা হচ্ছে অনেক বেশি রঙ দর্শককে বিভ্রান্ত করে তাই “Keep It Simple”
– দুইটা থেকে ৩টার বেশি লোগো ভেরিয়েশন করবেন না, তবে ভেরিয়েশন মানে এই না যে আপনি আপনার লোগোর ডিজাইন ই পরিবর্তন করে ফেলবেন। ধরেন আপনার অরিজিনাল লোগো সবুজ রঙ এর, সেটা আবার সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ড এ ফুটবে না তখন আপনি সবুজ রঙ পরিবর্তন করেন।
– আপনি কোন ডিজাইন এর জন্য স্টাইল ঠিক করলে চেষ্টা করেন সেটা ধরে রাখতে, যেমন আপনি প্রোডাক্ট এর ছবি দেয়ার জন্য একটা ডিজাইন করেছেন, লোগো, শেপ এর মাধ্যমে সেটা সব জায়গায় ব্যবহার করার চেষ্টা করেন তবে বিশেষ দিন, বিশেষ ছাড় এগুলাতে একটু অন্যরকম ডিজাইন করা যেতেই পারে তবে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই।

 

কিছু দিন পর ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি পরিবর্তন করা

এটা অনেকটা ২ নাম্বার পয়েন্ট এর মত, আপনি নিজেই চাচ্ছেন আপনার দর্শক আপনাকে ভুলে যাক। এখানে আপনার কিছু ভুল ও আছে যেমন প্রথমে যখন শুরু করলেন তখন চিন্তা করলেন এখন কোন রকম একটা লোগো, কাভার এ একটা গুগল থেকে ছবি ইত্যাদির মাধ্যমে শুরু করি, পরে ভালো করে করা যাবে, তাহলে এভাবে আপনি অনেক দর্শক এর কাছে পৌঁছালেন এরপর আপনি আপনার লোগো পরিবর্তন করলেন, তখন কিন্তু অনেকেই দ্বিধার মধ্যে পরে যাবে, আর আপনি যদি ঘন ঘন আপনার ব্র্যান্ড আইডেন্টিটির ডিজাইন পরিবর্তন করেন তাহলে দর্শক ও চিন্তা করবে আপনার মাইন্ড অনেক তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয় তাহলে কি এর সাথে কাজ করা ঠিক হবে কিনা।

আবারো বড় বড় কোম্পানির কথা চিন্তা করেন, তারা কিন্তু বছরের পর বছর তাদের লোগো পরিবর্তন করে নাই। আগেরটাই রেখেছে। তারা কি মনে করছে না যে তাদের লোগো আরো ইম্প্রুভ করা যাবে সেটা মনে করলে ও তারা যে ব্যাপারটা গুরুত্ব দিচ্ছে সেটা হচ্ছে তাদের ইতিমধ্যে পরিচিতি হয়ে গেছে সেই লোগোর মাধ্যমে।

কিভাবে এটা ঠিক করবেন

– কাজ চালানোর জন্য কোন রকম লোগো ডিজাইন নিবেন না, অনেকেই ফ্রি অথবা অল্প টাকাতে করাতে গিয়ে অনেক অনভিজ্ঞ ডিজাইনার এর কাছ থেকে লোগো বানায়, সেটা না করে প্রথমেই ভালো করে একটা লোগো বানান।
– নিজে করতে গেলে হয়তো অনেক কিছুই আপনি করতে পারবেন না যেটা আপনি চাচ্ছেন। সেখানে আপনি একজন দক্ষ ডিজাইনার এর সাথে কথা বলে, আপনার আইডিয়া তাকে দিয়ে, তার আইডিয়ার কথা শুনে একটা ভালো ডিজাইন করতে পারবেন।

 

অপেশাদার ডিজাইন করা

– অপেশাদার ডিজাইন কেমন, এই লেখার শুরুতে লিখেছি ধরেন আপনার পছন্দ পিঙ্ক কিন্তু আপনার বিজনেস অন্য রঙ এর কথা বলে, এখন আপনি যখন নিজে ডিজাইন করতে যাবেন অথবা অপেশাদার কাউকে ডিজাইন করতে দিবেন তখন কিন্তু তারা তাদের পছন্দের ডিজাইন নিয়ে আসবে ডিজাইন এ। তখন কিন্তু সেটা আপনার বিজনেস কে প্রকাশ করবে না, আপনার অথবা ডিজাইনার এর ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রকাশ করবে। আর আপনার ব্রান্ডিং যদি ঠিক মত না হয় সেটা আপনার বিজনেস এর উপর খারাপ প্রভাব পড়বে।

কিভাবে এটা ঠিক করবেন

আপনার বাজেট যদি কম থাকে তাহলে ও আপনি চেষ্টা করেন এমন একটা ডিজাইন করতে যেটার মাধ্যমে আপনার বিজনেস সঠিক ভাবে প্রকাশ পায়। আর মোট কথা হলো যতটা ভালো ভাবে করা যায়।

 

অন্যদের মত করে ডিজাইন করা

অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই বড় বড় কোম্পানির মত করে ডিজাইন করতে, হুবুহু না হলে ও আইডিয়াটা ওরকম রাখতে, ধরেন দেখা গেলো আমাজন এর যে লোগোর আইডিয়া সেটা কোন ভাবে তার লোগোতে কিভাবে দেয়া যায়। সেটা করা যাবে না। আপনি আপনার প্রতিযোগীর ডিজাইন দেখতে পারেন, সেটা ভালো ব্যাপার কিন্তু সেটা কপি করার জন্য না, সেটা থেকে কিভাবে অন্য ভাবে কিছু করা যায় সেটার জন্য। মনে রাখবেন মার্কেট নতুন জিনিস খুঁজে টাই কপি করবেন না। নতুন কিছু করেন।

কিভাবে এটা ঠিক করবেন

নিজে নিজে চিন্তা করে আইডিয়া খুঁজে বের করুন যেটা অন্যদের থেকে আলাদা, আপনাকে এটা একাই করতে হবে সেটা তো না, আপনার পরিচিত মানুষকে বলেন, বন্ধুদের বলেন তারা ও সাহায্য করতে পারে আপনাকে, কিন্তু এগুলার ওরকম কোন গুরুত্ব নাই, একটা হলে ও হলো, বড় কোম্পানির মত করে করলে মানুষ গুরুত্ব বেশি দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি এরকম চিন্তা আপনাকে দূরে নিয়ে যাবে। পিছিয়ে পরতে পারেন আপনি।

 

আরিফুল ইসলাম

Comments

comments

About The Author


আমি আরিফুল ইসলাম, লেখালিখি করতে ভালো লাগে, জেনেসিস ব্লগ এ লিখি গ্রাফিক ডিজাইন, আউটসোর্সিং ইত্যাদি বিষয়ে। এক বছর ধরে ফেসবুক মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং নিয়ে পড়াশুনা করছি, বেশ ভালো ও লাগছে, চেষ্টা থাকবে যা জানবো সেগুলি নিয়ে লিখতে। e-Cab কে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এখানে লেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আশা করি ভালো কিছু লেখা দিতে পারবো।

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *