বাজেট ও ইকমার্স

বাজেটে ই-কমার্সের স্বার্থ প্রসঙ্গ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

প্রতিবছর দেখা যায় বাজেটে কিছু বিষয় অন্তভূক্ত করা হয়। পরে সভা সমিতি করে সেগুলোলে রহিত করা হয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারী কর্তাদের ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ফ্যাক্ট না বোঝা। এজন্য আজকাল বিভিন্ন এসোসিয়েশন বাজেটের আগেই সরকারকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে থাকে। এখানে এরকম কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো।

 

নূন্যতম করের বিধান (Minimum Tax)

অর্থ আইন, ২০১৬ (৪৪ )-এর মাধ্যমে ৪২C প্রতিস্থাপন করে নূন্যতম করের (Minimum Tax) নতুন বিধান সন্নিবেশিত করা হয়। এই সংশোধনের  প্রেক্ষিতে সকল কোম্পানি করদাতা যাদের Gross Receipts বছরে ৫০ লক্ষ টাকার উপরে তাদের জন্য শিল্প ধরণ বিশেষে নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে টেলিকম ও সিগারেট কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য Gross Receipts এর ০.৬% নূন্যতম কর হার ধার্য করা হয়।

ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান খাত। এখনো কোনো ই-কমার্স কোম্পানী লাভের মুখ দেখেনি। তাই যেসকল কোম্পানি শুধুমাত্র ই-কমার্স কোম্পানি হিসাবে ব্যবসা পরিচলনা করছে এবং লোকসান’ পর্যায়ে আছে তাদের ক্ষেত্রে নূন্যতম কর Gross Receipts এর ০.১% ও যারা পরিচালনাগত মুনাফা করছে, তাদের ক্ষেত্রে নূন্যতম কর Gross Receipts 0.3% করার বিনীত প্রস্তাব করছি।

অনলাইন বিক্রেতারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অতি ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ও এই সকল ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বাসরবরাহকারীরা মূসক নিবন্ধনের আওতায় পড়ে না। তাছাড়া সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ক্যাশ লেস সোসাইটি বাস্তবায়নে এই প্রস্তাবনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।  আপাতত এই Gross Receipts সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে কোম্পানীগুলোর বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। ই-কমার্স খাত যখন বড় বিজনেস খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন দেশের অর্থনীতি এর থেকে ব্যাপক হারে লাভবান হবে।

 

অফিস ভাড়ার মূসক অব্যাহতি

অনলাইন পণ্য বিক্রয়’ একটি ‘তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা’ হলেও অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসার মতো অফিস ভাড়ার ক্ষেত্রে মুসক অব্যাহতি সম্পর্কিত কোনো সুস্পষ্ট এস আর ও নেই।

“অনলাইন পণ্য বিক্রয়” কোম্পানি হিসাবে ভ্যাট নিবন্ধন করা হলে অফিস/বাড়ি ভাডার উপর কোন ভ্যাট প্রযোজ্য হবেনা।

অনলাইন পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অফিস এবং গোডাউন ভাড়ার ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি  দেয়ার মাধ্যমে একদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাগণ তাদের ব্যবসাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে অন্যদিকে কোম্পানীগুলো অনলাইনের পাশাপাশি স্টোরহাইস নির্মানে উদ্ভুদ্ধ হবে। এতে করে সেবার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

 

ক্ষতির মাঝে থাকা কোম্পানির জন্য ন্যূন্যূতম কর মওকুফ করা

বর্তমানে ই-কমার্স খাতে ক্ষতির মধ্যে থাকা কোম্পানী সমূহের জন্য কোনোরকম প্রণোদনা নেই্ ফলে অনেক কোম্পানী ক্ষতির মধ্য থেকে বের হয়ে আসতে পারে না বা ঘুরে দাড়াতে পারে না। যেহেতু এই খাতে ভবিষ্যতে লেনদেন বাড়ছে সেহেতু বলা যায়, ক্ষতির মধ্যে থাকা কোম্পানীগুলো সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষতির মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য সর্বনিম্ন কর প্রযোজ্য না করার জন্য প্রস্তাব করছি। একটি কোম্পানী সর্বনিম্ন লাভ করার পর তার উপর ন্যূনতম করের বিধান প্রযোজ্য হবে।

ই-কমার্স উদোক্তারা প্রথম কয়েক বছরে মুনাফা অর্জন করতে পারছেন না। ন্যূনতম ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাবার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।

এর মাধ্যমে ব্যবসায় ঝরে পড়া হ্রাস পাবে এবং ই-কমার্সের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি বেগবান হবে। অনলাইন লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ, ক্যাশলেস সোসাইটি  এবং কর্মসংস্থানে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

ই-ক্যাব বাজেটের পূর্বেই প্রতিবছর এই প্রস্তাবগুলো দিয়ে থাকে।

850 total views, 3 views today

Comments

comments