সৃজনশীলতা

সৃজনশীলতা ব্যাপারটা কেমন?

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

জীবননান্দ দাস বলেছেন, সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি। অনেকে মনে করেন সৃজনশীলতা প্রাকৃতিক এটা অর্জন করা যায়না। কিন্তু আধুনিক যুগে বিভন্ন প্রশিক্ষণ, সফট স্কিল এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনসহ সৃজনশীলতার মতো ব্যাপারে ব্যক্তি ও গোষ্টির উন্নয়ন সম্ভব। তবে তার আগে আমাদের জেনে নেয়া উচিত সৃজনশীলতা কি সেটা কত প্রকার?

সৃজনশীলনা বা ক্রিয়েটিভিটি কি?

কোনো মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনার আলোকে কোনোকিছু নতুন করে তৈরী করাকে এবং কোনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চিন্তাকে সৃজনশীলতাতা বলে। সৃজনশীলতার আরেকনাম সৃষ্টিশীলতা। গল্প, কবিতা ও উপন্যাস, ডিজাইন করা, ও এনিমেশন। এগুলো একধরনের সৃজনশীলতা। আমেরিকা আবিষ্কার, সোনার খনি আবিষ্কার অন্য ধরনের সৃজনশীলতা। টেলিফোন আবিষ্কার, রক্তের গ্রæপ নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবনও সৃজনশীলতা।
যিনি সৃজনশীলতাতা চর্চা করেন বা সৃস্টিশীল হোন বা নতুন কিছু উপহার দেন তিনিই সৃজনশীল। এই সৃজনশীল বা সৃজনশীলতা কয়েক প্রকার হতে পারে।
উদ্ভাবনী সৃজনশীলতা:(Invention)
নতুন কিছু তৈরী করাই হলো উদ্ভাবন। যারা উদ্ভাবন করেন তারা উদ্ভাবনী সৃজনশীল। মানুষের প্রয়োজনের সাথে উদ্ভাবনী শক্তির এক সমন্বয় হলো উদ্ভাবনী সৃজনশীলতা। টমাস আলভা এডিসন চলচ্চিত্র আবিষ্কার করেন। এধরনের সৃজনশীলতা প্রথমে তৈরী হয় পরে মানুষের প্রয়োজনে এসবের অনুরুপী বা কপি তৈরী হয়। তবে কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর উন্নত সংস্করণও সৃজনশীলতাতা হয় যেমন। যেমন আমরা দেখতে পাই টমাস আলভা এডিসনের সে সিনেমার নানা পরিবর্তন এবং আমাদের হাতে থাকা মুঠোফোনের নানা পরিবর্তন ও উন্নয়ন।

কারিগরি সৃজনশীলতা: (Crafts)
কারিগরি জ্ঞান ও কাজে উৎকর্ষতার মাধ্যমে শিল্প সুষ্টি করা হলো কারিগরি সৃজনশীলতাতা। কারিগরি জ্ঞান মানুষের শিল্পমাধ্যমকে নতুন মাত্রা দিয়ে থাকে। কারিগরি বিষয় সমূহ নতুন ভাবনা আনার জন্য সৃজনশীল মনন এর প্রযোজন হয়। কারিগরি সৃজনশীলতা মানুষের প্রয়োজনে বিকশিত হয় এবং সারসরি মানুষের জীবনকে আকৃষ্ট করে। যেমন কার্পেন্টার, হস্তশিল্প, কম্পিউটারের নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

সংযোগকারী সৃজনশীলতা: (Connecting)
এ ধরনের সৃজনশীলতাতা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। যারা এই নতুন চিন্তা করেন তারা সমাজে পরিবর্তন এনে দেন চিন্তার দ্বারা এবং মানুষের অভ্যাস ও কাজে পরিবর্তন ঘটান। এ ধরনের আদর্শিক সৃজনশীলতাতার মাধ্যমে নতুন রীতি চালু করার নাম সংযোগকারী সৃজনশীলতাতা। এর দ্বারা আগের ও পরের আচরনের মধ্যে একটা সংযোগ স্থাপিত হয়। যেমন, রাজা রাম মোহন রায় ও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বেগম রোকেয়া সমাজ পরিবর্তনে কাজ করেছেন।
তত্বাবোধিনী সৃজনশীলতা: (Curator)
এটা বিশাল ব্যাপার যে, কারো একটা আবিষ্কার বা উদ্ভাবন মানুষের আচরণ বা অভ্যাসকে শুধু পরিবর্তন নয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের উদ্ভাবন এর মাধ্যমে তারা কিছু বিষয়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে যেমন তাদের তত্বাবধানেই সবকিছু চলছে। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত আরেকজন তত্বাবোধক বা নিয়ন্ত্রক সৃজনশীল মানুষ প্রভাবশালী কোনো কিছু পেশ না করছেন। কিছু কিছু লোকই কেবল এই বড়কিছু আনতে পারেন যেমন স্টিভ জবস, বিল গেটস প্রমূখ।

বিশ্লেষনী সৃজনশীলতা: (Critic)
এ ধরনের সৃজনশীলতাই আমাদের দেশে আমরা সৃজনশীলতাতা হিসেবে গন্য করি। এসবের প্রভাব সমাজে কতটা পড়ে সেটা মূল্যায়ন করা কঠিন। গান, কবিতা, গল্প, চিত্র, নকশা এসবই হলো বিশ্লেষণী সৃজনশীলতা। এগুলোতে সৃজনকারীর নিজ¯ স্বাধীন চিন্তা প্রতিফলিত হয়।
বর্তমান সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার আমি সত্যিকার সৃজনশীল শিক্ষার কথা বলছি। যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, শিক্ষা হতে হবে প্রয়োগ বা বাস্তব ধর্মী। শিক্ষা জীবনমুখী হবে এবং প্রাত্যহীক সার্বজনীন বাস্তবতার চাহিদা পূরণে কাজ করতে পারবে। আর শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিজীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে থেকে সেই জীবমুখী জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটাবে।
যদিও বাস্তবকা একেবারে ভিন্ন। একেতো পাঠক্রম বা সিলেবাস সময়উপযোগী নয় তারউপর সৃজনশীল পদ্ধতিও অগোছালো আর তার ব্যবহার হচ্ছে ভুলভাবে। তাই আজকাল সিলেবাসের বাইরের পাঠক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সূত্র: বই- ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং, লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

3,660 total views, 11 views today

Comments

comments