ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের ই-কমার্সের উপরে এক সেমিনারে যোগদান করেন। উক্ত সেমিনারের আলোচনার বিষয়বস্তু একটু ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। এ সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। সেমিনারে তিনি যে বক্তৃতা প্রদান করেন তা এখানে ই-ক্যাব ব্লগের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে দিচ্ছি। যেসব তরুণ-তরুণী ই-কমার্স ব্যবসায় করতে আগ্রহী তারা এ প্রবন্ধটি পড়ে উপকৃত হতে পারবেন।

Topic……………‘E-commerce in Bangladesh: A Mountain of Hope or a Bubble Yet to

Burst?’

Organizer……… BRAC University Business Club (BIZ BEE)

Date……………  Wednesday, February 17, 2016

Venue………….  BRAC University Auditorium

প্রথমেই আমি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাই এরকম ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় নিয়ে সেমিনার আয়োজনের জন্যে। ই-কমার্স নিয়ে বাংলাদেশে এখন চারিদিকে যে হৈ-চৈ হচ্ছে তা আসলে কতটা বাস্তবসম্মত? নাকি এটা একটা বুদবুদের মতো যা কিছু সময় পরে ফেটে যাবে। বাংলাদেশের বিগত কয়েকবছরের ঘটনার প্রেক্ষিতে এ প্রশ্নটা যে কারো মাথায় আসাই স্বাভাবিক। ২০১০ সালে আমরা শেয়ারবাজারের ধ্বস দেখেছি। দেখেছি কিভাবে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তাদের অর্থসম্বল হারিয়েছেন। তারপরে ডেসটিনি। এরকম আরো বেশ কিছু ঘটনা আমাদের সামনে ঘটেছে এবং এসব ঘটনা আমাদের অনেক তরুণদের মনে একধরণের সন্দেহ তৈরি করেছে যে ই-কমার্স কি  শেয়ারবাজার বা ডেসটিনির মতো আরেকটি হুজুগ/বুদবুদ হবে কিনা?

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি বলতে পারি যে বাংলাদেশে বর্তমানে ই-কমার্স যে পর্যায়ে আছে তাকে আসলে আমরা ই-কমার্স বলতে পারি না। মোটা দাগে বাংলাদেশে ই-কমার্স এখনো শুরুই হয় নি। কথাটা শুনে আপনারা হয়তো চমকে উঠতে পারেন কিন্তু এটাই নিরেট বাস্তব। আপনাদের সবার এখন মনে প্রশ্ন জাগছে -বাংলাদেশে ই-কমার্স শুরুই হয় নি এটা কি করে হয়?

10320556_1712787072290617_4471030356093542924_n

প্রথমে ই-কমার্সের শুরু কথাটা সংক্ষেপে বলি। ২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশে অনলাইন স্টোর চালু হয়। মুন্সিজি ডট কম ছিল প্রথম অনলাইন স্টোর। এ সময়ে বেশ কিছু অনলাইন স্টোর চালু হয় কিন্তু এসব স্টোরে বাংলাদেশের স্থানীয় লোকেরা কেনাকাটা করতে পারত না। কারণ বাংলাদেশে তখন অনলাইনে লেনদেন অবৈধ ছিল।আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন যে তাহলে এসব অনলাইন শপগুলো কিভাবে টাকা আয় করত? এসব অনলাইন শপগুলো ছিল মূলত গিফট শপ। অনেকের বাংলাদেশে অফিস থাকলেও আসল অফিস ছিল বাইরে।যারা এসব সাইট চালাতো তারা প্রবাসে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে পার্টনারশীপে এ ধরণের ওয়েবসাইট চালাতে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এসব স্টোর থেকে গিফট আইটেম কিনতেন দেশে বসবাসরত আত্মীয়দের জন্যে। বাংলাদেশের অফিসে শুধু ক্রয়কৃত উপহারটা ক্রেতাকে দিত। কিন্তু লেনদেন হতো দেশের বাইরে। ওয়েবসাইট ডোমেইনও কেনা হতো বাইরে। অনেকের বন্ধু, আত্মীয় এদের ধরে ওয়েবসাইট কিনত। খুব কম লোক তখন ইন্টারনেট ব্যবহার করত। ইন্টারনেটের ব্যাণ্ডউইথের দাম ছিল অনেক। দেশে অনলাইনে লেনদেন করার কোন আইন-কানুন ছিল না, ইন্টারনেটে জিনিসপত্র কিনে কারো টাকা খোয়া গেলেও কিছু করার ছিল না, অভিযোগ গ্রহণ করার মতো কোন সংস্থা ছিল না।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক প্রজ্ঞাপন জারি করে অনলাইনে লেনদেন চালু করে । এরপরের ছয় বছরে বেশ কিছু ই-কমার্স সাইট চালু হয়।কিন্তু তারপরেও ই-কমার্স শুরু হয় নি। কেন?

প্রথমে আমরা “ই-কমার্স” শব্দটার দিকে তাকাই। ই-কমার্স একটি সংক্ষেপিত শব্দ। পুরো শব্দটা হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স।

এবার আমরা দেখি উইকিপিডিয়াতে ইলেকট্রনিক কমার্সের কি সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

“Electronic commerce, . . . . . . .is the trading or facilitation of trading in products or services using computer networks, such as the Internet. Electronic commerce draws on technologies such as mobile commerce, electronic funds transfer, supply chain management, Internet marketing, online transaction processing, electronic data interchange (EDI), inventory management systems, and automated data collection systems.”

সোজা বাংলায় ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পাদিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকেই বলা হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স এবং সংক্ষেপে ই-কমার্স।

এখন বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে তাকাই। বাংলাদেশের ওয়েবসাইটগুলোতে এখন অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে টাকা প্রদান করা যায় কিন্তু ৯৯% কেনাকাটা কার্ডে সম্পাদিত হয় না। অর্থাৎ মানুষজন অনলাইনে পণ্য দেখছে কিন্তু কিনছে না। প্রশ্ন হলো তারা কিনছে কিভাবে? ক্যাশ-অন-ডেলিভারি। অনলাইন বুকশপ রকমারি ডট কম এ ধারণাটা জনপ্রিয় করে। পণ্য হাতে পাবার পরে টাকা দেয়া। অর্থাৎ বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ অনলাইনে হয়তো ওয়েবসাইট দেখে এবং পণ্য ব্রাউজ করে কিন্তু আসল যে অংশ অর্থাৎ অনলাইনে বাণিজ্য বা লেনদেন তা করে না। ই-কমার্স সাইটগুলোতে যত লেনদেন হয় তার মাত্র ১% হয় অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে বাকিটা এখনো ক্যাশ-অন-ডেলিভারি।

বাংলাদেশে এখন কয়েক’শ ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে। ই-ক্যাব এর সদস্য হয়েছে তিনশ’র বেশি প্রতিষ্ঠান।ই-ক্যাব এর সভাপতি হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়্ এবং এদের সবাই ক্যাশ-অন-ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যবসা চালান।

বাংলাদেশে ই-কমার্সের চেয়েও জনপ্রিয় হচ্ছে এফ-কমার্স বা ফেইসবুক কমার্স। অনেক ছোট ছোট উদ্যোক্তা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ফেইসবুকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রী করছে। এরকম পেইজের সংখ্যা বর্তমানে এক হাজারের বেশি। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট চালু করতে গেলে একজন উদ্যোক্তাকে দশ হাজার/বিশ হাজার টাকা খরচ করতে হয় কিন্তু ফেইসবুক পেইজ খুলতে কোন খরচই করতে হয় না। আর ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রচুর এবং তারা বয়সে তরুণ। এখানেও লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ক্যাশ-অন-ডেলিভারি।

তাই সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে আমরা ই-কমার্স এখনো চালু করতে পারিনি। এটা হতে একটু সময় লাগবে।

এবার আসি আরেকটি কথায়- ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এবং যে কেউ ই-ক্যাব এর সদস্য হতে পারে না। সদস্য হতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতগুলো শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলোর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান শর্তই হচ্ছে উক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে ট্রেড লাইসেন্সে ”ই-কমার্স” বলে আলাদা কোন ক্যাটেগরি নেই। বেশিরভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সে “আইটি” বা “কম্পিউটার ব্যবসায়ী” এরকম লেখা। যেখানে এখনো ই-কমার্স একটি আলাদা ব্যবসা সেটাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয় সেটা নিয়ে কিভাবে বুদবুদ তৈরি হবে।

এবার আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিকে একটু তাকাই। ২০০৯ সাল থেকে ভারতের ই-কমার্স সেক্টর ৩৪% কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট ধরে রেখেছে। ২০১৪ সালে দেশটিতে ই-কমার্স বাজারের আকার বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ডাটাবেস সিবি ইনসাইটস এর মতে ২০১৫ সালের মধ্যে এটি বেড়ে ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌছবে। ভারতের ই-কমার্সের মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ট্যুরিজম সেক্টর (৭১%)। ই-রিটেইল (সংক্ষেপে ই-টেইল) ও খুবই দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় ই-টেইল বাজারের আয়তন ৬ বিলিয়ন ডলার। যত বেশি মানুষ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি, ব্রডব্যাণ্ড এবং থ্রিজি ব্যবহার করবে তত বেশি ই-টেইল বাজার বাড়তে থাকবে।

আরেকটি বড় ব্যাপার হচ্ছে ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেক ২৫ বছরের কম বয়সী। বর্তমানে ভারতের মধ্যবিত্ত জনসংখ্যা ২৫কোটি এবং ৬০ কোটি হবে ২০২০ সালে। বিডিও রিসার্চের তথ্যমতে ২০১৫ সালে বিশ্বের মোট ই-কমার্স চুক্তির ১০% ভারতে হয়েছে। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৪%। এসব চুক্তি ভারতের আভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানের কারণে হচ্ছে না। গতবছরে সম্পাদিত মোট ৪৫টি চুক্তির মধ্যে মাত্র ১৬টি ছিল ভারতীয় ই-কমার্স কম্পানি। ভারতের ক্রেতারা খুব সহজেই স্মার্টফোন থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারছে।

গত বছরের মে মাসে ব্লুমবার্গ ভিউ “Beware India’s E-Commerce Bubble” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয় যে, বিগত ১৫ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা হেজফাণ্ড প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজার, এবং ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ভারতের ২৬টি ই-কমার্স স্টার্ট-আপ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান যারা ফাণ্ড পেয়েছে তারা সবাই দীর্ঘদিন বাজারে টিকে থাকতে পারবে না একসময় অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদেরকে যুক্ত (Merge) হতে হবে।

এপ্রিল ২০১৩ থেকে মার্চ ২০১৪-এই এক বছরের মধ্যে অ্যামাজন.কো.ইন, ফ্লিপকার্ট, এবং স্ন্যাপডিল এর সমন্বিত বিক্রীর পরিমাণ ৮৫ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের সমন্বিত ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ ১৬০ মিলিয়ন ডলার।

২০১৬ সালের ইটি রিটেইল ডট কম এর রিপোর্ট অনুসারে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে অ্যামাজন ইন্ডিয়ার নেট লস এর পরিমাণ ১৭২৪ কোটি রুপি।

ভারতে এখন তিনটি ই-কমার্স সাইট সবচেয়ে বড়-অ্যামাজন ইন্ডিয়া, স্ন্যাপডিল এবং ফ্লিপকার্ট। গত বছরে এ তিনটির সমন্বিত নেট লস এর পরিমাণ ৫,০৫২ কোটি রুপি। এই বিশাল ক্ষতির পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ না করে ভারতের ই-কমার্স বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ নেবার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্যে তারা ক্রেতাকে ব্যাপক ডিসকাউন্ট দিয়ে সাইট থেকে পণ্য কিনতে আকৃষ্ট করছে। এর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগ, বিজ্ঞাপন খাতে তারা প্রচুর খরচ করছে। ফলে লাভ করতে পারছে না।

ফ্লিপকার্ট বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং এর দুটি ব্যবসা আছে। এ প্রতিষ্ঠানটিও ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ২০০০ কোটি রুপি লস দিয়েছে। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে এর লসের পরিমাণ ছিল ৭১৫ কোটি রুপি।

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে স্ন্যাপডিলের নেট লস ১৩২৮ কোটি রুপি।

ভারতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার ধরে রাখার জন্যে এভাবে ক্ষতি সহ্য করে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে।

আপনাদের সবার বাসায় কেবল টিভি চ্যানেল আছে এবং ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল খুললেই কিছুক্ষণ পর পর অ্যামাজন ইন্ডিয়া, নয়তো স্ন্যাপডিল নয়তো পেপারফ্রাই ডট কম একটা না একটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কয়দিন পর পর বিভিন্ন স্টার্ট-আপ ফান্ড পেয়েছে বা সিড মানি পাচ্ছে এরকম সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

এখন বাংলাদেশের দিকে একটু তাকাই। বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরে কিন্তু এখনো এ পর্যায়ে পৌছাতেই পারেনি। সে বিবেচনায় বাংলাদেশে ই-কমার্স নিয়ে এত হৈচৈ শুরু হয়নি।  তাই বাংলাদেশে ই-কমার্স নিয়ে বর্তমানে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাকে আসলে “বুদবুদ” না বলে “উদ্দীপনা” বলাই যথোপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি।

আর আশার কথা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের ই-কমার্স যেন আরেকটা হুজুগে পরিণত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরের সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই ২০১৪ সালে ই-ক্যাব আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ই-ক্যাব এর সাথে আমি প্রথম থেকেই আছি এবং

ই-ক্যাব ইসি কমিটিতে যারা যারা আছেন আমরা সবাই এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করছি যে ই-কমার্স যেন আরেকটা শেয়ার বাজার না হয়। বাংলাদেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের প্রায় সবাই তরুণ। তারা সবাই ফেইসবুক ব্যবহার করে। ই-ক্যাব চালু হবার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ই-ক্যাব ফেইসবুক গ্রুপ চালু করি। বর্তমানে এ গ্রুপে ১৭,০০০ এর বেশি সদস্য আছে। যে কেউ এ গ্রুপের সদস্য হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ গুলোর মধ্যে ই-ক্যাব সবচেয়ে সক্রিয়। ই-কমার্স করতে যারা ইচ্ছুক, যেসব তরুণ-তরুণী ই-কমার্স ব্যবসা করছেন, বা যারা করতে চান অনেকে এ গ্রুপের সদস্য হয়েছেন এবং তারা আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। আমি তাদের সাথে নিয়মিত কথা বলি ই-কমার্স এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এছাড়াও ই-ক্যাব এর নিজস্ব ব্লগ আছে যেখানে বাংলা ভাষায় ই-কমার্সের উপরে তিনশ’র বেশি আর্টিকেল আছে। অন্যকোন ওয়েবসাইটে ই-কমার্স নিয়ে বাংলাতে এত কন্টেন্ট নেই। একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরু করার আগে কি করবেন, কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন, তার ব্যবসার স্ট্রাটেজি, মার্কেটিং, বিদেশের বিখ্যাত ই-কমার্স সাইট নিয়ে বিশদ লেখা, প্রায় সব কিছুই এ ব্লগে আছে এবং এটি সবার জন্যে উন্মুক্ত। যে কেউ এগুলো নিয়ে পড়তে পারে। এত সব কিছু করার পিছনে আমাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে যে যারা ই-কমার্স ব্যবসায় আসতে চায় তারা যেন সব কিছু পড়ে জেনেশুনে তারপরে যেন সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবে কি করবে না। আমার সাথেও অনেকে কথা বলেন এবং আমিও ব্যক্তিগত ভাবে তাদেরকে এ কথাটাই বলি যে ই-ক্যাব ফেইসবুক গ্রুপে আগে জয়েন করুন। সবার সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের যারা ব্যবসায়ী আছে তাদের সাথে কথা বলুন। ই-ক্যাব ব্লগের প্রতিটি আর্টিকেল নিয়মিত মনযোগ দিয়ে পড়ুন এবং সেই পরামর্শ মতো কাজ করে নূন্যতম ছয়মাস সময় নিয়ে জেনে বুঝে তারপরে ব্যবসা শুরু করুন নয়তো আপনাদের শুধু টাকাই নষ্ট হবে।

গত বছরে ই-ক্যাব বেশি কাজ করতে পারে নি কারণ গত বছরে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড লাইসেন্স, সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন, এবং এফবিসিসিআই এর সদস্যপদ লাভ করি। বাংলাদেশে ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন গুলোকে কাজ করতে হলে এগুলো লাগে। আমরা এদিকেই ব্যস্ত ছিলাম গত বছরে । কিন্তু তারপরেও আমরা বসে থাকি নি। জুলাই মাসে আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র জনাব সাঈদ খোকনের সাথে দেখা করে তাকে ট্রেড লাইসেন্সের এ সমস্যা সম্পর্কে অবগত করি। তিনি তার অফিসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল এবং সময় সাপেক্ষ কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী যে আমরা ট্রেড লাইসেন্সে ই-কমার্স নামে আলাদা ক্যাটেগরি যুক্ত করতে পারব।

পরিশেষে আমি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, যারা ই-কমার্স উদ্যোক্তা হতে চাও বা ই-কমার্স সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাও তাদের এটাই পরামর্শ দেব যে হুজুগে পড়ে বা কারো কথায় হঠাৎ করে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু কোর না। ই-ক্যাব ফেইসবুক গ্রুপে তোমরা যোগ দাও। ফেইসবুকের পোস্টগুলো নিয়মিত পড়। ই-ক্যাব ব্লগ নিয়মিত পড়ো। ই-ক্যাব এর সেমিনার গুলোতে থাক তাহলে ই-কমার্স সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞানের পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে এবং তখন তোমরা অনেক ভাল করতে পারবে। ই-কমার্স মোটেও ঘরে বসে আরাম করার ব্যবসা নয়। একজন সাধারণ উদ্যোক্তাকে যতটা কষ্ট করতে হয় একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তাকে ব্যবসা চালাতে আরো বেশি কষ্ট করতে হয়। তাই আগে ভালভাবে পড়, জান, বোঝ এবং তারপরে সিদ্ধান্ত নাও।

ধন্যবাদ।

849 total views, 5 views today

Comments

comments