ফেসবুক মার্কেটিং

প্রায় প্রতিদিন অনেকেই ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে চান। সবাইকে একই ধরনের প্রশ্ন করতে দেখি এবং আমি একই ধরনের উত্তর দিয়ে থাকি। সেজন্যই একটু লেখার চিন্তা করলাম। আগেই বলে নিচ্ছি আমি ফেসবুক মার্কেটিং এক্সপার্ট না আমার শুধুমাত্র বেসিক কিছু ধারনা আছে সেই আলোকেই লিখছি।
বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কর্মাস বা অনলাইন ভিত্তিক সেবা প্রদানের হার ক্রমাগত হারে বাড়ছে আর সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনলাইন মার্কেটিং তথা ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যবহার। ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা অংশ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। আর ফেসবুক মার্কেটিং হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর একটা অংশ। তবে এই পদ্ধতিটি বহুল আলোচিত এবং ব্যবহৃত। ফেসবুক মার্কেটিং আবার ২ ধরনের পেইড এবং অর্গানিক। আমি পেইড মার্কেটিং নিয়ে কথা বলছি। ফেসবুকের নিয়ম অনুসারে যাদের বিজনেস পেজ আছে তারা সবাই পেইড এডভার্টাইজিং করতে পারবে এবং এর সাধারন নিয়মগুলো খুবই সহজ কিন্তু সমস্যা যেখানে শুরু সাধারন ব্যবহারকারীদের সেটা হল পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে। ফেসবুকে সাধারনত দুইভাবে পে করা যায় পেপাল এবং ক্রেডিটকার্ড দিয়ে। বাংলাদেশ যেহেতু পেপাল নেই সেহেতু এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। আর ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা নিয়ে রয়েছে একটু ঝামেলা। কারন ফেসবুকে পেমেন্ট করতে হয় ডলারে। বাংলাদেশ থেকে ডলার মুদ্রার প্রচলিত মাধ্যম গুলোর একটি হল ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিটকার্ড যার মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশি টাকাকে ডলারে রুপান্তর করতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হল আমাদের মত সাধারন ব্যবহারকীরা সেটা খুব সহজেই পায় না। এটার জন্য সাধারনত বিদেশ ভ্রমন/ আমদানী-রপ্তানী ব্যবসা/ ৬ মাসের ভালো ব্যাংক লেনদেন থাকতে হয়। তারপরও অনেক সময় এটা পাওয়া মুশকিল আর এছাড়াও খরচের একটা লিমিটও থাকে। অন্য একটি পদ্ধতি হচ্ছে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে তারা তাদের অর্থ উত্তোলনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড পেয়ে থাকেন (যেমন: পেওনিয়ার)সেটি ব্যবহার করে পেমেন্ট করা যায়। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হয়েও থাকেন বা অন্য কোন ফ্রিল্যান্সার এর কার্ড ব্যবহার করে থাকেন তাহলে যে সমস্যাটি হবে সেটা হল আপনার কাছে পর্যাপ্ত ডলার না থাকলে আপনাকে অনেক ছড়া দামে ডলার ক্রয় করতে হবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আরো একটি পদ্ধতি হল নেটেলার ক্রেডিটকার্ড এটি আপনি নিজের নামেই খুলতে পারেন তবে এখানেও সেই আগেরমত ডলারের ছড়া দাম এবং প্রাতারিত হওয়ার বিষয় আছে। এছাড়া আরো সমস্যা একটি সমস্যা হল নেটেলার কার্ড ব্যবহারের কারনে অনেক সময়ই ফেসবুক আপনার এড একাউন্টটি বন্ধ করে দিতে পারে।
উপরে উল্লেখিত ৩ টি পদ্ধতির মধ্যে প্রথমটি সুবিধা জনক হলে এটি খুব সহজলভ্য নয়। আর ফ্রিল্যান্সার না হলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পদ্ধতি খুবই অনিরাপদ এবং ঝামেলার।

এখন কথা হচ্ছে আপনি চাইলে উপরের যেকোনটি বেছে নেয়ার ঝুকি নিতে পারেন। এবং সাথে ভালো ফলাফল এর জন্য আপনার অনলাইন মার্কেটিং দক্ষতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।
আরেকটি সমাধান হচ্ছে ভালো কোন ফেসবুক মার্কেটিং এ দক্ষ এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ কারানো। কিন্তু এখানো সমস্যা হচ্ছে নতুন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাধারনত বাজেট কম থাকে এছাড়া তারা প্রায়শই চিন্তা করেন এড দিতে শুধু ডলার খরচ হয় তাহলে মাকের্টাররা কেন এত টাকা বিল চায়। এখানে খুব সহজ একটা উদাহরন দেই আমার টিভিতে যে বিজ্ঞাপন দেখি এর পেছনে একটু দেখি বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য চ্যানেলকে টাকা দিতে হয় সাধারন অর্থে আর কোন টাকা লাগার কথা না কিন্তু বিজ্ঞাপনটির আইডিয়া, তৈরি এবং প্রচার কৌশল এর জন্য আরো অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ঠিক তেমনি ফেসবুক মার্কেটিং এর জন্য বিজ্ঞাপন আইডিয়া, বিজ্ঞাপন তৈরি এবং প্রচার কৌশল এর জন্য আপনাকে খরচ করতেই হবে এক্ষেত্রে আপনাকে মার্কেটার সাহয্য করবে এবং এজন্যই আপনি তাকে পে করবেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে প্রচার কৌশল নির্ধারনের মাধ্যমে যথাযথ কাস্টমারের কাছে বিজ্ঞাপন পৌছে দেয়া, যেটি একজন দক্ষ মার্কেটার খুব ভালো ভাবেই পারেন।

এখানে আমার জানা সকল পদ্ধতির ভালো-মন্দ দুটো দিক নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করিছি কোনটি আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে সে সিদ্ধান্ত আপনার।

বোনাস: একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা

“পন্যের দামসহ ছবি কখনো বিজ্ঞাপন নয়। কাস্টমারের কাছে আপনার সেবা এবং পণ্যের ভ্যালু উপস্থাপন করাই হচ্ছে বিজ্ঞাপন”

সুযোগ পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করব।

পরিশেষ: ফেসবুক মার্কেটিং বিষয়ে আমার এ লেখাটি নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আমার মত নতুন এবং সাধারন ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে লেখা অভিজ্ঞজনরা সহজ এবং উদার দৃষ্টিতে দেখবেন।

1,419 total views, 1 views today

Comments

comments