ফেইক অর্ডার নিয়ে কিছু কথা

853
fake-companies-list-announced-by-tcs-and-ibm-2015

ই-ক্যাবের উত্তরা মিটআপে আজকে বেশ গোছানো কিছু আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন তাদের ব্যাবসা পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব সমস্যায় পড়ছেন তা ব্যক্ত করেছেন। সত্যি বলতে এধরনের মুক্ত আলোচনা অনেক হওয়া দরকার এবং এ খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে কি কি ধরনের বাধা রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করা দরকার। কারন সমস্যা সঠিক ভাবে নির্নয় না করতে পারলে সমাধান বের করা মুশকিল।

আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উঠে এসেছে যার মধ্যে অন্যতম একটি ছিলো “ফেইক বা ভুয়া অর্ডার আসা”।
এটি নিয়ে বেশ লম্বা আলোচনা হয় এবং অনেকেই তাদের মূল্যবান মতামত দিয়েছেন এ বিষয়ের উপর।
এ বিষয়ে আমার কিছু বলার ছিলো তবে সময়ের অভাবে বলার সুযোগ বের করতে পারিনি, তাই ভাবলাম গ্রুপে পোষ্ট আকারে দিলে আরও অনেকেই জানতে পারবেন।
ফেইক অর্ডারের ব্যাপারটিকে আমি একই সঙ্গে নেতিবাচক হিসবে দেখি আবার সেই সঙ্গে ইতিবাচক হিসেবেও দেখি।
নেতিবাচক এই অর্থে কারন ফেইক অর্ডার বিক্রেতাকে প্রথমত ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, মূল্যবান সময় অপচয় করে, অর্থের অপচয় হয় এবং সেই সঙ্গে একজন বিক্রেতাকে আশাহত করে দেয়।
এটি আসলে এককালীন কোনো বড় লসের কারন না হলেও একটা বার্ষিক হিসাব টানলে এর অংকটা একেবারেই এড়িয়ে যাওয়ার পর্যায়েও থাকে না। মাসিক বা বার্ষিক হিসাব টানতে গেলে একজন উদ্যোক্তাকে ফেইক অর্ডারের ফিগারটা মানষিক ভাবে দূর্বল করে দিতে পারে এটাই স্বাভাবিক।

কেন ফেইক অর্ডার ইতিবাচক?
ফেইক অর্ডার ইতিবাচক হিসেবে নিতে গেলে প্রথমেই যে দিকটিকে আমার মতে প্রাধান্য দিতে হয় তা হচ্ছে কিভাবে অনলাইনে অর্ডার করতে হয় একজন ক্রেতা তা শিখতে পারেন।
খেলা মাঠে গড়ানোর আগে যেমন নেট প্রাক্টিস খুব সহায়ক হিসেবে কাজ করে, একজন কাস্টমার ফেইক অর্ডার করলে তার অর্ডার করার পদ্ধতি রপ্ত হয় বারবার। এক কথায় ক্রেতা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দ্বিধা এবং সমস্যা ছাড়াই অনলাইনে অর্ডার করতে পারবেন।
এবং এরাই হবে ভবিষ্যতের পটেনশিয়াল কাস্টমার।
যারা ফেইসবুকে বা ফোনকলে অর্ডার নিতে অভ্যস্ত তাদের জন্য এটি বেশ পিড়াদায়ক। ক্রেতারা অধিকাংশ সময়ই নানান ধরনের অজুহাত দেখিয়ে, অর্ডার করার পরে তা আবার কান্সেল করে দেন ইচ্ছা করেই, এধরনের কিছু অভিজ্ঞতার কথাও আজকে শুনলাম।

এবার ছোট্ট একটা গল্প শেয়ার করি।
“একবার এক লোক মার্কেটে গিয়েছে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ঘুরে পণ্যের দাম যাচাই করতে। কোনো কিছু কেনার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো না। অর্থাৎ তিনি নিতান্তই একজন ফেইক কাস্টমার।
কয়েক দোকানে ঢুকে এলোমেলো দরদাম করে কেনার থেকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। এবার এক দোকানে এসে একটি টি-শার্টের দাম জানতে চাইলে ওপাশ থেকে দোকানীর উত্তর আসে ৫০০ টাকা। স্বভাবতই সেই কাস্টমার দাম বললো ১০০ টাকা। এবার দোকানী ১০০ টাকাতেই তার কাছে বিক্রি করতে রাজি হয়ে গেল। কাস্টমার তো এবার বিপাকে পড়ে গেল। পণ্যের গুনগত মান থেকে শুরু করে সবকিছুই ১০০% ঠিকঠাক। ক্রেতা এবার অহেতুক অজুহাত দেখাতে গিয়েও হেরে গেল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে টি-শার্টটি কিনতেই হলো কারন দোকানী বা পণ্যের কোনো প্রকার ত্রুটি সে খুঁজে পেলো না।
এরপর থেকে সেই ক্রেতা এই অভিজ্ঞতা হওয়ার পর আর কোনোদিনও অহেতুক দরদাম করার দঃসাহস করেনি।”
ঠিক এভাবেই ই-কমার্সের অবস্থাও এক সময় ঘুরে দাঁড়াবে। যদি আমরা বিক্রেতারা শতভাগ ত্রুটি মুক্ত হয়ে যেতে পারি এবং ক্রেতারাও সচেতন হতে থাকে, ফেইক অর্ডার এক সময় যাদুঘরে তোলা থাকবে।
একটি খাত যখন নতুন করে উঠতে শুরু করে তখন এর অবকাঠামো দাঁড় হতে বেশ সময় লাগে এবং এই সময়টা পর্যন্ত সবার ধৈর্য ধারন করে সেবা দিতে হয়, সেই খাতের যত্ন নিতে হয়, কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
আমরা চেষ্টা করতে থাকি দিন দিন আমাদের পণ্যের এবং সেবার মান আরও উন্নত করতে, ক্রেতার দিক থেকেও এক সময় দেখবেন অনেক ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *