প্রোডাক্ট সোর্সিং ও ই-কমার্স

834
9f74bb_4bb0213e45134043aec5d07d6ff9a954

প্রোডাক্ট সোর্সিং ও ই কমার্স
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পন্য বা সেবার ধরণ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন পক্রিয়া হলেও কিছু মৌলিক বিষয় প্রায় একই রকম। প্রোডাক্ট সোর্সিং এর রয়েছে বিভিন্ন উপায় ও বিভিন্ন ধাপ। সেগুলোর রয়েছে নানা সুবিধা-অসুবিধা। ব্যবসায় মানেইতো কোনো পন্য বা সেবা অথবা তথ্য কারো কাছ থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো আবার অন্যকারো কাছে বাজারজাত করা। অথবা কোনো পন্য ও সেবাকে এক অবস্থায় থেকে কিনে কিছুটা পরিবর্তন করে বা না করে পূন:বিক্রয় করে দেয়া। যেহেতু প্রথমভাগে রয়েছে পন্য বা সেবাকে কোনো সূত্র হতে সংগ্রহ বা ক্রয় করতে হবে। এই ক্রয় করার জন্য পন্যটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করাই হলো প্রোডাক্ট সোর্সিং বা পন্যসূত্রীকরণ। একটি পন্যের দাম- মান অন্যান্য গুনাগুন, উৎপাদন পক্রিয়া, উৎপাদনের উপাদান ইত্যকার বিষয় সঠিকভাবে সঠিক সময়ে জানাকেই বলে প্রোডাক্ট সোর্সিং।

সর্বোতভাবে সোর্সিং বা সূত্রীকরণ ২ প্রকার, যেমন – ডোমেস্টিক বা আভ্যন্তরীণ সোর্সিং ও গ্লোবাল সোর্সিং

ডোমেস্টিক বা আভ্যন্তরীণ সোর্সিং সুবিধাসমূহ :
১. দ্রুত সরবরাহ ও বন্টন
২. ক্রেতাদের আস্থা অর্জন
৩. সরবরাহ জনিত ব্যয় হ্রাস
৪. স্থানীয় লোকদের জন্য চাকরীর সুযোগ
৫. স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সুবিধা
৬. স্থানীয় সংস্কৃতি সুরক্ষার ব্যবস্থা
৭.সময় অঞ্ছল বা টাইম জোন সুবিধা

ডোমেস্টিক বা আভ্যন্তরীণ সোর্সিং এর অসুবিধাসমূহ
১. শুধুমাত্র স্থানীয় পন্যের উপর নির্ভরশীলতা
২. বিদেশী ভালো পন্য হতে বঞ্চিত হওয়া
৩. বৈদেশিক বানিজ্যে অগ্রগতি কমে যাওয়া
৪. বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারী পন্য থেকে বঞ্চিত হওয়া
৫. বানিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়া।

গ্লোবাল বা বৈশ্বিক সোর্সিং এর সুবিধাসমূহ
১. বৈদেশিক বানিজ্য জোরদার অন্য দেশের পন্য সম্পর্কে জানা যায়
২. বিদেশ থেকে অতি প্রয়োজনীয় ও মানসম্পন্ন পন্য আনা যায়।
৩. ট্যাক্সের মাধ্যমে সরকারের আয় বৃদ্ধি ঘটে।

গ্লোবাল বা বৈশ্বিক সোর্সিং এর অসুবিধাসমূহ
১. সময় সাপেক্ষ ও সীমান্ত সমস্যা
২. পরিবহন প্যাকিং ও ট্যাক্সের কারণে খরচ বৃদ্ধি পায়
৩. দেশের অর্থ বিদেশে চলে যায়
৪. দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হয়
৫. দেশীয় কর্মসংস্থান সুবিধা কমে যায়।

ই-কমার্সে প্রোডাক্ট সোর্সিং এর গুরুত্ব

ই কমার্সে প্রোডাক্ট সোর্সিং এর গুরত্ব বর্ণনাতীত। একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা এক বা একাধিক সোর্স থেকে পন্য বা সেবা সংগ্রহ করে তার ক্রেতা বা ভোক্তাদের নিকট পৌঁছে দেন। একজন ব্যবসায়ী যখন অনলাইনে পন্য বিক্রি করেন তখন তার ক্রেতাগণ তার দেয়া পন্যের ছবি ও বিবরনী দেখে তা থেকে পন্য ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং পন্য ক্রয় করেন। কিন্তু পন্য ক্রয়ের পর এর ছবি বা বিবরনীর সাথে যদি বাস্তবতার মিল না থাকে তাহলে যিনি তথ্য দিয়েছেন তিনি ভোক্তাসাধারণের কাছে প্রতারণার দোষে দুষ্ট হবেন। এমনকি তার ব্যবসায়কি সুনাম নস্ট হবে, অপেশাদার আচরণ ও সিদ্ধান্তের জন্য তিনি দিন দিন ক্রেতাসন্তুষ্টি হারাবেন এবং একদিন তার গোটা ব্যবসায়টাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে তিনি ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযুক্ত, দন্ডনীয় এমনকি নিষিদ্ধও হতে পারেন।
ই কমার্স উদ্যোক্তাগণ অনেকসময় অনলাইনের বিভিন্ন সূত্রের উপর নির্ভর করে প্রোডাক্ট সোর্সিং করেন এবং সরবরাহ করেন এই পক্রিয়াটি যথাযথ এবং স্বচ্চ না হলে কিন্তু এর দায় দায়িত্ব উদ্যোক্তাকে নিতে হয়। এজন্য ই-বিজনেস মডিউলে এ ব্যাপারে প্রতিটি পদেেক্ষপ সর্তকতার সাথে দেয়া উচিত। একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো পন্যটি উৎপাদন করেন না। কিন্তু সাধারণের কাছে তিনিই পন্যটির বাজারজাতকারী তাই পন্যের সঠিক গুনমান বুঝে না পেলে তিনিই আক্রোসের শিকার হয়ে থাকবেন।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

1 Comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *