প্রসংগ ই কমার্স আর্টিকেল

695

বাছাইকৃত ই কমার্স লেখা
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
ই ক্যাব ব্লগ বাংলাদেশের একমাত্র ই কমার্স ভিত্তিক সমৃদ্ধ ব্লগ। এই ব্লগে ব্যবসা বাণিজ্য ও ই কমার্সের উপর আমার ১০৩টা আর্টিকেল আছে। এটা গত ৬ মাসের ফসল। এর পেছনে একটা গল্প আছে। ই কমার্স সম্পর্কে প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। এরপর ২০০৪ , ২০১২ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে আমার জানামতে ৪টি হার্ড কপি ও একটি সফট বই বের হয়। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন ব্লগে বেশকিছু লেখাও প্রকাশিত হয়। মজার বিষয় হলো এর বেশীর ভা্গই প্রায় ৯৮ ভাগ লেখা ই কমার্স এর ওয়েবসাইট নিয়ে, বইগুলোও তাই। মনে হয়েই কমার্স সাইট বানাতে পারলেই ব্যবসা পটাপট হয়ে যাবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ই কমার্স সিলেবাসে আছে সেখানেও এর ব্যতিক্রম নয়। অথচ ই কমার্স একটা ব্যবসা এখানে ব্যবসায়িক ধারণাটা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো এগুলো দ্বারা কিছু ই কমার্স সাইট তৈরী হয়েছে সত্য কিন্তু ব্যবসাটা রান করেনি। একটা ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠিত হয়নি ১৫ বছরে। যারা ব্যবসা শুরু করেছে তারা বুঝতে পারলো ই কমার্স শুধু একটা ওয়েবসাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা গোটা আর্থ সামাজিক অ্রবস্থার একটা অংশ।
ফলে ই কমার্স করার জন্য প্রথমে জানতে হবে ব্যবসায়িক ব্যাপারগুলো। সেটা অধিকাংশ উদ্যোক্তা ভেবে দেখেননি। কিন্তু ব্যবসা করতে গিয়ে তারা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন, মার্কেটিং, প্রোডাকটস সোর্স, ইত্যাদি নানা বিষয় জানা দরকার। এবং বিভিন্ন সাইট ভিজিট, উদ্যোক্তা ও কাস্টমারদের সাথে কথা বলে দেখা গেলো আরো অনেক জায়গায় ঘাটতি। যেমন ফটোগ্রাফী, সাপ্লাই চেইন, বিজনেস প্লান, বাজার বিশ্লেষন ইত্যাদি।
তখন এবিষয়ে আমি লেখাকে গুরুত্ব দিই। তারপর থেকে গত ৬ মাসে এমন কোন দিন নেই যেদিন আমাকে অথবা ই ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদকে কোন উদোক্তা বলেননি যে লেখাগুলো তারা পড়ছেন তাদের খুব কাজে লাগছে। আমি ই কমার্সের সফল কোন বিজনেস ম্যাগনেট না, দেশের কোন আইটি সেলিব্রেটি না। গত ১০/১৫ বছর ই কমার্স নিয়ে নাড়াচাড়া করছি আর গত বছর দশেরক ধরে বিভিন্ন এনজিও ও কোম্পানীকে বিজনেস ও মার্কেটিং নিয়ে কনসালিটেন্সি করছে। এটা করতে গিয়ে ব্যবসা বানিজ্যি বিষয়ক লেখার জন্য প্রচুর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও রিসোর্স ছিলো, সেগুলোর উপর ভিত্তি করে আমি এসব লেখা লিখেছি।। আমার প্রথম ৭৫তম লেখা পর্যন্ত ৭৩টা লেখাই আমি সরাসরি কোন সূত্রের সাহায্য ছাড়া লিখেছি।
সবার উৎসাহের কারণে আমি লিখেছি। এই লেখার বিনিময়ে আমি কোন ফি নিইনি, বিনিময়ে কোন পদবী দাবী করিনি, কোন বক্তৃতার ফ্লোর নিতে চাইনি। বরং ই কমার্সের কোন প্রোগ্রামেও আমি চেহারা দেখানোর জন্য উপস্থিত থাকি না।অথচ আমি কিন্তু ই ক্যাব মেম্বার এবং প্রথমদিকের মেম্বার। আমাকে নিয়ে কোন পোস্ট দেয়ার জন্য রাজীব ভাইকে নিষেধ করেছি। কিন্তু একটা ব্লগে একজন মানুষ যদি ৫০ লেখা পোস্ট করে তাকে যেহেতু কিছু দিতে পারছেনা, সেজন্য রাজীব ভাই পোস্ট দেয়। আমাকে নিয়মিত লেখার কারনে এবং লেখা পড়ে উপকৃত হওয়ার কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠোনে সদস্য পাঠকরা খোজ করেন। আবার না পেলে সেটাও কমেন্ট দিয়ে দেন বা আমাকে ইনবক্স করে জানতে চান।
গত ৯ মার্চ আমাকে দিয়ে যে ওয়ার্কশপ করালো রাজীব ভাই। সেটা আরো অনেক আগের রিকোয়েস্ট ছিলো রাজীব ভাই এবং সদস্যদের। কিন্তু আমি ইচ্ছে করে দেরি করেছি। পুরো কোর্স আমি নিজে ডিজাইন করেছি নিজে ম্যাটারিয়াল কেন ৮০টা প্যাকে গুনে গুনে ঢুকিয়েছি। সবচে বড় কথা ওয়ার্কশপ শেষে ৯০ ভাগ লোক প্রশংসা করেছে। আমি বরং যারা এর জন্য খেটেছে তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু উপহার দিয়েছি। ওয়ার্কশপ্ এর ফিডব্যাক ফরমটার ফলাফল তুলে ধরেছি যে কেউ দেখে নিতে পারেন। আমার সাথে সদস্যদের একটা আড্ডা হওয়া দরকার। অনেকে প্রতিদিন আমাকে নানা প্রশ্ন করেন। তারা প্রশ্নগুলো আমাকে সরাসরি করতে চান। তাই অন্তত ২০ জন আছে যারা জানতে চায় তারা আমাকে কখন কোথায় কথা বলার জন্য পাবে। আমার পরিচিত একটা হলরুম আছে। ৭০/৮০ জন বসা যাবে, এসি, আমি চাইলে সেটা আমার কোনো প্রোগ্রামের জন্য ফ্রি পাবো, আগেও পেয়েছি। অনায়াসে একটা প্রোগ্রাম কোনো এক ছুটির দিন দিতে পারি। আমি সেটা করছিনা। আমার লাইম লাইটে আসার কোনো ইচ্ছে নেই। নিউজ সাইটে আমার একটা সাক্ষাৎকারের প্রস্তাব এসেছে আমি সবিনয়ে বলেছি আমি এত ঘন ঘন সামনে আসতে চাইনা।
আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় তখন আমি ক্লাস ফোরে, জাতীয় প্রত্রিকায় আমার গল্প ছাপা হয় ১৯৯৫ সালে তখন আমি নাইনে পড়ি। প্রথম আলোতে আমার লেখা ছাপে তখন ২০০১ সালের কথা। আমি লেখক হিসেবে লেগে থাকলে আমার নাম কামানো কোন ব্যাপার ছিলনা। লোকসাহিত্যের উপর আমার দেড়শ লেখা আছে। গোটা ৫০ লেখা রয়েছে বিভিন্ন ব্লগে। আমার নাম কামাতে চাইলে যেকোন একটা ওয়েতে পারতাম।আমার পত্রিকা রাখালী এর বয়স ১০ বছর, দেশে বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ম্যাগজিনে বিভিন্ন বিষয়ে আমার অন্তত ১৫০ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। জতায় পত্রিকা সমূহের ঈদসংখ্যা, বাংলানববর্ষ সংখ্যা আমার লেখা দিয়ে হয়েছে। আমার তিনটা ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান, লাইসেন্স এবং ব্যাংক একাউন্ট আছে তিনটারই।এখান থেকে আমি একটা রিভিনিউপাই, যদিও সেটা অতি নগন্য, কিন্তু আমার ই কমার্স উদ্যোক্তা নতুন ভাইদের অনেকের চেয়ে সেটা বেশী হবে। আমার ১০০ লেখায় আমি আমার নিজের বিজনেস প্রমোট করতে পারতাম। ইামি সে সুযোগ নেইনি। আমিযদি কোন পোস্ট ই ক্যাব পেইজে দিই সেটা অবশ্যই এপ্রুভ হবে। অথচ আমি সেটা করিনা।আমার প্রিয় ই কমার্স উদ্যোক্তারা সফল হবে কিভাবে সেটা নিয়েই এখন ভাবি। রাজীব ভাইর নিস্বার্থ আন্তরিকতা এভাবে আমাদের অনেকের মাঝেই প্রভাহিত হয়েছে।
আজ ১০৩টা লেখা হলো তাই একটা পোস্ট দিলাম। আমার নিজের টাইমলাইনে। আমার সকল পাঠক ও ই ক্যাব মেম্বারদের আন্দরিক ধন্যবাদ জানাই আমার মতো সাধারণ একজন মানুষের লেখা তারা এত মূল্য দিয়ে পড়েছেন সেজন্য। আসলে আমার ধারণা ছিলো আমি এমন কিছু জানিইনা যেটা অন্য কাউকে জানাতে পারি। গত ৬ মাসে অন্তত ১০ জন তাদের ব্লগ ও পত্রিকায় আমার লেখাগুলো ছাপার অনুমতি চেয়েছেন। অনেকে লেখাগুলো চুরি করে বিভিন্ন জায়ড়ায় পোস্ট করছেন। আমি এখনো বুঝতে পারিনি সেরকম কোন রিসোর্স লেখাগুলোর মধ্যে আছে কিনা। তবে এটা বলতে পারি আমি চেয়েছি উপকারী বিষয়সমূহ নিয়ে খুব সহজভাষায় বিস্তারিত লিখতে যাতে পাঠক ওই বিষয়টি সম্পর্ পরিষ্কবার ধারনা পান। যাই জানুক যেন সঠিক জানুক।আর আমি জানি যোগ্যতার মাপকাঠিতে আমি খুব নগন্য তাই আমি সবসময় লেখার জন্য এমন বিষয় বেচে নেই। যে বিষয়ে অন্য লোকেরা লিখছেনা। তাতে আমার সুবিধা হলো যেতেহতু একই বিষয় মানুষ লেখা বই পড়েনা্ তাই আমি গতানুগতিক বিষয় বাদ দিয়ে আনকতন বিষয় নিয়ে লিখে যাতে সে বিষয়ে আমাকে কারো পতিযোগিতায় পড়তে না হয়। প্রতিযোগিতায় পড়লে আমি নিশ্চিতযে আমি ১০ জনের মধ্যে ১১ নাম্বার হবো। তাই আমি এমন একটা সেক্টর বেছে নিই। যেখানে আমি একাই প্রথম। যেমন লোকসাহিত্য এ বিষয়ে এই প্রজন্মের খুববেশী লোক লেখেনা। ই কমার্স নিয়ে লেথকজাতির কোন লেখা নেই। সব আইটি প্রফেশনালদের। তাছাড়া ই কমার্স প্রেক্ষিতে সাধারণ ব্যবসায়িক বিষয়ে কোন লেখাতো ছিলোইনা। প্রোডাক্টস সোর্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এগুলোতে এখনো আমার ছাড়া কারো লেখা নেই। কেউ চাইলে গুগল থেকে সার্চ দিয়ে দেখে নিতে পারেন।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *