দেশীয় ই-কমার্স সুরক্ষা

দেশীয় ই-কমার্স খাতের সুরক্ষার জন্য ই-কমারর্স সেক্টরের কিছু ফ্যাক্ট

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, বিদ্যুতের ব্যপ্তি ও ইন্টারনেটের দাম কমার কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার হারও বাড়ছে। বহু নারী পুরুষ বিশেষ করে নবীণ উদ্যোক্তারা এই খাতে তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু কারণে পুরো ই-কমার্স খাত এখনো শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি। রয়েছে স্বীকৃতিসহ নীতিগত কিছু ঘাটতি। বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর করার জন্য এই লেখা।

 

দেশীয় উদ্যোক্তার অগ্রাধিকার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেকোনো নীতিমালা প্রণয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ দেখে। আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে ডিজিটাল প্রচারণার খরচ দেশীয় ও অনুমোদিত মাধ্যম দ্বারা পরিশোধ এবং ডাটা সেন্টার দেশেই স্থাপনের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় এই দুটো সেবা বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে ক্রয় করার মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে টিকিয়ে রাখতে বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রস্তাব করছি। ডিজিটাল প্রচারণার খরচ দেশীয় ও অনুমোদিত মাধ্যম দ্বারা পরিশোধ এবং ডাটা সেন্টার দেশেই স্থাপনের বাধ্যবাধকতা করা নির্দেশনা জারি জরুরী হয়ে পড়েছে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্সগুলো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসতে পারবে। এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি কমবে। এতে করে দেশীয় উৎস থেকে করের হার বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশী মুদ্রা খাতে ইতিবাচক প্রভাব দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।

 

ITES –এর পরিবর্তে   ই-কমার্সকে পৃথক ব্যবসা খাত হিসেবে গণনা

বিদ্যমান অর্থ আইন, ২০১৬ (৫৪ – গ)-এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৩৩ এর সংশোধন করা হয় যার মাধ্যমে ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’ কে  ITES Gi Explanation থেকে বহির্ভুত করা হয়।  এর ফলে ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’  এর আয় করযোগ্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ইন্টারনেট নির্ভর বা প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা হিসেবে  ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’ কে  ITESএর পরিবর্তে পৃথক ব্যবসায়ী খাত হিসেবে গণনা করে ‘ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং’ হতে অর্জিত আয় করযোগ্য আইনের বহির্ভুত করার প্রস্তাব করছি।  ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে বিদ্যমান আইনটি সংশোধন করা যেতে পারে।

অনলাইন বিক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতি ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে । এই সকল ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীরা মূসক নিবন্ধনের আওতায় পড়ে না।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে, ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তর  হলে ডিজিটাল বা অ্যানালগ ব্যবসা সুস্পষ্ট হবে।  এতে করে ই-কমার্স নতুন ব্যবসায়িক খাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ডিজিটাল কমার্সের আওতায় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান পক্রিয়াকে আরো বেগবান করবে।

ট্রেড লাইসেন্সে ই-কমার্স ক্যাটাগরি ও ট্রেড লাইসেন্স ফি ন্যুনতম করা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কতৃক ই-ক্যাবকে অন্তভূক্তির মাধ্যমে ই-কমার্স একটি ব্যবসায়িক খাত হিসেবে স্বীকৃত।  কিন্তু ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য স্থানীয় সরকার কতৃক ইস্যকৃত  ট্রেড লাইসেন্স এ বিজনেস ক্যাটাগরি হিসেবে ‘‘ই-কমার্স’’ লিখা হচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়িগণ দেশে বিদেশে নানা জটিলতার মধ্যে পড়ছেন।

পৃথক তথ্য প্রযুক্তিখাত ভিত্তিক ‘‘ই-কমার্স’’ সেবাখাত হিসেবে অন্তভূক্তির পরিপত্র জারি করা জরুরী হয়ে পড়েছে।  সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউপিসহ যে সকল কতৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে তারা সে পরিপত্র অনুসরণ করে ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরিতে অন্তভূক্ত করবে । সেসাথে ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স ফি নুন্যতম ধার্য করার দরকার।

ট্রেড লাইসেন্সে ই-কমার্স ক্যাটাগরি উল্লেখ থাকলে নিজেদেরকে দেশে বিদেশে বিভিন্নস্তরে উপস্থাপন করতে পারে।

ই-কমার্স তরুন, নারী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা সকলের জন্য উন্মুক্ত বিধায় এর ট্রেড লাইসেন্স ফি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সামর্থের মধ্যে থাকা উচিত। তা হলে দেশে তরুনরা আত্ম কর্মসংস্থানে উদ্বৃদ্ধ হবে এবং উদ্যোক্তা তৈরীর হার বৃদ্ধি পাবে।

নীতিগত এসব সিদ্ধান্ত ই-কমার্সখাতে উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে যেমন করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান ভূমিকা রেখেছে।

773 total views, 13 views today

Comments

comments