দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ: ব্যবসায়ের কৌশলগত একক শ্রেণীবিন্যাসকরণ

336
দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ

দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ: ব্যবসায়ের কৌশলগত একক শ্রেণীবিন্যাসকরণ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যা ব্যবহার করে একটি কোম্পানী কৌশলগত ব্যবসায়ের এককগুলো (Strategic Business Units) শ্রেনী বিন্যাস করতে পারে। দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ একটি শীরষস্থানীয় ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি-শেয়ার মেট্রিক্স পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। এতে কৌশলগত ব্যবসায়ের এককগুলিকে বাজার প্রবৃদ্ধির হার এবং বাজার শেয়ারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর মূল্যায়নের এই পদ্ধটিই দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ নামে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

কৌশলগত ব্যবসায়ের এককগুলো কি? (Strategic Business Units)

 

প্রবৃদ্ধি-শেয়ার মেট্রিক্সকে ভাগ করলে চার ধরনের এসবিইউ পাওয়া যায়। যেগুলো প্রতিটি ভিন্ন ধরনের ব্যবসায়কে নির্দেশ করে।

ক) ষ্টারস বা তারকা (Stars):

কোনো কোম্পানীর অনেকগুলো ব্যবসায় বা প্রকল্পের মধ্যে একটি ব্যবসায় বা পন্যের যদি প্রবৃদ্ধি ও  বাজারে তাদের আধিপত্যের অংশ দুটোই বেশ ভালো বা বেশী থাকে। সে পন্য বা ব্যবসায়কে বলা হবে স্টারস বা তারকা।

কোনো গ্রুপ অব কোম্পানীর ক্ষেত্রে যদি ধরা হয় স্টারস বা তারকা কোম্পানীগুলোর মুনাফা বা লেনদেনের পরিমাণ বেশ বড়ো হলেও প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে শেয়ার বা আধিপত্য ধরে রাখার জন্য মাদার কোম্পানীকে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে কোম্পানীতে নগদ তারল্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিনিয়োগ সংকট বা বাজার পরিস্থিতির কারণে স্টারস ক্যাশ কাউতে পরিণত হতে পারে। তবে কোম্পানীর বাজার গতিশীলতার জন্য এক বা একাধিক স্টার থাকার প্রয়োজন হতে পারে।

 

খ) ক্যাশ কাউজ বা দুধ দেয়া গরু (Cash Cows)

কথায় বলে দুধ দেয়া গরু লাথি দিলেও ভালো। বিষয়টা কিছুটা সেইরকম। প্রচুর লেনদেন হয় কিন্তু লাভের হার কম থাকে। প্রবৃদ্ধি কম কিন্তু বাজার শেয়ার ভালো মানে খুব বেশী লাভ না হলেও বিক্রির পরিমাণ ভালো থাকে মার্কেট শেয়ারিং বা বাজারের উপর দখল থাকে প্রবল। এ ধরনের ব্যবসায় বা পন্যকে ক্যাশ কাউজ বলা হয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মার্কেট শেয়ারিং ধরে রাখার জন্য যে ছাড় দিতে হয় সেজন্য প্রবৃদ্ধি কমে যায় তবে তাতে করে খরচও কম হয়। বিনিয়োগ চাহিদা কমে যায় বলে নগদ অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি কমে যায় এবং তা কোম্পানীর সাধ্যের মধ্যে হয়ে থাকে। ক্যাশ কাউতে বিক্রির পরিমাণ বেশী হয় বলে লাভের হার কম হলেও পরিমাণ কম নয়। ফলে ক্যাশ কাউ থেকে আয় দ্বারা স্টারস কোশ্চেন মার্ক ও ডগ পরিচালনা করা যায়। যদি তেমন ক্যাশ কাউ না হয় তাহলে সেটা সমস্যারই কথা।

গ) কোশ্চেন মার্ক বা কানা মামা(Question Mark)

যে সকল পন্য ব্যবসায় বা বিভাগে প্রবৃদ্ধির হার যথেষ্ঠ ভালো অথচ মার্কেট শেয়ার বা বাজারে অংশীদারিত্ব কম সেগুলোকে কোশ্চেন মার্ক বলা হয়। কোশ্চেন মার্ক ব্যবসায়ের একককে  Problem Children ও বলা হয়। একটি কোম্পানী বা ব্যবসায় যখন বাজারে নতুন প্রবেশ করে তখন তাদের অবস্থা এমন হতে পারে। এখানে একক প্রয়োজনের তুলনায় বেশী থাকে আর এসময় প্রচুর লজিস্টিক ও ম্যানপাওয়ার নিয়োগ করতে হয় যাতে করে অবস্থা থেকে উন্নতি করা যায়। নাই মামার চেয়ে হয়তোবা কানামামাই ভালো। তবে কোম্পানী এ অবস্থায় থাকতে চায়না এর থেকে উন্নত হতে চায়। তাছাড়া বাজার শেয়ার দূর্বল থাকাটা টিকে থাকার পক্ষে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বটে।

ঘ) ডগস (Dogs):

এই অবস্থার ব্যবসায় বা পন্যগুলি কোম্পানীর জন্য সবসময় ভাবনার কারণ কারণ এগুলোর প্রবৃদ্ধি কম আবার বাজার শেয়ারও কম। সবদিক থেকে এটা ছোট ব্যাপার। ছোট ও ক্ষুদ্র কিংবা পরনো কোনো ব্যবসায় যদি কোম্পানীর থাকে সেগুলো সম্পর্কে এই কথা খাটে। এক্ষেত্রে এর সঠিক ভাষান্তর হতে পারে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা, এখানে মনে হয় আরো এক ধাপ পিছিয়ে ছাগলের চার নাম্বার বাচ্চা হতে পারে। চাইলেই রাতারাতি এগুলোর প্রবৃদ্ধি এবং শেয়ার কোনোটাই বড়ো করা যায়না। যেমন, তেলের ঘানি, কুমোর পাতিল তৈরী, সেলুন দোকান বা লন্ড্রী শপ।

এ অবস্থার কারণে কখনো লাভ ও কখনো লোকসান হতে পারে। তবে উদ্যোক্তারা ব্যবসায় চালু রাখার জন্য বা ভবিষ্যত উন্নতির আশার বিনিয়োগ করে থাকে।

প্রবৃদ্ধি- শেয়ার মেট্রিক্স পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন এককের ব্যবসায়ের অবস্তান নির্ণয় ও করনীয় ঠিক করা হয়।

দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ

নিচের চিত্র অনুসারে আমরা দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ কে বোঝার চেষ্টা করবো।

এই চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি এখানে দুটো স্টারস রয়েছে, রয়েছে তিনটি কোশ্চেন মার্ক, দুটো ক্যাশ কাউ এবং তিনটি ডগস। এই অবস্থায় কোম্পানীর উন্নতির জন্য স্টারস বাড়াতে হবে বাড়াতে হবে ক্যাশ কাউ। আর বিশেষ করে কোশ্চেন মার্কগুলোর জন্য আপনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সেগুলোকে ক্যাশ কাউ বানানোর কথা ভাবতে হবে। আর ডগসগুলো বেশীদিন পোষা ঠিক হবেনা। হয়তো অবস্থার উন্নতি করতে হবে নয়তো এগুলো বাদ দিতে হবে।

দি বষ্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এপ্রোচ এর দূর্বলতা সমূহ

ক. এই পদ্ধতির প্রয়োগ জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

খ. এতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা থাকেনা।

গ. আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার তাড়নায় কোম্পানী অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেয়া ঝুঁকি গ্রহণ করে।

ঘ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভুলের ফাঁদে পা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *