Tourism and the digital transfornation

ট্যুরিজম সেবাকে ডিজিটালে রুপান্তর করার প্রশ্ন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পর্যটন সেবাকে ডিজিটালে রুপান্তর বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করা যতটা না বাহাদুরী বা ঠাম ঠসক তারচেয়ে বেশী ব্যাপার হলো প্রয়োজনীয়তা। এটি একটি বৈশ্বিক সেবা। এসেবা গ্রহীতার কোনো নির্দিষ্ট গন্ডি নেই। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ যেকোনো দেশে গমন করতে পারেন। সেজন্য তাকে ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত অনেকগুলো সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হবে। আর সেবাকে যুগোপযোগী, সাশ্রয়ী, সহজ আর ক্রেতা বান্ধব তথা ট্যুরিস্ট ফ্রেন্ডলি করার জন্য আইসিটিমুখী হওয়ার বিকল্প নেই।

পর্যটন যেহেতু আমাদের একটা আয়ের উৎস, সেদিক থেকে এটা একটা ব্যবসাও বটে। আর ব্যবসার বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকার জন্য নুতন প্রযুক্তির ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং কতটা ভালো ও সুন্দরভাবে ব্যবহার করতে পারি সেটাই বিবেচ্য। আর তাই আজ আমরা বলছি পর্যটনখাতে ডিজিটালাইজেশন কোনো বাড়তি আয়োজন নয় এটা নিত্যদিনের চাহিদার মতোই সত্য।

আসুন কিভাবে আমরা পর্যটনখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারি।

 

পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র:

আমাদের দেশে এব্যাপারে অনেকদূর এগিয়েছে। িআমরা দ্রুত স্মার্ট পরিচয়পত্র হাতে পেয়ে যাচ্ছি আরো আগে পেয়েছি এনআরপি পাসপোর্ট। এই দুটো পরিচয় পত্রই ডিজিটাল তথা মেশিন রিডবল। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে যে সুবিধা পাওয়ার জন্য এই পরিচয় পত্রকে ডিভাইস রিডবল করা হয়েছে তার সুফল এখনো পুরোপুরি মিলছেনা। কারণ মেশিন আমার পরিচয় পত্র ডিটেকক্ট করলেই। আমার সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্যই কেবল সেখানে রয়েছে। বরং আমাকে আরো নানারকম তথ্য কাগজে বা ফটোকপিতে পেশ করতে হয়। সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনেক সুযোগ রয়েছে গেছে।

 

 ভিসা ও ট্যুরিস্ট ডেটাবেজ:

ভিসা একটি স্পর্শকাতর বিষয়। বর্তমান প্রিন্টেড ভিসা থেকে বের হয়ে বিশ্ব যখন ভাচুয়াল ও ডিজিটাল ভিসার কথা ভাবছে। তখন আমরা আরো পিছিয়ে পড়ছি। বাংলাদেশে আসার জন্য যারা ভিসার আবেদন করে তারা নানা সমস্যা ও হয়রানির কথা বলেন। খোদ ভারত থেকেই দালাল ছাড়া ভিসা পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। অনলাইনে কেবল আবেদন করতে হয়। আর সমস্ত পক্রিয়াই বলতে গেলে হাতে হাতে। এই জায়গায় আরো প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। বিশেষ করে আমরা যখন বিশ্বকে বলছি আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের মানুষ। তখন এই বিষয়ে পিছিয়ে থাকা চলবেনা।  এছাড়া বিদেশ থেকো আসা পর্যটক এবং বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যাওয়া দেশীয় ব্যক্তিদের তথ্যসমৃদ্ধ ডেটাবেজ থাকা দরকার। যাতে নিয়মনীতি প্রণয়ন সরকারের জন্য সহজ হবে।

 

বিমান টিকেট ও হোটেল বুকিং:

ট্যুরিজম সেক্টরে তথ্যপ্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে বিমান টিকেট। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী বিমান কোম্পানীগুলো বিভিন্ন কৌশলগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও টিকেট বুকিংএ প্রায় শতভাগ অনলাইন সিস্টেম নির্ভর। আর হোটেলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা পুরো বিপরীত, কিছু বড়ো হোটেলের বুকিং সিস্টেম আছে। ছোট হোটেলগুলো চাইলে অভিন্ন সিস্টেম বা কোনো পোর্টাল ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এতে তাদের আগ্রহ নেই। সরকারের উচিত এই বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। কারণ এর মাধ্যমে সরকার সঠিক তদারক করতে পারবে।

 

বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও রেন্ট এ কার

বাংলাদেশে বাস টিকেটে সহজ ডট কম ব্যাপক পরিবর্তন আনলেও এখনো ৮৫ভাগ বাসরুট এই আওতার বাইরে। ট্রেন এর ক্ষেত্রে যাত্রীর নাম এনআইডি কার্ড লাগেনা বিধায় পুরো টিকেটের অনলাইন সিস্টেম কালোবাজারীদের দখলে। লঞ্চ এখনো অনলাইন সিস্টেম চালুই হচ্ছে না। রেন্ট এ কারে নিরাপত্তার জন্য এটা সবচেয়ে বেশী দরকারী। অথচ ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি কোম্পানী তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।

 

ট্যুর অপারেটিং, সাইট সিইং ও গাইডসেবা

ট্যুর অপারেটর গুলো বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করছে। ফলে পর্যটক ও সেবাদাতা উভয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেবার মান বাড়েনি একটুও। বরং কমেছে। এজন্য একটি কমন মার্কেটপ্লেস তৈরী করা দরকার। সাইট সিইং এর ক্ষেত্রে তথ্য, ছবি ও ভিডিওর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। আছে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও। বিশেষ করে গাইডসেবাকে এ্যাপ ভিত্তিক করে অনেকাংশে পর্যটকের নিরাপত্তা ও গাইডের সম্মানি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে।

 

খাদ্য, ট্রাভেলপন্য ও সুভ্যেনির

খাদ্যের জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যটকদের নির্ভর করতে হয় রেস্টুরেন্ট এর উপর। এই সেবাটিকে অনলাইন এ্যাপ ভিত্তিক করলে এর মান বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি কোম্পানী এই কাজটি করলেও এর ব্যপ্ত দেশের ২/৩টি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ওদিকে ট্রাভেলপন্যও হোটেলে বা হোটেলের নিকটে পাওয়া নিশ্চিত নয়। সুভ্যেনির পন্যতো সোনার হরিন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসলে দেশে মূল সেবাটি বা পর্যটন বেসিককেই উন্নত করতে হবে। এবং পর্যটনের মূল জায়গাটিতে কাজ না করলে সেটাকে ডিজিটালি রুপান্তর করা সম্ভব নয়। ক্ষেত্রবিশেষে রুপান্তর হলেও তার সুফর পাবেনা পর্যটক ও পেশাজীবিরা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একটি হোটেল বুকিং সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া এর বাস্তব উদাহরণ।

 

384 total views, 9 views today

Comments

comments