টাটা ক্লিক ওমনিচ্যানেল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এল টাটাগ্রুপ

1366

অবশেষে ভারতে সবচেয়ে বড় বিজনেস হাউস টাটা গ্রুপ ই-কমার্সে এল। এ বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে  টাটাগ্রুপ টাটা ক্লিক নামে তাদের নিজস্ব ই-কমার্স সাইট চালু করেছে। তবে টাটা গ্রুপ এ নিয়ে খুব বেশি হৈচৈ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান লক্ষ্য হচ্ছে বাজারে আগে ক্রেতাদের ভালভাবে বোঝা। ব্যাঙ্ক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চ ভারতের ই-কমার্স মার্কেট সম্পর্কে পূর্বাভাস প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি বলে যে ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতের অনলাইনে বিক্রীর পরিমাণ হবে ২২০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরে অনলাইনে বিক্রীর পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার। এরই সুবাদে স্থানীয় বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ই-কমার্সে আসতে শুরু করেছে।

রিলায়েন্স ইন্ডাসট্রিজ লিমিটেড, আদিত্য বিড়লা গ্রুপ, মহিন্দ্র অ্যান্ড মহিন্দ্র ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম চালু করে ফেলেছে এবার তার সাথে যোগ হলো টাটা গ্রুপ। আমার এবারের পোস্ট টাটা ক্লিককে নিয়েই

এক নজরে টাটা ক্লিকঃ

cont4.jpg

ওয়েবসাইট: www.tatacliq.com

টাটা ক্লিক এর প্যারেন্ট কোম্পানি টাটা ইউনিস্টোর। টাটা ক্লিক একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস।এ প্রতিষ্ঠানটির সিইও আশুতোষ পান্ডে (Ashutosh Pandey)।

বিগত দেড় বছর ধরে টাটা গ্রুপ কয়েক’শ মিলিয়ন ডলার খরচ করে টাটা ক্লিক ডেভেলপ করেছে। টাটার নিজস্ব ব্রান্ড এবং ব্রান্ডের পণ্যও এ মার্কেটপ্লেসে পণ্য বিক্রী করতে পারবে। প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাপারেল, কঞ্জিউমার প্রডাক্টস এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রী হবে। আস্তে আস্তে অলংকার, হোম, বিউটি, আইওয়্যার এগুলো যোগ করবে বলেন আশুতোষ।

বর্তমানে চারশ’র বেশি আন্তর্জাতিক ব্রান্ড এবং ভারতীয় ব্রান্ডের পণ্য টাটা ক্লিকে বিক্রী হচ্ছে। এর মধ্যে টাটা কোম্পানির নিজস্ব পণ্যও আছে। আরো আছে ১৫টি বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক ব্রান্ড। এর মধ্যে ভারতে একমাত্র টাটা ক্লিকে কিনতে পাওয়া যাবে এরকম ব্রান্ড আছে ১০টি।

যেসব ব্রান্ডের পণ্য টাটা ক্লিকে পাওয়া যাবে তাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- New Look, Oasis, Lipsy London, Phase Eight, Hawes & Curtis, s.Oliver, Kurt Geiger এবং Make It Mine – MIM। টাটা ক্লিক জেনেসিস লাক্সারি ফ্যাশন প্রাইভেট লিমিটেড এর সাথে পার্টনারশীপ করেছে। যার আওতায় টাটা ক্লিক তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৪টি আন্তর্জাতিক লাক্সারি ব্রান্ডের পণ্য বিক্রী করবে। এসবের মধ্যে আছে Burberry, Michael Kors, Armani, Canali, Furla, Jimmy Choo, Hugo Boss, এবং Coach

প্রাথমিক অবস্থায় ১০০ এর বেশি কর্মচারী টাটাক্লিকে কাজ করছে।

ফিজিটেইল কমার্সঃ

ফার্স্ট পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আশুতোষ বলেন যে টাটা ক্লিক হবে একটি “Phygital e-Commerce marketplace” অর্থাৎ Physical Retail (অফলাইন দোকান) এবং ই-কমার্স মিলে একটি নতুন মার্কেটপ্লেস। এটা ওমনিচ্যানেল (Omnichannel) ই-কমার্সের মতো।

এখন ওমনিচ্যানেল ই-কমার্স কি তা একটু সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক। “ওমনি” (Omni) কথাটির অর্থ হলো যেটি সর্বত্র বিরাজমান। আড়ং এর কথাই ধরা যাক, দীর্ঘদিন ধরে আড়ং তাদের নিজস্ব দোকানে পণ্য বিক্রী করছে। গত বছরে তারা ই-কমার্সে এসেছে। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করেছে। এই যে ব্যাপারটা এটাকে বলা হচ্ছে মাল্টি-চ্যানেল ই-কমার্স। অর্থাৎ আড়ং একের অধিক চ্যানেলের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রী করছে। অফলাইনের সাথে অনলাইনের কোন সম্পর্ক নেই দুটোই সম্পূর্ণ আলাদা চ্যানেল।

এখন ওমনিচ্যানেল ই-কমার্সে আসি। ওমনিচ্যানেল হচ্ছে, ক্রেতা অফলাইনে দোকান, ওয়েবসাইট, বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন যেটাই ব্যবহার করুক না কেন সে সব জায়গায় একই ভাবে এবং সহজে পণ্য কেনাকাটা করতে পারবে। আড়ং এর উদাহারণটাই আবার টানি। ধরা যাক, আড়ং এর নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আছে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে এবং দোকানও আছে। সুজন আড়ং ওয়েবসাইট থেকে দীর্ঘদিন ধরে কেনাকাটা করেন। আড়ং এর পাঞ্জাবি তার খুবই পছন্দ। তো একদিন কাজ সেরে বাসায় ফেরবার সময় পথে আড়ং পড়ল। সুজনের ইচ্ছে হলো আড়ং-এ গিয়ে কিছু পাঞ্জাবি দেখবে। তিনি আড়ং এর দোকানে ঢুকে পাঞ্জাবি দেখতে লাগলেন। একটি পাঞ্জাবি দেখে তিনি পছন্দ করলেন ফোনে পাঞ্জাবির বার কোডটি স্ক্যান করলেন। সাথে সাথে আড়ং এর কাছে নোটিফিকেশন চলে গেল সুজন নামের একজন রেগুলার ক্রেতা আড়ং এর দোকানে এসে এই পাঞ্জাবিটি দেখছে। সাথে সাথে আড়ং এর কর্মচারী তার কাছে চলে গেল এবং তাকে সাহায্য করতে লাগল।

মাল্টি-চ্যানেল রিটেইলে যেটা হয় যে অফলাইনে একরকম এবং অনলাইনে কাস্টমার আকৃষ্ট করার জন্যে আরেক রকম অফার থাকে বা অনলাইনে এক ধরণের পণ্যের অফার এবং অফলাইনে এক ধরণের। এটার সাথে ওটার কোন মিল নেই। কিন্তু ওমনিচ্যানেলে এটা ঘটবে না। ক্রেতা দোকান, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন যেখান থেকেই পণ্য কিনুক সে একই ধরণের তথ্য ও সেবা পাবে। ধরা যাক, যে পাঞ্জাবিটি সুজন পছন্দ করেছে সেটার উপরে আড়ং তাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ অফার দিয়েছে। অফারটি হলো পাঞ্জাবিটি কিনলে একটি কোটি ফ্রি দেয়া হবে। সুজন পাঞ্জাবিটার বারকোড স্ক্যান করতেই তার স্মার্টফোনে আড়ং এর অনলাইনের সেই বিশেষ অফারটি সম্পর্কে নোটিফিকেশন পেল এবং পাঞ্জাবির সাথে কোটি পেল। এই যে অনলাইন/অফলাইন যেখান থেকেই ক্রেতা পণ্য কিনছে কোন পার্থক্য নেই। সব জায়গায় তার একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে।

আরো ধরা যাক, সুজন আড়ং এর ওয়েবসাইট থেকে পাঞ্জাবি কিনল কিন্তু তার পাঞ্জাবিটি পছন্দ হয় নি। অফিস থেকে ফেরার পথে সুজন আড়ং এর দোকানে গিয়ে ব্যাপারটি বলল। আড়ং সাথে সাথে তাকে ঐ পাঞ্জাবিটির বদলে নতুন আরেকটি পাঞ্জাবি দিল (এটা তারা সুজনকে বলল না যে “স্যার, আমাদের অনলাইন অপারেশন আলাদা, অফলাইন অপারেশন আলাদা। আমরা অনলাইনের কেনাকাটা হ্যান্ডেল করি না। তাই আপনি পাঞ্জাবিটা যে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে কিনেছেন সেখানে গিয়েই আপনি আগে অর্ডার ক্যান্সেল করবেন তবেই আপনি আরেকটি নতুন পাঞ্জাবি পাবেন।)

ওমনিচ্যানেল সম্পর্কে এই ভিডিওটি আপনার ধারণা আরেকটু পরিস্কার করবে আশা করি।

তো টাটা ক্লিক এ ধরণের ওমনিচ্যানেল ই-কমার্স নিয়েই কাজ শুরু করেছে। ওমনিচ্যানেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ক্রেতা কেন্দ্রিক অর্থাৎ “Customer Centric”কাস্টমার সেন্ট্রিক। অর্থাৎ ক্রেতা যেখানেই থাকুন না কেন- মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েবসাইট, দোকান সবখানে তিনি একই ধরণের সেবা পাবেন। ক্রেতার সম্পর্কে উক্ত প্রতিষ্ঠান তথ্য সংগ্রহ করবে এবং ক্রেতা যেখানেই থাকুন তার পছন্দের পণ্য নতুন কি কি এসেছে, কোন পণ্য নতুন অফার আছে কিনা সব তিনি জানতে পারবেন। এর ফলে অনেক রিপিট কাস্টমার হবে।

এক সাক্ষাৎকারে আশুতোষ বলেন যে তাদের এ প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবার আগে ভারতের বিভিন্ন ই-কমার্স ও রিটেইল মডেল নিয়ে ভালভাবে স্টাডি করেছে। অনলাইন এবং অফলাইনের চ্যালেঞ্জ গুলো কোথায় তা দেখেছেন এরপরে তারা চেষ্টা করেছেন এমন কিছু একটি করার যেটা বাজারের সবার থেকে আলাদা আর সেই পরিকল্পনা থেকেই ফিজিটেইল নিয়ে টাটা ক্লিক উপস্থিত হয়েছে।

আশুতোষ এর মতে ভারতে এতদিন ধরে যেটা চলছে সেটা ই-কমার্স ভার্সন ১.০। টাটা ক্লিক ই-কমার্স ভার্সন ২.০ চালু করবে। এতদিন পর্যন্ত অনলাইন এবং অফলাইনের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিল না কিন্তু টাটা ক্লিক অনলাইন অফলাইন মিলিয়ে ক্রেতাকে একটি “Seamless Shopping Experience” উপহার দেবে।

ক্রেতার পছন্দ মতো পণ্য, ব্রান্ড সম্পর্কে ক্রেতা টাটাক্লিকে জানতে পারবেন। টাটাক্লিকের ব্রান্ড পার্টনার, সেলার, সেলার পোর্টাল সেভাবে ইন্টিগ্রেট করা আছে।

ইউনিক সেলিং পয়েন্ট–  

ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল বা অ্যামাজন ইন্ডিয়ার মতো টাটাক্লিকও ডিসকাউন্ট দেবে তবে আশুতোষ বলেন যে তাদের এই মার্কেটপ্লেস শুধুমাত্র ডিসকাউন্টকে গুরুত্ব দেবে না। টাটা ক্লিক এর ইউনিক সেলিং পয়েন্ট (ইউএসপি) হবে অথেন্টিক ও এক্সক্লুসিভ ব্রান্ডের পণ্য বিক্রয় ও উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বস্ত ক্রেতা তৈরি করা।

ভারতের বর্তমানে প্রথম সারির তিনটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল এবং অ্যামাজন ইন্ডিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে এবং তাদের লাভের হার খুব বেশি নয়। এর কারণ হলো ক্রেতাদের অনলাইনে আকর্ষণ করতে প্রতিষ্ঠান তিনটি প্রচুর পরিমাণে ডিসকাউন্ট দিয়ে ক্ষতি সহ্য করে বিক্রী করছে। তবে আশুতোষ পান্ডে বলেন যে কেবল মাত্র ডিসকাউন্ট দিয়ে বেশি পণ্য বিক্রী করতে আগ্রহী নয়। বাজারে তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভাল পণ্য দিয়ে একটি টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা ।

অর্থ সাশ্রয়ের জন্যে ভারতের প্রথম সারির ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো টাটাও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালু করবে, এবং টাটা গ্রুপের পার্টনার প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে ইনভেন্টরি নেটওয়ার্ক গঠন করবে।

টাটাক্লিক এর ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণাঃ

Tata-cliq

Image Source: Power Retail

প্রমোশনের ক্ষেত্রেও টাটা ক্লিক ব্যতিক্রমধর্মী আইডিয়া ব্যবহার করেছে। স্ন্যাপডিল যেরকম আমির খানকে দিয়ে তাদের বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে। কিন্তু টাটা ক্লিক সেটা করে নি। টাটা ক্লিক এর ব্রান্ড হচ্ছে উট। কার্টহুইল ক্রিয়েটিভ টাটা কোম্পানির ক্যাম্পেইনের কাজটি করেছে। কার্টহুইল ক্রিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা ডি রামকি টাটা ক্যাম্পেইন এর কাজ সম্পর্কে বলেন, “ক্লায়েন্ট তাদের ব্রীফে আমাদের বলেছিল যে একটি উদ্ভাবনী, ডিজিটাল-বান্ধব আইডিয়ার মাধ্যমে টাটাক্লিককে উপস্থাপন করতে হবে। জনসাধারণের মধ্যে এই আইডিয়াটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যে অথেন্টিক ব্রান্ডের জন্যে টাটাক্লিকই একমাত্র জায়গা। পুরো জিনিসটা এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে টাটার ফিজিটেইল ফিচারটি সুন্দরভাবে উঠে আসে ।”

তখন কার্টহুইল ক্রিয়েটিভ ব্যতিক্রমধর্মী আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করল। টাটাক্লিক যেহেতু একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস তাই রামকি এর মাথায় তখন পুস্কর মেলার কথা ঘুরছিল। ভারতের রাজস্থানের পুস্কর লেকের কাছে প্রতিবছর পাঁচদিন ব্যাপী উটের মেলা হয় যা বিশ্বের অন্যতম বড় উটের মেলা। এখান থেকেই উটকে ব্যবহার করার চিন্তাটা মাথায় আসে। উট এর ইংরেজি হচ্ছে “CAMEL”। এখানে পাঁচটি অক্ষর আছে এবং এটা দিয়ে একটা দারুণ অ্যাক্রোনিম (Acronym) তৈরি হয়। C.A.M.E.L – Certified Authentic Merchandise Everybody Loves যা টাটাক্লিকের মূল আদর্শকে খুব সুন্দরভাবে ক্রেতার সামনে তুলে ধরে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে পণ্য ঘাটতে ঘাটতে ক্রেতা যখন ভালমানের পণ্য খুঁজতে হয়রান হচ্ছে সেখানে অথেন্টিক পণ্য ক্রেতাকে সরবরাহ করার নিশ্চয়তা নিয়ে আসছে টাটাক্লিক ডট কম। উট একটি আনকমন পণ্য এবং এ ধরণের আনকমন এবং অরিজিনাল প্রডাক্ট ক্রেতা টাটাক্লিক থেকে কিনতে পারবেন। কার্টহুইল ক্রিয়েটিভ চারটি দশ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্র নির্মাণ করে। উপভোগ করুন।

টাটাক্লিক এর সম্ভাবনাঃ

এটা সত্যি কথা যে ভারতের ই-কমার্স বাজারে এখন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স সাইট আছে যার মধ্যে অ্যামাজনের মতো বিখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানও আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-টাটা কি পারবে ই-কমার্সের এই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে? এ প্রশ্নের সোজাসাপ্টা কোন উত্তর দেয়া সম্ভব না তবে একটি কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হচ্ছে ভারতে টাটা খুবই প্রতিষ্ঠিত একটি ব্রান্ড। একজন ভারতীয় নাগরিকের সকালের খবরের কাগজ বা চা থেকে শুরু করে অনেক ধরণের পণ্য আছে যা টাটা প্রস্তুত করে থাকে। টাটার এই ব্রান্ড ইমেজ টাটাক্লিক এর জন্যে বিশাল আশির্বাদ। স্ন্যাপডিল, ফ্লিপকার্ট বা অ্যামাজন ইন্ডিয়াকে আগে কষ্ট করে যে ব্রান্ড ইমেজটা তৈরি করতে হয়েছে টাটাক্লিককে সেটা করতে হবে না।

সাধারণত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ঢাকঢোল বাজিয়ে বিশাল প্রমোশন এর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে থাকে কিন্তু টাটা ক্লিক সেটা করেনি। টাটাক্লিক কেবল মাত্র ডিজিটাল ক্যাম্পেইন করেছে। তবে আস্তে আস্তে তারা টিভি, সংবাদপত্রে তাদের প্রমোশন শুরু করবে। আশুতোষ পান্ডে বলেন যে তাদের এখন লক্ষ্য হচ্ছে ক্রেতাদের সেবা প্রদান এবং তারা যাতে অনলাইনে আরামে কেনাকাটা করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা।

লেখকঃ এস এম মেহদি হাসান

সূত্রঃ

টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফার্স্ট পোস্ট

দ্যা ইকনোমিক টাইমস

বেস্ট মিডিয়া ইনফো

 

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *