গ্রোথ হ্যাকিং

গ্রোথ হ্যাকিং
গ্রোথ হ্যাকিং নতুন মার্কেটিং আইডিয়া। এতে এক লাফে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। কিছু বিশ্ববিখ্যাত স্টার্টআপ গ্রোথহ্যাকিং আইডিয়ায় বাজিমাত করেছিল। এখনো যাদের স্বল্প বাজেটে অল্প সময়ে ব্যাপক বৃদ্ধি প্রয়োজন তারা গ্রোথ হ্যাক করার ফন্দি ফিকির করে।
তবে প্রতিযোগিতায় প্রতিন্ধন্ধী প্রতিষ্ঠানকে একে শর্টে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কর্পোরেট সংস্থাগুলিতেও গ্রোথ হ্যাকিং কৌশল অনুসরণ করে। এর মূল মন্ত্রই হলো সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বেশী প্রমোশন। সহজ কথায় কম পয়সা খরচ করে অথবা প্রায় খরচ না করে একটা আইডিয়া দিলে লাখ লাখ ক্রেতা নিয়ে আসা। এই বাজিমাৎকরা আইডিয়ার চূড়ান্ত ফল হয়তো কেবল কেউ কেউ ভোগ করতে পারে।

একজন গ্রোথ হ্যাকারের অনেক যোগ্যতা থাকতে পারে, প্রথম ও প্রধান সেটা হলো সেই রকম একটা আইডিয়া বের করা। বা আইডিয়া বের করার মতো সৃজনশীলতা থাকা। বড় প্রতিষ্ঠানের গ্রোথ হ্যাকিং টিমে থাকে বিপণনকারী, বিকাশকারী, প্রকৌশলী এবং পণ্য উন্নয়নকারীদের বিশেষ দল এটা।
টুইটার, ফেসবুক, ড্রপবক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং গুগল এদের সফলতার ধাপগুলো গ্রোথ হ্যাকিং কৌশল দ্বারা ওরা উৎরে গেছে

ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাকারের কাজ হচ্ছে যে কোন উপায়ে একটা পণ্যের বাজারকে একবারে বহুধাপে উন্নীত করা। – এসইও , গুগল অ্যানালিস্ট, কন্টেন্ট রাইটিং, মজার ভিডিও বিভিন্নভাবে কোনো মাস্টার লেবেলের অথবা একেবারে আনকোরা টাইপের কোনো আইডিয়া ব্যবহার করে হতে পারে। এমনকি যেকোনো মাধ্যমে হতে পারে।
গ্রোথহ্যাকিং করতে চাইলে-
১। গ্রোথ হ্যাকিং বিষয়টা বুঝে নিন। গ্রোথ হ্যাকিং এর ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করে নিন। ২। নিজের পণ্য এবং তার গ্রাহকদের বুঝুন। লক্ষ্য স্থির করুন। বেশী গ্রাহক সামলানোর কৌশলটা প্রস্তুত রাখুন। ৩। একশ আইডিয়া বাতিল করে একটি নিয়ে কাজ শুরু করুন।
গ্রোথহ্যাকিং এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ ফেসবুক। এর প্রথম লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটা প্লাটফর্ম তৈরি করা যেখানে লোকজন একে অন্যের সাথে পরিচিত হবে, কমিউনিটিতে যুক্ত থাকবে। আর এখন কি না হয় ফেসবুকে। কোথায় না সে চলে গেছে। গ্রোথ হ্যাকিং জন্য কখনো কখনো পন্যের ফিচার পরিবর্তন করতে হয়। আর এর সুফল ঘরে তোলার জন্য পণ্যটিকে সবসময় উন্নয়ন করে যেতে হয়। সেটা যে ধরনের পণ্য বা ব্রান্ড হোকনা কেন। সময়ের সাথে ফিচার উন্নয়ন এর বিকল্প নেই।
গ্রোথ হ্যাকিং এর বৈশিস্ঠ্য
১। পণ্যটি যথেষ্ঠ কাজের (এটা ভুলে গেলে চলবেনা)
২। একজন থেকে আরেকজন ( গ্রাহকই বিজ্ঞাপন)
৩। জ্যামিতিক হারে গ্রোথ (দুই-চার-ছয়)
৪। খরচ? (নিজের টাকা নিজের পকেটে রাখেন)

আমাদের দেশে উবারের বাজার দখলের কথা মনে আছেতো। কিভাবে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে দিয়েছিল। ড্রপবক্স, এয়ারবিএনপি এর গ্রোথ হ্যাকের গল্পও বিশ্বজুড়ে বহুল চর্চিত।

গ্রোথ হ্যাকিং ধারণা উন্নয়ন ও প্রয়োগের ধারাবাহিক কার্যাবলী
• প্রথম ধাপ: সঠিক পণ্যটি উপস্থাপন করা।
• ২য় ধাপ: সকল ক্রেতাকে নয় কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের ব্যাপক সংখ্যক ক্রেতাকে লক্ষবস্থু করুন
• ৩য় ধাপ: গুছিয়ে নেয়া
• ৪র্থ ধাপ: পদক্ষেপ নেয়া
• পঞ্চম ধাপ: ফলাফল দেখে কার্যকারিতা বাড়ানো
• ৬ষ্ঠধাপ: লাভের হিসেব করা
• ৬ষ্ঠধাপ: পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ
• পণ্যটিকে প্রয়োজন অনুসারে ক্রমাগত উন্নয়নের মধ্যে রাখা।

বই: ক্রিয়েটিভ মার্কেটিং
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

451 total views, 16 views today

Comments

comments