images

আনোয়ার হোসেন

আপনি যদি গুগল এডওয়ার্ডের এড বিল্ডার টেম্পলেট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার হাতে খুব সীমিত অপসান  থাকে। তাই আপনি সবচেয়ে ভাল ফল পেতে নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে পারেন।

ইমেজ এড বানাতে আপনার হয়ত একজন ইন হাউজ ডিজাইনার আছে বা কাউকে আপনি ইমেজ এড বানাতে পে করে থাকেন। সেক্ষেত্রে  আপনি তাকে দিয়ে বার বার ডিজাইনে পরিবর্তন করাতে চাইবেন না। তাই নিচের পয়েন্টগুলোকে ভাল ভাবে লক্ষ্য করুন।

১। ইমেজ এডের উদ্যেশ্য কি ?

অনেক সময়ই দেখা যায় যে, বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের ইমেজ এড বানানোর পেছনে  উদ্যেশ্য টা কি না ভেবেই ইমেজ এড বানিয়ে ফেলে। এখন প্রশ্ন ইমেজ এড বানাতে আপনার কি উদ্যেশ্য ? এবং তা বাস্তবায়নে আপনার কি ভিন্ন ভিন্ন  কৌশলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন এড  সেট বানাতে হবে ?

আপনার এডের ধরন অনুযায়ী একটি খসরা আউট লাইন দার করান যেন আপনি এডের মাধ্যমে সঠিক বার্তাটি পৌছে দিতে পারেন । ঠিক করুন আপনি কি সরাসরি রেসপন্স চাচ্ছেন নাকি ব্যান্ড এয়োররনেস  বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন । তারপর আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে নেমে পড়ুন।

আপনি যদি এডের জন্য কোন  ডিজাইনারের সাহায্য নেন , সেক্ষেত্রে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন এড সেট বানানো ব্যায় সাপেক্ষ। কিন্তু মনে রাখতে হবে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের উপর ভিত্তি করে আপনার এডের টেক্সটের সামান্য পরিবর্তন ফলাফলে অনেক বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।সামান্য পরিবর্তন করে হলেও আপনার এডের কয়েকটি সেট বানান।

রিমার্কেটিংয়ের জন্য আপনার অবশ্যাই ভিন্ন কৌশলের দরকার হবে। কোন নিদিষ্ট প্রডাক্ট প্রদর্শন করতে কোন ডাইনামিক এড চালাতে ও কোন বিশেষ বার্তা বা অফার লোকের কাছে পোছে  দিতে কিছু এড ডিজাইন করতে পারেন।

প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কাদেরকে টার্গেট করবেন , কি ম্যাসেজ তাদেরকে দিবেন। তারপর নতুন ইউজারদের জন্য আপনার এড সাধারন এডের তুলনায় অবশ্যাই আলাদা করে বানাতে হবে। চেষ্টা করুন ভিন্ন ভিন্ন লুকের বেশ কয়েকটি এড বানাতে।

২। আপনার ব্র্যান্ডের উপর ভিত্তি করে এড বানানঃ

আপনি যে এড বানাবেন তা অবশ্যাই আপনার ওয়েব সাইটের লুক ও ফিলের সাথে মানান সই  হতে হবে। কালার ম্যাচিংয়ের কথা মাথায় রাখতে হবে।এখেত্রে আপনি কালার পিকার  ব্যাবহার করতে পারেন। আপনি যদি এডওয়ার্ডে এড বিল্ডার টুল ব্যাবহার করেন তাহলে একই  হেক্সা কোড ব্যাবহার করুন যেন কালার একই রকম থাকে।

image ad

রিমার্কেটিংয়ের প্রসেসে আপনি যদি এড ব্যাবহার করেন তাহলে ব্র্যান্ড অনুযায়ী কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেন ভিজিটর ভাবতে পারেন তিনি আপনার সাইটেই ভিজিট করছেন এবং খুবই সহজেই আপনার ব্র্যান্ডকে চিনতে পারেন।

৩। কল টু একশান বনাম নো কল টু একশান

গবেষণায় দেখা গেছে কল টু একশান সহ এড ও কল টু  একশান ব্যাতিত এডের সিটিআর (ক্লিক থ্রো রেট) এর মধ্যে পার্থক্য  খুবই কম। তার মানে হল আজকের দিনে লোকেরা  যেসব এড দেখে সেগুলো ক্লিক এবল হবে এমনটাই তারা ধরে নেয়।

তবে এডের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া খুবই জরুরী। আপনি শুধু কল টু একশান সহ এড এবং কল টু একশান ব্যাতিত এডের পরীক্ষা নিরীক্ষাই করবেন না অন্য বিষয়গুলোতে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। যেমন আপনার ইন্ডাজট্রির জন্য “শপ নাও” এর চেয়ে হয়ত “বাই নাউ” ভাল কাজ করতে পারে। আবার আপনি যদি কোন জটিল ধরনের কোন পন্য নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি “লারন মোর” ব্যাবহার করতে পারেন ।

আপনি যদি সিপিএম (কষ্ট পার ক্লিক) বেসিসে এড চালান , তাহলে কল টু একশান নিয়ে এড পরীক্ষা নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিছু ক্লিক আপনার ব্রান্ডের উপর ভাল প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ কথা হল আপনি কোনটা বেছে নিবেন নির্ভর করছে আপনার লক্ষ্যের উপর।

৪। সচল বনাম স্থিরঃ

স্থির  এডের সিটিআর সচল এড থেকে প্রায়শই বেশি হয়। তাই  আপনার পরীক্ষা নিরীক্ষার তালিকাতে স্থির ইমেজের একটি এডও রাখতে পারেন। মাযে মাযে  লোকের হাতে এত সময় থাকে না যে , তারা আপনার রোটেওশান এডটি ৩০ সেকেন্ড ধরে দেখবে।

এখন আপনি জদি স্লাইড রোটেড করা এড বানাতে চান তাহলে অবশ্যাই শেষ স্কাইডে এমন সব তথ্য দিন যাতে করে ভিজিটররা  ক্লিক করে আপনার সাইটে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়।

একি সঙ্গে রোটেড এড ব্যাবহার করলে অবশ্যাই প্রতিটি সাইডের সাথেই কল টু একশান দিন যেন ভিজিটরকে  শেষ স্লাইড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে না হয়

৫। কোম্পানি লোগোঃ

খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতি ফ্রেমে আপনার কোম্পানির লোগো থাকে। আপনার লোগো দেখে যদি এটা বোজা না যায় যে , আপনার ব্র্যান্ডটি কিসের তাহলে আপনাকে এডের ভিতরে এর ব্যাখা করতে হবে। ব্যাপারটি যেন কোন ভাবেই এমন না হয় যে, আপনি অসাধারন সব ইমেজ ব্যাবহার করেছেন কিন্তু আপনি কি ধরনের পণ্য বিক্রি করেন সেটাই স্পষ্ট নয় ।

৬। সব সাইজ ও ফরমেটের এড টেস্ট করুনঃ

যেকোন এড বানানোর পূর্বে গুগল ইমেজ এডস গাইডলাইনস  চেক করে দেখুন আপনার ব্যাবহার করা ইমেজ গুলো তাদের সাজেশন মত আপটুডেট সাইজ মত আছে কি না। যথেষ্ট কাভারেজ পেতে আপনাকে সম্ভাব্য সকল সাইজের এড বানাতে হবে। আপনি আপনার ডিজাইনারকে এই সব গাইড লাইন সম্পর্কে অবগত করুন যেন তিনি গুগল কোথায় ফ্লাসিং/ স্টোরবিং, লেন্থ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেছে সে সম্পর্কে ধারনা রাখেন।

নয়ত আপনি অনেক সময় ও টাকা খরচ করে এড বানিয়ে লঞ্চ করার সময় দেখবেন সেটি অনুমোদন পায়নি ।

শেষ কথা

গুগল ডিসপ্লে নেটওয়ার্কের জন্য ইমেজ এড বানানোর এইসব বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত। আর অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন কোম্পনি তাদের হাতে থাকা রিসোর্স ,এবং বাজেট , সময়ের সাথে মিল রেখে ভিন্ন ভিন্ন প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাবে।

প্রধান যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হল ইমেজ এডের উদ্দেশ্য কি এবং সেসব এড যেমন টেক্সট এডসগুলোকে সারা বছর ব্যাপী টেস্ট ও রিফ্রেস করা জরুরী।

তথ্য সুত্রঃ

http://searchengineland.com/image-ads-best-practice-google-display-network-campaigns-202864

https://www.en.adwords-community.com/t5/Basics-for-New-Advertisers/5-Golden-Aspects-For-Top-Quality-Image-Ads/td-p/16494#

http://www.advancedwebranking.com/blog/google-display-network-best-practices/

https://support.google.com/adwords/answer/6223297?hl=en

 

Personal Profile: আনোয়ার হোসেন
Business Page : econtentbd
Website: www.econtentbd.com
Skype ID : anower009
E-Mail ID: hossain.anower009@gmail.com
Mobile: 01916572657

 

১। ই-কমার্স সাইটে ভিজিটর আনার যত পদ্দতি এবং সেগুলো শেখার রিসোর্স । (১য় পর্ব)

২। ই-কমার্স সাইটে ভিজিটর আনার যত পদ্দতি এবং সেগুলো শেখার রিসোর্স । (২য় পর্ব)

৩। ই-কমার্স সাইটের জন্য কেন করবেন ভিডিও মার্কেটিং ?

৪।৭ টি মারাত্তক ভুল যা ই-কমার্স সাইটগুলো করে থাকে ।

৫।আপনার ই-কমার্স সাইটটিকে কিভাবে কার্যকর ও আকর্ষণীয় ভাবে সাজাবেন।

৬।১২ টি কার্যকর ই-কমার্স মার্কেটিং কৌশল ।

 

 

 

 

1,317 total views, 3 views today

Comments

comments