ক্রেতামুখী বাজারজাতকরণ

295
ক্রেতামুখী বাজারজাতকরণ

ক্রেতামুখী বাজারজাতকরণ

Customer Driven Marketing

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আজকের বাজার প্রতিযোগীতার বাজার এবং উপযোগীতার বাজার। আপনার পন্য অবশ্যই বাজার ও ক্রেতার উপযোগী হওয়া চাই। ভোক্তাদের প্রয়োজন, রুচি পছন্দ ও সামর্থ অনুসারে পন্য উৎপাদন ও সংগ্রহ করতে হয়। আপনারর নিজের ভাব ও আবেগের মূল্য নিতান্ত কম যদি সেটা ভোক্তার মনস্তত্বের সাথে সমন্বয় না করে। বাজারের এলোমেলো বিক্ষিপ্ত অথবা অন্যের ক্রেতাদেরকে নিজের পন্যের ক্রেতায় পরিণত করার জন্য ক্রেতার সামনে উপযুক্ত কারণ পেশ করতে হবে এবং ক্রেতার প্রয়োজন ও অভাবগুলোকে সঠিকভাবে বিশ্লেষন করে পন্য বা সেবা পরিবেশন করতে হবে।

তবে মনে রাখা দরকার যে, আপনি যত ভালো পন্য আর যতো বেশী রকমের সেবা দিয়ে থাকেন না কেন? বাজারের সব ক্রেতাই আপনার ক্রেতা হবেনা। সেক্ষেত্রে টোটাল মার্কেট সাইজ কতো? এটা আসলে কতো বড়ো হতে পারে? কোন কোম্পানীর মার্কেট শেয়ার কতো? কেন কোন কোম্পানী মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে পারেনি? কিভাবে অন্য এক কোম্পানী মার্কেটে নতুন প্লেয়ার হিসেবে আবিরর্ভূত হয়েছে এসবের বিশ্লেষন থাকা জরুরী তাতে নতুন ও ক্রেতামুখী পন্য, সেবা, প্যাকেজ বা অফার ডিজাইন করা যায়। একটি নতুন অফার কতোটা সফল হবে তা নির্ভর করছে সেটা কতটা ভোক্তামূখী তার উপর।

বাজারে বিভিন্ন ধরণে, বয়স ও রুচির ক্রেতা থাকে। তাদের একটি সংখ্যাও নির্ণয় করা যায় আবার তাদের প্রযোজনকে পন্য একক কিংবা টাকার মূল্যে একটি ধারণায় পৌঁছা যায় সেখান থেকে কোম্পানীর সামর্থ ও প্রতিযোগী কোম্পানীর যোগ্যতার ভিত্তি করে বাজারের ক্রেতার কোন অংশকে ঠিক করা হবে এবং তা বাজার শেয়ারের কত শতাংশ হবে সে মোতাবেক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়।

একটি বৃৎৎ বাজার বা ক্রেতাগোষ্টি থেকে একটি চুম্বক অংশ নির্বাচিত করে তাদের জন্য পন্য উৎপাদন বা বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রথমত তিনটি বিষয় আজ সেগুলো আলোচনা করা যাক।

ক. বাজার বিভক্তিকরণ: (Market Segmentation)

খ. অভীষ্ট বাজারজাতকরণ: (Target Marketing)

গ. বাজারে অবস্থান গ্রহণ: (Market Positioning)

 

ক. বাজার বিভক্তিকরণ: (Market Segmentation)

বাজার বিভক্তিকরণ এমন একটি কাজ যা দ্বারা বাজারের সমগ্র ক্রেতাদলকে প্রয়োজন বা চরিত্র অনুযায়ী সমজাতীয় বৈশিষ্টের আলোকে কিছু ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেয়া। যাদের প্রয়োজনগুলো একই রকম এবং নির্ধারিত ক্রেতাদলের জন্য তাদের প্রয়োজন ও সংখ্যা অনুযায়ী পন্য বাজারজাত করণের কথা ভাবা যায়। পন্য বা সেবা অনুসারে ক্রেতাদলকে বিভিন্নভাগে ভাগ করা যায়। ভাগ করার সময় ক্রেতার অনেক তথ্যই দরকার হয়। যেমন ক্রেতার লিঙ্গ, বয়স, রুচি, আয়, শিক্ষা, ধর্ম, এলাকা , রুচি, ভোগ অভ্যাস, প্রবণতা ইত্যাদি নানাবিষয় এর জন্য বিবেচ্য হতে পারে। এসব বিষয়গুলো বাজার থেকে ক্রেতার পন্য নির্বাচনে ভূমিকা রাখে। একটি কোম্পানীর পক্ষে বাজারের সব ধরনের ক্রেতার মন জয় করা কিংবা চাহিদা মেটানো কঠিন তাই ছোট ছোট ভাগ ভাগ করে ক্রেতা ঠিক করতে হয়। প্রয়োজনে প্রত্যের ভাগের জন্য তাদের চাহিদা ও আগ্রহ অনুসারে তাদের জন্য সেবা ও পন্য পেশ করতে হয়।  ক্রেতাভিত্তিক দলে এক ধরনের উপবাজার তৈরী হয় তখন প্রত্যেক উপবাজারের ক্রেতাদের বৈশিষ্ট্যের অনুসারে বাজারজাতকরণ পরিচালনা করতে হয়।

 

খ. অভীষ্ট বাজারজাতকরণ: (Target Marketing)

ভোক্তার গতি প্রকৃতি ধরণ অনুসারে ক্রেতাদের বিভক্তিকরার পর যেসব উপদল বা বিভাগ তৈরী হয় প্রতিটি বিভাগের আকর্ষনীয়তা বা প্রয়োজন বিবেচনা করে বাজারজাত করণের লক্ষ্য হিসেবে এক বা একাধিক বা বাজারের সব বিভাগে বাজারজাতকরণের কৌশল ঠিক করাকে বলা হয় অভীষ্ট বাজারবাতকরণ। কোম্পানী কি একটি বা একাধিক দলকে নির্বাচন করবে তার ভোক্তা বানানোর জন্য অথবা বাজারের সব দলকেই ভিন্ন ভিন্ন অফারে ভোক্তা বানাবে তার নির্ভর করবে কোম্পানী সক্ষমতার উপর। কোম্পানীর উৎপাদন ক্ষমতা অপরিসীম বা আনলিমিডেট নয়। তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কতিপয় দলকে বা অংশকের নির্বাচন করে বাজারজাত করতে হয়। এবং তাদের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখতে হয়।

গ. বাজারে অবস্থান গ্রহণ: (Market Positioning)

ক্রেতা ঠিক করার পর তাদের কাছে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পন্যের তুলনায় অথবা বিকল্প পন্যের তুলনায় ইতিবাচক ধারণা ও স্বচ্ছ ও স্বতন্ত্র বৈশিস্ট্যগুলো জানিয়ে দেয়া এবং বাজারের একটি অংশ দখল করে বিক্রয়কে কাংখিত স্থানে পৌছে দেয়াই হলো বাজারে অবস্থান পোক্ত করা। এতে নির্দিষ্ট বা উর্দিষ্ট ক্রেতাদের মনে প্রতিযোগী পন্যের চেয়ে বেশী স্পষ্ট, পৃথক এবং কাংখিত স্থান দখল করতে পারে।

শুধু ক্রেতা ঠিক করা কিংবা ক্রেতার প্রয়োজন অনুসারে পন্যের ফিচার উন্নয়ন করেই এই পক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়না। বরং পন্যের মান ও নতুনত্ব সম্পর্কে ক্রেতাকে জানাতে হয় ক্রেতার কাছে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরীর মাধ্যমে পন্যের বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া অগ্রসর হতে পারে।

পন্য যেহেতু ক্রেতার জন্য তাই এখানে ক্রেতার চাহিদা ও পছন্দই শেষ কথা। সেটা জানা বোঝার জন্য যেমনি তথ্য উপাত্ত ও বাজারের প্রত্যক্ষ জ্ঞান দরকার হয় তেমনি সে জানা অনুযায়ী পন্য তৈরী, সংগ্রহ এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে যর্থাথ ও উপযুক্ত করে মানুষের কাছে পেশ করতে হয়।

লেখক:

হেড অব বিজনেস

ওয়ালেটমিক্স গ্রুপ

 

 

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *