ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট কি ও কেন?

863

ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট কি ও কেন?

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমরা জানি যে কনটেন্ট এর দুটো রুপ থাকে। একটি হচ্ছে তার মূলরুপ বা মূল লিপি অন্যটি বা অন্যগুলো হলো অনুরুপ বা অনুলিপি। অনুলিপি যদি মূল লিপি থেকে তৈরী হয় তাহলে মূললিপি কিভাবে তৈরী হয়। আসলে মূল লিপিটাই হলো সৃজনশীল আধেয় বা বিষয়স্তু বা  ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট।

ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট তৈরী হয় কোনো এক বা একাধিক মানুষের ভাবনার আলোকে। কখনো প্রয়োজন কখনো ফরমায়েশ কখনো স্বেচ্ছায় ক্রিয়েটিভ লোকেরা যে কনটেন্ট তৈরী করে সেগুলোই ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট।

ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু অন্যকোনো কনটেন্ট এর সাথে মিলে যায়না। সেগুলোর মধ্যে কোনো নতুন বার্তা বা ভাবনা না থাকে অথবা কোনো পুরনো ভাব বা ভাবনার নতুনরুপে উপস্থাপনা থাকে। সেখানে এমন কিছু থাকে যা নতুন করে ভাবা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে।

বিষয়বস্তু বা আধেয়কে নতুন করে ভাবনার মাধ্যমে নতুন সৃস্টি হিসেবে প্রকাশ করাই হলো সৃজনশীল বিষয়বস্তু বা ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট।

সৃজনশীল বিষয়বস্তু  প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব?        

বর্তমান যুগে কনটেন্ট ছাড়া আধুনিক জীবন ও সভ্যতা কোনোটাই কল্পনা করা যায়না। আর ব্যবসায় বানিজ্যের ক্ষেত্রেতো এককদমও চলা যাবে না কনটেন্ট ব্যতিত।  যেখানে কনটেন্ট এর প্রয়োজন প্রশ্নাতীত সেখানে ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হবে এটাইতো স্বাভাবিক।  যেহেতু ব্যবসায় বানিজ্য হলো একটি প্রতিযোগিতামূলক, পরিবর্তনশীল ও স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দিক তাই এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন নতুনত্ব, নিজস্বতা আর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার।

আমরা যেহেতু আমাদের ভাব ভাষা ও বার্তা কনটেন্ট এর মাধ্যমে প্রকাশ বা উপস্থাপন করি যেহেতু যখনি আমরা ব্যবসায় বা পেশায় অন্যরকম কিছু করতে বা দেখাতে চাইবো তখন তা অনুলিপি বা কপি পেস্ট করা কনটেন্ট দিয়ে সম্ভব নয়। ঠিক তখনই নতুন ভাবনার আলোকে ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপনের প্রশ্ন আসবে আর আসবে সৃজনশীল আধেয় বা ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট তৈরীর প্রশ্ন।

তাহলে ব্যবসায় বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসারের এর জন্য আমাদেরকে ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট এর দ্বারস্থ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। সেটা হয়তো নিজেই নিজের ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট তৈরী করতে হবে নয়তো অন্যকারো সাহায্য নিতে হবে।

 

বিজনেস কনটেন্ট কি এবং কেন?

কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু আমাদের জীবনযাপনের সাথে জড়িয়ে আছে। লেখা, কথা, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন, ডিজাইন, ফটোগ্রাফি যাই বলি না কেন এগুলো আধুনিক সভ্যতার অংশ। বিশেষ করে ব্যবসায় বানিজ্যের কাজকর্ম এসব ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। দিনে দিনে তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার আর ব্যবসায় বানিজ্যে আসছে নতুন নতুন মাত্রা। আধুনি ই বিজনসে এর যুগে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিমুহর্তে ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট

কনটেন্ট কাকে বলে ?

কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু হলো এমন কিছু মাধ্যম যা দিয়ে কোনো কিছুকে প্রকাশ করা যায়। কোনো কিছুর অবস্থা হতে পারে কোনো চিত্র ও শব্দও হতে পারে।  এগুলো সরাসরি প্রকাশ করা যায় আবার সংরক্ষিত রেখে সরবরাহ ও বিতরণ করা যায়। এগুলোর একটামাত্র লিপি থাকতে পারে থাকতে পারে একাধিক হুবহু অনুলিপি। যেমন কোনো হাতের লেখা, ছাপানো কাগজ, ভিডিও বা চলমান ছবি, অডিও বা শব্দযোগ, গ্রাফিক্স বা নকশা, ডিজাইন বা আঁকা, আলোকচিত্র, ছায়াছবি, দলিল, এনিমেশন বা ইনফোগ্রাফিক্স ইত্যাদি।

সেটা কোনো বার্তা হতে পারে, কোনো প্রশ্নের উত্তর হতে পারে। কোনো নিছক বিনোদন হতে পারে। কোনো ঘটনার সাক্ষ্য প্রমান বা দলিলও হতে পারে।

 কনটেন্ট কত প্রকার ও কিকি?

অবস্থার প্রেক্ষিতে কনটেন্ট প্রধানত ২ প্রকার

হার্ড কনটেন্ট বা ধর্তব্য বিষয়বিষয়বস্তু : যেমন কাগজে বা ছাপার লেখা, কাগজে আঁকা বা ছাপা ছবি, ভিডিও বা অডিও টেপ। এগুলোকে বলা হয় এনালগ কনটেন্ট। কারণ এগুলো পূর্বের প্রযুক্তিতে ধারণ  ও পরিবেশন করা হয়।

সফট কনটেন্ট বা অনুধাব্য বিষয়বস্তু: যেমন কম্পিউটারে বা ইন্টারনেটে দৃশ্যমান লেখা বা ছবি, স্ক্রিনে বা মোবাইলে দেখা ভিডিও বা শোনা অডিও। এগুলোর আরেকনাম ডিজিটাল কনটেন্ট। কারণ এগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধারণ ও পরিবেশন করা হয়।

আধুনিক যুগে বিভিন্ন মাত্রায় কনটেন্ট বা বিষয়বস্তুকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হলেও কনটেন্ট মূলত ৪ প্রকার

লেখা বা টেক্সট

ছবি বা ইমেজ

অডিও বা শ্রবনীয়

ভিডিও বা চিত্রচলন

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *