ক্যাশ অন ডেলিভারির Failure Transaction কমিয়ে আনবেন যেভাবে।

1411
ক্যাশ অন ডেলিভারির Failure Transaction কমিয়ে আনবেন যেভাবে

COD বা ক্যাশ অন ডেলিভারি ই-কমার্স পেমেন্ট এর সব চাইতে বড় একটা অংশ। আমাদের দেশের ই-কমার্স সাইটগুলোর প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ কেনাকাটাই হয় এই

ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে। পার্শবতী দেশ ভারতেও এর পরিমান কম নয়। ফ্লিপকার্ট তাদের এক জরিপে প্রকাশ করেছে যে তারা প্রায় ৮০ শতাংশ ওয়ার্ডার এই ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমেই পেয়ে থাকেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যাশ অন ডেলিভারি আমাদের দেশে ইকমার্সে গ্রাহক বৃদ্ধিতে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। মুলত এই পদ্ধতিতে গ্রাহকরা নিশ্চিন্ত এবং নিরাপদ অনুভব করে থাকেন। কিন্তু এর বিপরীত দিকটা খুবই বিপদজনক, অর্থাৎ ইকমার্স ব্যাবসায়ীদের জন্য এটা একটি চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে এ ধরনের failure পেমেন্ট যেমন ঝামেলার তেমনি ব্যয়।

অন্য এক জরিপে দেখা গেছে যে ক্যাশ অন ডেলিভারির প্রায় ৪০ শতাংশই failure পেমেন্ট হয়ে থাকে।

সমস্যা এখেন অনেকগুলো যার কারন একটাই আর সেটা হল ডেলিভারি বাতিল। কয়েকটি কারন নিম্নরুপঃ

১। Fraud Orders,  যার মানে হল ক্রেতার ঠিকানায় গিয়ে তাকে না পাওয়া বা ক্রেতা আসলে ফান করেই ওয়ার্ডার কেটেছেন, ডেলিভারির সময় সে হয়ত নিতে অস্বীকৃতি জানানো। অথবা ইচ্ছে করেই হয়রানি করানো ইত্যাদি।

২। দ্বিতীয় কারনটি হল ছবির সাথে পন্যের অমিল থাকায় পন্য গ্রহনে অনীহা প্রকাশ। ক্রেতা অনেক সময়ই রঙ, মাপ, ও দৃশ্যতার ব্যাবধান দেখিয়ে পন্য গ্রহনে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন।

৩। তৃতীয় কারনটি হল ত্রুটিযুক্ত পন্য। পন্য পরিবহনের সময় অথবা উৎপাদিত পন্যে উৎপাদন ত্রুটি ক্রেতার চোখে ধরা পরলে ক্রেতা সেটা নিতে অস্বীকৃতী জানান।

৪। অনেক সময় পন্য ডেলিভারিতে দেরি হলেও ক্রেতা সেটা নিতে অস্বীকৃতী জানাতে পারেন।

তবে উপরে উল্লেখ করা কারনগুলির মধ্যে প্রথম কারনটি বেশ হতাশাজনক এবং ব্যাবসায়ীক দৃষ্টিকোন থেকে ক্ষতিকর।

আর এর থেকেও সব চাইতে বড় ব্যাপারটা হল ক্যাশ অন ডেলিভারিতে একটা ঝুকি থেকেই যায়। অর্থ বহন, লেনদেন এবং লেনদেন এর মাঝখানে অসাধানতাজনিত দূর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশ উল্লেখ করার মত।

ভাল ই-কমার্স ব্যাবসায় আপনাকে ক্যাশ অন ডেলিভারি এর পরিমান কমিয়ে আনতে হবে। ক্যাশ অন ডেলিভারি যত কমবে আপনার ব্যাবসায় ঝুকির পরিমানটাও কমে আসবে।

এবার আসি, কিভাবে আপনি আপনার সাইটে ক্যাশ অন ডেলিভারি কমিয়ে অনলাইন পেমেন্টের পরিমান বাড়াবেন।

১। আপনি আপনার সাইটে ক্যাশ অন ডেলিভারি এর জন্য সর্বোচ্চ লিমিট সেট করুন। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকার পরে ক্যাশ অন ডেলিভারি গ্রহনযোগ্য হবে না। এতে করে বড় অঙ্কের ঝুকির থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যাবে। ভারতে ফ্লিপকার্ট উত্তর প্রদেশকে ক্যাশ অন ডেলিভারির জন্য সব থেকে ঝুকিপূর্ন চিহ্নিত করে এবং নিয়ম করে দেয় উত্তর প্রদেশ থেকে ১০,০০০ রুপির বেশি হলে সেই ওয়ার্ডার ক্যাশ অন ডেলিভারি হবে না। এটা একটা উদাহরন মাত্র। আপনি আপনার সীমা এবং নিয়ম নিজের গ্রাহক যাচাই করে সেট করে নিবেন। সে ক্ষেত্রে কয়েকটি Failed Transaction নিয়ে আগে গবেষনা করে নিন।

২। অনলাইন পেমেন্টের উপর নানান রকম ইনসেনটিভ দিতে পারেন। দিতে পারেন ডিস্কাউন্ট অফার যা কিনা শুধু মাত্র অনলাইন পেমেন্ট হলেই পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে আপনি ব্যাংক/পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর সাথে Mutually কাজ করতে পারেন। আপনি অনলাইনে পেমেন্ট করা ক্রেতাকে গিফট ভাউচার দিতে পারেন। মোট কথা হল ক্রেতাকে বুঝাতে হবে যে অনলাইনে পেমেন্ট করলে একটু বেশি সুবিধা পাবেন। চাইলে এ ধরনের ডিস্কাউন্ট নিয়ে ফেইসবুকে ক্যাম্পেইনও করতে পারেন।

৩। সাইটে যত বেশি সম্ভব পেমেন্ট প্রসেসর/পেমেন্ট অপশন যোগ করুন। মোবাইল পেমেন্ট ধীরে ধীরে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সেটার উপর বিশেষ জোড় দেয়া উচিত এখন থেকেই। এছাড়াও পেইজা, পে-পাল এরকম যত অপশন আপনি বাড়াবেন, ক্রেতার গন্ডি আরো বেড়ে যাবে।

৪। ক্যাশ অন ডেলিভারি আপনার সাইটের নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন। মানে হচ্ছে, যে সকল পন্য একটু বেশি মূল্যবান অথবা ফেরত আসা পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়া মুশকিল সেসব ক্যাটাগরিতে ক্যাশ অন ডেলিভারি বন্ধ রাখুন।

৫। সর্বনিম্ন লিমিট সেট করুন, যার কম মূল্যের পন্যের জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি প্রজয্যো হবে না।

৬। ক্যাশ অন ডেলিভারির উপরে সামান্য চার্জ ধ্যার্য্য করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ই-ক্যাবও তার সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে একধরনের সার্বজনীন নিয়ম চালু করতে পারে। যা কিনা ক্রেতাকে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কেনার ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত করবে।

লেখকঃ সরদার নাহিদ নিয়াজ

 

Comments

comments

1 Comment

  1. Tazul Islam Masud

    ধন্যবাদ, আমরা অন্তত ১০০ টাকা এডভান্স রাখি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *