কো-ওয়ার্কিং স্পেস হতে পারে ই-কমার্স উদ্যোক্তার অফিস সমস্যার সমাধান

504
WWW.BONIK.BIZ

কো ওয়ার্কিং স্পেস হতে পারে আপনার সপ্ন পূরনের প্রথম ধাপ

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

কো-ওয়ার্কিং স্পেস  কি এবং কেন?

কো-ওয়ার্কিং স্পেস হলো যেখানে ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী এক জায়গায় বসে নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায়িক ও পেশাগত কাজ সম্পাদন করতে পারবেন। বাংলাদেশে আইডিয়া একটু নতুন হলেও উন্নত বিশ্বে এটা ব্যাপক প্রচলিত এবং কার্যকর একটা ধারণা।

কেন মানুষ নিজে আলাদা অফিস না নিয়ে শেয়ারে অফিস নেয়ার মতো এই কো-ওয়ার্কিং স্পেস ব্যবহার করবে?

কো-ওয়ার্কিং স্পেস ব্যবহার করার একাধিক কারণ থাকে। বেশীরভাগ মানুষ কো-ওয়ার্কিং স্পেস ব্যবহার করে প্রথমত খরচ সেভ করার জন্য দ্বিতীয়ত নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর জন্য। কারণ একটি আলাদা অফিস নিতে হলো পুরো একটি অফিসের ভাড়া দিতে হয়, অগ্রিম সেলামী দিতে হয়, ডেকোরেশন এবং ফার্ণিচারের জন্য বড়ো একটা বিনিয়োগ দিতে হয়। প্রতি মাসে ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, আলাদা পিয়ন, সিকিউরিটি গার্ড, রিসিপশনিষ্ট, ইন্টারনেট বিল ইত্যাদি যাবতীয় খরচ বহন করতে হয়। আর কো-ওয়ার্কিং স্পেস এর ক্ষেত্রে এই খরচড়গুলো গায়ে লাগেনা। কারণ এগুলো তখন ২০/৩০ জনের ঘাড়ে চলে যায়। আর এখানে অনেক ধরনের লোকেরা কাজ করতে আসে বলে সকলের সাথে পরিচয় নেটওয়ার্কিং এবং আইডিয়া শেয়ার করা যায়। এছাড়া বর্তমানে আরো অনেক সুবিধা যুক্ত হয়েছে কো-ওয়ার্কিং অফিসে।

খরচ সেভ আর নেটওয়ার্কিং ছাড়া আর কি কি সুবিধা পাওয়া যায়?

আধুনিক যুগে ক্রমশ হোম অফিসের জায়গা দখল করে নিচ্ছে কো-ওয়ার্কিং স্পেস। কারণ এতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কফিশপ, কনফারেন্স রুম, মিটিং রুম, রেকডিং স্টুডিও, হ্যাং আউট স্পেস, কোয়াইট প্লেস এছাড়া নিয়মিত অন্যান্য সুবিধা যেমন মেইল বক্স, ফোন রিসিভ, ডকুমেন্ট প্রিন্ট, ক্লায়েন্ট মিটিং ইত্যাদি সুবিধাতে রয়েছেই।

কারা মুলত কো-ওয়ার্কিং স্পেস ব্যবহার করে?

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা যারা কম খরচে ব্যবসায় শুরু করতে চায় তাদের জন্য এটা বেশ ভালো। এছাড়া স্বাধীন পেশাজীবিরাও এমনটা করতে পারে বিশেষ করে যাদের কাছে খুব বেশী ক্লায়েন্ট আসে না। যেমন, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ফ্রি ল্যান্সার, আইসিটি রিলেটড ব্যবসায়। কোনো কো-ওয়ার্কিং স্পেস এর শর্তের সাথে মিললে যেকোনো ব্যবসায়ের জন্য কোওয়ার্কিং স্পেস নেয়া যায়। তবে মানুষের ভিড় হয়ে এমনন সেবামূলক ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য নয় যেমন স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি।

তাহলে কি ব্যবসায়ী বা পেশাজীবি ছাড়া কি কেউ কো-ওয়ার্কিং স্পেস ব্যবহার করতে পারবেনা?

অবশ্যই পারবে। কেউ যদি বাসায় অন্য কোথায় কাজ করার চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত যেকোনো কাজ একা একা বসে বসে কো-ওয়ার্কিং স্পেস এ কাজ করতে চান তিনিও এখানে ডেস্ক নিতে পারেন। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী হবেন বা কোনো ব্যবসায় পরীক্ষামূলক কিছুদিন করবেন এমন ব্যক্তিও কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিতে পারেন।

ই-কমার্স বা ট্যুরিজম এসব ব্যবসায়ের জন্য কো-ওয়ার্কিং স্পেস কতটা উপযুক্ত।

যদি অনলাইনে যোগাযোগ ও কাজের পরিমাণ বেশী হয় এবং ১ থেকে ৫ জনের ছোট টিম নিয়ে কাজ করেন তাহলে ই-কমার্স, ডোমেইন-হোস্টিং, ট্যুরিজম এমনি আরো অনেক ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য। এমনকি একজন প্রিন্টিং ব্যবসায়ীও এটা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে তার যদি নিজের প্রেস না থাকে তিনি যদি ২/৩ জনের একটা টিম নিয়ে নিজেই কাজ করেন। এবং কাজের ফিনিশগুড অফিসে না এনে প্রেস থেকে কাস্টমারকে ডেলিভারী দিয়ে থাকেন।

কো-ওয়ার্কিং স্পেস এ কাজ করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা থাকে কি? ব্যবসায়িক সিক্রেট ব্যাপার স্যাপারগুলো কিভাবে করবো?

প্রথমত- কো-ওয়ার্কিং স্পেস এখানে তথ্য নিরাপত্তাহীনতার কোনো ভয় নেই। কারণ প্রত্যেকে নিজস্ব ল্যাপটপে কাজ করবেন। কারো কাজ কেউ দেখার প্রশ্ন আসে না। তাছাড়া ক্লায়েন্ট এর সাথে মিটিং করার জন্য আলাদা মিটিং রুম আছে। কেউ চাইলেও সেখানে ডেস্ক এ গেষ্ট বসাতে পারবেন না। সূতরাং কারো ব্যবসায় সম্পর্কে অন্যকারো জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তিনি না জানান।

কো-ওয়ার্কিং স্পেস এ অফিস নিতে বা ডেস্ক নিতে খরচ কেমন হয়?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাসব্যাপী ডেস্ক নিলে ৬ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ভাড়া আসে। এছাড়া ঘন্টা হিসেবেও অনেক জায়গায় বিল হয় সেমন ঘন্টা ৫০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া ডেডিকেটেড ডেস্ক, কোয়াইটে প্লেস, সেপারেট অফিস রুম এর ক্ষেত্রে আরেকটু বেশী হয়ে থাকে। এই খরচের মধ্যে ভাড়া, বিদ্যুৎ ইন্টারনেট বিল রয়েছে। মিটিং রুম, কনফারেন্স রুম, স্টুডিও, প্রিন্টিং সুবিধা, ফটোকপি, ফোনকল, লকার কপিশপ এসব ব্যবহারের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।

ঢাকায় কোথায় কোথায় এ ধরনের কো ওয়ার্কিং স্পেস আছে?

গুলশান, বাড্ডা, মগবাজার, বনানী, উত্তরা ও মিরপুরে এ ধরনের কো ওয়ার্কিং স্পেস আছে।

 

এক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স পেতে কোনো সমস্যা হয় কিনা?

যদি কো-ওয়ার্কিং স্পেস কতৃপক্ষ আপনার সাথে বাড়ী ভাড়ার চুক্তি করে মানে স্পেসটার মালিক তারা নিজেরা হয় এবং তারা আপনাকে অনুমতি দেয় তাহলে আপনি অবশ্যই অফিস ভাড়ার দলিল পেশ করে সেই ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে পারবেন।

কো-ওয়ার্কিং স্পেস এর ঠিকানা কি আমি কাগজে কলমে ব্যবহার করতে পারবো মানে ভিজিটিং কার্ড ও প্যাডে, এই ঠিকানায় কি আমার চিঠি আসবে বা আমি কি অফিসের প্রবেশপথে ছোট সাইনবোর্ড বা নেমপ্লেট দিতে পারবো? আমার ফোন আসলে কি তারা রিসিভ করবে।

এগুলো নির্ভর করছে কো-ওয়ার্কিং স্পেস কতৃপক্ষের পলিসির উপর।  লেটার হেড ও বিজনেস কার্ডে ঠিকানা ব্যবহার করতে অনেক কো-ওয়ার্কিং স্পেস কতৃপক্ষ অনুমতি দেয়। চিঠি আসার ক্ষেত্রে কেউ কেউ আলাদা চার্জ করে থাকে।  আর কোনো কোনো অফিস নেমপ্লেট এলাউ করে কোনো কোনো অফিস করে না। আপনি প্রয়োজনে আগে জেনে নিতে পারেন। আর ফোন সুবিধার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো কোনো অফিসে এই সুবিধা থাকে তবে অবশ্যই সেজন্য আলাদা পেমেন্ট দিতে হয়।

 

 

 

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.