কিছু ব্যর্থ ই-কমার্স উদ্যোক্তার গল্প (২)

797
Kothandaraman Vaitheeswaran

ব্যর্থ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের গল্প সিরিজের এটি দ্বিতীয় এবং শেষ পোস্ট। আজকে আরো কিছুই ব্যর্থ  উদ্যোগের কথা বলব।

অ্যামাজন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সফল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অ্যামাজন এর সফলতার পিছনেও অনেক ব্যর্থতা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে ই-কমার্সে অ্যামাজন এক নম্বরে আছে কিন্তু তাদের এই প্রথম অবস্থান ধরে রাখতে অনেক ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কেন তারা ব্যর্থ হয়েছে? অ্যামাজন ডট কম যদিও ই-কমার্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিন্তু ই-কমার্সই তাদের একমাত্র ব্যবসা নয়। তাদের আরো অনেক ধরণের ব্যবসা আছে। আপনি অ্যামাজন কিন্ডল, অ্যামজন ওয়েব সার্ভিস সহ আরো নানা ধরণের প্রতিষ্ঠানের কথা শুনে থাকবেন। অ্যামাজন সব সময়ে নিত্য-নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করে চেষ্টা করে। এরকম অনেক আইডিয়া আছে যেখানে তারা অনেক টাকা ঢেলেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সফল হয় নি। এই যে নতুন নতুন প্রযুক্তি আইডিয়া নিয়ে চেষ্টা করা এটাই অ্যামাজন ডট কম এর সাফল্যের মূলমন্ত্র।

২০০০ সালের মার্চে অ্যামাজন ডট কম কজমো ডট কম (Kozmo.com) নামে একটি সাইটে ৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। কেউ এই ওয়েবসাইট থেকে শ্যাম্পু ক্রয় করলে সাইকেলে করে তাকে এক ঘন্টায় ডেলিভারি দেয়া হতো কিন্তু এটি সফল হয় নি।

এরপরে আবার ২০০৭ সালে অ্যামাজন ডট কম আস্কভিল ডট কম (Askville.com)নামে আরেকটি ওয়েবসাইট চালু করে। এটি মূলত ক্রাউড-সোর্স ভিত্তিক  প্রশ্ন-উত্তর একটি ওয়েবসাইট। এখানে বিভিন্ন লোক প্রশ্ন করবে এবং তার উত্তর দেয়া হবে। যারা প্রশ্নের উত্তর দিত তাদের জন্যে “কোয়েস্ট গোল্ড” (Quest Gold) এর ব্যবস্থা ছিল যেটা তারা অ্যামাজন গিফট কার্ডে পরিণত করতে পারত। এটিও ব্যর্থ হয়।

২০০৮ সালে অ্যামাজন গিভার (Amazon Giver) এবং অ্যামাজন গ্রেইপ ভাইন (Amazon Grapevine)নামে আরো দুটি সার্ভিস চালু করে অ্যামাজন ডট কম। আপনার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট আছে এবং আপনি অ্যামাজন এর মাধ্যমে কেনাকাটা করে থাকেন। অ্যামাজন গিভার এর মাধ্যমে অ্যামাজন ডট কম থেকে আপনি কি জিনিস কিনতে চান তা আপনার বন্ধুরা জানতে পারে এবং আপনাকে সেই জিনিসটা কিনে দেবে। অ্যামাজন গ্রেইপ ভাইন এর মাধ্যমে আপনি অ্যামাজনে কি করছেন বা কি কিনছেন তা আপনার বন্ধুদের জানাতে পারবেন। কিন্তু এ দুটি সেবাও ব্যর্থ হয়।

২০১২ সালে অ্যামাজন গ্রুপ অন এর মতো লিভিং সোশ্যাল (LivingSocial) নামে একটি ডিল সাইট চালু করে এবং এতে অ্যামাজন ভাল টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু এটিও ব্যর্থ হয় এবং ২০১২ সালে অ্যামাজনের ব্যবসায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এমনকি স্টিভ জবস ও নিজের জীবনে এমন কিছু দারুণ ব্যর্থতার শিকার হয়েছেন। জন শুলি (John Sculley) অ্যাপল এর সিইও হিসেবে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। শুলি খুবই সফল একজন মার্কেটার ছিলেন এবং অ্যাপল এ আসার আগে তিনি পেপসিকোতে কাজ করতেন। স্টিভ জবসই তাকে পেপসি থেকে অ্যাপল-এ নিয়ে আসেন। অ্যাপল এ আসার দুই বছর পরেই শুলি জবসকে অ্যাপল থেকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করেন।

appleiii

Image source: Oldcomputer.net

অ্যাপল লিসা, ম্যাকিনটোশ টিভি, অ্যাপল ৩ (Apple III), পাওয়ার ম্যাক জি ৪ কিউব (Powermac g4 cube) এ সবই অ্যাপল এর তৈরি এবং জবস এর নেতৃত্বেই এগুলো তৈরি হয়েছে কিন্তু এগুলোর সবই ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু এই ব্যর্থতা থেকেই তিনি আস্তে আস্তে অনেক সফল পণ্য ডিজাইন করেন। ২০০১ সালে অ্যাপল আইপড আসে এবং দারুণ সফল হয়।

ব্যবসাতে সাফল্য এবং ব্যর্থতা থাকবেই। কিন্তু সমস্যা সেটা নয়। সমস্যা হলো ব্যর্থ হয়ে আপনি যেন হাল ছেড়ে না দেন। আপনার ব্যর্থতা থেকে আপনি শিক্ষা নিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যাবেন সেটাই হলো এই পোস্ট লেখার মূল উদ্দেশ্য।

ই-ক্যাব প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ ভাই দারুণ পোস্ট লেখেন। এরকম একটি পোস্ট দিয়ে এই সিরিজটি শেষ করছি-

পরিশ্রমী হন, কষ্ট করতে অভ্যাস্ত হন এবং লেগে থাকুন

জীবনে আপনার অবস্থা যত খারাপ হোক না কেন, এক বছর যে কোন দিকে লেগে থাকলে চেষ্টা করলে অবস্থা বদলে যেতে বাধ্য। এটিই আসলে নিয়ম ব্যতিক্রম নয়। প্রতিদিন যে কোন বিষয়ে চেষ্টা করুন, লেগে থাকুন এবং সময় দিন তাহলে দেখবেন যে আপনি সেদিকে দক্ষ হচ্ছেন।

আমাদের কাছে সবচেয়ে কষ্টের কাজ হল মনে হয় অন্য কারো কাছে বিক্রি করা। তাও যদি লেগে থাকেন তাহলেও পারবেন। আমি নিজেই ভাল উদাহরণ। আর্টস নিয়ে পড়েছি সারা জীবন। ই-ক্যাবের জন্য টাকা পয়সা যোগার করতে হয়েছে গত দেড় বছর ধরে প্রতি মাসে। এমনকি রেজিস্ট্রেশন পাবার আগে মনে হয় প্রায় ১৮০ টির মত কোম্পানি যোগ দিয়েছিল ৩০০০ টাকা করে এবং এর অন্তত মধ্যে অন্তত ১৩০ টি কোম্পানি এসেছে আমার মাধ্যমে।

জীবনে হার জিত থাকবেই। সাফল্য সব সময় আসে না। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। গত ২ বছরে ফেইসবুকের কল্যানে মনে হয় অন্তত ২০০০ তরুনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি যে মূল সমস্যা হল কষ্ট না করার মানসিকতা এবং লেগে না থাকা।

যে কোন দিকে এক বছর মন দিয়ে চেষ্টা করে দেখুন- আমি নিশ্চিত উন্নতি হবে এখনকার তুলনায়।

সূত্রঃ

https://hbr.org/2013/01/five-of-steve-jobss-biggest-mi/

http://www.wired.com/2013/04/amazon-failures/

www.facebook.com/apurazib/posts/1756202881282369

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *