কানাডা ইকমার্সে পিছিয়ে কেন ?

931

কানাডাতে আমার জন্ম হওয়ায় , আমি সেখানকার শপিংমলগুলোতে অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়াতাম । লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনো তা করে ।

আসলে , শপিংমল , খুচরা মার্কেট গুলো এখনো এই দেশে টিকে আছে । কিন্তু তাদের এই অবস্থা অনেকটা পরিবর্তন হয়ে যাবে যদি দক্ষিন বর্ডার থেকে কোন ট্রেন্ড এই কানাডায় আসে ।

যদিও এমেরিকা , খুচরা মার্কেট ধ্বংস , বিলুপ্তি নিয়ে অনেক হেডলাইন তৈরি করলেও , আসলে সেগুলো সত্যি । এমিরকান খুচরা মার্কেটে যে ধরনের ভারী আঘাত লেগেছে , তা বর্ডার পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে । কানাডার ছোট , মাঝারি রিটেইল মার্কেটগুলোকে অবশ্যই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসতে হবে , নয়তো তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে ।

তাহলে , সমস্যাটি কতটুকু গুরুতর ?

লেখক Derek Thompson এর The Atlantic এর জন্য লেখা একটি নোটে বলেছেন , এমেরিকায় নয়টি রিটেইল কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে । এছাড়া , J.C. Penney , Macy’s মতন কোম্পানিদের অনেক কর্মী ছাটায় করতে হয়েছে । এমনকি , Ralph Lauren , Manhattan এর মতন জায়গা থেকে সরে এসেছে ।

শুধুমাত্র ১৭% কোম্পানির ইকমার্স ওয়েবসাইট আছে , কিন্তু ৭১% কোম্পানির ভবিষ্যতে ইকমার্স সক্ষমতা নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেই ।

তাহলে, তো , এমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে অবশ্যই বড় কোন পরিকল্পনা করতে হয় , তাই না ? কিন্তু মোটেই তা না । এমেরিকার অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে ।

বেকার সমস্যা শতকরা পাঁচ ভাগের নিচে আছে , সুদের হার অনেক চওড়া , ওবামা থাকাকালীন শেষসময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি 2.5 শতাংশে দাঁড়ালেও , ট্রাম্পের আসার কয়েক মাসের মধ্যে তা ০.৭% এ দাঁড়িয়েছে । এমনকি , মানুষের আয়েরও অনেক উন্নতি হয়েছে ।

Washington ভিত্তিক Economic Policy Institute একটি রিসার্চ পেপারে বলেন , মধ্যবর্তীদের বেতন ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে ৩.১% বেড়েছে । ২০% এমেরিকান ৬.৪% বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে , গত বছরের চেয়ে ৩.৮% বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০% মানুষের বেতন ২.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে ।

নিউয়র্ক শহরভিত্তিক কানাডার একজন উদ্দ্যেক্তা এবং পর্যাপ্ত পরিমান , এমেরিকান ক্লায়েন্ট আমার আছে । সেই বিবেচনায় বলতে পারি , এমেরিকানরা প্রস্তুত , তারা টাকা খরচ করতেও সক্ষম। তাহলে , তাদের শপিং মলগুলোতে মন্দাবস্থার ব্যাখ্যা কি হতে পারে ? কেন , কানাডিয়ানদের এই বিষয়ে বিবেচনা করা উচিৎ ?

Atlantic এর পাতায় Thompson কিছু পয়েন্ট উল্ল্যেখ করেছে । সেখানে তিনি এমেরিকায় শপিং মলের আধিক্য এবং পণ্যের প্রতি প্রচুর বিনিয়োগকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন । এছাড়াও ইকমার্সে বিক্রির হার বৃদ্ধি পাওয়াকেও তিনি উল্ল্যেখ করেন ।

এমেরিকার কমার্স ডিপার্টমেন্টের অনুসারে , ২০১৬ সালে চতুর্থ প্রান্তিকে এমেরিকায় ইকমার্সের বেচাকেনা ছিল ১০২.৭$ বিলিয়ন , যা একই সময়ে ২০১৫ সালের মোট বিক্রি থেকে ৭.৩% বেশি । অন্যকথায় , এমেরিকানরদের অনলাইনের কেনাকাটার হার প্রতিবছর বেশি । অনেক কম সংখ্যক মানুষ রাস্তায় লোকাল মার্কেট বা মেইনরাস্তা থেকে কেনাকাটা করে।

অন্যদিকে , কানাডিয়ানদের খুচরা পণ্য , ডিসেম্বরে ১.`৭$ বিলিয়ন ডলার বিক্রি হয়েছে , যা মোট খুচরা পণ্যে বিক্রির ৩.৪% মাত্র ।

অন্যকথায় , অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রে , আমরা কানাডিয়ানরা এমেরিকার চেয়ে অনেক পিছনে , কিন্তু অবস্থা আস্তে আস্তে পালটাচ্ছে , আমাদের প্রযুক্তির সাথে খাপ নেয়ার সংখ্যাো বাড়বে ।

এখন প্রধান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা কড়া যাক্‌ ,

একটি নতুন জরিপে , কানাডিয়ানরা অনলাইন ট্রানজেকশন সাধারনত paypal এর মাধ্যমে করে । মাত্র ১৭% কোম্পানির ইকমার্স ওয়েবসাইট আছে , আর বাকি ৭১% এর এই ব্যপারে কোন পরিকল্পনা নেই ।

অনলাইন প্রতারনা , সীমিত প্রযুক্তির জ্ঞান , অনলাইনে কিভাবে দোকানের মতন সার্ভিস দেয়া যায় সেই সম্পর্কে অজ্ঞতা তাদেরকে ইকমার্সের প্রতি অনীহা করে তুলেছে ।
আরও খারাপ ব্যাপার হলো Canadian Internet Registration Authority এর এক রিপোর্টের মতে , ৪০% ক্ষুদ্র উদ্দ্যেক্তাদের কোন ওয়েবসাইট নেই , তাদের কে অনলাইন উপ্সথিতি নেই যে তা না । তাদের এমনিতেই নেই , এমনকি কোন নিজেদের ডিজিটাল স্টোরফ্রন্ট নেই ।

আমার অভিজ্ঞতার মতে , অনেক ফার্ম , বিশেষ করে , করে , খুচরা বিক্রেতারা অনলাইনে কাস্টমারদের আকর্ষণ করার চেস্টা করছে । এই ব্যাপারে কোন সমীক্ষা দেয়া অনেক কঠিন ব্যাপার ।

ইকমার্স আপনার নিজের অস্তিতের জন্য অতি প্রয়োজন । আপনি যদি অনলাইনে আপনার অবস্থান শক্তিশালী না করতে পারেন , তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছরে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না ।

c30e63fa-8c26-476f-9072-e11650ec9eea-0

তাই , কানাডিয়ান এই ইকমার্স অনুৎসাহী বিক্রেতাদের নিয়ে কি কড়া যেতে পারে ?

প্রথমে , আপনি ভয় পাবেন না , বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করুন । একটি ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন , ইকমার্স কোন খামখেয়ালি কোন ব্যাপার নয় । আপনি যদি অনলাইনে আপনার অবস্থান শক্তিশালী না করতে পারেন , তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছরে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না ।

তারপর , ডিজিটাল মাধ্যমে বেশি করে বিনিয়োগ করুন , আপনার বর্তমান মার্কেটিং বাজেট যতই থাকুক না কেন , তার ৮০% ডিজিটাল প্লাটফর্মে ঢালুন । সুন্দর করে , আধুনিক ইকমার্সভিত্তিক ওয়েবসাইট তৈরি করুন ।

অবশেষে , অনলাইনে আপনার ব্র্যান্ড কিভাবে তৈরি করবেন , কিভাবে শক্তিশালী সোসিয়াল প্রজেন্স তৈরি করবেন , কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের সেরা দিকগুলো তুলে ধরবেন , কিভাবে আপনার loyal কাস্টমারদের কমিউনিটির প্রতি খেয়াল রাখবেন , সেবা দিবেন , এই সব বিষয় নিয়ে ডিজিটাল কৌশল ঠিক করুন । এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিনে কিভাবে সাইট র‍্যাঙ্ক করানো যায় এবং user-friendly online shopping experience প্রদানের জন্য কাজ করুন ।

এটি অসাধারন প্রাথমিক উপদেশ । কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখেছি , যারা amazon.com এর কাছে ছোট , মাঝারি কোম্পানিগুলো মার্কেট শেয়ার হারাচ্ছে , তাদের জন্য এই পয়েন্টগুলো গুরুত্বপুর্ন ।

অবশেষে , প্রধান কথা হলো , খুচরা বিক্রেতারা যারা এই অনলাইনে নিজেদের অস্তিত্ব টিকে থাকতে চান , তাদেরকে অনলাইনে নিশ্চয় সফল হতে হবে । তারপর , ডিজিটাল মিডিয়ায় বিক্রি বাড়ানো সহ , মার্কেটিং কাঠামোতে উন্নতি করতে হবে ।

ফেইসবুক পেইজ: Business Ecommerce Content Association In Bangladesh (BECAB) 

BanglaDon.com এর   লেখা আরও আর্টিকেল পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন ।

পার্থ প্রতীম মজুমদার : http://blog.e-cab.net/author/partho/

Source : Business Insider 

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *