করোনা সমস্যা

 

করোনা পরিস্থিতি ও উদ্যোক্তার করনীয়

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

গোটা বিশ্ব আজ এক জটিল সংকটে রয়েছে। আপনি জানেন যে বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই অবস্থায় আমরা আমাদের নিজেদের পরিবারের এবং সমাজের নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। কিন্তু শুধুমাত্র উদ্বিগ্ন হয়ে বসে থাকলে সমস্যার সমাধান হবেনা। আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় যেমনি বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতার বিধি মেনে চলা উচিত তেমনি আশপাশের লোকদের কথাও ভাবা উচিত। কারণ আশপাশে, রাস্তায়, বাড়িতে, অফিসে কিংবা যেকোনে স্থানে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ। তাই আমরা আপনাকে কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

 

ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় করনীয়

১. বাইরে পরিষ্কার মাস্ক ব্যবহার করুন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।

২. ‍বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাখুন। অন্তত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া নিশ্চিত করুন।

সম্ভব হলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করুন। ব্যবহারের পর ফেলে দিন।

৩. কমন কাপ ও কমন গ্লাসে চা-পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। ওয়ান টাইম কাপ ও গ্লাস ব্যবহার করুন।

৪. বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধোয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে গরম পানি বা গরম চা পান করে নিন।

৫. যেকোনো ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

 

পরিবারের নিরাপত্তায় করনীয়

১. বাইরে থেকে ঘরে এসে অন্যকারো নিকটে যাওয়া আগে স্যানিটাইজ করুন অথবা সাবান হাত মুখ ধুয়ে নিন।

২. বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশের পর পরিচ্ছন্ন হওয়া ও পোশাক পরিবর্তনের আগে শিশু ও বয়স্কদের কাছে যাবেন না।

৩. বাজার থেকে আসার পর একইভাবে পরিচ্ছন্ন হয়ে নিন। এবং বাজার থেকে আনা শাকসবজি ভাল করে ধুয়ে নিন।

৪. এই সময়ে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। পাবলিক পরিবহন এড়িয়ে চলুন। একান্ত প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করুন।

৫. কারো বাসায় অতিথি হিসেবে যাওয়া এবং অন্যদের বাসায় অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণ করা থেকে বিরত থাকুন।

৬. অনলাইনে কেনাকাটা করুন। ই-কমার্স শপগুলো থেকে এখন নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই কেনা সম্ভব।

৭. ঘরে বসে অনলাইনে সন্তানের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করুন। এতে ঝুঁকি কমবে।

৮. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন ও ব্যাংকিং অনলাইনে করুন। এতে ঝুঁকি কমবে সময় বাঁচবে।

 

অফিস ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় করনীয়

১. অফিসে কর্মী সমাগম না করে কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার সুযোগ দিন।

২. যেসব কাজ বাসায় বসে করা সম্ভব নয়, সেগুলো অফিসে করার ক্ষেত্রে সকল কর্মীকে স্বাস্থ্যবিধি জানান, মেনে চলতে বাধ্য করুন।

৩. অফিসে প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্প্রে রাখুন। কর্মীদের জন্য প্রতিদিন ওয়ানটাইম মুখোশ ফ্রি দিন। প্রয়োজনে তাদের পরিবারের জন্য ডেটল বা স্যানিটাইজার ও মুখোশ বিনামূল্যে দিন।

৪. পরিস্থিতিতে ব্যবসায় যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেজন্য আগে থেকে পদক্ষেপ নিন। আপনার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হলে কর্মী ছাটাইয়ের বদলে সমন্বয় করুন। কারণ এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেরই প্রত্যেকের পাশে থাকা উচিত।

৫. আপনার ক্রেতা, ভোক্তা ও ক্লায়েন্টদের মাঝে সচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপন দিন। এই পরিস্থিতিতে আতংকিত না হয়ে সচেতন হতে বলুন। পন্য কেনা থেকে বিরত না হয়ে অনলাইনে পন্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করুন।

 

লজিস্টিক ও ডেলিভারী টিমের জন্য করনীয়

১. অফিস, শোরুম ও স্টোররুমে প্রবেশমুখে প্রতিটি ব্যক্তির স্যানিটাইজ নিশ্চিত করুন।

২, কর্মীদের মুখোশের পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে বাধ্য করুন। প্রয়োজনে এসবের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

৩. যেসব পন্য বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করবে সেগুলো সঠিকভাবে প্যাক করা কিনা যাচাই করুন। প্রয়োজনে সেগুলোতে স্প্রে করুন।

৪. ডেলিভারী ম্যানদের মুখোশের পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা বাধ্য করুন। খালি হাতে টাকা স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখুন।

৫. কর্মীদের গণপরিবহন পরিহার করতে বলুন। পরষ্পর হ্যান্ডশেক, ছোয়া ছুই থেকে বিরত থাকতে বলুন।

৬. লিফটের সুইচ, ফিঙ্গার প্রিন্টারে হাত ধরার আগে স্যানিটাইজ নিশ্চিত করুন। কিছুক্ষণ পর পর এগুলো হেক্সিসল লাগানো টিস্যুতে মোছার ব্যবস্থা করুন।

৭. ফোন ব্যবহারে সতর্ক হোন। একজনের ফোন আরেকজন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। খুব বেশী প্রয়োজন হলে টিস্যু দিয়ে ধরুন।

৮. অফিস দরজা, তালা, গ্লাস যেখানে সবার হাত লাগে সেটাতে স্প্রে করুন। এগুলো যত কম স্পর্শ করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৯. হাত মুখ মোছা টিস্যু সতর্কভাবে বিনে ফেলুন। হাছি কাশি দেয়ার সময় দূরে সরে যান এবং টিস্যু ব্যবহার করুন।

১০. সম্ভব হলে কিছুদিন এসি চালানো থেকে বিরত থাকুন।

১১. প্রয়োজনে এমন প্যাকিং ব্যবহার করুন যা জীবানুরোধক বা জীবানুবাহী নয়।

 

সামাজিকভাবে কিছু করনীয়

১. আত্মীয় ও বন্ধুদের মুখোশ ও স্যানিটাইজার উপহার দিন।

২. আশপাশে বসবাস করা স্বল্প আয়ের মানুষদের কিছু মুখোশ ও নিম সাবান বা ডেটল সাবান উপহার দিন।

৩. আপনার বিজনেস পেজ থেকে সচেতনতামূলক পোস্ট দিন। সকলকে সতর্ক করুন।

৪. পাবলিক পরিবহনে স্বেচ্চাসেবা বা সিএসআর হিসেবে জীবানুনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা করতে পারেন।

৫. সরকারী ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচীতে সরাসরি অথবা স্পন্সরশীপের মাধ্যমে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

 

আসুন একা একা নয়।  সবাই মিলে একসাথে ভাল থাকি

 

1,819 total views, 7 views today

Comments

comments