মানবসেবা

করোনা পরিস্থিতিতে ই-ক্যাব ও ই-কমার্স সেক্টর

পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরী পণ্যের পর ঈদকে সামনে রেখে পোশাক এবং রমযানের সেহেরী ও ইফতারের কথা বিবেচনা করে তৈরী খাবার অনলাইনে বিক্রি ও ডেলিভারীর অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। ই-ক্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই অনুমতি একদিকে জনসাধারণকে গৃহে অবস্থানে সহযোগিতা করছে অন্যদিকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও ডিজিটাল কমার্সে ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে। নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে এসেছে ই-ক্যাব। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সকল জেলা প্রশাসন  ও সকল পুলিশ স্টেশন দেশব্যাপী নিত্যপণ্য সংক্রান্ত পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে গৃহে থাকা জনসাধারণকে জরুরীপণ্যের সাথে পোশাক অনলাইনে বিক্রয় ও ডেলিভারী দিতে পারে। ঈদকে সামনে রেখে এই অনুমতি জরুরী হয়ে পড়েছিল কারণ প্রায় অর্ধেক অনলাইন ব্যবসায়ীর প্রচুর পরিমাণ মজুদপণ্য রয়েছে যা পহেলা বৈশাখ ও ঈদকেন্দ্রীক বাজারের জন্য তারা সংগ্রহ করেছিলেন। রমযানের সেহরী ও ইফতারের প্রয়োজনে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে রেস্তোরায় খাবার শুধুমাত্র হোম ডেলিভারীর অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পুরো প্রক্রিয়া তদারকীর জন্য ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রত্যয়নপত্র ও জরুরী পণ্য বহনের জন্য স্টিকার এর সাথে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি সংক্রান্ত প্রতিপালনীয় নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

করোনা সংকট সময়ে গৃহিত পদক্ষেপ 

 

গত কয়েকদিন ধরে করোনা সংকটে জাতি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আশংকা ও এ সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য জনসাধারণের গৃহে অবস্থান করা যেমনি জরুরী হয়ে পড়েছিল তেমনি জরুরী হয়ে পড়েছিল তাদের কাছে খাবার ও ঔষধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া। পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরী পণ্যের পর ঈদকে সামনে রেখে পোশাক এবং রমযানের সেহেরী ও ইফতারের কথা বিবেচনা করে তৈরী খাবার অনলাইনে বিক্রি ও ডেলিভারীর অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। ই-ক্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই অনুমতি একদিকে জনসাধারণকে গৃহে অবস্থানে সহযোগিতা করছে অন্যদিকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও ডিজিটাল কমার্সে ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে। নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে এসেছে ই-ক্যাব। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সকল জেলা প্রশাসন  ও সকল পুলিশ স্টেশন দেশব্যাপী নিত্যপণ্য সংক্রান্ত পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে গৃহে থাকা জনসাধারণকে জরুরীপণ্যের সাথে পোশাক অনলাইনে বিক্রয় ও ডেলিভারী দিতে পারে। ঈদকে সামনে রেখে এই অনুমতি জরুরী হয়ে পড়েছিল কারণ প্রায় অর্ধেক অনলাইন ব্যবসায়ীর প্রচুর পরিমাণ মজুদপণ্য রয়েছে যা পহেলা বৈশাখ ও ঈদকেন্দ্রীক বাজারের জন্য তারা সংগ্রহ করেছিলেন। রমযানের সেহরী ও ইফতারের প্রয়োজনে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে রেস্তোরায় খাবার শুধুমাত্র হোম ডেলিভারীর অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পুরো প্রক্রিয়া তদারকীর জন্য ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রত্যয়নপত্র ও জরুরী পণ্য বহনের জন্য স্টিকার এর সাথে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি সংক্রান্ত প্রতিপালনীয় নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

 

করোনা সময়ে ই-ক্যাবের উদ্যোগসমূহ

ই-ক্যাবের মেম্বার প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ঘরে বসে তাদের নবায়ন ফি দিতে পারে এবং নতুন অনলাইন উদ্যোক্তারা ঘরে বসে ই-ক্যাবের মেম্বার হতে পারে সেজন্য ই-ক্যাবের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করে ই-ক্যাবের মেম্বার হওয়া যায়। এ যাবত ২শটি কোম্পানি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন করেছে। করোনা সংকটের শুরুতেই ই-ক্যাব ভার্চুয়াল সেক্রেটারিয়েট চালু করেছে। ই-ক্যাবের কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাম্ভাব্যক্ষেত্রে তাদের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। ই-কমার্স ও লজিস্টিক সেবা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার খোলা হয়। করোনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্যও একটি আলাদা তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষকে সাপোর্ট সেন্টার ও তথ্যকেন্দ্র থেকে সেবা দেয়া হচ্ছে। ই-ক্যাবের ইসি মিটিং, স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং ইতোমধ্যে অনলাইন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ই-ক্যাবের চলমান প্রশিক্ষণ ও এজিএম অনুষ্ঠানও ই-ক্যাব অনলাইনে সম্পন্ন করতে চায়।

ই-ক্যাবের কোনো সদস্য কোম্পানী যেন চলমান পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধি না করে সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে ই-ক্যাব।  জনসাধারণ অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রাখে এবং এই সময়ে দৈনিন্দিন জীবনের লাইফ লাইন সচল রাখে এই সেক্টরের কর্মী ও উদ্যোক্তারা। জরুরী পণ্যসমূহের অনলাইনে ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ই-ক্যাব মানবসেবা ডট কম নামে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ই-ক্যাবের সদস্য ও দাতাদের অনুদান দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ যাবত ৫ শতাধিক মানুষকে জরুরী খাদ্য সহযোগিতা করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ  সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতির প্রেক্ষিতে  রাইড শেয়ারিং কোম্পানীসমূহের পক্ষ থেকে সীমিত পর্যায়ে রাইড শেয়ারিং সেবা চালু আবেদন জানানো হয়েছে। এবং লকডাউন এলাকায় সেবা চালু রাখার জন্য খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহ করে এমন কোম্পানী সমূহের তালিকা সরকারী দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। যাতে তারা লকডাউন এলাকায় সেবা দিতে পারেন।

 

ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে বিশেষ জরিপ

ইতোমধ্যে বিশাল চাপের মধ্যে পড়েছে ই-কমার্স খাত। শুধুমাত্র ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কর্মী কাজ করছে। যাদের ২৬ শতাংশ নারী। এই খাতে জরুরী নিত্যপণ্য ও ঔষধ সেবা ছাড়া বাকী ৯২ ভাগ ব্যবসা পুরোটাই বন্ধ হয়ে পড়েছিল। উদ্যোক্তা এবং কর্মী উভয়ের জন্যই যা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরই প্রেক্ষিতে ই-ক্যাব একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করে। তাতে দেখা যায় ই-ক্যাবের ১১০০ সদস্য প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। যারা আগেই পহেলা বৈশাখ ও ঈদের জন্য মালামাল ক্রয় করেছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশী। শুধুমাত্র অফিসভাড়া এবং কর্মীর বেতন বাবদ মাসিক খরচের চাপ রয়েছে ৪৮০ কোটি টাকা। জরিপ থেকে জানা যায় অর্ধেকের বেশী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মজুদ পণ্য রয়েছে যা তারা বিক্রি করতে পারছেন না। অনলাইনে ডিজিটাল লেনদেন প্রায় ৯০ ভাগই কমে গেছে। ই-ট্যুরিজম এবং ক্রস বর্ডার ই-কমার্স কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র ক্রস বর্ডার ই-কমার্স থেকে যে ১০০ কোটি টাকা বৈদিশক মুদ্রা অর্জিত হতো তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এখাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭৪%, যা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় সরকারের কাছে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে ২৪০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য এবং ৬শ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ চাওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ই-কমার্স সেক্টরের বর্তমান ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দ্বিগুন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে আহবান

করোনা সংকটে জনসাধারণকে ঘরে রেখে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দূর করতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি মেনে ঘরে ঘরে পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে সরকার, জনগন ও সদস্য প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। এই বিশাল ক্ষতির ধাক্কায় যেন শত শত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্যে আবেদিত সহযোগিতা ও সহজশর্তে ঋন পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল কর্মাস সেল গঠন এবং উক্ত সেল এর মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় সাধন, গুদামঘর সমূহকে তথ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনয়ন, জরুরী পণ্য ও খাদ্য পরিবহন সাপ্লাইচেইনকে ডিজিটাল মনিটরিংসহ স্থানীয় ডাকঘরকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামঘর হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি। এছাড়া তরুন, নারী, ছাত্র ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায় সহজীকরণ এবং ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করার সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়াও এখন সময়ের দাবী।

সদস্য প্রতিষ্ঠানসহ সকল অনলাইন ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ তারা যেন কর্মী ও ভোক্তাদের জীবনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বিধিসমূহ মেনে পণ্য ডেলিভারী দেন। ঈদকে সামনে রেখে যেন এমন ভাবে অর্ডার গ্রহণ করেন যা সময়মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারে। ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুরোধ করবো তারা যেন তাদের কর্মীদের এই সময়ে ছাঁটাই না করেন।

আমারা তাদেরকে আস্থার সহিত বলতে চাইযে, ডিজিটাল অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-ক্যাব আপনাদের পাশে রয়েছে। যারা প্রচলিত নিয়মে বা দোকানভিত্তিক ব্যবসা করেন, তাদের প্রতিও আমাদের আহবান অনলাইনের মাধ্যমে আরো বেশী মানুষকে সেবা পৌঁছে দিতে আপনারা ডিজিটাল কমার্সে আসতে পারেন। এব্যাপারে ই-ক্যাব থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

 

ভবিষ্যত চিত্র

এই মুহুর্তে আবেদিত সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাইল ফলক রচিত হবে। একদিকে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে অন্যদিকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। এখাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ হলেও সাধারণ ছুটি বা নিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিতে খাদ্য, মুদি ও জরুরী পন্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসর বেড়েছে ৩০০% পর্যন্ত।  এই মুহুর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করে টিকিয়ে রাখলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুরো সেক্টরের প্রবৃদ্বি হবে এককালীন ১০০%। যা পরবর্তী বছর সমূহে প্রতি বছর ৫০% শতাংশ হারে অব্যাহত থাকবে বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে।

 

 

 

1,359 total views, 7 views today

Comments

comments