ই-ক্যাব মানবসেবা

করোনাকালীন সময়ে ই-ক্যাবের যত কর্মসূচী

গত কয়েকদিন ধরে করোনা সংকটে জাতি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে শুরু থেকে সচেতন থেকে আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং জনগনের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বলতে পারেন যখন যেখানে যা করা দরকার তাই করার চেষ্টা করেছি।

 

১। ই-ক্যাব এটুআই, ক্যাবিনেট ডিভিশন, আইসিটি ডিভিশন ও একশপের সাথে যৌথভাবে একটি জরুরী স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। যাতে ই-কমার্স কোম্পানীসমূহের ওয়ার হাইজ, ডেলিভারী কর্মী ও সরবরাহকৃত মালামাল কিভাবে জীবানুমুক্ত রেখে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের ভয় দূর করতে একটি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা হেল্প লাইন চালু করা হয়। যার মাধ্যমে কয়েকজন ডাক্তার স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেসব কোম্পানী সেবা চালু রেখেছে তাদের জন্য নিরাপত্ত বিষয়ক প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়।

 

২। ই-ক্যাবের মেম্বার প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ঘরে বসে তাদের নবায়ন ফি দিতে পারে এবং ই-ক্যাব অফিসে না এসেই ই-ক্যাবের মেম্বার হওয়া যায়। সেজন্য ই-ক্যাবের রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করে মেম্বার হওয়া যায়। এ যাবত ২শটি কোম্পানি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন করেছে। শুরুতেই ই-ক্যাবের কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাম্ভাব্যক্ষেত্রে তাদের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

 

৩। জরুরী নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের সরবরাহ সচল রাখতে গত ২৫ মার্চ ই-ক্যাব ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি গ্রহণ করে। ই-ক্যাব সদস্যদের মধ্যে যারা নিত্যপণ্য ও ঔষধ বিক্রয় ও বিতরণ করে তাদেরকে প্রত্যয়নপত্র ও ‘‘জরুরী পণ্য পরিবহন’’ লিখা স্টিকার প্রদান করে। এছাড়া যেসব স্থানে মালামাল পরিবহন এর ক্ষেত্রে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী এবং অন্যান্যরা সরাসরি সেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করেছেন।

 

৪। ঢাকার বাইরে জরুরী পন্য পরিবহন সমস্যা সমাধানের জন্য ই-ক্যাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জরুরী পণ্য সেবা কাজে চলাচলের জন্য লিখিত অনুমতি গ্রহণ করে। বিভাগীয় কমিশনার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমতির পরও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হচ্ছে। তারপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অনুমতির আবেদন করে এবং সদস্য কোম্পানীগুলোর জরুরী মালামাল পরিবহনে অনুমতি গ্রহণ করে।

 

৫। সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ার পর ই-ক্যাবের প্রায় ৯৫ ভাগ প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিশাল ক্ষতির মধ্যে পড়ে যায় কোম্পানীগুলো। এর প্রেক্ষিতে ই-ক্যাব একটি জরিপ পরিচালনা করে। যাতে এ খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়। জরিপকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে মোট ক্ষয়ক্ষতির মধ্য থেকে শুধুমাত্র কর্মচারীর বেতন ও অফিস ভাড়ার একটা অংশ সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষয়ক্ষতি, ই-ক্যাবের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ডিজিটাল অর্থবাজারের সার্বিক অবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

 

৬। ইতোমধ্যে কতটি সংস্থা তাদের অপারেশন চালু রেখেছে এবং কি পণ্য ও সেবা অব্যাহত রেখেছে সে ব্যাপারে একটি অনুন্ধান চালায় ই-ক্যাব। যাদের তালিকা ই-ক্যাবের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকারী দপ্তরে প্রেরণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

৭। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণকে ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করার যে পরামর্শ দিয়েছেন। তার অনূকুলে অনলাইনে প্রান্তিক মানুষের কাছে জরুরী নিত্য পণ্য অনলাইন সেবার মাধ্যমে পৌঁছে দিতে উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার চালু করেছে। যাতে ফোন করে তাৎক্ষতিক সেবা ও তথ্য পাওয়া যায়। নাম্বার: ০৯৬৭৮৮১০০৭০০

 

৮। এই দূর্যোগপূর্ণ সময়ে ই-ক্যাবের কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান যেন জরুরী নিত্যপণ্যের অহেতুক দাম বৃদ্ধি না করে তা তদারকের জন্য একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির বিবেচনায়, ইতোমধ্যে একটি কমপ্লেইন সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে।

 

৯। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ই-ক্যাব মানবসেবা নামে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ই-ক্যাব সদস্য ও অন্যদের অনুদান দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ যাবত ৫ শতাধিক মানুষকে জরুরী খাদ্য সহযোগিতা করা হয়েছে।

 

১০। রমযান মাস এসে যাওয়ায় যেসব ক্রেতা সাধারণস ইফতার, ডিনার ও সেহরীর খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট এবং অনলাইন ফুড ডেলিভারী কোম্পানীর সেবার উপর নির্ভর করতেন রেস্তোরাসমূহ বন্ধ থাকায় তাদের খাবার জন্য সমস্যা হয়ে পড়েছিল। ফুড ডেলিভারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিধিমালা সংযুক্ত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদনের মাধ্যমে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে খাদ্য সরবরাহের অনুমতি গ্রহণ করে ই-ক্যাব।

 

১১। সাধারণ ছুটি বিলম্বিত হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাসায় ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন এসব নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল ফলে রমযান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মুখে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন অফিসের কর্মীরা বাসায় বসে কাজ করছিল বলে বাড়তি ল্যাপটপের প্রয়োজন দেখা দেয়। এসব বিবেচনায় ই-ক্যাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আবেদন এবং যোগাযোগের মাধ্যমে এসব পণ্য অনলাইনে বিক্রির অনুমতি গ্রহণ করে।

 

১২। পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন এবং আমাদের কাছে আসা কিছু লিখিত ও মৌখিক অনুরোধ ছিল যে, গৃহে থাকা জনসাধারণকে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে বইপড়া দরকার। তাই অনলাইন শপ থেকে বইকেনার সুযোগ দেয়া হোক। তার প্রেক্ষিতে ই-ক্যাব অনলাইনে বই বিক্রয় ও ডেলিভারীর অনুমতি গ্রহণ করে।

 

১৩। ই-ক্যাবের জরিপে দেখা যায় ৫২ শতাংশ ই-কমার্স উদ্যোক্তার পহেলা বৈশাখ ও ঈদের পোষাকের মজুদ পড়ে আছে। একদিকে তারা পাওনাদারের অর্থশোধ করতে পারছেন না। অন্যদিকে অনেক পোশাক নষ্ট হওয়ার আশংকা তৈরী হয়েছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঈদকে সামনে রেখে পোশাক বিক্রির সুযোগ করে দিতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুমতি নিতে সক্ষম হয় ই-ক্যাব।

 

১৪। এই সময়ে যারা চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নিয়ে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এবং সঠিক দামে সঠিক সেবা দিয়েছে। এইসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করতে একটি ডিজিটাল সার্টিফিকেশন প্রস্তাবনা ই-ক্যাবের বিবেচনাধীন রয়েছে।

 

 

110 total views, 10 views today

Comments

comments